১১:২৩ পি.এম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নগরবাউল জেমসের কনসার্টে বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা থাকায় প্রশাসন চার প্লাটুন পুলিশ মোতায়েনের আবেদন করেছে। এ ছাড়া সিআইডি, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ডিজিএফআই ও এনএসআইসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে সক্রিয় থাকবেন।
রবিবার (১ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাছির আহ্মাদ দ্য ঢাকা ডায়েরিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান।
প্রক্টর জানান, ২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালীন সকাল থেকে অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো ক্যাম্পাস নিরাপত্তার আওতায় থাকবে। বিশেষ করে সন্ধ্যায় নগরবাউল জেমসের কনসার্টে বিপুল মানুষের সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের আহ্বান: পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে, সরকারকে কঠোর হতে হবে
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাবেক শিক্ষার্থী (অ্যালামনাই) ছাড়া অন্য কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে জেমসের কনসার্ট উপভোগ করতে আগ্রহী বহিরাগতদের জন্য পাশের পার্কে জায়ান্ট স্ক্রিনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সেখানে থেকেই তারা অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন।
নিরাপত্তার বিষয়ে প্রক্টর জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার প্লাটুন পুলিশ চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ জন পোশাকধারী পুলিশ, ১০ জন সাদাপোশাকের পুলিশ এবং ১০ জন নারী পুলিশ সদস্য রাখার আবেদন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবেদনশীল পরিবেশ বিবেচনায় ক্যাম্পাসের ভেতরে পোশাকধারী পুলিশের উপস্থিতি সীমিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মঞ্চের নিরাপত্তায় ১০ জন পোশাকধারী পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সাদাপোশাকের পুলিশ সদস্যরাও সক্রিয় থাকবেন।
তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিআইডি, এসবি, ডিজিএফআই ও এনএসআইসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক ও যোগাযোগ করা হয়েছে। এসব সংস্থা নিজ নিজ পরিকল্পনা অনুযায়ী নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাতেও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ জন্য রোভার স্কাউট, গার্লস গাইডস (রেঞ্জার), বিএনসিসি, ছাত্র উপদেষ্টাদের প্রতিনিধি দল এবং বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও ডিনদের সক্রিয় ভূমিকা থাকবে। এ ছাড়া জকসুসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকদেরও এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রক্টর।
আরও পড়ুন: মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটে নতুন নিয়ম, লিখতে হবে যেভাবে
ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রক্টর বলেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরুর আগে দুপুর ২টা থেকে ৩টার মধ্যে ক্যাম্পাস খালি করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। এ সময় সবাইকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় অবস্থানের সুযোগ থাকতে পারে। বিশেষ করে বিজ্ঞান অনুষদের মাঠ ও আশপাশের এলাকায় কাউকে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, বিকেল ৩টার পর থেকে পূর্ণ নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে যাচাই-বাছাই করে দর্শনার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, আগামীকাল সোমবার (২ নভেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হবে। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী র্যালি, চিত্র ও শিল্পকর্ম প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে নগরবাউল জেমসের কনসার্ট।
আরও পড়ুন: শ্রমিক আন্দোলনের অস্থিরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন