০৭:৫৯ এম
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অভিযানে যদি কোনো প্রতিবেশী দেশ যোগ দেয়, তাহলে তেহরান তাদের শত্রু হিসেবে দেখবে এবং তাদের স্বার্থে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘাত বন্ধ থাকলেও সেখানে বাগযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলে ইরানে পাল্টা জবাব দেয়ার হুমকি দিয়েছেন মোহসেন রেজায়ি। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোকে জানান দিচ্ছি, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ দেবেন না। অন্যথায় আমরা তাদের শত্রু হিসেবে গ্রহণ করব।’
ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অভিযানে যুক্ত না হওয়ার সতর্কবার্তা দিয়ে রেজায়ি জানিয়েছেন, কেউ যদি সহযোগিতা করে, তাহলে তাদের নিজেদের স্বার্থেও আঘাত হানবে তেহরান। এমনকি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে না দেয়ার ও বিকল্প তেল রফতানি পথেও হামলার হুমকি তিনি দেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি
শনিবার (২২ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ সতর্কবার্তা জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক অর্থনৈতিক হুমকি দেয়ার প্রেক্ষাপটে রেজায়ির বক্তব্য প্রকাশ পায়।
গত বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তার সরকার ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ‘কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরু করতে যাচ্ছে। দুই দেশের চলমান সংঘাতের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ইরানের অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে হুমকি দান করার পাশাপাশি ট্রাম্প বলেন, যদি কোনো দেশ ইরানকে ‘যেকোনো ধরনের সহায়তা বা টিকে থাকার সুযোগ’ দেয়, তাহলে তাদের জন্য ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি অপেক্ষা করছে। পরদিন ট্রাম্পের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও একই ধরনের হুমকি দেন। তিনি বলেন, ‘আপনি হয় আমাদের সঙ্গে আছেন, নয়তো আমাদের বিরুদ্ধে।’
এদিকে, মার্কিন নতুন উদ্যোগকে সরাসরি অর্থনৈতিক সন্ত্রাস আখ্যায়িত করেছে তেহরান। দেশটির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেন, জনগণের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মেনে নেয়া হবে না।
আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকি থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার বার্তা পাওয়া গেছে। অপরদিকে, হরমুজে চলাচল কমে যাওয়ার কারণে বিকল্প পথ তৈরির পরিকল্পনা করছে পশ্চিমা ও উপসাগরীয় দেশগুলো।
যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলেও ইরান তাদের প্রস্তুতিতে এগিয়ে থাকার দাবি করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ৪০ দিনের যুদ্ধের মধ্যেও অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদন বন্ধ হয়নি; বরং এটি তিন গুণেরও বেশি বেড়ে গেছে। এর মধ্যেই আরব সাগরে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের জায়গা নিতে এটি পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন