০৩:২৭ পি.এম
চূড়ান্ত পর্যায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন প্রক্রিয়া চলছে। রাজনৈতিক দক্ষতা, মেধা এবং বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম—বিশেষ করে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা বিবেচনা করে নতুন ছাত্রনেতৃত্ব নির্বাচন করতে যাচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। এখন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘গ্রিন সিগন্যালের’ অপেক্ষা রয়েছে।
আসন্ন এই কমিটিতে শেষ সময়ে এসে শীর্ষ পদগুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে — রাজপথের ত্যাগী তিন ছাত্রনেতা— মো. আমানউল্লাহ আমান, মমিনুল ইসলাম জিসান এবং শেখ তানভীর বারী হামিমের মধ্যে।
মাঠপর্যায়ের রাজনীতি ও বিগত দিনের ত্যাগের বিচারে মো. আমানউল্লাহ আমানের নাম জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে তার সাহসী ভূমিকা ছিল সুস্পষ্ট। ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করার সাহসিকতা তাকে শীর্ষ পদের অন্যতম দাবি আদায়কারী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
আরও পড়ুন: আবু সুফিয়ান এমপি: সরকারি নির্মাণকাজের মানের সঙ্গে আপস করা যাবে না
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মমিনুল ইসলাম জিসান। তিনি ওয়ার্ড পর্যায় থেকে ছাত্ররাজনীতি শুরু করে ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন এবং কারাবরণও করেছেন। স্বৈরাচারবিরোধী ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ছিল। বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক কারণে তিনি পুলিশি নির্যাতন ও আটকেও পড়েছিলেন। এই অগ্রগতির কারণে তাকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তরফ থেকেও বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনা হচ্ছে শেখ তানভীর বারী হামিমের নাম নিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্দীন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে তিনি ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে জিএস পদে নির্বাচন করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন। জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত দৃশ্যমান। তিনি প্রথম দিন থেকেই শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দিতে রাজপথেও সোচ্চার ছিলেন এবং সংগঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে সামনের সারিতে ছিলেন। এই স্পষ্টভাষী নেতা তৃণমূল থেকে উঠে আসা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝেও ভালো জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
যদিও আলোচিত পদগুলোতে আমান ও জিসান ছাড়াও বর্তমান ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, খোরশেদ আলম সোহেল, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, রিয়াদ রহমান, সাফি ইসলাম ও এজাজুল কবির রুয়েল এবং মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, প্রচার সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ও সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, সহসভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ আদনানের নামও আলোচনা চলছে।
সাধারণ সম্পাদক পদে শেখ তানভীর বারী হামিম ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারিক, সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক ও মাসুম বিল্লাহর নাম আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া, ছাত্রদলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, শামীম আখতার শুভ, গাজী সাদ্দাম হোসেন, ইব্রাহিম খলিল ও তারেক হাসান মামুনের নামও আলোচনায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী ৭টি সেনাবাহিনী ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করলেন
এদিকে, বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানিয়েছেন, শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনে জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা, শিক্ষার্থীবান্ধব ইমেজ এবং সাংগঠনিক দক্ষতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য প্রদান করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সারা দেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তৃণমূল কর্মীদের প্রত্যাশা, জুলাই আন্দোলনে যারা রাজপথে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, সেই পরীক্ষিত এবং ত্যাগী নেতারাই যেন ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনের হাল ধরেন। জানা গেছে, এই সব প্রক্রিয়া শেষ করে খুব শিগগিরই নতুন কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
এছাড়া, বিদায়ী সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ইতোমধ্যে বিদায়ী বার্তা দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পৃথকভাবে বিদায়ের বার্তা দেন তারা। নিজেদের পোস্টে দুজনই ‘দায়িত্ব পালনের শেষদিন’ উল্লেখ করেন। এর আগে, গুলশানে তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিদায়ী সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতার মধ্যে। ২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে বর্তমান কমিটির গঠন সম্পন্ন হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন