১০:০০ পি.এম
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা, শিক্ষা ও সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলায় পর্যায়ক্রমে ৬৪টি প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান, বিশেষায়িত শিক্ষা এবং টেকসই পুনর্বাসনের সুযোগ বৃদ্ধি করার জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর ইস্কাটনে কেয়ারারস অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক কেয়ারারস দিবস ২০২৬’ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বহুমুখী সমস্যা সমাধানে সরকারের আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণ সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি অঙ্গীকার। ছেলে, মেয়ে, স্নায়ুবিকাশজনিত প্রতিবন্ধিতাসম্পন্ন (এনডিডি) কিংবা এ ধরনের প্রতিবন্ধিতা নেই—নির্বিশেষে সমাজের পিছিয়ে পড়া প্রতিটি মানুষের পাশে সরকার আন্তরিকভাবে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর।
আরও পড়ুন: মিসরে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ৬৪ জন আহত
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য মালিক ও উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সার্বক্ষণিক পরিচর্যায় নিয়োজিত অভিভাবকদের ত্যাগের কথা তুলে ধরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, সন্তানদের পরিচর্যা করতে গিয়ে যেসব বাবা-মা কোনো পেশায় যুক্ত হতে পারেন না, তাঁদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা ও কাজের প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তাঁদের স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শুধু আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ দিয়েই সরকারের দায়িত্ব শেষ করতে চায় না। তাঁদের টেকসই পুনর্বাসনও নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষাদানের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষকের সংকট রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য দেশে মাত্র একটি সরকারি কলেজ রয়েছে। এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দ্রুত বিভাগীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন সহায়ক উপকরণ তৈরির সরকারি প্রতিষ্ঠানকে আরও আধুনিকায়ন করা হবে।
আরও পড়ুন: শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কাজ শুরু করেছে সরকার
আন্তর্জাতিক প্যারা অলিম্পিকে বাংলাদেশের প্রতিযোগী ও ক্রীড়াবিদরা যাতে সাফল্য অর্জন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সাভারে আন্তর্জাতিক মানের অলিম্পিক ভিলেজ নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে বলেও জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তিন শতাধিক পরিচর্যাকারী (কেয়ারার) তাঁদের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এ সময় তাঁরা একটি সমন্বিত ‘জাতীয় কেয়ারার কাঠামো’ গড়ে তোলার জোর দাবি জানান।
কেয়ারারস অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল মুনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান দুলাল। এ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বাউফলে বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজের ওপর হামলা, উত্তেজনা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন