বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৩৪ এম
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও পতনের সম্মুখীন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) মুদ্রানীতি নির্ধারণী বৈঠক আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যার ফলে সুদের হারের গতিপথ সম্পর্কে নতুন সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এই পরিস্থিতিতে স্বর্ণের বাজারে চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে এশিয়ার প্রাথমিক লেনদেনে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৬ শতাংশ কমে যায়। ফলে প্রতি আউন্সের দাম ৪ হাজার ১১৫ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে আসে। এর আগের দিন বুধবার দাম কমে ৪ হাজার ১০৪ ডলার ৩৩ সেন্টে দাঁড়িয়েছিল, যা ১৫ অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন।
অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩২ ডলার ৩০ সেন্ট হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজার সংশ্লিষ্টদের নজর এখন ২৭ ও ২৮ অক্টোবর ফেডের মুদ্রানীতি নির্ধারণী বৈঠকের দিকে। পাশাপাশি, আগামী সপ্তাহে প্রকাশিতব্য ব্যক্তিগত ভোগব্যয় (পিসিই) মূল্যসূচকের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি বুঝতে ফেড এই সূচকটি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে, যার লক্ষ্য মূল্যস্ফীতির হার ২ শতাংশে নামিয়ে আনা।
গণমাধ্যমটির জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সব অর্থনীতিবিদের ধারণা, অক্টোবরে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ব্যবসায়ীদের মধ্যে ১৬ শতাংশ। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ ধরে নিচ্ছেন তারা।
সাধারণত সুদের হার বৃদ্ধি পেলে স্বর্ণের দামে চাপ সৃষ্টি হয়। কারণ, স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বাড়লে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায় এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদ পাওয়া যায় এমন সম্পদ তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন ঘটেছে। বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ ডলার ৩৩ সেন্টে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১.১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬০৯ ডলার ৯৫ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭৮ ডলার ৫২ সেন্ট হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেক্সিকো সরকারের আপত্তি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ২ হাজার ৩০০ মেক্সিকান নাগরিককে গুয়াতেমালায় পাঠিয়েছে। তাদের পরবর্তীতে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসীদের বহিষ্কারের অভিযানের অংশ হিসেবে এই ঘটনা ঘটছে। তৃতীয় দেশে অভিবাসীদের পাঠানোর এই প্রবণতা নিয়ে মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্ট বার্নার্দো আরেভালো বুধবার জানিয়েছেন, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত ২ হাজার ২৮৪ জন মেক্সিকান নাগরিককে তার দেশ গ্রহণ করেছে।
আরেভালো এক সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, গুয়াতেমালায় ফেরত আসা নাগরিকদের বহনকারী বিমানে মেক্সিকানদেরও আনা হচ্ছে। মেক্সিকো সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের গুয়াতেমালার মধ্য দিয়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। দেশটিতে পৌঁছানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মেক্সিকোর ভূখণ্ডে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের গন্তব্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নাও থাকতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের যুক্তি হলো, যাদের বহিষ্কার করা হচ্ছে, তাদের অনেককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। তবে মেক্সিকোর ক্ষেত্রে এই যুক্তি প্রযোজ্য নয়, কারণ দেশটি নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত নাগরিকদের গ্রহণ করে আসছে।
সমালোচকদের মতে, তৃতীয় দেশে অভিবাসীদের পাঠানো এক ধরনের শাস্তি। এতে অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীরা নিজ দেশ থেকে অনেক দূরে আটকা পড়ার ঝুঁকিতে থাকেন।
মেক্সিকান নাগরিকদের গুয়াতেমালায় পাঠানোর বিষয়ে আরেভালো জানান, তাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে খরচ বহন করছে মেক্সিকো অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সরকার।
তবে তৃতীয় দেশে নিজেদের নাগরিকদের পাঠানোর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মেক্সিকো সরকার। বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের কাছে এ চর্চার বিরোধিতা জানিয়েছে মেক্সিকো। একই সঙ্গে দেশটির প্রত্যেক নাগরিকের মেক্সিকোয় প্রবেশের অধিকার রয়েছে বলে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার গুয়াতেমালার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর মেক্সিকোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো জানায়, দুই দেশ অভিন্ন মূল্যবোধে বিশ্বাসী। এর মধ্যে নিরাপত্তা এবং মর্যাদার সঙ্গে মানুষের চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টিও রয়েছে।
গুয়াতেমালাই একমাত্র দেশ নয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকান নাগরিকদের পাঠাচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছু মেক্সিকান নাগরিককে হন্ডুরাসেও পাঠানোর খবর পাওয়া গেছে।
হন্ডুরাসে বহিষ্কৃত হয়ে যাওয়া মেক্সিকান নাগরিক আর্তুরো ত্রেখো টেলিভিশন চ্যানেল টেলিমুন্দোকে জানান, তাদের কিছু জানানো হয়নি। শুধু বিমানে উঠতে বলা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র কেন মেক্সিকান নাগরিকদের তৃতীয় দেশে পাঠাচ্ছে, সে বিষয়ে মেক্সিকোর জাতীয় অভিবাসন ইনস্টিটিউট (আইএনএম) বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানায়, মার্কিন কর্তৃপক্ষ এ পদক্ষেপকে অভিবাসীদের নিরুৎসাহিত করার কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। আইএনএমের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র চায়, এসব মানুষ যেন আবার দেশটিতে প্রবেশের চেষ্টা না করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানায়, ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বহিষ্কার অভিযান পরিচালনা করতে তারা আইনের আওতায় থাকা সব ধরনের উপায় ব্যবহার করছে।
তবে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের অনেকে মেক্সিকান নাগরিকদের তৃতীয় দেশে পাঠানোকে ভয় দেখানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন। অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ওয়োলা (ডব্লিউওএলএ)-এর মধ্য আমেরিকাবিষয়ক পরিচালক আনা মারিয়া মেন্দেজ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতি ক্রমেই কঠোর হচ্ছে। অভিবাসীদের মধ্যে যেকোনো মূল্যে আতঙ্ক ও ভয় ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে মনে হচ্ছে।
প্রতিবেশী দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশ পরস্পরের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। শুধু ২০২৫ সালেই দুই দেশের মধ্যে সীমান্তপারের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৬ হাজার ৪১০ কোটি ডলার।
গত বছর ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মেক্সিকো সরকারকে কঠিন ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে। একদিকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে মার্কিন কর্তৃপক্ষের হাতে নিজেদের নাগরিকদের সম্ভাব্য নির্যাতন ও অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হচ্ছে।
অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানের সময় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে আইসিইর হেফাজতে অন্তত ১৫ জন মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অভিবাসনবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় আরও তিনজন মেক্সিকান নাগরিক মারা গেছেন।
এসব ঘটনার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের কৌঁসুলিদের কাছে অভিযোগ করেছে মেক্সিকো সরকার। আইসিইর আটককেন্দ্রগুলোর পরিবেশকে ‘মানবাধিকারের মানদণ্ডের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ’ বলেও নিন্দা জানিয়েছে দেশটি। পাশাপাশি আটককেন্দ্রগুলোতে মেক্সিকোর কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মেক্সিকো সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ৯ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পুলিশ এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া সাঈদ হোসেন ওরফে নান্নু (৪২) উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের দারুল আবরার মাদরাসার শিক্ষক এবং মৃত আফফান ডাক্তারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। গত ১৪ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে মাদরাসায় অতিরিক্ত ক্লাস চলাকালে শিক্ষক সাঈদ হোসেন কৌশলে শিশুটিকে মাদরাসার অফিসকক্ষে ডেকে নেন। অভিযোগ উঠেছে যে, পরে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে তাকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে তার সহপাঠী ও স্থানীয় কয়েকজন নারী এগিয়ে আসেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক জুব্বা ও পায়জামা হাতে নিয়ে অফিসকক্ষ থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে শিশুটি উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়।
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে শিশুটির মা তাতে রাজি না হয়ে গত ২০ অক্টোবর দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করে ওই রাতেই অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, একটি প্রতিযোগিতা উপলক্ষে মাদরাসায় অতিরিক্ত ক্লাস চলছিল। অন্য শিক্ষার্থীরা চলে গেলেও ওই শিশুকে আটকে রেখে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে শিশুটির মা থানায় অভিযোগ দিলে মামলা নথিভুক্ত করা হয় এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের। সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল গোলচত্বরে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ‘ক্লোভারলিফ ইন্টারচেঞ্জ’ নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি ঢাকা, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২২ জেলার যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে তৈরি হচ্ছে। প্রকল্পের ৭২ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়ায় ছয়টি সার্ভিস লেন যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে নির্মাণযজ্ঞ চলছে দিন-রাত। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পের কাজ শেষ হলে যানবাহনের গতি বাড়বে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকা রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করেছে দেশের ২২ জেলার মানুষকে। এই অঞ্চলের যান চলাচল নির্বিঘ্ন ও গতিশীল করতে ২০২২ সালে শুরু হয় দেশের দ্বিতীয় সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের নির্মাণকাজ। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতার কারণে তা চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এখন পর্যন্ত বালি ভরাট, বাউন্ডারি ওয়াল, এসএমবিডি ব্রিজ নির্মাণ, সার্ভিস এরিয়া সহ বড় অংশের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মূল ইন্টারচেঞ্জের পাইল, র্যাম্পের পাইল, পাইল ক্যাপ, ডায়ার স্ট্যাম্প ও গার্ডার নির্মাণের কাজও শেষ হয়েছে, ফলে মূল স্থাপনার দৃশ্যমানতা বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদ ও সড়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যমুনা সেতুর পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার সম্ভব হয়নি দুপাশের সংযোগ সড়কের সংকটের কারণে। হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ চালু হলে সেতুটির পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পাওয়া যাবে। ব্যবসায়ীদের মতে, প্রকল্পটি চালু হলে এই অঞ্চলে শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। ৭৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রেলওয়ে ব্রিজ করপোরেশন’। দেশের সড়ক অবকাঠামোর মধ্যে এই প্রকল্পেই প্রথম স্থাপিত হতে যাচ্ছে অত্যাধুনিক ‘ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম’ (আইটিএস)।
সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘ইন্টারচেঞ্জটি চালু হলে দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে দ্রুততম সময়ে পণ্য সরবরাহ করা যাবে। এতে সময় ও খরচ দুটোই কমবে। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা পণ্যের সঠিক দাম পাবেন এবং এই অঞ্চলে বড় বড় কলকারখানা গড়ে উঠবে।’
সাসেক ২-এর প্রকল্প পরিচালক মো. ওয়ালিউর রহমান জানান, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থাকে সহজ ও গতিময় করতে দিন-রাত দুই শিফটে কাজ চলছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস) হলো একটি অটোমেটিক কন্ট্রোল সিস্টেম। এটি চালু হলে গাড়ি কখন কোন লেনে যাবে, কোথায় থামবে—তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। কেউ ভুল লেনে প্রবেশ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ম বেজে উঠবে।
আইটিএস ব্যবহারের ফলে যানজটের তীব্রতা কমে যাবে এবং সড়ক নিরাপত্তার ব্যবস্থাপনা আরো জোরদার হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে টালিউডে আলোচনা চলছে। শোনা যাচ্ছে, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে তিনি বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারেন। ভক্তদের মধ্যে সম্ভাব্য পাত্র এবং বিয়ের আয়োজন নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিনেত্রী এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিমির বিয়ের অনুষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গের পাহাড়ি শহর কালিম্পংয়ে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তাঁর কথিত জীবনসঙ্গী সিদ্ধার্থ নামের একজন ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তা, যিনি চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে যুক্ত নন বলে জানা গেছে। ঘনিষ্ঠজনদের আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি এবং বিয়ের কেনাকাটা নিয়ে বিভিন্ন খবরও সামনে এসেছে।
এদিকে, বিয়ের গুঞ্জনের মাঝে দুর্গাপূজার আনন্দে মেতে উঠতে দেখা গেছে মিমিকে। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, উৎসবের সাজ এবং পূজামণ্ডপে ধুনুচি নাচের মুহূর্তগুলো তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন। নবমীতে গাঢ় গোলাপি বেনারসি শাড়িতে ধুনুচি নাচতে দেখা যায় অভিনেত্রীকে। এসব মুহূর্ত নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও মাঝে মাঝে আলোচনায় আসেন মিমি। সম্প্রতি তাঁর অভিনীত ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ সিনেমাটি নিয়েও তিনি ব্যস্ত রয়েছেন। তবে বিয়ের খবর নিয়ে নানা জল্পনা চললেও, অভিনেত্রী নিজে এখনো বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। ফলে ডিসেম্বর মাসে তাঁর বিয়ে হচ্ছে কি না, তা জানতে ভক্তদের আপাতত আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ