০৬:০৩ পি.এম
বাংলাদেশ বেতারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্রোঞ্জ ম্যুরাল নির্মাণের নামে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে সাবেক দুই তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও হাছান মাহমুদসহ আট জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন। দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ বেতারের সাবেক মহাপরিচালক এ কে এম নেছার উদ্দিন ভূঞা ও নারায়ণ চন্দ্র শীল, উপ-স্টেশন প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুর রহমান, বাংলাদেশ বেতারের সাবেক সিনিয়র প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন, প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি ও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং প্রকল্প পরিচালক প্রবাল কান্তি দাস।
আরও পড়ুন: কম্বোডিয়ায় আটক ৩০ বাংলাদেশি মঙ্গলবার দেশে ফিরছেন
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের পক্ষে কাজী জাকির হাসান ও মলয় কুমার গাঙ্গুলী বাংলাদেশ বেতারের আগারগাঁও কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের আবেদন করেন। পরে ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল বাংলাদেশ বেতারের কর্মকর্তারা জাতীয় বেতার ভবনের অভ্যন্তরে বঙ্গবন্ধুর একটি কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন ও নকশা প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেন। ওই বছরের ১৯ মে বাংলাদেশ বেতারের তৎকালীন মহাপরিচালক এ কে এম নেছার উদ্দিন ভূঞা বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠান। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সভায় বাংলাদেশ বেতারের শাহবাগ কমপ্লেক্স আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর, নির্মাণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির সভায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই বছরের ২৪ জানুয়ারি তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পের আওতায় ম্যুরাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। পরে ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির চতুর্থ সভায় ম্যুরাল স্থাপনের কাজটি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা যুক্তিযুক্ত বলে উল্লেখ করা হয় এবং ব্যয় প্রাক্কলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৭ মে বাংলাদেশ বেতারের তৎকালীন মহাপরিচালক নারায়ণ চন্দ্র শীলের নির্দেশে ব্রোঞ্জ ম্যুরাল নির্মাণের দাপ্তরিক ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় ৫ কোটি ৭৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রকল্প পরিচালক প্রবাল কান্তি দাস দরপত্রের মাধ্যমে ৫ কোটি ৭৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকায় নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেন। ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বঙ্গবন্ধুর ব্রোঞ্জ ম্যুরালের নকশা অনুমোদন করা হয়।
এজাহার অনুযায়ী, কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদার ২০২৪ সালের ১২ জুন পর্যন্ত নয়টি বিলের মাধ্যমে মোট ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা নেন। তবে, দুদকের অনুসন্ধানকালে বাংলাদেশ বেতারের আগারগাঁও কেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শন করে সেখানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: অর্থমন্ত্রী: জ্বালানি খাত এখন দেশের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু
দুদকের অভিযোগ, প্রকল্পের অপরিহার্য অংশ না হওয়া সত্ত্বেও পরস্পর যোগসাজশে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ম্যুরাল নির্মাণের কাজটি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে সরকারের ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দুদক সচিব বলেন, সংশোধিত ডিপিপি নীতিমালায় বলা হয়েছে কোনো উপাদান যদি অপরিহার্য হয় তাহলে তা ডিপিপি সংশোধন করা যাবে। কিন্তু ব্রোঞ্জের মূর্তি নির্মাণ অপরিহার্য ছিল না। নীতিমালা লঙ্ঘন করে এটা নির্মাণ করা হয়েছে। এভাবে সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন