০৯:৪৭ এম
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দূতাবাসে কূটনীতিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পূর্বে এবং চলাকালীন নিরাপত্তার কারণে এসব কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। দ্য টাইমসের হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের মধ্যে কর্মীদের ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের সঙ্গে নতুন করে পূর্ণমাত্রার সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জড়াবে না।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে হামলার আগে এবং পরে বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন ও রকেট হামলার কারণে কর্মীদের সরানো হয়েছিল।
নথি অনুযায়ী, ইসরায়েল, লেবানন, সৌদি আরব, কাতার, জর্ডান, ওমান, ইরাক ও কুয়েত—এই আটটি দেশে কর্মীসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমে লেবাননের বৈরুত দূতাবাসে কর্মীরা ফিরবেন। এরপর ধাপে ধাপে ইসরায়েল, জর্ডান ও ওমানে পুরো কর্মীসংখ্যা ফিরিয়ে আনা হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার ও লেবাননে সর্বাধিক ৮৫ শতাংশ এবং ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে ৭৫ শতাংশ কর্মী রাখা হবে। তবে উপসাগরীয় ছয়টি দেশ ও লেবাননে পরিবারের সদস্যদের নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকবে।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর জন্মদিনে জেরুজালেমে বিক্ষোভ, গাড়িবহরে বোতল নিক্ষেপ
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "আমরা বিশ্বজুড়ে আমাদের কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করি। সর্বশেষ মূল্যায়নের ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মিশনে আমাদের কর্মী মোতায়েনের অবস্থান সমন্বয় করছি, যাতে কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্যগুলো এগিয়ে নেওয়া অব্যাহত রাখতে পারি।"
সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ড্যান শাপিরো মন্তব্য করেছেন যে, যেসব মিশন থেকে আংশিকভাবে কর্মী সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সেখানে তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রশাসনের বিশ্বাসকে নির্দেশ করে যে যুদ্ধের অবসান ঘটছে।
অন্যদিকে, সাবেক কর্মকর্তা জন আর. বাস বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোতে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি নির্দেশ করে যে, সেখানে এখনও ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তিনি বলেন, "এতে বোঝা যায়, ৩০, ৬০ বা ৯০ দিন আগের তুলনায় হুমকি কমেছে, তবে যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় ঝুঁকি এখনও বেশি।"
যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আলোচনা স্থবির থাকলেও কর্মী ফেরানোর কাজ চলতে থাকবে। তবে সাবেক কর্মকর্তা রবার্ট ড্যানিন সতর্ক করেছেন, দূতাবাসের কর্মীদের ফিরিয়ে নেওয়ার অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া থেকে তারা একেবারে বিরত থাকবে। তিনি বলেন, "তারা একবার যা করেছে, আবারও তা করতে পারে।"
আরও পড়ুন: কাতালোনিয়ায় ইসলামফোবিয়ার উত্থানে রাজনীতির সমীকরণ বদলে যাচ্ছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন