ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঐতিহ্যবাহী কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র সংরক্ষণে নেওয়া হবে উদ্যোগ: তথ্য প্রতিমন্ত্রী


ঐতিহ্যবাহী কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র সংরক্ষণে নেওয়া হবে উদ্যোগ: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ৮ আগস্ট, ২০২৬ : তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র একটি ঐতিহ্যবান স্থান। এখান থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের সংরক্ষণে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

তিনি এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন, আমাকে জানানো হয়েছে যে, বন্যা হলে এখানে পানি ওঠে। এই ঐতিহাসিক বেতার কেন্দ্রকে সুন্দরভাবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমরা উদ্যোগ নেব। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সাথে আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করব।

আজ শনিবার সকালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তথ্য প্রতিমন্ত্রী এসব মন্তব্য জানান।

আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি

এসময় চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. এরশাদ উল্লাহ এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবর ও অপতথ্য প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘নিউ মিডিয়ার মাধ্যমে ভুল তথ্য, অপতথ্য এবং ভুয়া তথ্য প্রচার হচ্ছে। সাইবার সুরক্ষা আইনের মাধ্যমে অপতথ্য এবং মিথ্যা তথ্য প্রচার বন্ধ করার জন্য আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। অনলাইন মিডিয়ায় যারা বিভিন্ন রিলস বানায়, তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা বিভিন্ন রকম পরিকল্পনা নিয়েছি। নিউ মিডিয়া প্রজেক্টের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। আমরা বিভিন্ন তথ্যচিত্র তৈরির কাজ করছি, সেগুলো প্রচারের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে। যাতে অপতথ্য ও মিথ্যা তথ্য থেকে মানুষ বিরত থাকতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য যাচাইয়ের জন্য আমরা বিভিন্ন টুলস ডেভেলপ করার চেষ্টা করছি, যেগুলোর মাধ্যমে আমরা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংস করে জনগণকে অবহিত করতে পারব।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন

পিছিয়ে থাকা রেডিও ও সম্প্রচার মাধ্যমকে কীভাবে আরো সক্রিয় করা যায়- এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বেতারের এফএম’কে আরো শক্তিশালী করার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। এজন্য আমরা একটি প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। গতকাল আমি চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। তারা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা সেগুলো গ্রহণ করেছি এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায়, এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিটিভিকে আরো আধুনিকায়ন করার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিটিভিতে ফরেনসিক অডিট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে অডিট শুরু হবে। অডিট রিপোর্টের মাধ্যমে আমরা বিটিভি’র ডিজিটালাইজেশন থেকে শুরু করে প্রোগ্রামগুলোকে আরো কীভাবে সুন্দর করা যায়, সেই উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি’ বিটিভির একটি সিগনেচার প্রোগ্রাম। আমরা নতুন কুঁড়িকে আরো আধুনিকায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছি। এই ধরনের প্রোগ্রামগুলো যদি বিটিভি’তে আমরা বেশি বেশি করতে পারি, তাহলে আশা করি দর্শকরা বিটিভি দেখার জন্য আরো আগ্রহী হবে।

আরও পড়ুন: সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কারিগরি ত্রুটিতে রোম-ঢাকা ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:১৪ পি.এম


কারিগরি ত্রুটিতে রোম-ঢাকা ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন

ঢাকা, ৮ আগস্ট, ২০২৬ : রোম থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩০৬ ফ্লাইটের নির্ধারিত উড়োজাহাজ এস-টু-এজে-ওয়াই বর্তমানে ‘এয়ারক্রাফট অন গ্রাউন্ড’ অবস্থায় রয়েছে কারিগরি ত্রুটির কারণে।

আজ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কারিগরি ত্রুটি সমাধান করার জন্য প্রকৌশলী দল ও প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ ৮ আগস্টের বিজি-৩০৫ ফ্লাইটের মাধ্যমে রোমে পাঠানো হচ্ছে। রোমের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে এটি পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি কারিগরি ত্রুটি সমাধান করা সম্ভব হয়, তাহলে বিজি-৩০৬ ফ্লাইটটি ৮ আগস্ট রোমের স্থানীয় সময় রাত ১০টায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যেতে পারে। ফ্লাইটটির ঢাকায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা ৯ আগস্ট স্থানীয় সময়ে সকাল প্রায় সাড়ে ১০টায় রয়েছে।

একইসঙ্গে, যাত্রীদের সর্বশেষ তথ্য নিয়মিতভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোমবার প্রকাশ হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের ফল, জানবেন যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ পি.এম


সোমবার প্রকাশ হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের ফল, জানবেন যেভাবে

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হবে সোমবার (১০ আগস্ট)। ফল প্রকাশ করা হবে সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে। শিক্ষার্থীরা এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এই তথ্য প্রদান করেছেন।

তিনি বলেন, সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফলাফল উপলব্ধ হবে। সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটে নিজেদের বোর্ডের ফল প্রকাশিত হবে। এছাড়া দুটি অভিন্ন ওয়েবসাইট—eduboardresult.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd—থেকে ফলাফল জানা যাবে।

এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানার প্রক্রিয়া

বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আসনের জন্য যেকোনো সিমে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে। প্রথমে মেসেজ অপশনে গিয়ে SSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখতে হবে। এরপর রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে YEAR লিখে ১৬১৪০ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে পরীক্ষার ফল জানিয়ে দেয়া হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য এসএমএসের ফরম্যাট হবে SSC DHA ROLL YEAR। মাদরাসা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষার্থীদের জন্য SSC MAD ROLL YEAR লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য SSC TEC ROLL YEAR লিখে একই নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।

প্রতিটি এসএমএসের জন্য চার্জ হবে ১ টাকা ৩৯ পয়সা। এই চার্জের মধ্যে সকল ধরনের কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল সারা দেশে একযোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। এই পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীন দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি বোর্ডের অধীন পরীক্ষায় বসে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী।

গত ২০ মে লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের বিধান থাকলেও, এ বছর নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ পি.এম


আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ

ঢাকা, ৮ আগস্ট, ২০২৬ : মানবস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী নাগরিকদের প্রতি নির্ধারিত শব্দমাত্রা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিটি গত বৃহষ্পতিবার (৪ আগস্ট) প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে এলাকা ভিত্তিক শব্দের সর্বোচ্চ মানমাত্রা নির্ধারণ এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে, নিরব এলাকায় সর্বোচ্চ শব্দমাত্রা ৪০ ডেসিবল এবং শিল্প এলাকায় সর্বোচ্চ ৭৫ ডেসিবল নির্ধারণ করা হয়েছে।

এসব সীমা অতিক্রম করে উচ্চ শব্দ সৃষ্টির অনুমতি নেই।

বিধিমালা অনুযায়ী, উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্রপাতি বা কর্মকাণ্ড নির্ধারিত শব্দমাত্রার বাইরে পরিচালনা করা যাবে না।

এছাড়া সরকারি অনুমতি ছাড়া পাবলিক প্লেসে উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাবে না।

অনুমতি দেওয়া হলেও শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৯০ ডেসিবলে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে এবং তা পাঁচ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করা যাবে না।

রাত ১১টার পর এসব যন্ত্র ব্যবহার করার অনুমতি থাকবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সীমার বেশি শব্দ উৎপন্নকারী হর্ন প্রস্তুত, আমদানি, মজুদ, বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নিরব এলাকায় হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

এইসব এলাকায় পটকা, আতশবাজি বা অন্য কোনো উপায়ে শব্দদূষণ করা যাবে না।

আবাসিক এলাকায় শব্দ নিয়ন্ত্রণের জন্য রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করতে পারে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বনাঞ্চলে বনভোজনের আয়োজন এবং উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্র ব্যবহারেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

নির্মাণকাজের ক্ষেত্রেও সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত নির্মাণ যন্ত্রপাতি ব্যবহার বা পরিচালনা করা যাবে না।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, শব্দদূষণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্রাফিক সার্জেন্ট বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনা স্থানে শব্দদূষণ প্রত্যক্ষ করলে বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জনসাধারণকে শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হয়ে নতুন বিধিমালা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে ত্রুটিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন রাজউক চেয়ারম্যান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ পি.এম


ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে ত্রুটিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন রাজউক চেয়ারম্যান

ঢাকা, ৮ আগস্ট, ২০২৬: রাজধানীর ভবনগুলোর ত্রুটি চিহ্নিত করে ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, এমনটি জানিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ভবন ধসের জন্য ভূমিকম্পের সময় শুধু ভবনের উচ্চতা দায়ী নয়; ত্রুটিপূর্ণ নকশা, মাটির অবস্থান এবং নির্মাণে অনিয়মও এর অন্যতম প্রধান কারণ। অতএব, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা, মাটি পরীক্ষা এবং প্রকৌশলগত মান নিশ্চিত করা জরুরি।

আজ শনিবার সকাল বেলা জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত ‘ভূমিকম্প ঝুঁকিতে দেশ: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী হাসান আনসারী।

রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক ভবন বিদ্যমান রয়েছে। এসব ভবনের ঝুঁকি একসঙ্গে নিরূপণ করা সম্ভব নয়। এজন্য ধাপে ধাপে র‌্যাপিড ভিজ্যুয়াল অ্যাসেসমেন্ট, প্রিলিমিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট এবং ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় রাজউকের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একাধিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভূমিকম্পের আগেই ঝুঁকি নিরূপণ, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ভবিষ্যৎ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমানোর দায়িত্ব শুধু রাজউকের নয়। সিটি করপোরেশন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কার্যকর সিটি গভর্নমেন্ট ব্যবস্থা থাকলে নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজ আরও সহজ ও সমন্বিতভাবে করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন।

প্রসঙ্গে ভবন নির্মাণে অনিয়মের কথা বলেন, অনুমোদিত ছয়তলা ভবনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ১০ তলা করা কিংবা অনুমোদিত নকশা পরিবর্তন করে নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। এরূপ ভবনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আইনগত যাচাই ছাড়া অনুমোদন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ভবনের সংকলিত নকশা প্রণয়নকারী স্থপতি ও প্রকৌশলীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নকশায় স্বাক্ষর করার পাশাপাশি নির্মাণকাজের বাস্তবায়ন ও তদারকিতেও তাদের দায়িত্ব নিতে হবে। অনিয়ম হলে তাদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি ভবন মালিকদের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ এবং অকুপেন্সি সার্টিফিকেট নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে অনিয়মের তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম থেকে পাওয়া অভিযোগ যাচাই করে রাজউক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

রিয়াজুল ইসলাম বলেন, রাজউকের দুর্বল উপস্থিতিকে শক্তিশালী উপস্থিতিতে পরিণত করাই তার লক্ষ্য। এজন্য ভবন নির্মাণে অনিয়ম, ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা ও নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই কাজ একদিনে সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভবন নির্মাণের ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমকে নিয়মিত ভূমিকা রাখতে হবে। প্রকৌশলী ও তদারকি সংস্থাগুলোকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ ও জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ডেভেলপারদের সহযোগিতা করতে হবে। অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের মাধ্যমে ভবনের নকশা ও নির্মাণ নিশ্চিত করা গেলে টেকসই ও নিরাপদ ভবন নির্মাণ সম্ভব।

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি শুধু ভবনের নকশা বা নির্মাণমানের ওপর নির্ভর করে না; ভবনটি কোথায় এবং কী ধরনের মাটির ওপর নির্মিত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। দুর্বল ও জলাভূমি এলাকায় অপরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প ভূমিকম্পের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

তিনি দুর্বল মাটির ওপর ভবন নির্মাণ বন্ধে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, ঢাকায় অনুমোদিত ভবনের অতিরিক্ত তলা নির্মাণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের ভবন চিহ্নিত করে দ্রুত পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ঢাকার প্রায় ৬ লাখ ভবনের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করা জরুরি। ভূমিকম্পের সময় সচেতনতার পাশাপাশি সারা বছর গণমাধ্যমে এ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক সংবাদ প্রচার করতে হবে। আগাম প্রস্তুতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা গেলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক সালেহ উদ্দিন বলেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় কোনো একক সংস্থার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। সমন্বিতভাবে সব অংশীজনকে প্রস্তুতি নিতে হবে। এ জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত মহড়া ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, ভূমিকম্পের পর দ্রুত উদ্ধারের কার্যক্রম পরিচালনায় ফায়ার সার্ভিসের কিছু প্রস্তুতি রয়েছে। ঢাকার আশপাশের ৪১টি ফায়ার স্টেশনকে এয়ারমার্ক করা হয়েছে এবং বিশেষ রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এসব প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়, উল্লেখ করে তিনি সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সালেহ উদ্দিন বলেন, ভূমিকম্পে মানুষ সরাসরি মারা যায় না, বরং ভবন ও স্থাপনা ধসে পড়ার কারণে প্রাণহানি ঘটে। সেজন্য ভবন নির্মাণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ও সংশ্লিষ্ট আইন মেনে চলার পাশাপাশি ফায়ার সেফটি নিশ্চিত করতে হবে। পরিবার, কমিউনিটি ও জাতীয় পর্যায়েও আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

ডুরার সভাপতি শাহজাহান মোল্লা বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও প্রস্তুতিসংশ্লিষ্ট তথ্যের আলোকে কীভাবে ঝুঁকি কমানো যায়, সে বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। গণমাধ্যমের মাধ্যমে সঠিক তথ্য তুলে ধরে সরকার ও রাজউকের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমেও সহযোগিতা করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ডুরার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম। এ সময় ডুরার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিরাজ মাহবুব ইফতি, সিনিয়র সাংবাদিক রিপন তালুকদারসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%