০২:৪০ পি.এম
শিক্ষকদের নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে ঘুষ দিতে হলে কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরতে ভোগান্তি পোহাতে হলে সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়, বরং জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা-হীনতার প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাপ্য টাকা তাদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে সরকারের। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক সমাজ নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো-কোটি শিক্ষার্থীকে বড় করে তোলেন। সেই শিক্ষকদেরই যদি ঘুষ দিয়ে নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তাহলে সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়, জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা-হীনতাই প্রকাশ করে। তিনি বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ২০২২ সালের পর, অর্থাৎ দীর্ঘ চার বছর পর সরকারি দুটি ফান্ডে তাদের জমানো টাকার একটি অংশ ফেরত পেয়েছেন। এই দুটি তহবিলের একটি ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং অন্যটি ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দুটি তহবিলে জমানো টাকার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পাওয়ার মধ্য দিয়ে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবনে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। সরকারপ্রধান বলেন, শিক্ষা বিস্তারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার চালু করা ‘শিক্ষা উপবৃত্তি এবং নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ’ শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘মডেল’ হিসেবে অনুসরণ করছে। তিনি মহান আল্লাহর দরবারে মরহুমা খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষকদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে বলেন, চাকরি জীবন শেষে অবসরে গিয়ে এই টাকা উত্তোলন করতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এমনকি নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে গিয়ে ঘুষ দেওয়ার অলিখিত নিয়মও চালু হয়ে গিয়েছিল বলে মনে হয়েছে। তবে এখন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে তাদের প্রাপ্য টাকা নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, অবসরকালীন সুবিধার টাকা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অ্যাকাউন্টে যত সহজে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার কাজটি অত সহজ ছিল না। পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার যেভাবে ব্যাংক-বীমাসহ প্রতিটি সেক্টর থেকে লুটপাট করেছিল, সেই লুটপাটের কবল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থরক্ষায় গঠিত উল্লেখিত দুটি তহবিলও রেহাই পায়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাল ইনডেক্স তৈরি, লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতে শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ দুর্বল ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংস করার মাধ্যমে এই দুটি তহবিলকে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, এসব কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাপ্য সুবিধার অর্থ সহজে পৌঁছে দেওয়ার বর্তমান প্রক্রিয়া তৈরি করা সহজ ছিল না। এরপরও অনলাইনের মাধ্যমে কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই তাদের প্রাপ্য অর্থ নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন