শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:২৩ পি.এম
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে একটি স্কুলে পড়া ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গাছের সঙ্গে বেঁধে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে (৩২) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ এ ঘটনায় রাজীব (২৫) নামের একজনকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালীবাড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আটক রাজীব স্থানীয় মোফাজ্জল মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী তাঁর নবম শ্রেণির ছেলেকে নিয়ে ওই গ্রামের একটি দালানবাড়িতে বসবাস করেন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে রাজীব (২৫), ফাহিম (২০), এনামুল (২২), শরীফ (২২) ও আরিফ (২০) ঘরের দরজা খোলা পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে, তাঁরা প্রথমে গৃহবধূর ছেলেকে ঘরের বাইরে একটি কাঁঠালগাছের সঙ্গে বেঁধে চাকু ও চাইনিজ কুড়াল দেখিয়ে জিম্মি করেন। পরে গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এ সময় রাজীব তাঁর মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন এবং ৫০ হাজার টাকা দাবি করে ঘটনা কাউকে জানালে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি, ঘটনার একপর্যায়ে ছেলেটিকে পাশের একটি কক্ষে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখা হয়। পরে দুর্বৃত্তরা ঘরে থাকা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ও দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনাটি এলাকায় মাইকিং করে জানানো হলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে ভুক্তভোগী ও তাঁর ছেলেকে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতের শেষ দিকে রাজীবকে আটক করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্বজন হারুন অর রশিদ বলেন, ‘মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। গৃহবধূর স্বামী ও তাঁর ভাই বিদেশে থাকেন। তিনি ছেলেকে নিয়ে থাকেন। ঘরে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিল। ঘটনায় জড়িত সবাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে আমরা জানি। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
এ বিষয়ে গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান সেখ বলেন, ‘ঘটনা জানতে ভুক্তভোগী ও তাঁর ছেলেকে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় দ্রুত একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদেরও আটকের চেষ্টা চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিত্যদিনের অভাব ও সংসারে চরম দারিদ্র্য, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও থেমে থাকেনি রেশমি আক্তার সুমাইয়ার স্বপ্ন। মেধা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষায় সে চমৎকার ফলাফল অর্জন করেছে-জিপিএ-৫। কিন্তু ফল প্রকাশের পর আনন্দের সেই মুহূর্তে বাস্তবতার কঠিন দেয়াল যেন স্বপ্নের সামনে এসে দাঁড়ায়। ভালো একটি কলেজে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও অর্থের অভাবে রেশমির সেই স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। একদিকে অসাধারণ ফলাফলের আনন্দ, অন্যদিকে উচ্চশিক্ষার পথে অর্থনৈতিক সংকট-এই দুই বাস্তবতার টানাপোড়েনে দিশেহারা হয়ে পড়ে রেশমি ও তার পরিবার। রেশমির এই অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদটি নজরে আসে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দ্বীপ তালুকদারের। এরপর তিনি রেশমির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। বৃহস্পতিবার সকালে ইউএনও সন্দ্বীপ তালুকদার রেশমির হাতে আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেন। তাঁর এই সহযোগিতা শুধুমাত্র অর্থ সহায়তা নয়-এ যেন একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্নকে এগিয়ে নেওয়ার পথে মানবিকতার একটি হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
রেশমির মতো অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখে। তবে অর্থনৈতিক সংকট অনেক সময় সেই স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার মানবিক উদ্যোগ একটি পরিবারের মুখে যেমন হাসি ফোটাতে পারে, তেমনি একজন শিক্ষার্থীর মনে নতুন করে সাহস ও আশার জন্ম দিতে পারে।
রেশমির চোখে এখন হয়তো নতুন স্বপ্ন-ভালো একটি কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং একদিন পরিবারের দুঃখ-কষ্ট দূর করা। ইউএনও সন্দ্বীপ তালুকদার রেশমির পাশে দাঁড়িয়ে সেই স্বপ্নকে আরও একটু এগিয়ে দিলেন। আপনার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। মানুষের কল্যাণে আপনার এই মানবিক সহযোগিতার হাত আরও প্রসারিত হোক-এ প্রত্যাশা সবসময়। কারণ, একটি শিশুর হাতে তুলে দেওয়া সামান্য সহযোগিতাও কখনো কখনো তার ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় স্বপ্নের ভিত্তি হয়ে ওঠে। আর রেশমির গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়-দারিদ্র্য হয়তো পথকে কঠিন করে, কিন্তু মেধা, চেষ্টা আর মানুষের মানবিক সহযোগিতা সেই পথকে আবারও আলোকিত করে তুলতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ এবং বারবার তাগিদ সত্ত্বেও, দক্ষিণ কোরিয়া মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে কোনো সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা নেই।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন প্রশাসন যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহায়তা চেয়েছে, তখন তারা সেই অনুরোধে সাড়া দেবেন না।
এর আগে, সিউল পর্যাপ্ত সহায়তা প্রদান করছে না এমন অভিযোগ তুলে ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে দুই দেশের যৌথ মহড়া কমিয়ে দিয়েছিলেন। তবে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট দেশের নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন।
যদিও যুদ্ধের মাঠে সরাসরি সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা নেই, তবুও সোমালিয়া উপকূলে অবস্থানরত তাদের একটি নৌযান দেশের তেলবাহী ট্যাংকার এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহার করা যায় কি না, সেটি সরকার যাচাই করছে। অর্থাৎ, ট্রাম্পের জোরালো দাবি সত্ত্বেও, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট নিজের দেশের স্বার্থ এবং নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক হা ডু ডু খেলা। আধুনিক খেলাধুলার প্রভাবে এই গ্রামীণ খেলা প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল। হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার বারারচর এলাকার বাসিন্দাদের উদ্যোগে শুক্রবার বিকাল ৩টায় ঝগড়ারচর বাজার মাঠে অনুষ্ঠিত হয় হা-ডু-ডু খেলা।
উদ্বোধনী খেলায় অংশগ্রহণ করে বারারচর বনাম ভেলুয়া একাদশ। খেলায় ভেলুয়া হা ডু ডু একাদশ ৩-২ ব্যবধানে বিজয়ী হয়, ফলে বারারচর হা ডু ডু একাদশ পরাজিত হয়।
খেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন কমিটির সদস্য ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল। তিনি শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতীর খেলাধুলা, শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রধান অতিথি বলেন, "শ্রীবরদী উপজেলার সকল খেলার মাঠ সংস্করণ ও সব জায়গায় মাদক-সন্ত্রাস দমন, শান্তি-সম্প্রীতি রক্ষা এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা নিশ্চিতকরণে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।"
মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফারুক লেবু খেলাটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। সভাপতিত্ব করেন জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম বাহার।
এ সময় প্রিয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব আব্দুর রহিম দুলাল, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন দুলাল এবং উপজেলা বিএনপি ও ইউনিয়ন বিএনপির সকল নেতৃবৃন্দ।
দুপুর থেকেই উৎসুক হাজার হাজার দর্শক খেলার মাঠে জড়ো হন। দীর্ঘদিন পর এ খেলার আয়োজন হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে খুশির আমেজ দেখা যায়। উপজেলার বিভিন্ন দল পালাক্রমে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। খেলাকে কেন্দ্র করে উপজেলা জুড়ে চলছে নানা আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা। কোন দল সেমিফাইনালে বা ফাইনালে যাবে, এ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে আলোচনা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সন্দ্বীপে এসএসসি ব্যাচ ২০২৫-এর আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত ফুটসাল ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর ফাইনালে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরেছে কিং হেজন স্পোর্টিং ক্লাব। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে বিডি স্টার এফসিকে ৫–৪ গোলে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে দলটি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মগধারা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একের পর এক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমে উঠলেও নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে ০–০ গোলের সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা।
এরপর শিরোপা নির্ধারণে টাইব্রেকারে মুখোমুখি হয় দুই দল। টানটান উত্তেজনার এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসে কিং হেজন স্পোর্টিং ক্লাব। টাইব্রেকারে ৫–৪ গোলে বিডি স্টার এফসিকে পরাজিত করে নিজেদের ঘরে তুলে নেয় কাঙ্ক্ষিত চ্যাম্পিয়ন ট্রফি।
জমকালো পুরস্কার বিতরণী
ফাইনাল ম্যাচ শেষে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন হাওলাদার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মগধারা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক সামশুল আকতার ও বিমল চন্দ্র দাশ।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মগধারা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৯৯৩ ব্যাচের জীয়াউল হক শিবলী, ১৯৯৭ ব্যাচের শহীদ সেরোয়ার সুমন, ১৯৯৯ ব্যাচের আবুল হোসেন মিলাদ, আনন্দময়ী স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি মো. মাঈন উদ্দীন, আশরাফুল আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, খেলাধুলা তরুণ সমাজকে শৃঙ্খলাবোধ, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে। নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সম্ভব।
ধারাভাষ্যে ছিলেন সহেল রানা ও আমিনুল ইসলাম রিয়াদ
ফাইনাল ম্যাচে ধারাভাষ্যকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহেল রানা ও আমিনুল ইসলাম রিয়াদ। তাদের প্রাণবন্ত ধারাভাষ্যে ফাইনালের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
আয়োজনে যারা
টুর্নামেন্টটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে আয়োজক কমিটির সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আয়োজক কমিটিতে ছিলেন আফছার, মিনহাজ, শরিফ, জাহেদ, আকিব, জমির, হৃদয়, সম্রাট, ইয়াসিন, মহসিন, রিয়াদ, পনি, কার্যন ও বিজয়।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দর্শকদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এসএসসি ব্যাচ ২০২৫-এর আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত এই ফুটসাল ফুটবল টুর্নামেন্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ