০৩:২৬ পি.এম
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, পরিবেশবান্ধব, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা খাতে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা, পুরোনো বাসের জন্য পরিবেশবান্ধব স্ক্র্যাপ নীতি, রাজধানীর বাস টার্মিনাল ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস এবং মেট্রোরেল, মনোরেল ও আধুনিক বাসের সমন্বয়ে একটি একীভূত গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: জাপান বাংলাদেশে সাড়ে ৭৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তনকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য কেবল নতুন সড়ক নির্মাণ বা সেতু নির্মাণ নয়, বরং এমন একটি আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা নিরাপদ, সময়োপযোগী, পরিবেশবান্ধব এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য হবে।
তিনি বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো ইতোমধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর পরিবহন থেকে ধীরে ধীরে ইলেকট্রিক যানবাহনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশও সেই বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে চায়। ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়লে জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ কমবে এবং নগরবাসী আরও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবেন।
হাবিবুর রশিদ জানান, ইলেকট্রিক ভেহিকলের ব্যবহার উৎসাহিত করতে সরকার এর ওপর আরোপিত প্রায় ৬২ শতাংশ কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। এর ফলে উদ্যোক্তারা এই খাতে বিনিয়োগে আরও আগ্রহী হবেন এবং সাধারণ মানুষের জন্যও ইলেকট্রিক যানবাহন ক্রয় সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, শুধু কর কমালেই হবে না, ইলেকট্রিক যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় চার্জিং অবকাঠামোও গড়ে তুলতে হবে। সে লক্ষ্যেই পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন স্থানে চার্জিং স্টেশন স্থাপন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জনবল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার: এমপি নুরুল আমিন
ভবিষ্যতে দেশে ইলেকট্রিক বাসের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবহন খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ বাসের বিষয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে মেয়াদোত্তীর্ণ বা চলাচলের অনুপযোগী বাস সাধারণত ডাম্পিং করা হতো। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে পুনর্ব্যবহারযোগ্য অর্থনীতি বা রিসাইক্লিং ব্যবস্থার গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। সে কারণে সরকার পরিবেশসম্মত স্ক্র্যাপ নীতির দিকে এগোচ্ছে।
তিনি বলেন, যেসব বাসের বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হবে এবং যেগুলো নিরাপদভাবে চলাচলের উপযোগিতা হারাবে, সেগুলোকে ভবিষ্যতে আর শুধু ডাম্পিং করা হবে না। পরিবেশসম্মতভাবে স্ক্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে লোহা, ইস্পাত ও অন্যান্য ব্যবহারযোগ্য উপকরণ পুনরুদ্ধার করে শিল্পকারখানায় পুনর্ব্যবহার করা হবে। এতে যেমন পরিবেশ দূষণ কমবে, তেমনি শিল্পখাতেও পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাঁচামাল সরবরাহ বাড়বে।
রাজধানীর যানজট নিরসনে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে একই টার্মিনাল থেকে সিটি বাস ও আন্তঃজেলা বাস পরিচালিত হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ঢাকার অভ্যন্তরের বাস স্ট্যান্ডগুলোকে মূলত সিটি বাস পরিচালনার জন্য ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাসগুলোকে রাজধানীর চারপাশে নির্ধারিত আধুনিক টার্মিনালে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: রিয়াদ বিমানবন্দরে লাগেজ হারানো যাত্রীদের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি বার্তা
তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর ভেতরে ভারী বাসের চলাচল কমবে, যানজট হ্রাস পাবে এবং নগরবাসীর যাতায়াত আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল হবে। একই সঙ্গে যাত্রীসেবার মানও উন্নত হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হলো একটি সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে মেট্রোরেল, মনোরেল, ইলেকট্রিক বাস এবং আধুনিক সিটি বাস একই নেটওয়ার্কের আওতায় পরিচালিত হবে। একজন যাত্রী সহজেই একটি পরিবহন থেকে অন্য পরিবহনে যেতে পারবেন। এতে সময় ও ব্যয় কমবে, গণপরিবহনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহারও হ্রাস পাবে।
তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকাকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও স্মার্ট নগরীতে পরিণত করতে সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। উন্নত বিশ্বের শহরগুলোর অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়েই বাংলাদেশে আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পরিবেশ সংরক্ষণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এখন বিশ্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশও এর প্রভাব মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পরিবহন খাতে ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পুরোনো যানবাহনের পরিবেশসম্মত স্ক্র্যাপিং কার্বন নিঃসরণ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে নগরীর বায়ুমান উন্নত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: সরাইল থানায় গিয়ে ওসির ওপর চটলেন এমপি রুমিন ফারহানা
তিনি বলেন, উন্নত বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে আধুনিক, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থা অপরিহার্য। সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে এমন একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং নগর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকারের পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও দক্ষ গণপরিবহন ব্যবস্থার দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: সরকার নাগরিকদের জীবন রক্ষায় উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ: সিপিবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন