০২:৫৮ পি.এম
নিজ ছেলের বিরুদ্ধে বৃদ্ধ বাবাকে তিন বছর ধরে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়াও, অভিযোগ উঠেছে, ওই বৃদ্ধের স্ত্রী মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণ করতে তিনি স্বামীকে অনুমতি দেননি। পরিবারের সদস্যরা এই অভিযোগ করেছেন। পরে থানা পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপের পর দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পরে বাবা ও অভিযুক্ত ছেলে কবর জিয়ারত করেন।
হার্টব্রেকিং এই ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের নাককাটি গ্রামে।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, ওই গ্রামের আব্দুল জলিল (৭৫) ও মাহমুদা বেগম (৬৫) দম্পতির তিন মেয়ে ও দুই ছেলে আছেন। তাদের মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ (৪৬) কৃষিকাজ করেন, আর ছোট ছেলে মোস্তফা (৩৫) বরগুনা জেলায় শিক্ষকতা করছেন।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
অভিযোগ রয়েছে, ছোট ছেলে কর্মস্থলে থাকার সুযোগ নিয়ে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ প্রায় ১৪ একর জমি বাবার নাম থেকে নিজের নামে কবলা নিয়ে নিয়েছেন। একই সঙ্গে বৃদ্ধ বাবা আব্দুল জলিলকে দীর্ঘদিন ধরে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের।
এদিকে বৃদ্ধের স্ত্রী মাহমুদা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চিকিৎসা নেওয়ার দায়িত্ব মেয়েরা নেন। বড় মেয়ে পারভিনা বেগম গত রমজানের পর তাকে রংপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে দ্বিতীয় মেয়ে রনজিনা বেগম মাকে নিজ বাড়িতে, একই ইউনিয়নের জয়দেব হায়াত গ্রামে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে গত ৩১ মে তাকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা বাড়িতে নেয়ার পরামর্শ দিলে, তাকে মেয়ের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি গত ৩ জুন রাতে মারা যান।
পরদিন, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফনের উদ্যোগ নেয়া হলে, অভিযোগ আছে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ বাধা দেন। একইসঙ্গে তিনি বৃদ্ধ বাবা আব্দুল জলিলকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে স্ত্রীর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে দেননি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পরিস্থিতির মধ্যে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়। খবর পেয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এই সময় উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. কফিল উদ্দিন, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, স্থানীয় কলেজের অধ্যক্ষ, ইউপি সদস্য মোস্তফা মিয়া, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাজু মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
পরে ওসি মামুনুর রশীদের নির্দেশে উপস্থিত সবার সঙ্গে আলোচনা করে দীর্ঘদিন ধরে ঘরে অবরুদ্ধ থাকা আব্দুল জলিলকে বের করা হয়। দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর তিনি ও তার অভিযুক্ত ছেলে মাহমুদা বেগমের কবর জিয়ারা করেন।
সার্বিক বিষয়ে রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদ বলেছেন, 'জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ছিল এবং বৃদ্ধ বাবাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। পরে ওই বৃদ্ধের স্ত্রী মারা গেলে, দাফনে অংশ নিতে দেয়া হয়নি বড় ছেলের দ্বারা। বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন