ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আশ্রয়ণ প্রকল্প জনশূন্য, ৫২ ঘরে এখন ১৫ পরিবারের বসবাস


আশ্রয়ণ প্রকল্প জনশূন্য, ৫২ ঘরে এখন ১৫ পরিবারের বসবাস

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের ঢেউখালী নতুন বাজার সংলগ্ন আশ্রয়হীনদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পটি বর্তমানে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রকল্পটি বসবাসের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চলাচলের রাস্তার বেহাল অবস্থা, নিচু জমি এবং বৃষ্টির পানির জলাবদ্ধতায় বসবাসকারী পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে রয়েছে। অনেক ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে এবং বাথরুম ও ঘরের সামনেও জমে থাকা পানির কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রকল্পের বাসিন্দারা।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ৫২টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৫টি পরিবার কোনোরকমে বসবাস করছে। বাকি ঘরগুলো প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এসব ঘরের চারপাশে লতাপাতা ও ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে দিন-রাত মাদকসেবীদের আড্ডা বসে।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে পৃথক অভিযানে নারীসহ ১০ মাদক কারবারি গ্রেফতার

প্রকল্পের বাসিন্দা মিনু আক্তার (৪০) জানান, ‘বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। একদিন বৃষ্টি হলে সাত দিন পর্যন্ত পানি জমে থাকে। আমার থাকার ঘরে পানি ঢোকে, বারান্দায় পানি জমে থাকে। এমনকি বাথরুমেও পানি জমে থাকায় সেখানে যেতে পারি না। বাধ্য হয়ে বাইরে যেতে হয়। প্রতিদিন পানি সেচতে সেচতে হাতে ঘা হয়ে গেছে। কী করব, আমাদের তো আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে এখানে থাকছি।’

আরেক বাসিন্দা জিয়াসমিন আক্তার বলেন, একদিন বৃষ্টি হলে ঘরের সামনে সাত দিন পানি জমে থাকে। কয়েকদিন আগে আমার আট মাসের শিশুসন্তান উঠানের পানিতে পড়ে গিয়েছিল। পানি কমে গেলে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং রাস্তায় হাঁটুসমান কাদা হয়ে যায়। মশা-মাছির উপদ্রব তো রয়েছেই।

তিনি অভিযোগ করেন, এ দুরবস্থার কারণে অধিকাংশ বাসিন্দা প্রকল্প ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তবে তাদের মতো অসহায় পরিবারের যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই। পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসায় তারা নিরাপত্তাহীনতায়ও ভুগছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আশ্রয়হীনদের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হলেও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় এটি এখন তাদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ঘরগুলো ঝোপঝাড়ে ঢেকে যাওয়ায় পুরো এলাকাটি অনেকটা জঙ্গলের মতো হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডার অভিযোগ থাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

আরও পড়ুন: ভৈরবে কিশোরীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, হুমকির দাবি পরিবারের

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে প্রকল্পের পরিবেশ বসবাসের উপযোগী করা এবং পরিত্যক্ত ঘরগুলো সংস্কার ও মাদকসেবীদের আড্ডা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি বলেন, ‘আমি তাদের দুর্দশা দেখেছি। সত্যিই সেখানে বসবাসের পরিবেশ নেই। বিষয়টি ইতিপূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। প্রকল্পটি নির্মাণের আগে মাটি ভরাট করা প্রয়োজন ছিল। এখন মাটি ভরাট করলে জলাবদ্ধতা আরো বাড়তে পারে। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে চারপাশ ঘুরিয়ে পাকা ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার কথা ভাবা হচ্ছে। বিষয়টি ও সম্ভাব্য সমাধানের কথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

আরও পড়ুন: রাজশাহী নগরীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ মাদক মাদক কারবারী গ্রেফতার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুর জেলা প্রশাসকের সহায়তায় মিজান, রোকসানা ও শুক্কুরের মুখে হাসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:২৩ পি.এম


গাজীপুর জেলা প্রশাসকের সহায়তায় মিজান, রোকসানা ও শুক্কুরের মুখে হাসি

মিজানুর রহমান, যিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, একটি চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। রোকসানা, যিনি এক পা ও এক হাতের তিনটি আঙুল হারিয়েছেন, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে সম্মানজনকভাবে বাঁচার চেষ্টা করছিলেন। শুক্কুর আলী, যিনি স্ট্রোকে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছেন, মাথা গোঁজার জন্য একটি ঘর চেয়েছিলেন। এই তিনজন বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়ে তাদের স্বপ্ন ও দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া তাদের কথা শুনে সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাপ্তাহিক গণশুনানিতে মিজানুর রহমান চাকরির জন্য আকুতি জানান। রোকসানার জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুক্কুর আলীর জন্য একটি ঘর নির্মাণের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। হতাশা ও দুশ্চিন্তা নিয়ে জেলা প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশ করলেও বের হওয়ার সময় তিনজনের মুখে ছিল হাসি।

মিজানুর রহমান (৩৯) গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বনখরিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিজানুরের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার মেয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং ঢাকার জাতীয় বিশেষ শিক্ষা কেন্দ্রে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। ছেলে মাদরাসায় হিফজ বিভাগে পড়াশোনা করছে। অসুস্থ মা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তার সংসার চলছে।

মিজানুর জানান, তাদের কোনো জমিজমা নেই এবং পরিবার চালাতে তার একটি সরকারি চাকরি প্রয়োজন। কিন্তু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় চাকরি পাওয়া তার জন্য কঠিন। তিনি জেলা প্রশাসককে জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিজের সমস্যার কথা জানাতে চান।

জেলা প্রশাসক মিজানুরের কথা শুনে তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তার মেয়েও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারের অসহায়ত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে মিজানুরের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবেন বলে জানান। জেলা প্রশাসক মিজানুরের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করারও কথা বলেন।

গাজীপুর মহানগরের মাষ্টারবাড়ি এলাকার রোকসানার (২৫) জীবন সংগ্রাম আরো কঠিন। তার বাড়ি বগুড়ায়। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে চট্টগ্রাম যাওয়ার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে তার ডান পা এবং বাঁ হাতের তিনটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে পরিবার তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামায়।

বড় হয়ে রোকসানার বিয়ে হয় এক রাজমিস্ত্রির সহকারী শ্রমিকের সঙ্গে। স্বামীর আয় ছিল অনিয়মিত। রোকসানা অন্তঃসত্ত্বা হলে প্রতিপক্ষের হামলায় তার স্বামী মারা যান। সন্তানকে মায়ের কাছে রেখে জীবিকার সন্ধানে গাজীপুরে এসে আবারও ভিক্ষাবৃত্তিতে নামতে হয় তাকে।

রোকসানা জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে একটি চাকরির ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। জেলা প্রশাসক জানান, রোকসানার জন্য গাজীপুরের কাশিমপুরে একটি বড় ও সুনামধন্য পোশাক কারখানায় তাৎক্ষণিক চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পূবাইলের হারবাইদ এলাকার বাসিন্দা শুক্কুর আলী (৪৩) দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। তার কোনো জমিজমা নেই এবং স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অন্যের বাড়িতে থাকতেন। প্রায় দুই বছর আগে স্ট্রোক করার পর শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন। ফলে তার আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায়।

শুক্কুর আলী জানান, তার দুর্দশা দেখে একজন ব্যক্তি ঘর নির্মাণের জন্য কিছু জমি দিতে চেয়েছেন। কিন্তু ঘর নির্মাণের সামর্থ্য তার নেই। তাই তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে একটি ঘর নির্মাণের আবেদন করেন। জেলা প্রশাসক তার আবেদন শুনে ঘর নির্মাণের আশ্বাস দেন।

বুধবারের গণশুনানিতে মিজান, রোকসানা ও শুক্কুর ছাড়াও অর্ধশতাধিক মানুষ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আসেন। তাদের মধ্যে কেউ এসেছেন চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চাইতে, কেউ গৃহসংকট, জমিজমা, বয়স্ক ভাতার কার্ড, ভাড়া না পাওয়া কিংবা এলএ বিলসংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে।

নিঃসন্তান ফিরোজা বেগম চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চান। ক্যানসারে আক্রান্ত বিধবা নাজমা চিকিৎসার খরচের জন্য সহায়তা চান। বৃদ্ধ আবুল হোসেন মৃধা ভাঙা ঘর মেরামতের জন্য টিন চেয়েছেন। ভোগড়া থেকে বিল্লাল হোসেন অভিযোগ করেন, তার ভাড়াটিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া পরিশোধ করছেন না।

শ্রীপুর থেকে আসা আশরাফুল ইসলাম রয়েল এলএ বিল পেতে ঘুষ দাবির অভিযোগ করেন। প্রতিবন্ধী শিরিন বয়স্ক ভাতার কার্ডের আবেদন করেন। আমেনা বেগম জমিসংক্রান্ত সমস্যার কথা জানান। কলেজছাত্র ও এতিম ফাহিমসহ কয়েকজন আর্থিক সহায়তার আবেদন করেন। হোসনেয়ারা, আবদুর রহিম ও আবদুর রাজ্জাক চিকিৎসা সহায়তার আবেদন নিয়ে আসেন।

মৃত সাংবাদিক আবদুল মজিদের স্ত্রী তামান্না আফরোজা তার সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে সহযোগিতা চান।

গণশুনানিতে আসা প্রত্যেকের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন জেলা প্রশাসক। সমস্যার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগও নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সমস্যার সমাধান করাই গণশুনানির মূল উদ্দেশ্য। তিনি জানান, সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন তারা। মিজানুর রহমান, রোকসানা ও শুক্কুর আলীর মতো মানুষের সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূর্ব তৈমুরের সঙ্গে নাটকীয় ড্রয়ে ফাইনালে কম্বোডিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:২৪ পি.এম


পূর্ব তৈমুরের সঙ্গে নাটকীয় ড্রয়ে ফাইনালে কম্বোডিয়া

ফিফা আসিয়ান কাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পূর্ব তিমুরের সাথে নাটকীয় ড্রয়ের মাধ্যমে ফাইনালে পৌঁছেছে কম্বোডিয়া। তারা গ্রুপ 'বি' চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ফাইনালে প্রবেশ করেছে কম্বোডিয়া।

হংকংয়ের কাই তাক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। ম্যাচের ১৭ মিনিটে জোয়াও পেদ্রোর গোলে পূর্ব তিমুর এগিয়ে যায়। তবে পিছিয়ে পড়ার পর কম্বোডিয়া আক্রমণের গতি বাড়াতে থাকে।

২৮ মিনিটে আন্দ্রেস নিয়েতোর অসাধারণ গোলে তারা সমতা ফিরে পায়। এরপর ৩৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দ্বিতীয় গোল করে কম্বোডিয়াকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে যান এই ফরোয়ার্ড।

দ্বিতীয় হাফে ১ গোলে পিছিয়ে থেকে পূর্ব তিমুর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এর ফলস্বরূপ ৫৮ মিনিটে কর্সিনো লেমোস গোল করে ম্যাচটিতে ২-২ সমতা ফিরিয়ে আনে। বাকি সময়ে উভয় দলই জয়সূচক গোলের জন্য চেষ্টা চালালেও কেউই জালের দেখা পায়নি।

এই ড্রয়ের ফলে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করল কম্বোডিয়া। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মিয়ানমার এবং ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে অবস্থান করছে পূর্ব তিমুর। আগামী ৩ অক্টোবর শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল ম্যাচে মাঠে নামবে কম্বোডিয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সম্ভাবনা বিপুল, বাংলাদেশে হালাল পণ্যের রপ্তানি এখনো ১০০ কোটি ডলারের নিচে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:২৪ পি.এম


সম্ভাবনা বিপুল, বাংলাদেশে হালাল পণ্যের রপ্তানি এখনো ১০০ কোটি ডলারের নিচে

বিশ্বব্যাপী হালাল পণ্যের বাজার প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের হলেও, বাংলাদেশের রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে। কৃষিভিত্তিক পণ্যের একটি বড় অংশ, যা প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ, এই অবস্থার জন্য দায়ী। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেলের সহযোগিতা চেয়ে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক হালাল বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কনসাল জেনারেল মো. রাশেদুজ্জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে সংগঠনের প্রশাসক মো. ফজলুল হক মুসলিম দেশগুলোতে হালাল পণ্য রপ্তানিতে সহায়তার অনুরোধ জানান। উভয় পক্ষ একসাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) একজন মহাপরিচালক জানিয়েছেন, হালাল পণ্যের বাজার বছরে প্রায় ১২ শতাংশ হারে বাড়ছে। বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম মুসলিমপ্রধান দেশ হিসেবে কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতে প্রচুর সম্পদ রয়েছে। দেশের নিজস্ব হালাল ভোক্তা বাজারের পরিমাণ প্রায় ১০৭ বিলিয়ন ডলারের।

প্রতিযোগীদের তুলনায় ব্যবধান বড়

হালাল মাংস রপ্তানিতে ব্রাজিলের বার্ষিক আয় ৫.১৯ বিলিয়ন এবং অস্ট্রেলিয়ার ২.৩৬ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক কৌশল গ্রহণ করলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারের ২-৩ শতাংশ দখল করতে সক্ষম হতে পারে, যদিও এটি একটি অনুমান এবং নিশ্চিত লক্ষ্য নয়।

বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ার জাকিম হালাল সনদ প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে অনুমোদন নবায়ন করা হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর রপ্তানি বহুমুখীকরণে হালাল খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা মনে করছেন।

ব্যবসায়ীদের মতে, উপযুক্ত ইকোসিস্টেম এবং স্বীকৃত সনদ দেওয়ার মতো একটি স্বাধীন কর্তৃপক্ষের অভাবই মূল প্রতিবন্ধকতা। একাধিক সনদ ব্যবস্থার কারণে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে, তাই সর্বজনস্বীকৃত একটি সনদ ব্যবস্থার দাবি উঠেছে। এছাড়া, প্রক্রিয়াজাতকরণের অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং বৈশ্বিক মানদণ্ডে আস্থার অভাব খাতটির বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বৈঠকে কনসাল জেনারেল বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ বিজনেস কাউন্সিল দ্রুত গঠনের তাগিদ দেন। এফবিসিসিআই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

কমার্শিয়াল কাউন্সিলর আশিষ কুমার সরকার জানান, বিজিএমইএর আসন্ন পোশাক মেলায় দুবাইয়ের একাধিক শীর্ষ প্রতিষ্ঠান আগ্রহী। তিনি আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাঠানোর পরামর্শও দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যাচাই-বাছাইয়ের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:২৪ পি.এম


যাচাই-বাছাইয়ের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

ব্যবসায়ীরা আবারও দাম বাড়ানোর দাবি তুললেও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাইয়ের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির দাবি জানালেও সরকার পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেবে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট সদর উপজেলার কানিশাইলে সুরমা নদীর ডান তীরে প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে ভোক্তাপর্যায়ে এর প্রভাব পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে আবারও দাম বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ২৯ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়ানোর অনুমতি দেয়। সেই সময় ১ লিটারের বোতলের দাম ১৯৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৯ টাকা হয়। পরে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন লিটারে আরো ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। সরকার সবশেষ লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলে খরচ ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তারা জানান, বর্তমান দামে বিক্রি করলে তাদের ধারাবাহিক লোকসান হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, বিশ্ববাজারে দাম কিছুটা বাড়লেও কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত দামের সঙ্গে বড় ব্যবধান রয়েছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপণ্যে করছাড় দেওয়া হয়েছে।

সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী এর আগে বলেছিলেন, সয়াবিন তেল পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। এফওবি মূল্যের সঙ্গে জাহাজভাড়া, খালাস ব্যয়, বিমা, রিফাইনারির প্রক্রিয়াকরণ খরচ ও পরিবহনকালীন অপচয় যোগ করে চূড়ান্ত দাম ঠিক করা হয়। তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, আমদানিকারকেরা টানা লোকসানে পড়লে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%