০১:৫৭ এম
স্পেন এবং ইতালির মধ্যে সাম্প্রতিক অভিবাসী সংকটকে কেন্দ্র করে একটি কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে।
মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ভূখণ্ড সেউটায় হাজার হাজার অভিবাসীর নজিরবিহীন ও মর্মান্তিক অনুপ্রবেশের পর ইতালি এবং স্পেনের মধ্যে এই বিরোধের সূচনা ঘটে।
এই ঘটনার পর ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার গত ৩১ জুলাই সীমান্ত সুরক্ষার কঠোর অবস্থান নিয়ে এক মাসের জন্য স্পেনের সঙ্গে সেনজেন চুক্তির অধীনে মুক্ত চলাচল স্থগিত ঘোষণা করে। ইতালির এই পদক্ষেপের ফলে সামুদ্রিক ও আকাশপথের প্রবেশদ্বার বন্ধ করার পাশাপাশি স্থল সীমান্তের নিয়ন্ত্রণও জোরদার করা হয়।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সৌদি হামলায় শিশুসহ ১২ নিহত, নিষিদ্ধ বোমার অভিযোগ
স্পেন সরকারের পক্ষ থেকে শুক্রবার জানানো হয়েছে যে ইতালির এই পদক্ষেপটি 'অন্যায্য, ইইউর স্বার্থের পরিপন্থী এবং স্প্যানিশ জনগণের প্রতি বৈষম্যমূলক।' স্পেন অবিলম্বে ইতালীয় সরকারকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে এবং স্প্যানিশ নাগরিকদের অন্যান্য ইউরোপীয় নাগরিকদের মতো দেখার জন্য বলেছে।
এছাড়া আগামী রোববারের (৯ আগস্ট) মধ্যে ইতালি তাদের সীমান্ত চেক তুলে না নিলে স্প্যানিশ নাগরিকদের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষার্থে আনুপাতিক পাল্টা ব্যবস্থা বা কাউন্টারমেসার্স গ্রহণের হুমকি দিয়েছে মাদ্রিদ। তবে সম্ভাব্য এই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থাগুলো কী হতে পারে, সে সম্পর্কে স্পেন সুনির্দিষ্ট কিছু জানায়নি।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এই পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার্থে এবং সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব এড়ানোর জন্য একটি 'অসাধারণ ব্যবস্থা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে সেউটা ঘটনার পর তিনি অন্যান্য ইইউ নেতাদের সাথে মিলিয়ে ভিসা-মুক্ত সেনজেন অঞ্চল থেকে স্পেনকে সাময়িক স্থগিত করার দাবিও করেছেন, যদিও আইনগতভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।
স্পেন সরকারের মতে, অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী স্বার্থ হাসিলের জন্য এই ধরনের দূরত্ব এবং নিষ্ফল দ্বন্দ্ব তৈরি করা উচিত নয়। তারা আশা প্রকাশ করেছে যে ইউরোপীয় ভাবাবেগ, সাধারণ জ্ঞান এবং সদিচ্ছার জয় হবে।
আরও পড়ুন: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বিতর্ক, চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক
উল্লেখ্য, স্পেনের সরকারি হিসাব অনুযায়ী সেউটায় পৌঁছানো ৭২ হাজার অভিবাসীর মধ্যে ৭০ হাজার মানুষ মরক্কোতে ফিরে গেছেন এবং এই ঘটনায় ৮০ জনের মৃত্যুর রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের সীমান্তে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১০ জনেরই মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে।
এছাড়া সেউটায় থেকে যাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে শত শত অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুও রয়েছে, যারা বর্তমানে খাদ্য, পানি, আশ্রয় ও স্যানিটেশনের তীব্র সংকটসহ অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন