১২:৩০ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পরিকল্পিত একটি বড় ধরনের সামরিক হামলা বাতিল করেছেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তেহরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তির ‘মূল কাঠামো’ নিয়ে তারা সমঝোতা করেছেন। সৌদি আরবের যুবরাজ এবং প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের পরেই ট্রাম্পের এই ঘোষণা আসা, হামলা বাতিলের পেছনে ওই আলোচনা কতটা প্রভাব ফেললো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এবং বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস উল্লেখ করেছে যে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলে ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাড়ানোর বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
এক মার্কিন কর্মকর্তার সূত্রে অ্যাক্সিওস জানাচ্ছে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা নিয়ে তার উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এর বিস্তারিত জানার আগ্রহী ছিলেন। আরও একটি সূত্রের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমটি জানাচ্ছে, যুবরাজ ট্রাম্পকে আহ্বান জানান যাতে উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং ইরানে হামলা থেকে বিরত থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: ৩০ বছরেও ক্ষমতায় আসবেন না —রাহুলকে অমিত শাহর কটাক্ষ
অন্য একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এপি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো বা গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে বৃহৎ হামলা চালায়, তাহলে তেহরান সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা করতে পারে—এমন আশঙ্কায় সৌদি কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন।
এর আগে ট্রাম্প নিজেই উল্লেখ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের অনুরোধের কারণে তিনি ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ত্যাগ করেছেন।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে শনিবার (১ আগস্ট) রাতে ঘোষণা দেন। এর আগের দিন, মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের আবেদনেই তিনি হামলা স্থগিত করেছেন। তবে তিনি শর্ত হিসেবে বলেছেন, দ্রুত একটি চুক্তি সম্পন্ন করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: জাগপা: বিএনপি ভারতের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, এই নতুন চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি তাৎক্ষণিক, সম্পূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গভাবে খুলে যাবে এবং ইরানের কথিত ‘পারমাণবিক হুমকি’ দূর হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ পদক্ষেপের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তেহরানের কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এর আগে শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল যদি কোনো হামলা করে, তাহলে তেহরান তাদের ‘সমানুপাতিক জবাব’ দেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন