মোঃ তুহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৬:৩৩ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি মতবিনিময় সভা, যেখানে মাদক, ছিনতাই এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আলোচনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১১টায় রহনপুরের আম বাজার চত্বরে এই সভার আয়োজন করা হয়, যা আম চাষি ও আম ব্যবসায়ী সমিতি এবং সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান। পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান, উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আসাদুল্লাহ আহমদ, রহনপুর ১৬ বিজিবির কর্মকর্তা কামাল হোসেন, উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা আছহাবুর রহমান, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম, রহনপুর পৌর ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মালেকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
সভার বক্তারা বলেছেন, যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে হবে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদকের বিস্তার রোধ করা, ছিনতাই দমন করা ও সব ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
তারা আরও বলেন, রহনপুরের ঐতিহ্য ও ব্যবসায়িক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বক্তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের জন্য সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
এ সভায় রহনপুর আম চাষি ও আম ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২০ আগস্ট ২০২৬ : ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না শ্রীলংকার দুই ব্যাটার দিনেশ চান্ডিমাল ও কুশল মেন্ডিস। এছাড়া আরেক ব্যাটার পাথুম নিশাঙ্কারও খেলায় অংশগ্রহণের জন্য শঙ্কা রয়েছে।
গল-এর প্রেক্ষাপটে ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনে (আজ) সকালে সীমানার কাছে ফিল্ডিং করার সময় তিনি কাঁধ ও ঘাড়ে আঘাত পান। এ কারণে তার পরিবর্তে ঐ টেস্টের বাকি অংশে কনকাশন বদলি হিসেবে মাঠে নামেন পাসিন্দু সুরিয়াবান্দারা।
যদিও দ্বিতীয় টেস্টে খেলার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিয়মের কারণে খেলতে পারছেন না। আইসিসির নিয়মানুযায়ী, কনকাশনজনিত কারণে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে কোন খেলা খেলার অনুমতি নেই।
সর্বশেষ লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) শুরুতে মেন্ডিসকে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট লেগেছিল। তার দ্বিতীয় টেস্টে অংশগ্রহণ নিয়ে বিশেষ আশার আলো ছিল, তবে তিনি ইনজুরির কারণে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি।
শ্রীলংকার প্রধান কোচ গ্যারি কারস্টেন বলেন, ‘মেন্ডিসের হ্যামস্ট্রিংয়ে গুরুতর চোট রয়েছে এবং তিনি দ্বিতীয় টেস্টে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। তাকে সুস্থ হতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চান্ডিমালও পরবর্তী টেস্টে খেলতে পারবেন না। আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে হারালেও, এটি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ। এমন অনেক খেলোয়াড় রয়েছেন যারা প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। তাদের জন্য এটি একটি মূল্যবান সুযোগ।’
এদিকে, কব্জির ইনজুরিতে ভুগতে থাকা নিশাঙ্কার দ্বিতীয় টেস্টের আগে সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কম। ফলে উপরের সারির তিন ব্যাটারকে ছাড়া সিরিজ হার এড়ানোর জন্য লংকানদের নামতে হবে। প্রথম টেস্টে তারা ১৬৫ রানে পরাজিত হয়েছে এবং সিরিজে পিছিয়ে রয়েছে ১-০ ব্যবধানে। আগামী ২৩ আগস্ট থেকে ভারত এবং শ্রীলংকা দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামবে।
এখনও পর্যন্ত শ্রীলংকা দল দ্বিতীয় টেস্টের জন্য ঘোষণা করেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে বর্ণাঢ্য র্যালী বের হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
কলাপাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জাকির হোসেন বাদল মৃধার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কাজল তালুকদার। উপজেলা যুবদলের আহবায়ক হারুন অর রশিদ, যুগ্ম আহবায়ক হুময়ুন কবির জুয়েল শিকদার, উপজেলা মহিলা দলের সম্পাদিকা নার্গিস বেগম, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রাশেদ মোশাররফ কল্লোল বিশ্বাস, সদস্য সচিব নুর এলাহী। উপজেলা ছাত্রদের আহবায়ক কাজী ইয়াদুল ইসলাম তুষার, সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম ফাহিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ঢালী মো. রুহুল আমীন অভী।
আলোচনা সভায় বক্তারা স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখেন। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষে কলাপাড়া পৌর শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি নির্বাচিত হলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়েছেন, যেখানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ মাত্র ৮৮ ভোট পেয়েছেন। ১৬৭ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মহাসচিব হিসেবে ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর আগে, তিনি ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৫ম জাতীয় কাউন্সিলে আলমগীরকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়। তিনি ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরাজিত হন।
১৯৬০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র থাকাকালীন মির্জা ফখরুল তার রাজনৈতিক অভিযান শুরু করেন। সে সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে (ইপিএসইউ) যোগদান করেন। তিনি সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসএম হল ইউনিটের মহাসচিব নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক কারণে তাকে গ্রেফতার এবং কারাগারে পাঠানো হয়।
ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের পর সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮৮ সালে তিনি নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে দেশব্যাপী এরশাদবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলায় জন্মগ্রহণকারী ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (শিক্ষা ক্যাডারের) সদস্য হিসেবে প্রভাষক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি বেশ কিছু সরকারি কলেজে সফল শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারের অন্যান্য দায়িত্বসমূহের মধ্যে, তিনি বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরে উপ-পরিচালক এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনে কার্যক্রম চালান। ১৯৭৯ সালের শেষে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন। ১৯৮২ সাল পর্যন্ত এস এ বারী পদত্যাগ করার পূর্বে এ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্যক্তিগত জীবনে রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, যিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে ঢাকায় একটি বিমা কোম্পানিতে কর্মরত আছেন। এই দম্পতির দুটি মেয়ে রয়েছে: মির্জা শামারুহ এবং মির্জা সাফারুহ। শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং ঢাকার একটি স্বনামধন্য স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা فয়সল আমীন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন একজন বিশিষ্ট আইনজীবী এবং প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি ঠাকুরগাঁও নির্বাচনি এলাকা থেকে বেশ কয়েকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের কৃষিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মির্জা ফখরুলের চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন বিএনপির রাজনীতিবিদ, যিনি ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন (১৯৭৮-৭৯), আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী (১৯৯১-৯৬) এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার (১৯৭৯-৮২) হিসেবেও নিজ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ১৯৭৯ সালে ঢাকার একটি নির্বাচনি এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এছাড়া, মির্জা ফখরুলের আরেক চাচা উইং কমান্ডার এস আর মির্জা ১৯৭১ সালের এপ্রিলে গঠিত мুজিবনগর প্রবাস সরকারে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ সুবিধা তদারকির জন্য নবগঠিত যুব শিবির অধিদফতরের প্রধান হিসেবে তাকে মনোনীত করা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ শেষ হয় বিকালে ৫টায়। যদিও অধিকাংশ সংসদ সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, কিন্তু ছয়জন ভোট দেননি।
নির্বাচন কমিশন গঠিত প্যানেলের অধীনে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ প্রায় সকল সংসদ সদস্য ভোট দেন।
বিকাল ৫টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এখন নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাগণ ভোট গণনা করবেন। গণনা শেষ হওয়ার পর ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
যারা ভোট দেননি, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ড. ওসমান ফারুক, চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তফা কামাল পাশা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, সিলেট-৫ আসনের খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
সংসদ সূত্রে জানা গেছে, মির্জা আব্বাস দীর্ঘদিন অসুস্থতাজনিত কারণে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে রয়েছেন। এ কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার ভোট দেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি বিতর্কিত ভিডিওর কারণে গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে বহিষ্কার করেছে। তবে তার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত না থাকার কারণ জানা যায়নি।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বিএনপি বা ১১ দলীয় জোটের কোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে ভোটকক্ষে দেখা যায়নি।
এছাড়া, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ড. ওসমান ফারুক, চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তফা কামাল পাশা এবং সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসানের ভোট না দেওয়া কারণ জানা যায়নি।
এদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রথম দিকে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরবর্তীতে ভোট দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ।
ভোটগ্রহণের জন্য জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে আসনভিত্তিক ভোটের ব্যবস্থা করা হয়। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, ভোটগ্রহণের জন্য তিনটি নির্ধারিত ব্যালট বক্স রাখা হয়েছিল। সংসদ সদস্যরা ব্যালট পেপারে স্বাক্ষর করে গোপনীয়তার সঙ্গে ভোট প্রদান করেন।
ভোট প্রদান শেষে বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও দলীয় রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং ফটোসেশনে অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ