মোঃ আসাদ মিয়া রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:২২ পি.এম
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তিল্লা গ্রামে সবজি গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মো. সোহাগ (৩০) আহত হয়েছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁকে গলাচিপা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা হলেন মো. ফারুক প্যাদা (৫৫), তাঁর ছেলে মো. সোহাগ (৩০) ও মোছা. মাহিনুর বেগম (৪৫)। ফারুক প্যাদার অভিযোগ, শুক্রবার বিকেলে তাঁদের ঢেঁড়স গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। শনিবার সকালে বিষয়টি দেখতে গেলে বজলু মাতুব্বরের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে বজলু মাতুব্বরের ছেলে যুবরাজ ও সুমন সেখানে এসে সোহাগকে ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলে দেন। পরে লাঠি দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সোহাগ বলেন, পানিতে পড়ে যাওয়ার পর উঠে আসার সময় যুবরাজ তাঁকে প্রথমে পেছনে ও পরে মাথায় আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথা ফেটে যায় এবং তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী বাচ্চু ফকির ও নাচ্চু ফকির বলেন, তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহাগকে যুবরাজ আঘাত করতে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
অভিযোগের বিষয়ে বজলু মাতুব্বর, যুবরাজ, সুমন ও লিখন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বজলু মাতুব্বর বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। বরং তাঁদেরই ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। তাঁর ছেলে যুবরাজকেও গাছের ডাল দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে রাঙ্গাবালী চৌকি আদালতে সি.আর. মামলা এবং রাঙ্গাবালী থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করার পর আটক হওয়া এক নারীসহ তিন বাংলাদেশি ৩৩ মাস ধরে ভারতীয় কারাগারে থাকার পর দেশে ফিরে এসেছেন।
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর তারিখে, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
এরপর সোনাহাট বিজিবি ক্যাম্পের মাধ্যমে তাদের ভুরুঙ্গামারী থানায় সোপর্দ করা হয়।
ফিরে আসা তিনজনের মধ্যে রয়েছেন কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানার আব্দুল জলিল, মুজাফফর হোসেন এবং মানিকগঞ্জের শারমিন আক্তার।
ভুরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর তারা সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন। ৩৩ মাস কারাভোগের পর মুক্তি পাওয়ার পর বিএসএফ নিয়মিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তিনজনকে তাদের পরিবারের সদস্যদের অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুরে টিউবওয়েলের পানি গড়ানো নিয়ে বিরোধের ফলস্বরূপ প্রতিবেশী মারধরের কারণে আব্দুল জব্বার (৬০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের সময় টিউবওয়েলের পানি নিয়ে প্রতিবেশী জেহের আলীর ছেলে পলাশ এবং বিদ্যুতের সঙ্গে আব্দুল জব্বারের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। কথোপকথনের এক পর্যায়ে পলাশ আব্দুল জব্বারের বুকে কিল, ঘুষি এবং লাথি মারেন, যা তাকে গুরুতর আহত করে। আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে আব্দুল জব্বার মারা যান।
নিহত আব্দুল জব্বার শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত আনছার মন্ডলের পুত্র।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ মহেশপুর থানার ওসি আজাদ রহমান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে একটি স্কুলে পড়া ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গাছের সঙ্গে বেঁধে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে (৩২) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ এ ঘটনায় রাজীব (২৫) নামের একজনকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালীবাড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আটক রাজীব স্থানীয় মোফাজ্জল মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী তাঁর নবম শ্রেণির ছেলেকে নিয়ে ওই গ্রামের একটি দালানবাড়িতে বসবাস করেন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে রাজীব (২৫), ফাহিম (২০), এনামুল (২২), শরীফ (২২) ও আরিফ (২০) ঘরের দরজা খোলা পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে, তাঁরা প্রথমে গৃহবধূর ছেলেকে ঘরের বাইরে একটি কাঁঠালগাছের সঙ্গে বেঁধে চাকু ও চাইনিজ কুড়াল দেখিয়ে জিম্মি করেন। পরে গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এ সময় রাজীব তাঁর মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন এবং ৫০ হাজার টাকা দাবি করে ঘটনা কাউকে জানালে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি, ঘটনার একপর্যায়ে ছেলেটিকে পাশের একটি কক্ষে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখা হয়। পরে দুর্বৃত্তরা ঘরে থাকা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ও দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনাটি এলাকায় মাইকিং করে জানানো হলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে ভুক্তভোগী ও তাঁর ছেলেকে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতের শেষ দিকে রাজীবকে আটক করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্বজন হারুন অর রশিদ বলেন, ‘মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। গৃহবধূর স্বামী ও তাঁর ভাই বিদেশে থাকেন। তিনি ছেলেকে নিয়ে থাকেন। ঘরে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিল। ঘটনায় জড়িত সবাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে আমরা জানি। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
এ বিষয়ে গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান সেখ বলেন, ‘ঘটনা জানতে ভুক্তভোগী ও তাঁর ছেলেকে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় দ্রুত একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদেরও আটকের চেষ্টা চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিত্যদিনের অভাব ও সংসারে চরম দারিদ্র্য, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও থেমে থাকেনি রেশমি আক্তার সুমাইয়ার স্বপ্ন। মেধা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষায় সে চমৎকার ফলাফল অর্জন করেছে-জিপিএ-৫। কিন্তু ফল প্রকাশের পর আনন্দের সেই মুহূর্তে বাস্তবতার কঠিন দেয়াল যেন স্বপ্নের সামনে এসে দাঁড়ায়। ভালো একটি কলেজে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও অর্থের অভাবে রেশমির সেই স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। একদিকে অসাধারণ ফলাফলের আনন্দ, অন্যদিকে উচ্চশিক্ষার পথে অর্থনৈতিক সংকট-এই দুই বাস্তবতার টানাপোড়েনে দিশেহারা হয়ে পড়ে রেশমি ও তার পরিবার। রেশমির এই অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদটি নজরে আসে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দ্বীপ তালুকদারের। এরপর তিনি রেশমির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। বৃহস্পতিবার সকালে ইউএনও সন্দ্বীপ তালুকদার রেশমির হাতে আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেন। তাঁর এই সহযোগিতা শুধুমাত্র অর্থ সহায়তা নয়-এ যেন একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্নকে এগিয়ে নেওয়ার পথে মানবিকতার একটি হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
রেশমির মতো অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখে। তবে অর্থনৈতিক সংকট অনেক সময় সেই স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার মানবিক উদ্যোগ একটি পরিবারের মুখে যেমন হাসি ফোটাতে পারে, তেমনি একজন শিক্ষার্থীর মনে নতুন করে সাহস ও আশার জন্ম দিতে পারে।
রেশমির চোখে এখন হয়তো নতুন স্বপ্ন-ভালো একটি কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং একদিন পরিবারের দুঃখ-কষ্ট দূর করা। ইউএনও সন্দ্বীপ তালুকদার রেশমির পাশে দাঁড়িয়ে সেই স্বপ্নকে আরও একটু এগিয়ে দিলেন। আপনার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। মানুষের কল্যাণে আপনার এই মানবিক সহযোগিতার হাত আরও প্রসারিত হোক-এ প্রত্যাশা সবসময়। কারণ, একটি শিশুর হাতে তুলে দেওয়া সামান্য সহযোগিতাও কখনো কখনো তার ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় স্বপ্নের ভিত্তি হয়ে ওঠে। আর রেশমির গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়-দারিদ্র্য হয়তো পথকে কঠিন করে, কিন্তু মেধা, চেষ্টা আর মানুষের মানবিক সহযোগিতা সেই পথকে আবারও আলোকিত করে তুলতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ