ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সরকারি নিয়োগ ও পদোন্নতি পরীক্ষায় নতুন সম্মানি-ভাতার হার নির্ধারণ


সরকারি নিয়োগ ও পদোন্নতি পরীক্ষায় নতুন সম্মানি-ভাতার হার নির্ধারণ

সরকারি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও দপ্তরে নিয়োগ এবং পদোন্নতি-সংক্রান্ত কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারী, নির্বাচন কমিটির সদস্য, পরীক্ষক এবং সংশ্লিষ্টদের সম্মানি ও পারিতোষিকের হার পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষা গ্রহণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা পরিচালনাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের সম্মানি দেওয়া হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের প্রবিধি-২ শাখা থেকে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য প্রতিটি জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা সম্মানি নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, বিভাগীয় নির্বাচন বা পদোন্নতি কমিটির সদস্যদের প্রতি সভায় জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা এবং मौখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষা বোর্ডের সদস্য বা বিশেষজ্ঞদের জন্য দৈনিক ৬ হাজার টাকা সম্মানি দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: শিক্ষাকে কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে: ইউজিসি চেয়ারম্যান

উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রতিটি পূর্ণ উত্তরপত্রের জন্য ১৩০ টাকা এবং প্রতিটি অবজেকটিভ (এমসিকিউ) উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, উত্তরপত্র নিরীক্ষণের জন্য প্রতিটি খাতায় ১৫ টাকা করে সম্মানি দেওয়া হবে।

পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন ব্যয়, সরকারের বিদ্যমান ‘আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ-২০২৬’ এবং সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বহন করা হবে। পরীক্ষা পরিচালনায় প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও গ্রেডভিত্তিক সম্মানি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ টাকা, ১০ম থেকে ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীরা ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ১ হাজার টাকা সম্মানি পাবেন।

এ ছাড়া, খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রতি খাতায় ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

লিখিত পরীক্ষার কেন্দ্রের ভেন্যুর প্রতিষ্ঠান প্রধান বা তার মনোনীত সমন্বয়কারী এককালীন ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং কেন্দ্র পরিদর্শক প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ টাকা সম্মানি পাবেন।

আরও পড়ুন: ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা ‘মাইগভ’ প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন

পরিপত্র অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষার আসনবিন্যাস বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৩ টাকা, উত্তরপত্র প্রস্তুত বাবদ ১২ টাকা এবং প্রশ্নপত্র প্রস্তুত, কাগজ, ডুপ্লিকেটিং মেশিন ভাড়া (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও কালি বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৫ টাকা ব্যয় করার অনুমতি থাকবে।

ওএমআর (ওএমআর) টপশিট মুদ্রণ ও ক্রয়ের জন্য ইউনিটপ্রতি ২০ টাকা, লিথোগ্রাফিক কোডিং ও ডি-কোডিংয়ের জন্য ৫ টাকা এবং প্রচলিত কোডিং ও ডি-কোডিংয়ের জন্য ৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া, ট্রাঙ্ক, তালা-চাবি, কাগজ, কলম ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সামগ্রীর জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করা যাবে।

পরিপত্রে আরো বলা হয়েছে, এসব ব্যয় সংশ্লিষ্ট নিয়োগের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট থেকেই নির্বাহ করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত বরাদ্দ দাবি করা যাবে না। এছাড়া, একাধিক পদের পরীক্ষা একই দিনে অনুষ্ঠিত হলেও, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন বা নির্বাচন কমিটির সদস্য ও বিশেষজ্ঞরা দৈনিক জনপ্রতি একটির বেশি সম্মানি পাবেন না বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইশরাক কেন পদত্যাগ করলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে: নাহিদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজাদীর দাবিতে উত্তাল পাকিস্তান কাশ্মির, বি-ক্ষোভে অচল জনজীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৮ পি.এম


আজাদীর দাবিতে উত্তাল পাকিস্তান কাশ্মির, বি-ক্ষোভে অচল জনজীবন

২৬ দিন ধরে চলা তীব্র অসহযোগ আন্দোলনে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পাকিস্তান অধ্যূষিত কাশ্মির। কাশ্মিরে চলমান আন্দোলন ৩৮ দফা দাবিতে বিস্তৃত হয়ে উঠেছে এবং সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে আন্দোলন দমাতে।

এই আন্দোলনে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যদিও আন্দোলনকারীদের দাবি মৃতের সংখ্যা ৩০ জনেরও বেশি। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। গ্রেপ্তার হয়েছে হাজারেরও বেশি মানুষকে।

আন্দোলনকারীদের অনড় অবস্থান ও সরকারের কঠোর দমননীতির ফলে পাকিস্তান অধ্যূষিত কাশ্মির বর্তমানে অচল হয়ে পড়েছে। উচ্চ দ্রব্যমূল্য ও খাদ্য সঙ্কটের কারণে মানবিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে কাশ্মিরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে।

২০২৩ সালের মে মাসে আন্দোলন শুরু হয় নিত্য পণ্যের দাম কমানো ও বিদ্যুতের দাম ভর্তুকির দাবিতে। আন্দোলনটি পরিচালনা করছে বিভিন্ন নাগরিক প্লাটফর্ম মিলে গঠিত জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি, যা একটি অরাজনৈতিক সংগঠন।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেও কাশ্মিরে অনির্দিষ্টকালের শাটডাউন কর্মসূচির মাধ্যমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল।

সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে দাবি মানার আশ্বাস দেয়া হলেও আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। ৯ জুন থেকে ৩৮ দফা আন্দোলনের নতুন পর্যায় শুরু হয়েছে। এর আগে ৫ জুন সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটিকে। এ কারণে কমিটির পলাতক শীর্ষ নেতাদের ধরতে কোটি রুপি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

এবারের আন্দোলনে সকল শ্রেণীর মানুষ অংশগ্রহণ করছে, বিশেষ করে নারীরা ও শিশুরা। ১০/১২ বছরের স্কুল শিক্ষার্থীরাও রাজপথে প্রতিবাদে গলা মেলাচ্ছে। আন্দোলনকারীরা রাজপথে স্লোগান দিচ্ছে- 'পাকিস্তানি বাহিনী দূর হটো', 'কাশ্মীর পাকিস্তানি হামলার শিকার', 'আমরা মৌলিক অধিকার চাই', 'আমরা বিনামূল্যে শিক্ষা চাই', ও 'জাতিসংঘ, আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি'।

কাশ্মিরের জনগণের প্রতি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্যের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ জনতা রাজপথে নেমেছে। অ্যাকশন কমিটির নেতারা জানান, পাকিস্তানের কেন্দ্রের বৈষম্য ও দমন পীড়নের ইতিহাস দীর্ঘ। তারা বাঙালি, বেলুচ ও পশতুদের সঙ্গে পাকিস্তান সরকারের আচরণ তুলে ধরেন। দাবি না মানলে সরকারকে বাংলাদেশ ও নেপালে সাম্প্রতিক আন্দোলনের পরিণতির কথা মনে করিয়ে দেন। ৩৮ দফা দাবি না মানলে মুজাফফরাবাদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকার পরিচালনা ও কাশ্মির থেকে পাকিস্তান হটানোর হুশিয়ারীও দেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে ভারত সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর কথাও বলা হচ্ছে।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করছেন যে, তারা কাশ্মিরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ চড়া দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তাছাড়া, খাদ্যদ্রব্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তারা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ প্রটোকল বাতিলের দাবি তুলছেন, এবং সরকারি তহবিলের অপচয়ের অভিযোগও তুলছেন।

আগামী ২৭ জুলাই নির্বাচনের আগে এবারের আন্দোলন নতুন গতি পেয়েছে। বিধানসভায় কাশ্মিরের বাইরে অবস্থান করা শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি এ সংরক্ষিত আসনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সরকার কাশ্মিরের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে। তাদের দাবি সংরক্ষিত আসন বাতিল করতে হবে।

সরকার কিছু দাবি মানার ঘোষণা দিয়েছে, তবে সংরক্ষিত আসন ও বিশেষ প্রটোকলের ব্যাপারে অনড় অবস্থান নিয়েছে। অ্যাকশন কমিটি ছাড় দিতে রাজি নয়।

আন্দোলন শুরু থেকেই দোকানপাট শাটডাউন, পরিবহন ধর্মঘট, লংমার্চ, অবস্থান ধর্মঘটের মত কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। মুজাফফরাবাদ, রাওয়ালকোট, মিরপুরসহ প্রধান প্রধান সব শহরের দোকানপাট, কাঁচাবাজার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। আন্দোলন কাশ্মিরের অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে প্রায় এক মাস ধরে উত্তাল কাশ্মির উপত্যকা।

সরকার আন্দোলনকারীদের পিছু হটাতে কঠোর দমননীতির পাশাপাশি খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রবেশ সীমিত করছে বা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট সেবা বন্ধ হওয়ার কারণে ব্যাংকিং এবং এটিএম সেবাসমূহ অচল হয়ে পড়েছে।

সরকার গণমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, কারফিউ জারি করে কাশ্মিরকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে, ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র মানবিক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলন এখন শুধু কাশ্মিরে সীমাবদ্ধ নেই। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টিকে আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন দেশে বাস করা প্রবাসী কাশ্মিরিরাও পাকিস্তান দূতাবাসের সামনে কর্মসূচি পালন করছে।

সম্প্রতি এক সমাবেশে অ্যাকশন কমিটির নেতা সরদার আমান খান বলেছেন, "পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর কখনোই পাকিস্তানের অংশ ছিল না।" তিনি দাবি করেন যে, এই অঞ্চলের জন্য পাকিস্তানের বেশি প্রয়োজন রয়েছে। আন্দোলনকারীদের কঠোর অবস্থানের বিপরীতে সরকারর কঠোর অবস্থান কাশ্মিরে অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে। সব মিলিয়ে কাশ্মিরের ওপর পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ আলগা হয়ে যাচ্ছে। সামনের দিনে আন্দোলন কিভাবে গতি পরিবর্তন করে তা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রথম ধাপে বেসিক বেতন বৃদ্ধির গেজেট এ মাসেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫০ পি.এম


প্রথম ধাপে বেসিক বেতন বৃদ্ধির গেজেট এ মাসেই

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো নিয়ে সরকার নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। বর্তমান দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে সমগ্র বেতন কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রথম ধাপে শুধু মূল বেতন বা বেসিক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, চলতি জুলাই মাসের মাঝামাঝি অথবা শেষ দিকে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে নতুন মূল বেতনের জন্য প্রস্তাবিত ২০টি গ্রেডের একটি রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ধরন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি এবং রাজনৈতিক নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, একদম একসঙ্গে সব সুবিধা কার্যকর না করে প্রথম ধাপে কেবল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে, কোন গ্রেডে ঠিক কত টাকা বা কোন শতাংশ বেতন বাড়ছে, সে বিষয়ে গেজেট প্রকাশের আগে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। বর্তমানে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গেজেট চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল চালুর বিষয়টি সামনে এনেছিলেন। তিনি জাতীয় সংসদে পরিষ্কার করে জানিয়েছিলেন যে, নতুন এই বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর একই কাঠামোতে বেতন পাওয়ার এবং বর্তমান সময়ের উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকারি উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছিলেন অর্থমন্ত্রী।

এই পরিস্থিতিতে নতুন পে-স্কেলের একটি প্রস্তাবিত রূপরেখা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নবম জাতীয় পে-স্কেলে আগের মতো ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। এই কাঠামোতে প্রথম বা সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন এক লাখ ৬০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন যথাক্রমে এক লাখ ৩২ হাজার, এক লাখ ১৩ হাজার, এক লাখ এবং ৮৬ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ষষ্ঠ থেকে দশম গ্রেডের মূল বেতনের কাঠামো যথাক্রমে নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১ হাজার, ৫৮ হাজার, ৪৭ হাজার ২০০, ৪৫ হাজার ১০০ এবং ৩২ হাজার টাকা। ১১তম থেকে ১৫তম গ্রেড পর্যন্ত যথাক্রমে ২৫ হাজার, ২৪ হাজার ৩০০, ২৪ হাজার, ২৩ হাজার ৫০০ এবং ২২ হাজার ৮০০ টাকা মূল বেতন প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া নিচের সারির গ্রেডগুলোর মধ্যে ১৬তম গ্রেডে ২১ হাজার ৯০০, ১৭তম গ্রেডে ২১ হাজার ৪০০, ১৮তম গ্রেডে ২১ হাজার, ১৯তম গ্রেডে ২০ হাজার ৫০০ এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের বিষয়টি খসড়া প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, জুলাই মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫২ পি.এম


সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বর্তমান সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সৌর বিদ্যুতের ওপর বিশেষ মনোনিবেশ করেছে। তিনি যশোর জিলা স্কুল মাঠে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও স্কুলের ১০তলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। সরকারের পরিকল্পনা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। শনিবার (৪ জুলাই) যশোর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও জিলা স্কুলের ১০তলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, অতীতে আমাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল-নির্ভর ছিল। পরে তা গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক হয়েছে। কিন্তু এগুলো প্রকৃতির ক্ষতি সাধন করছে। তাই সরকার এখন পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার চলতি বাজেটে ইলেকট্রিক বাইকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত শুল্ক-কর ছাড় দিয়েছে। একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর বর্জ্যকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তির সমন্বয়ে পাঠদানকে আনন্দময় করে তোলা। শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে শিক্ষকদের আধুনিক ও আনন্দদায়ক শিক্ষাদান পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, লেখাপড়া শেষ করে তোমাদের মেধা ও যোগ্যতাকে বাংলাদেশ পুনর্গঠনে কাজে লাগাতে হবে। তোমরা কেউ যেন ভুল পথে পা না বাড়াও, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। অনেক সময় বন্ধুরা অ্যাডভেঞ্চারের নামে প্রলুব্ধ করতে পারে, সেখান থেকে তোমাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যশোর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৩ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর যশোর জিলা স্কুলে ১০ তলা একাডেমিক ভবনটি নির্মাণ করছে। ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী ভবনের নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন। পরে তিনি যশোর শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুকে আযম মু. আব্দুস ছালাম, জেলা বিএনপি’র সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, নগর বিএনপি’র সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘পুরস্কার দিলেই ছুটে যান মোদি’- কংগ্রেসের কটাক্ষে নতুন বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৩ পি.এম


‘পুরস্কার দিলেই ছুটে যান মোদি’- কংগ্রেসের কটাক্ষে নতুন বিতর্ক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফরের সময়কালে একের পর এক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গ্রহণ নিয়ে আলোচনা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি, তিনি ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সেশনেলস সফর করেন এবং সেখানে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গৃহীত হয়। তবে, এই সম্মাননার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক যথেষ্ট পরিমাণে সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত সপ্তাহে সেশনেলসে পৌঁছানোর পর তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হারমিনির হাত থেকে 'গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন' বলে একটি সম্মাননা গ্রহণ করেন। ওই পুরস্কারটি একটি ট্রফি ও সনদসহ ছিল এবং মোদিকে হাস্যোজ্জ্বলভাবে দেখতে পাওয়া যায়।

তবে, পুরস্কার ঘোষণার পরপরই এর সত্যতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন হয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, সম্মাননার সনদে একাধিক বানান ভুল ছিল। রিপাবলিক (Republic) শব্দটি ভুলভাবে 'Repubblic' এবং দেশের নাম সেশনেলস (Seychelles) এর বানান ভুল করে 'Seycheeles' লেখা হয়েছিল।

এছাড়া, এটি জানা গেছে, মোদির সফরের মাত্র তিন দিন আগে এই সম্মাননা চালু করা হয়েছিল এবং রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনিই এই সম্মানের প্রথম ও একমাত্র প্রাপক। বিতর্ক আরও বেড়ে যায় যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) শনাক্তকরণ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সনদটি পরীক্ষা করে অনেকেই দাবি করেন, এটি এআই দ্বারা তৈরি।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে, ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস আস্তে আস্তে সমালোচনা করতে শুরু করে। দলের মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “মোদিকে যেকোনও পুরস্কার দিলেই তিনি তা নিতে ছুটে যাবেন।”

তিনি আরও মন্তব্য করেন, “এত তাড়াহুড়া করে পুরস্কার তৈরি করা হয়েছে যে, সেশনেলস প্রজাতন্ত্রের সরকারি নামটিও ঠিকভাবে লেখা হয়নি।”

অন্যদিকে মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিরোধীদের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। দলের বক্তব্য হলো, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নে মোদির নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে এবং এটি ভারত রাষ্ট্রের জন্য গর্বের বিষয়।

বিভিন্ন বিতর্কের পর গত বৃহস্পতিবার সেশনেলসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায় যে, ভুলবশত সম্মাননার একটি 'কার্যকরী খসড়া' প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে এর যথাযথভাবে অনুমোদিত আসল সনদ জারি করা হয়েছে। বিবৃতিতে নির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে, 'গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরাইজন' সম্মাননা সম্পূর্ণ বৈধ এবং এর উপর উত্থাপন করা প্রশ্নগুলি ভিত্তিহীন।

মোদির বিদেশ সফরে পুরস্কার গ্রহণের প্রতি আগ্রহের বিষয়টি সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার গ্রহণের ক্ষেত্রে মোদির বিশেষ আগ্রহ দেখা গেছে।

এর আগে ইসরায়েল সফরের সময়, দেশটির পার্লামেন্ট কনেসেট দ্রুত 'মেডেল অব দ্য কনেসেট' নামে নতুন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা চালু করে। মোদি দেশে পৌঁছানোর পর তাকে সেই পদক প্রদান করা হয়। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনিই সেই পদকের একমাত্র প্রাপক।

২০১৯ সালে মোদিকে 'ফিলিপ কটলার প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড'-এর প্রথম প্রাপক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তাকে 'দেশ পরিচালনায় অসাধারণ নেতৃত্বের' জন্য এই সম্মাননার সম্মান দেওয়া হয়েছিল। তবে, এরপর থেকে আর কাউকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটও দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।

নরেন্দ্র মোদির জীবনীকার নিলাঞ্জন মুখোপাধ্যায় মনে করেন, বিদেশে বিভিন্ন সম্মাননা সংগ্রহের এই প্রবণতা তার ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক কৌশলের অংশ।

তিনি বলেন, “অনেকে প্রশ্নবিদ্ধ পরিস্থিতিতে দেওয়া পুরস্কারের মাধ্যমে সমর্থকদের মধ্যে বার্তা পৌঁছানো হচ্ছে যে, মোদির ব্যক্তিগত নেতৃত্বের জন্য তাকে সম্মান জানানো হচ্ছে এবং ভারতের আন্তর্জাতিক প্রভাবও তার ব্যক্তিত্বের ফল।”

গ recientes, মোদি ইথিওপিয়ার 'গ্রেট অনার নিশান' এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো প্রজাতন্ত্রের অর্ডার অব দ্য রিপাবলিক-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা লাভ করেছেন। এসবের ক্ষেত্রেও তিনি প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ওই সম্মান গ্রহণ করেছেন।

বিজেপির দাবির প্রকৃত ভিত্তিতে, এসব পুরস্কার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, কূটনৈতিক সাফল্য এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের স্বীকৃতি ঘটায়।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%