০৬:৫১ পি.এম
একটি চলন্ত মোটরসাইকেল আরোহীর মাথায় হঠাৎ করেই এসে পড়ল ভারী একটি ইট। উপর্যুপরি রক্তাক্ত হয়ে তিনি ছিটকে পড়লেন। এরপর পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাকে ধরাধরি করে তুলে নিয়ে গেল একটি অটোরিকশায়। প্রথম দর্শনে মনে হতে পারে, উপর থেকে ইট পড়ে আহত হওয়া কোনো পথচারীকে উদ্ধার করছেন কিছু 'দয়াশীল' মানুষ।
কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া রাজধানীর কাফরুলের এই গা শিউরে ওঠা সিসিটিভি ফুটেজের পেছনের গল্পটি আসলে মানবিকতার কোনো কাহিনী নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ও অতি নৃশংস হত্যাচেষ্টার বিবরণ। কাফরুল থানা পুলিশ অবশেষে এই রহস্যের জট খুলেছে। ঢাকা ও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীসহ আরও দুজনকে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হচ্ছেন: মো. পারভেজ (৩০) ও আনোয়ার হোসেন বাবু (৩২)। তাদের মধ্যে পারভেজকে ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এবং বাবুকে রাজধানীর ইব্রাহিমপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ভিকটিম রাফির মোটরসাইকেল।
আরও পড়ুন: মজুরি বোর্ড গঠনে সন্তুষ্ট, সাভার-আশুলিয়ার শ্রমিকরা কাজে ফিরছেন
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত সোয়া ১টা নাগাদ পূর্ব শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে ইব্রাহিমপুর পাকা রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে। ভিকটিম রাফি মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এই ঘটনার পরে আসামিরা রাফিকে উদ্ধার করার অভিনয় সাজিয়ে অটোরিকশায় তুলে নেয় এবং পরবর্তীতে ইব্রাহিমপুর এলাকায় নির্জন রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তারা আশপাশের মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে, উপর থেকে ইট পড়ে রাফি আহত হয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে পুলিশ এই চক্রের চারজনকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। চিহ্নিত ব্যক্তিরা হলেন: পারভেজ, কালু, বাবু ও আমিন। এদের মধ্যে পারভেজ ও কালু চিহ্নিত মাদক কারবারি। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলাও রয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, পারভেজ আগে রাফিদের বাড়িতে ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করতেন। এই সূত্রে রাফির সঙ্গে তার পরিচয় গড়ে উঠে। পারভেজ ও তার সহযোগীরা এলাকায় মাদক ব্যবসা করতো, যা নিয়ে রাফির সঙ্গে তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। ঘটনার এক দিন আগে সন্ধ্যায় রাফির সঙ্গে পারভেজ ও কালুর তুমুল কথাকাটাকাটি হয় এবং তারা রাফিকে 'দেখে নেয়ার' হুমকি দেয়।
পরদিন রাতেই তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ওই এলাকায় ওত পেতে বসে থাকে। যখন রাফি ওই রাস্তা দিয়ে যেতে থাকে, তখন আমিন নামের একজন তার গতিরোধের চেষ্টা করে। রাফি গতি কমাতে চাইলে পারভেজ সরাসরি তার মাথার ডান পাশে ইট দিয়ে সজোরে আঘাত করে।
আরও পড়ুন: সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাফির চাচা নূর হোসেন বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জড়িত বাকি দুই আসামি ফয়সাল ওরফে কালু এবং আমিনকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন