বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:৫০ এম
বান্দরবানের লামা উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণের কারণে আলাদা পাহাড়ধসের ঘটনার ফলে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনাগুলি ঘটে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায়। নিহতদের মধ্যে রয়েছে একই পরিবারের তিনজন এবং অন্য ঘটনায় একটি দম্পতি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে ভোর রাত আনুমানিক ৪টার দিকে। ওই সময় পাহাড়ের মাটি ধসে একটি বসতঘরের ওপর পড়লে ঘুমাতে থাকা একই পরিবারের মো. ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং ৫ বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে, একই এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একতলা পাকা ঘরের দেয়াল ও মাটির নিচে চাপা পড়ে স্বামী-স্ত্রী মো. জুয়েল (৩৪) ও কুলছুমা আক্তার (২৫) মারা যান।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনা স্থলে ছুটে আসেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার জানিয়েছেন, একই এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় শিশুদেরসহ পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে লামাসহ বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন এবং সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, তবে অনেকেই সেখানে যেতে অনাগ্রহী রয়েছেন। অন্যদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ ও নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় হারের পর একাধিক বিতর্কে জড়িয়ে শাস্তির মুখে পড়েছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে মিশর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর গোলে। ম্যাচ শেষ হতে মাত্র ১১ মিনিট বাকি থাকতেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিদায় প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শেষ দিকে মিশরের একটি পেনাল্টির আবেদন নাকচ করে রেফারি। ওই সিদ্ধান্তকে ঘিরে মাঠেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিশরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ। ডাগআউটে প্রতিবাদের কারণে হলুদ কার্ডও দেখেন হোসাম হাসান।
তবে সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম হয় ম্যাচ শেষে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন মিশর কোচ। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে তিনি গ্যালারির দিকে থুতু ছিটান। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি ফিফা।
ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, কারও দিকে থুতু নিক্ষেপ শারীরিক আক্রমণের আওতায় পড়ে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অন্তত তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বহিষ্কারের মতো শাস্তি হতে পারে।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক ইস্যুও যুক্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনের পক্ষে সরব হোসাম হাসান। ম্যাচ-পরবর্তী উত্তেজনার সময় আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থক তার সামনে ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শন করলে তিনি আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এ দাবির স্বাধীন ও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানের কারণে রেফারিংয়ে কোনো প্রভাব পড়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে হোসাম হাসান সরাসরি অভিযোগ না এনে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আমি এই বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। আমরা একটি মানবিক বিষয় নিয়ে কথা বলছিলাম। যে মানুষটি তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে কিংবা যার হাত কেটে ফেলা হয়েছে, তাদের কষ্ট কি কেউ অনুভব করে? আমরা চাই ফুটবল যেন মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।
এখন ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি ঘটনাটির ভিডিও ও ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে হোসাম হাসানের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টানা বর্ষণের কারণে কক্সবাজারে পাহাড় ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি, এই ঘটনায় তাদের মা আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোররাতে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়াকাটা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি।
তিনি বলেন, 'ভোররাতে আমি খবর পাই যে মছনিয়াকাটা এলাকায় পাহাড় ধসে পড়েছে। এতে দুই সন্তান ও এক মা চাপা পড়েছেন।' পরে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মাকে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, এ দুর্ঘটনার পর কক্সবাজার জেলায় পাহাড় ধসের কারণে গেল কয়েকদিনে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জন রোহিঙ্গা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারির পর, দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের আট সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এই নিহতরা ইরানের বিমান ও নৌবাহিনীর সদস্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন, এমনটি জানাচ্ছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে বন্দর আব্বাস ও বুশেহর এলাকায় এ হামলা গঠিত হয়। হামলার ফলে ইরানের বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর আট সদস্য প্রাণ হারান।
এদিকে, হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘দুঃসাহসিকতার’ জন্য সমুচিত জবাব দেওয়া হবে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির দায়ও ওয়াশিংটনের।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে অভিযোগ করেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান সমঝোতা ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অঞ্চলটিকে আবারও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। তিনি এই কথাও বলেন যে, ইরান আগেই সতর্ক করেছিল যে এই অঞ্চল হচ্ছে কোনো রাজনৈতিক জুয়া খেলার ক্ষেত্র নয় এবং যেকোনো আগ্রাসনের পরিষ্কার ও উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবানে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের মেয়াদ আরো দুদিন বাড়িয়ে ১২ জুলাই পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। টানা ভারি বৃষ্টিতে বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার কারণে জেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ০৯ জুলাই, ২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌসের স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় অব্যাহত ভারি বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৬ জুলাই জারি করা জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির ধারাবাহিকতায় বান্দরবান জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র ১২ জুলাই (রবিবার) পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এই সময়ের মধ্যে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে মূলত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ