ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিএনপি রক্তাক্ত জুলাইয়ের ইতিহাস ভুলতে বসেছে: গোলাম পরওয়ার


বিএনপি রক্তাক্ত জুলাইয়ের ইতিহাস ভুলতে বসেছে: গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করেছেন, বিএনপি রক্তাক্ত জুলাইয়ের ইতিহাস ভুলতে বসেছে। এর একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত হচ্ছে ৩৬ জুলাই নিয়ে বিএনপির দলীয় কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি। তিনি বলেছেন, ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি জুলাইকে অস্বীকার করেছে।

তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতেই হবে। বিএনপি সংস্কার ইস্যুতে যেই রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে সেই সংকট বিএনপিকেই নিরসন করতে হবে। সংসদে নিষ্পত্তি না হলে যেই ৭০ ভাগ জনগণ গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়েছে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে ফয়সালার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

তিনি সোমবার বিকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী কাজলা ব্রিজের সামনে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। জনসভাটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: সরকারকে বিতর্কিত করতেই আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্য কি না, প্রশ্ন রিজভীর

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বিএনপি সরকারের একজন মন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বিএনপি সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে কেবলমাত্র নির্বাচন আদায় করার জন্য। কারণ, সংস্কারের দাবিতে যদি জনগণ আবার রাজপথে নামে তাহলে নির্বাচন হবে না। আর নির্বাচন না হলে বিএনপি ক্ষমতায় বসতে পারবে না। এই যে জনগণের সঙ্গে দ্বিচারিতা, বিশ্বাসঘাতকতা, এতেই বুঝা যায় বিএনপি জুলাই চেতনা লালন ও ধারণ করে না, বিশ্বাস করে না।

তথ্য দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, দুনিয়ার ইতিহাসে এমন বর্বরতা কোথাও নেই যে নিজ দেশের জনগণকে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে কোনো প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থাকতে চায়। আমরা সেই নিষ্ঠুরতা, বর্বরতা ভুলতে পারি না। হাসিনার পেটুয়া বাহিনী যেভাবে ‍গুলি করে মানুষকে হত্যা করেছে! হত্যার পর লাশ আগুনে পুড়ে দিয়েছে!

তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, এতো মানুষ কেন জীবন দিলো, কেন পঙ্গুত্ব বরণ করলো? কারণ মানুষ চেয়েছে নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও রাষ্ট্রের পরিবর্তন হোক। মানুষ ক্ষমতার পরিবর্তন চায়নি। মানুষ চেয়েছে সিস্টেমের পরিবর্তন। মানুষ চেয়েছে বৈষম্যহীন একটি কল্যাণ ও মানবিক রাষ্ট্র। মানুষের ওই আকাঙ্ক্ষার বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হলে রাষ্ট্র কাঠামোর সংশোধন নয়, সংস্কার করতে হবে।

সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, দখল, খুন, লুটপাট, দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে না পারার জন্য সরকারের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিএনপি মহাসচিব ও এলজিইডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম স্বীকার করেছেন, ক্ষমতা গ্রহণের ৫ মাসেও সরকার কোনো কিছুর পরিবর্তন করতে পারেনি। সবকিছু আগের মতোই চলছে! বিএনপির মহাসচিবের এমন স্বীকারোক্তির জন্য তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সরকারের উচিত ব্যর্থতার দায় নিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে বিদায় নেওয়া।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেছেন

জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, জুলাই বিপ্লব হয়েছে রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য। জুলাই বিপ্লব আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য হয়নি। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্ষমতায় থাকতে চাইলে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নয়তো আবারও দেশ ছেড়ে নির্বাসনে যেতে হতে পারে।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিএনপি সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের কথা বলে জাতিকে আবারও ধোঁকা দিতে যাচ্ছে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে কীভাবে পালাবেন সেই পথ তৈরি করুন।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, বিএনপি গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের দুই বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত জুলাই শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত করা হয়নি। তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হয়নি। এমনকি গণহত্যাকারীদের বিচার করা হয়নি। জুলাই চেতনা ও আকাঙ্ক্ষায় রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণহত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে তিনি সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও মব কালচার এবং দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা বেঁচে থাকতে দ্বিতীয় কোনো ফ্যাসিবাদের জন্ম আর হবে না।

আরও পড়ুন: শ্রমমন্ত্রী: শ্রমিক প্রতিনিধি পেলে ১ সপ্তাহের মধ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন হবে

দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি বলেন, আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পূরণের জন্য গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। নিদৃষ্ট করে বলেন, নতুবা আবারও জুলাই ফিরে আসতে পারে। সরকারকে সতর্ক করে বলেন, জুলাই ফিরে আসলে ক্ষমতা রক্ষা করা যাবে না।

মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররম হোসাইনের সাথে কামরুল আহসান হাসানের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ড. মোবারক হোসাইন, মহানগরী দক্ষিণ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন, শহীদ আসলামের বোন শারমিন আক্তার, শহীদ নুর হোসেনের মা ছিনু বেগম, আহত জুলাই যোদ্ধা মো. শাহ আলম, জামায়াতে ইসলামী যাত্রাবাড়ী জোন সহকারী পরিচালক মো. শাহজাহান খান, ডেমরা জোন সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী, কদমতলী মধ্য থানা আমির মো. মহিউদ্দিন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী মধ্য থানা আমির অ্যাডভোকেট এ.কে আজাদ প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে আব্দুস সবুর ফকির বলেন, জুলাইয়ের দিন গুলিতে একদিকে মসজিদে আজান হচ্ছে, আরেকদিকে রাস্তায় পুলিশের গুলি বর্ষণ চলছে। পুলিশের গুলি শব্দে আজানের ধ্বনী বিলীন হচ্ছিল। মানুষ আজানের ধ্বনিও শুনতে পায়নি। এত ভয়ংকর পরিস্থিতিও মানুষ পিছু হটেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণভোটের রায় মেনে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে যাত্রাবাড়ীবাসী চব্বিশের জুলাইয়ের মতো আবারও একতাবদ্ধ হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: মতিঝিল বিভাগে বিশেষ অভিযানে পুলিশ গ্রেফতার করেছে ৮৮ জন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৫ মাস পর দেশে ফিরলেন ইলিয়াস কাঞ্চন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫২ পি.এম


১৫ মাস পর দেশে ফিরলেন ইলিয়াস কাঞ্চন

দীর্ঘ ১৫ মাসের অধিক সময় ধরে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি আজ, ৩ আগস্ট দেশে ফিরেছেন যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা শেষ করে। এই মুহূর্তে তার সঙ্গে ছিলেন জামাতা আরিফুল ইসলাম কলিন্স।

বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপন করতে গিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমি দেশে এসেছি। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। আমি সবসময় সবার জন্য দোয়া করি।’

এছাড়া, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর আসন্ন মহাসমাবেশে যোগদানের উদ্দেশ্যে দেশে ফিরছেন ‘বেদের মেয়ে জোসনা’খ্যাত এই নায়ক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট লিটন এরশাদ। তিনি বলেন, ‘আজ বিকেলে দেশে ফিরছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তবে তাঁর এই আসা দীর্ঘদিনের জন্য নয়। আগামী ১৫ আগস্ট লন্ডনে তাঁর চিকিৎসার পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষা রয়েছে। তাই ১৪ আগস্টের আগেই তাঁকে আবার ফিরতে হবে।’

ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য গত বছরের এপ্রিলে যুক্তরাজ্যে যান কাঞ্চন। সেখানে হাসপাতালের পাশাপাশি তাঁর মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকেও চিকিৎসা করেন।

গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের একটি বড় অংশ অপসারণে সক্ষম হলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার অপসারণ সম্ভব হয়নি। পরবর্তী পরীক্ষায় পাওয়া যায়, তাঁর ব্রেন ক্যানসার। অস্ত্রোপচারের পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপির পাশাপাশি ওরাল থেরাপি দেওয়া হয়। পরে আরও দুই ধাপে ওরাল থেরাপি সম্পন্ন করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান-কুয়েতের বন্ধুত্ব থেকে অবিশ্বাস, যেভাবে বদলে গেল সম্পর্কের সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ পি.এম


ইরান-কুয়েতের বন্ধুত্ব থেকে অবিশ্বাস, যেভাবে বদলে গেল সম্পর্কের সমীকরণ

ইরান ও কুয়েতের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রতি নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়েছে। একসময় উপসাগরীয় যুদ্ধের (১৯৯০-৯১) সময়ে কুয়েতের পাশে দাঁড়িয়ে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া এবং দেশটির জ্বলন্ত তেলকূপ নেভাতে সহায়তা করেছিল ইরান। কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে স্পষ্ট অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই কুয়েতকে সামাজিক মাধ্যমে ‘অশুভ শক্তির আগুনের অংশ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার অভিযোগ, ইরান সবসময় প্রতিবেশীসুলভ নীতি অনুসরণ করলেও কুয়েত সেই সহায়তার প্রতিদান দেয়নি। এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

অন্যদিকে, কুয়েত সরকার দাবি করেছে, তাদের ভূখণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে না। পাশাপাশি, কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরানের হামলাকে ‘অপরাধমূলক আগ্রাসন’ হিসেবে উক্ত করেছে।

ইরান-ইরাক যুদ্ধ থেকেই এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। ইরান ও কুয়েতের মধ্যে বহু বছর ধরে কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক থাকলেও ১৯৮০ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যায়। সে সময় কুয়েত ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে বিপুল আর্থিক ঋণ, লজিস্টিক সহায়তা এবং বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর কুয়েতের শাসকগোষ্ঠী শঙ্কিত ছিল যে, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করতে পারে এবং কুয়েতের শিয়া জনগণের মধ্যে বিদ্রোহ সৃষ্টি করতে পারে। যুদ্ধ চলাকালে কুয়েতের তেলবাহী জাহাজ, কূটনৈতিক স্থাপনা ও বিমান চলাচলের ওপর হামলার জন্যও ইরানকে দায়ী করা হলেও এসব ঘটনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে ইরানের সম্পৃক্ততার চূড়ান্ত প্রমাণ কখনো পাওয়া যায়নি।

১৯৯০ সালে ইরাক কুয়েত দখল করার পর দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক জোট ইরাকের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর ফলে কুয়েতে মানবিক সংকট সৃষ্টি হয় এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

সে সময় ইরান হাজার হাজার কুয়েতি, বিদেশি শ্রমিক, রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি এবং ইরাকি নাগরিককে আশ্রয় দেয়। ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে অস্থায়ী শরণার্থী শিবির স্থাপন করে খাদ্য, চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয় ও বিদেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ঐ সময় ব্রিটিশ সংসদ সদস্যরাও ইরানের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

কুয়েত থেকে পিছু হটার আগে ইরাকি বাহিনী শত শত তেলকূপে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং উপসাগরে বিপুল পরিমাণ তেল ছড়িয়ে দেয়, যা ইতিহাসের অন্যতম বড় পরিবেশগত বিপর্যয়ে পরিণত হয়। বিষাক্ত ধোঁয়া ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

এই পরিস্থিতিতে, ইরান ৪৭ জন প্রকৌশলী ও তেল বিশেষজ্ঞের একটি দল কুয়েতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তারা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে বারগান তেলক্ষেত্রে কাজ করে ২৮টি জ্বলন্ত তেলকূপ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এই মানবিক ও কারিগরি সহায়তা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ১৯৯০-এর দশকে কূটনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়তে থাকে।

উপসাগরীয় যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯টি সামরিক ঘাঁটির মধ্যে পাঁচটি কুয়েতে অবস্থিত, যেখানে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী সামরিক উপস্থিতিকে নিজের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কুয়েতের ঘাঁটি আঞ্চলিক সামরিক অভিযানে ব্যবহারের খবর প্রকাশিত হলেও কুয়েত সরকার তা অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় কুয়েতসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ইরান বিশ্লেষকদের মতে, এটি কুয়েতের অবস্থান নিয়ে তেহরানের সন্দেহকে আরও বৃদ্ধি করেছে।

এখন, কুয়েত পাকিস্তানের সঙ্গে পাঁচ বছরের একটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদন করেছে। এই চুক্তিতে সামরিক প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয় তালিকাভুক্ত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি স্বাভাবিক হলেও বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার সময়ে এর অনুমোদন কুয়েতের নিরাপত্তা কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তবে ইরান আপাতত এই চুক্তির বিরোধিতা না করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

একসময় যুদ্ধের কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো ইরান ও কুয়েতের সম্পর্ক এখন ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে নতুন এক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

সূত্র: মিডলইস্ট আই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত থেকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে প্রথম দিনে প্রায় ৯০ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ পি.এম


ভারত থেকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে প্রথম দিনে প্রায় ৯০ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে প্রথম দিনে প্রায় ৯০ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রথম চালানে ১০টি ট্রাকে ভর্তি কাঁচা মরিচ দেশে প্রবেশ করেছে।

আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, প্রতিটি ট্রাকে ৯ থেকে ১০ মেট্রিক টন পর্যন্ত কাঁচা মরিচ ছিল। যদি আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত থাকে, তবে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কমতে শুরু করবে।

ভোমরা কাস্টমস কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ১০ ট্রাক ভারতীয় কাঁচা মরিচ দেশে প্রবেশ করেছে। শুল্ক ও কাস্টমস কার্যক্রম শেষে আমদানিকারকরা এসব মরিচ দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করবেন।”

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত ২ আগস্ট ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেয় সরকার, যাতে বাজারে কাঁচা মরিচের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়। একই সময় আমদানির ওপর বিদ্যমান শুল্ক ও কর কমানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা শহরের খুচরা বাজার সূত্রে জানা যায়, দুই সপ্তাহ আগে জেলার বাজারগুলোতে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হতো। কিছু দফা দামের বেড়ে এখন তা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

সাতক্ষীরা শহরের কাঁচা-পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রজব আলী বলেন, “টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার মরিচের খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে উৎপাদন হ্রাস পেয়ে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। ৫০ টাকার কাঁচা মরিচ এখন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে ভারত থেকে আমদানি শুরু হওয়ায় দাম কয়েক দিনের মধ্যেই কমতে পারে।”

ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা বলেন, “সোমবার প্রথম চালানে ১০ ট্রাক কাঁচা মরিচ দেশে এসেছে। আগামীকাল আরও বেশি পরিমাণ কাঁচা মরিচ আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে। ধারাবাহিকভাবে আমদানি চললে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসবে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কমলনগরে ‘রাজা ইলিশ’ বিক্রি হলো সাড়ে ১০ হাজার টাকায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৭ পি.এম


কমলনগরে ‘রাজা ইলিশ’ বিক্রি হলো সাড়ে ১০ হাজার টাকায়

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে অবস্থিত মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়া একটি বড় আকৃতির ‘রাজা ইলিশ’ যার ওজন ২ কেজি ৩০০ গ্রাম, তা সাড়ে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সোমবার, ৩ আগস্ট দুপুরে উপজেলার মতিরহাট মাছঘাটে অতি উৎসাহী বাজারের মাধ্যমে মাছটির নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।

নতুন তথ্য অনুযায়ী, জানা গেছে, স্থানীয় জেলে মনু মাঝির জালে ধরা পড়া এই বড় ইলিশটি সারু মিয়ার আড়তে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে সেখানে নিলামের দাম শুরু হয় ৬ হাজার টাকা থেকে এবং সর্বোচ্চ দাম ১০ হাজার ৫০০ টাকায় নিলামে মাছটি কিনে নেন মাছ ব্যবসায়ী মো. রিয়াজ বেপারী।

মতিরহাট মাছঘাটের আড়তদার মো. খোকন মন্তব্য করেন, “মনু মাঝির জালে বড় আকৃতির ইলিশটি ধরা পড়ে। এরপর সেটি আড়তে নিয়ে আসা হলে নিলামে সর্বোচ্চ দর দিয়ে রিয়াজ বেপারী মাছটি কিনে নেন।”

ক্রেতা মো. রিয়াজ বেপারী বলেন, “এখন বড় ইলিশ খুব একটা ধরা পড়ে না। বাজারেও বড় ইলিশের চাহিদা ও দাম উভয়ই বেশি। তাই আড়তে নিলামে অংশ নিয়ে মাছটি কিনে নিয়েছি। এটি চাঁদপুরে পাঠানো হবে। সেখানে এর ভালো দাম পাওয়া যাবে। আমি আশা করছি, এটি প্রায় ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারব।”

কমলনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা জানিয়েছেন, “বর্তমানে নদীতে ইলিশের প্রাপ্যতা তুলনামূলক কম। যে মাছটি ধরা পড়ছে, তার বেশিরভাগই ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের। এই কারণে বড় আকৃতির ইলিশের চাহিদা এবং বাজারমূল্য উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। আশা করছি, আগামী মাসে নদীতে ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%