ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত মালয়েশিয়া


ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত মালয়েশিয়া

ইন্দোনেশিয়ার জঙ্গল ও পিটল্যান্ডে চলমান দাবানলের কারণে উৎপন্ন ধোঁয়ার ফলে মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের বিভিন্ন অঞ্চলে বাতাস বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। এই ভয়াবহ বায়ুদূষণের ফলে শ্বাসযন্ত্রের বিভিন্ন রোগের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে, দেশটির স্বাধীনতা দিবসের বেশ কিছু বহিরাঙ্গন আয়োজন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সারাওয়াকের ছয়টি এলাকায় বায়ুর মান বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায়। মালয়েশিয়ার এয়ার পলিউট্যান্ট ইনডেক্সে ১০০-এর বেশি স্কোরকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে রাজ্যের রাজধানী কুচিংয়ে সূচক ৪০৭ এবং কালিমানতান সীমান্তবর্তী সেরিয়ানে ৪০৮-এ পৌঁছে যায়।

ইন্দোনেশিয়ার অংশের বোর্নিও দ্বীপ, যা কালিমানতান নামে পরিচিত, সেখানকার দাবানলের ধোঁয়া আগস্ট মাসজুড়ে মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যের আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ধোঁয়ার প্রভাব পড়েছে মালয়েশিয়ার উপদ্বীপীয় অঞ্চল, ব্রুনেই ও সিঙ্গাপুরেও।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা, পিটিআইর আইনি লড়াই শুরু

২০১৫ সালের পর এটিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ ধোঁয়াশা পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ওই বছর ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের বিষাক্ত ধোঁয়ায় কয়েক কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন এবং পাঁচ লাখের বেশি মানুষ শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় ভুগেছিলেন।

কুচিংয়ের ৩৩ বছর বয়সী বাসিন্দা মিয়া এমিলিয়া হাসান জানান, "চারদিকে ধোঁয়ার গন্ধ এবং ঘন কুয়াশার মতো পরিবেশ।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এক মাসের বেশি সময় ধরে তিনি নীল আকাশ দেখতে পাননি। তার ১০ মাস বয়সী মেয়ে সম্প্রতি ফুসফুসের সংক্রমণের চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে। কিন্তু ধোঁয়ায় শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। তাকে নিয়মিত ওষুধ খাওয়াতে হচ্ছে এবং কাশি ও বমিতে ভুগছে। শ্বাস নিতে না পারায় দুইবার তাকে জরুরি বিভাগে নিতে হয়েছে।

বাড়ছে হাঁপানি ও শ্বাসযন্ত্রের রোগ

মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ থেকে ২৯ আগস্টের সপ্তাহে দেশে হাঁপানির রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮১১ জনে। এর আগের সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২১৯। একই সময়ে চোখের প্রদাহ বা কনজাংটিভাইটিসের ঘটনার সংখ্যা ১৪৬ থেকে বেড়ে ৭২০-এ পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন: স্পেনের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও লাটভিয়ায় ইসরাইলি অস্ত্র সরবরাহ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ান দক্ষিণাঞ্চলে সর্বোচ্চ মাত্রার আন্তঃসীমান্ত ধোঁয়াশা সতর্কতা জারি করেছে। দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া এবং বাড়তে থাকা দাবানলের হটস্পটের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বায়ুদূষণের কারণে সারাওয়াকে সোমবার স্বাধীনতা দিবসের বহিরাঙ্গন অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়। সূচক ৫০০ ছাড়িয়ে গেলে স্থানীয় জরুরি অবস্থা জারি করার এবং সরকারি-বেসরকারি সব অফিস বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন রাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী ডগলাস উগাহ এমবাস। তখন শুধু জরুরি পরিষেবা চালু থাকবে।

দূষণের প্রভাব শিক্ষা ও খেলাধুলাতেও পড়েছে। বায়ুর মানের সূচক ১০০ ছাড়ালে স্কুলের বাইরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নিয়ম রয়েছে। ২০০ ছাড়ালে স্কুল বন্ধ করতে হয়। গত ২০ ও ২১ আগস্ট কুচিং ও আশপাশের প্রায় ৬০০ স্কুল বন্ধ ছিল। এতে প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২৮ আগস্ট সারাওয়াকে আরও ৩০টি স্কুল বন্ধ করা হয়।

কালিমানতানে ভয়াবহ দাবানল

আরও পড়ুন: হুথিরা সউদীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে সফল হামলা চালাচ্ছে

ধোঁয়াশার মূল উৎস ইন্দোনেশিয়া। দেশটির উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী দান্তে সাকসোনো হারবুওনো জানিয়েছেন, জুলাই ও আগস্টে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ মানুষ শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের চিকিৎসা নিয়েছেন। বোর্নিও ও সুমাত্রা দ্বীপে প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ সরাসরি ধোঁয়ার সংস্পর্শে এসেছেন।

ইন্দোনেশিয়া সরকারের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বোর্নিও ও সুমাত্রায় দুই লাখ হেক্টরের বেশি জমি আগুনে পুড়েছে। শুধু জুলাই মাসেই পুড়েছে প্রায় ৯৫ হাজার হেক্টর।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব আগুনের বড় একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়। পাম তেল, কৃষি এবং কাগজশিল্পের জন্য জমি পরিষ্কার করতে বন ও কার্বনসমৃদ্ধ পিটল্যান্ডে আগুন দেওয়া হয়। আইনত নিষিদ্ধ হলেও এই চর্চা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সাম্প্রতিক দাবানলের ঘটনায় ৭২ জনকে গ্রেফতার করেছে ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ।

‘সুপার এল নিনো’র আশঙ্কা

আরও পড়ুন: শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব আয়োজনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান আইজিপির

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন, চলতি দাবানলের মৌসুম দীর্ঘ হতে পারে। মালয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হেলেনা ভার্কি জানান, শক্তিশালী এল নিনোর কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আবহাওয়া আরও উষ্ণ ও শুষ্ক হয়ে উঠছে। ফলে যেকোনো আগুনের আঞ্চলিক প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

মালয়েশিয়ার বায়ুমণ্ডলীয় বিজ্ঞানী জয়প্রকাশ মুরলিথারানের মতে, পরিস্থিতির সবচেয়ে খারাপ পর্যায় এখনও সামনে আসতে পারে। পিটের আগুন মাটির নিচে সপ্তাহের পর সপ্তাহ জ্বলতে পারে এবং বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত আবারও জ্বলে উঠতে পারে।

তিনি জানান, বৃষ্টি না আসা পর্যন্ত মানুষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সেপ্টেম্বরের শেষ অথবা অক্টোবরের দিকে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা

আরও পড়ুন: বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্য হিটলার বিশ্বাসের মৃত্যু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মারা গেছেন সাবেক ফরাসি প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার বালাদুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৪ এম


মারা গেছেন সাবেক ফরাসি প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার বালাদুর

সাবেক প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার বালাদুর ৯৭ বছর বয়সে মারা গেছেন। সোমবার, তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু।

 

তবে, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

লেকর্নু উল্লেখ করেন, ফ্রান্সের পঞ্চম প্রজাতন্ত্রের পাঁচ দশকের ইতিহাসের সঙ্গে বালাদুরের নাম গভীরভাবে জড়িত। তিনি জর্জ পম্পিদুরের সঙ্গে কাজ শুরু করার সময় থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় পর্যন্ত ফ্রান্সের জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বালাদুর ১৯২৯ সালে তৎকালীন উসমানীয় সাম্রাজ্যের উপকূলীয় শহর ইজমিরে একটি খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

 

তার পরিবার দীর্ঘকাল ধরে শহরটির ফরাসি সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল। বালাদুরের বাবা উসমানীয় ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন। ১৯৩৪ সালে, বালাদুরের বাবা-মা ছয় সন্তানকে নিয়ে ইজমির ছেড়ে ফ্রান্সে চলে যান। পরে তারা দক্ষিণ ফ্রান্সের মার্সেই শহরে বসতি স্থাপন করেন।

 

বালাদুর ফ্রান্সের আমলাতান্ত্রিক অভিজাতদের প্রশিক্ষণের প্রধান প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল স্কুল অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন। ১৯৬৪ সালে, প্রধানমন্ত্রী জর্জ পম্পিদুরের উপদেষ্টা হিসেবে সরকারি কাজে যোগ দেন। পরবর্তীতে, পম্পিদুরের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৪ সালে পম্পিদুরের মৃত্যুর পর কিছু সময়ের জন্য রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান বালাদুর। তবে, ১৯৮৬ সালে আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

 

সেই সময়, জ্যাক শিরাকের মধ্য-ডানপন্থী সরকারে অর্থনীতি, অর্থ ও বেসরকারিকরণবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মন্ত্রী হিসেবে, বালাদুর বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন। এর মধ্যে ছিল কর ও সরকারি ব্যয় কমানো, শ্রমবাজারের কিছু নিয়ম শিথিল করা এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ফিরিয়ে দেওয়া।

তার মন্ত্রিত্বের সময়, ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানি বেসরকারি খাতে বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ব্যাংক সোসিয়েতে জেনেরাল, পারিবাস এবং সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান তিএফ১। পরবর্তীতে, পারিবাস বিএনপি পারিবাসের অংশ হয়ে যায়। ১৯৯৩ সালে, ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বালাদুর। সে সময়, দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সমাজতান্ত্রিক নেতা ফ্রাঁসোয়া মিতেরাঁ। রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন অবস্থানে থাকা প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে সরকার পরিচালনার এই ব্যবস্থা ফ্রান্সে ‘কোহাবিতাসিওঁ’ নামে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, বালাদুর পেনশন ব্যবস্থায় সংস্কার আনেন এবং বেসরকারিকরণ কর্মসূচি আরো বাড়ান।

বালাদুরের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পেছনে জ্যাক শিরাকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বও ছিল। শিরাক বিশ্বাস করতেন, বালাদুর প্রধানমন্ত্রী হলে ভবিষ্যতে তার নিজের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ আরো সহজ হবে। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, বালাদুরের জনপ্রিয়তা শিরাককে ছাড়িয়ে যায়। ১৯৯৫ সালে, বালাদুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। এরপরই, দুই পুরোনো বন্ধুর মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ শুরু হয়। বালাদুর পূর্বে বলেছিলেন, ক্ষমতা ভাগাভাগি করে পরিচালিত সরকারের কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া উচিত নয়। পরে নিজেই প্রার্থী হওয়ায় তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। শুরুতে, তার জনপ্রিয়তা ছিল অনেক বেশি।

১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে, ফরাসি দৈনিক ‘লে মঁদ’ এক প্রতিবেদনে তাকে নির্বাচনের স্পষ্ট ফেবারিট হিসেবে তুলে ধরে। বিভিন্ন জনমত জরিপেও তিনি অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারের সময় পরিস্থিতি বদলে যেতে থাকে। সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রেও বালাদুর খুব স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। বহু বছর পর, এক তথ্যচিত্রে তিনি নিজেই স্বীকার করেন, ‘আমি খুব ভালো প্রার্থী ছিলাম না।’ শেষ পর্যন্ত, প্রথম দফার ভোটেই বাদ পড়ে যান বালাদুর। তিনি পান ১৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে, শিরাক পান ২০ দশমিক ৮৪ শতাংশ ভোট। পরে, শিরাকই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৯৫ সালের পরাজয়ের পর, বালাদুরের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ে। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী নিকোলা সারকোজিও সেই সময় রাজনৈতিকভাবে চাপের মুখে পড়েন। কারণ, তিনি বালাদুরের নির্বাচনী প্রচারে জোরালোভাবে কাজ করেছিলেন।

১৯৯৫ সালের নির্বাচনী প্রচার বালাদুরের রাজনৈতিক জীবনে আরেকটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তার প্রচারের অর্থ কোথা থেকে এসেছিল, তা নিয়ে পরে তদন্ত শুরু হয়। কৌঁসুলিদের অভিযোগ ছিল, নির্বাচনী প্রচারে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল। তাদের সন্দেহ ছিল, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে অস্ত্র চুক্তি থেকে পাওয়া অবৈধ কমিশনের অর্থ ওই প্রচারে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এই অভিযোগের সঙ্গে পরে পাকিস্তানের করাচিতে ২০০২ সালের আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনাও যুক্ত হয়। ওই হামলায় ফরাসি নৌযান নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ১১ কর্মী নিহত এবং ১২ জন আহত হন। নিহত ব্যক্তিরা পাকিস্তানের সঙ্গে করা একটি চুক্তির আওতায় সাবমেরিন নির্মাণের কাজে যুক্ত ছিলেন। তাদের কয়েকজনের পরিবার বালাদুরের বিরুদ্ধে অভিযোগও করে।

মামলাটি ফ্রান্সে ‘করাচি কেলেঙ্কারি’ নামে পরিচিতি পায়। তবে, বালাদুর শুরু থেকেই সব ধরনের অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত, ২০২১ সালে ফ্রান্সের প্রজাতন্ত্রের বিচার আদালত তাকে খালাস দেন। আদালত জানায়, অস্ত্র চুক্তির সঙ্গে যুক্ত অর্থ দেওয়ার নির্দেশ বালাদুর নিজে দিয়েছিলেন- এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার নির্বাচনী প্রচারের অর্থের উৎস নিয়ে ওঠা অভিযোগও প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। বালাদুর পরে বলেছিলেন, তার বিরুদ্ধে প্রায় ২৫ বছর ধরে ‘অপপ্রচার’ চালানো হয়েছে। ১৯৯৫ সালের পরাজয়ের পরও, রাজনীতি ছাড়েননি বালাদুর। ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে পাঁচ বছর জাতীয় পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

পরে, প্রেসিডেন্ট হওয়া নিকোলা সারকোজি তাকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিশনের দায়িত্ব দেন। এর একটি কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ২০০৮ সালে ফ্রান্সের সংবিধানে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। ব্যক্তিগত জীবনেও, বালাদুর ছিলেন তুলনামূলকভাবে শান্ত স্বভাবের মানুষ। ব্যাংকারের ছেলে এই রাজনীতিককে ফ্রান্সের মধ্য-ডানপন্থী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে দেখা হতো। তবে, সাধারণ মানুষের জীবন থেকে তিনি অনেকটা দূরে- এমন সমালোচনাও ছিল। সংবাদপত্রের কার্টুনে তাকে প্রায়ই অভিজাত ও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকা একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখানো হতো। ব্যঙ্গাত্মক সাপ্তাহিক ‘লে কানার অঁশেনে’ তাকে ব্যঙ্গ করে একটি বিশেষ নামও দিয়েছিল।

বালাদুরের সঙ্গে ফরাসি রাজনীতির আরো অনেক পরিচিত নামের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি এবং ব্যবসায়ী নিকোলা বাজিরে। ১৯৯৫ সালের নির্বাচনে শিরাকের কাছে পরাজয় এবং পরবর্তী আইনি বিতর্ক তার রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ ছায়া ফেলেছিল। তবু, ফ্রান্সের অর্থনীতি, বেসরকারিকরণ ও প্রশাসনিক সংস্কারে তার ভূমিকা দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে। ব্যক্তিগত জীবনে, বালাদুরের স্ত্রী ছিলেন মারি-জোসেফ। তাদের চার ছেলে - পিয়ের, জেরোম, অঁরি ও রোমাঁ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদত্যাগ করলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্রিসকল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৬ এম


পদত্যাগ করলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্রিসকল

মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকল পদত্যাগ করেছেন। এই তথ্যটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

ড্রিসকলের পদত্যাগের খবরটি দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে চলমান টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এসেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক জেনারেলকে সরিয়ে দেওয়ার এবং উচ্চপদস্থ জেনারেলের সংখ্যা কমানোর বিষয়ে বিতর্কিত উদ্যোগের কারণে তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল।

ড্রিসকলের চলতি বছরের শেষ নাগাদ দায়িত্ব ছাড়ার সম্ভাবনা আগে থেকেই ছিল। তবে, তার পদত্যাগের পর হোয়াইট হাউস তার কাজের প্রশংসা করেছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা স্ট্রং এগেইন’ কর্মসূচির বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী বিভাগে ড্রিসকল অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘ঐতিহাসিক সামরিক অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া, সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও যুদ্ধ সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব বাড়ানো এবং রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে আলোচনায় সহায়তা করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ড্রিসকল গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।’

আনা কেলি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করে ড্রিসকলের অবদানের ফলে মার্কিন সেনাবাহিনী আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদায়ের’ আগে চিরবিদায়, সবাইকে কাঁদিয়ে সেই প্রধান শিক্ষকের দাহ সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৭ এম


বিদায়ের’ আগে চিরবিদায়, সবাইকে কাঁদিয়ে সেই প্রধান শিক্ষকের দাহ সম্পন্ন

প্রধান শিক্ষক তপন কুমার সাহার দাহ সম্পন্ন হয়েছে, যিনি বিদ্যালয় থেকে শিক্ষকতার বিদায় সংবর্ধনার দিন মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৫৯ বছর।

 

তিনি ছিলেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বাকিলা ইউনিয়নের রাধাসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। সোমবার (৩১ আগস্ট) যখন তার মরদেহ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়, তখন শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

রবিবার (৩০ আগস্ট) রাত ৩টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চাঁদপুর শহরের নিজ বাসভবনে মারা যান তপন কুমার সাহা। হাসপাতালে নেওয়ার পূর্বেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

 

২০০৯ সাল থেকে তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে এই বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সোমবার বিদ্যালয় মাঠে তার অবসরের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার মৃত্যুর কারণে সেই অনুষ্ঠান আর হয়নি। পরে, তার মরদেহ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে আসা হলে শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও অভিভাবকরা ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে শেষ বিদায় জানান।

 

এসময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কান্না ও সহকারী শিক্ষকদের চোখের জল পরিবেশকে ভারী করে তোলে। সবশেষে, একই দিন বিকেলে তাকে হাজীগঞ্জের বলাখাল গ্রামে স্বশানে দাহ করা হয়।

মৃতের সহকর্মী লিমা আক্তার জানান, সোমবার (৩১ আগস্ট) তিনি চাকরি থেকে অবসরে যাচ্ছিলেন এবং একই দিন তার বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। বিদ্যালয় মাঠে তার বিদায়ী সংবর্ধনার জন্য সামিয়ানা টানানো হয়েছিল এবং স্যারের ছবি সম্বলিত একটি ক্রেস্ট প্রস্তুত করা হয়েছিল।

 

কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টা আগে সব শেষ করে স্যার চলে গেলেন পরপারে, এমনটাই জানালেন লিমা আক্তার। তিনি আরও জানান, স্যার ১ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক। ছেলে শাওন সাহা মাস্টার্সে এবং মেয়ে তৃপ্তি সাহা বিওপিতে অধ্যয়নরত।

তপন কুমার সাহা চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের রাধাসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সোমবার তার কর্মজীবন শেষ করে অবসরে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু রাতে হৃদরোগ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাহাড় পরিদর্শনে গিয়ে বন কর্মকর্তার মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:১৮ এম


পাহাড় পরিদর্শনে গিয়ে বন কর্মকর্তার মৃত্যু

হাটহাজারীতে পাহাড়ের বনভূমি পরিদর্শনের সময় লুৎফর রহমান (৫৭) নামের এক বন বিভাগের কর্মকর্তার মৃত্যু ঘটেছে। গতকাল সোমবার, হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

স্থানীয় সূত্র এবং ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে হাটহাজারী বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তা লুৎফর রহমান (৫৭) পৌরসভার পশ্চিম পাহাড়ের ফিল্ড ফায়ার রেঞ্জ সংলগ্ন ময়লার ভাঘার এলাকা, শিলছড়ি নামক স্থানে পাহাড় পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি উঁচু দুর্গম পাহাড়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান জানান, স্ট্রোকজনিত কারণে ওই বন কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%