মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:১৮ এম
হাটহাজারীতে পাহাড়ের বনভূমি পরিদর্শনের সময় লুৎফর রহমান (৫৭) নামের এক বন বিভাগের কর্মকর্তার মৃত্যু ঘটেছে। গতকাল সোমবার, হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্র এবং ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে হাটহাজারী বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তা লুৎফর রহমান (৫৭) পৌরসভার পশ্চিম পাহাড়ের ফিল্ড ফায়ার রেঞ্জ সংলগ্ন ময়লার ভাঘার এলাকা, শিলছড়ি নামক স্থানে পাহাড় পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি উঁচু দুর্গম পাহাড়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান জানান, স্ট্রোকজনিত কারণে ওই বন কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রধান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির বিয়ের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। খবর রয়েছে যে, ইউরোপের লিচেনস্টাইন রাজ্যের এক রাজপরিবারের তরুণীর সঙ্গে তার বিয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে কিছুদিন ধরে চলা গুঞ্জনের পর অবশেষে বিলাওয়াল মুখ খুলেছেন।
বিলাওয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার বাগদান ও বিয়ের খবরকে সরাসরি ‘গুজব’ হিসেবে খারিজ করেছেন। তিনি জানান, ‘প্রিন্সেস গ্লোরিয়া’ নামে কোনো নারীর সঙ্গে তার পরিচয় নেই।
সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বিলাওয়াল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাকে শুধু বাগদানই করায়নি, বরং বিয়ের খবরও ছড়িয়ে দিয়েছে। তবে বাস্তবে তার জীবনে এমন কিছু ঘটেনি।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিয়ের কথাও পাকা করে ফেলেছে, বাগদানও করিয়েছে এবং এমনকি বিয়েও দিয়ে দিয়েছে। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এমন কিছুই ঘটেনি।
অনলাইনে তার সঙ্গে ‘প্রিন্সেস গ্লোরিয়া’ নামের এক ইউরোপীয় নারীর সম্পর্ক ও সম্ভাব্য বিয়ের যে খবর ছড়িয়েছে, সেটিও তিনি অস্বীকার করেছেন। বিলাওয়াল বলেন, ‘আমি কোনো প্রিন্সেস গ্লোরিয়াকে চিনি না।’
তবে ভবিষ্যতে বিয়ে বা বাগদান নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হলে সেটি কিভাবে জানানো হবে, সে বিষয়েও পরিষ্কার করেছেন পিপিপি চেয়ারম্যান। বিলাওয়াল বলেন, আমার জীবনে যদি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে সেই ঘোষণা আমার পরিবারই করবে।
বিলাওয়াল দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এসব ‘নাটক’ ছড়ানোর উদ্দেশ্য হলো জনগণের দৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু থেকে সরিয়ে দেওয়া।
কীভাবে ছড়াল বিয়ের গুঞ্জন?
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, বিলাওয়াল ইউরোপের একটি অভিজাত পরিবারের নারীর সঙ্গে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বাবা ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ইউরোপে গিয়ে সম্ভাব্য বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
গুঞ্জনে কথিত পাত্রী হিসেবে ‘গ্লোরিয়া ভন হ্যাবসবার্গ’-এর নামও উঠে এসেছে। তবে এসব দাবির কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি এবং বিলাওয়াল নিজেই এখন তা অস্বীকার করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের নারোয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে ১০০ বছরেরও বেশি পুরনো একটি ঐতিহ্যবাহী হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে, যার উদ্দেশ্য মাদরাসা সম্প্রসারণ। এই ঘটনা ২১ আগস্ট ঘটেছিল এবং এটি দেশটিতে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষা গোষ্ঠী পাকিস্তান মসীহা মিল্লাত পার্টি (পিএমএমপি) অভিযোগ করেছে যে, একদল লোক পরিকল্পিতভাবে এই
এবং ইট-গম্বুজসহ বিভিন্ন সামগ্রী সরিয়ে নিয়েছে, যাতে সংলগ্ন একটি মাদরাসার জায়গা বাড়ানো যায়। সংগঠনের চেয়ারম্যান আসলাম পারভেজ সাহোত্রা জানিয়েছেন, মন্দিরসংলগ্ন জমি পূর্বে মাদরাসাটিকে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু নিয়ম ভাঙার কারণে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেই ইজারা বাতিল করা হয়। জমিটি অবৈধ দখল মুক্ত করার জন্য আদেশ দেওয়া সত্ত্বেও তা বাস্তবায়ন না করায় এই ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। পিএমএমপি ইতিমধ্যে পাঞ্জাব সরকারের কাছে ঘটনার তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থা ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড (ইটিপিবি) ভাঙচুরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ইটিপিবি কর্মকর্তা ইফতিখার রানা জানিয়েছেন, ভারি বৃষ্টির কারণে জরাজীর্ণ কাঠামোটি ধসে পড়েছে এবং কেউ এটি ভাঙেনি। তিনি আরও জানিয়েছেন, মন্দিরের নিজস্ব জমি কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি এবং শতবর্ষী এই স্থাপনাটির পুনরায় সংস্কারের বিষয়ে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আইসল্যান্ডকে নিরাপত্তা জোরদারের নতুন পথ খুঁজতে হবে, কারণ ভোটাররা ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা আবার শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করার পরিকল্পনা করছে।
সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থর্গেরদুর গুনারসদোত্তির। শনিবার, আইসল্যান্ডের নাগরিকেরা ব্রাসেলসের সঙ্গে ইইউর সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা আবার শুরুর সরকারি প্রস্তাবের ওপর ভোট দেন। এতে ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন, আর ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ পক্ষে।
ভোট দেওয়ার যোগ্য নাগরিকদের মধ্যে ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ এই ভোটে অংশগ্রহণ করেছেন। ভোটের পর গুনারসদোত্তির বলেন, ইইউর সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা শুরু না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও দেশের নিরাপত্তা নিয়ে নতুনভাবে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। সংসদে পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সঙ্গে বৈঠকের পর রয়টার্সকে তিনি জানান, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। তাই, নিরাপত্তা বাড়াতে অন্য পথ খুঁজতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে আইসল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্য ও নীতি একটি বড় কারণ। ট্রাম্প একাধিকবার প্রতিবেশী গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ইউরোপের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং ন্যাটোর প্রতি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এসব কারণে আইসল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।
ইইউর সদস্যপদ নিয়ে গণভোটের আগে আইসল্যান্ড সরকার ভোটারদের জানিয়েছিল, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হলে দেশের নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী হতে পারে। তবে ভোটাররা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। গুনারসদোত্তির বলেন, ইইউ সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা আবার শুরু করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলেও ইইউ আইসল্যান্ডের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে থাকবে।
তিনি বলেন, ইইউর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি, আইসল্যান্ডের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলোও পর্যালোচনা করা হবে। গুনারসদোত্তির জানান, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের সঙ্গে ইতিমধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার চুক্তি রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সহযোগিতা আরো বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তিনি জাপান ও কানাডাকেও আইসল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র একটি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। আর্কটিক অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র আইসল্যান্ডে প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাস। দেশটি নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা ন্যাটোর সদস্য। তবে আইসল্যান্ডের নিজস্ব কোনো স্থায়ী সেনাবাহিনী নেই।
দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মূলত ন্যাটোর সদস্যপদ এবং ১৯৫১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির ওপর নির্ভরশীল। তাই যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা আইসল্যান্ডের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আইসল্যান্ড এখনো ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্য নয়। তবে ১৯৯৪ সাল থেকে দেশটি ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকার (ইইএ) অংশ। এই চুক্তির মাধ্যমে আইসল্যান্ড ইইউর একক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পায়। ফলে ইইউর সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। গুনারসদোত্তির বলেন, ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকার কাঠামো ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি বলেন, ইইএ চুক্তির আওতায় আইসল্যান্ডের সহযোগিতা আরো বাড়াতে হবে। গণভোটের একটি ইতিবাচক দিক হলো, এখন দেশটির সব রাজনৈতিক দলই ‘ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইএ)’ চুক্তির পক্ষে একমত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটে হাম উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরো দুই শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। এই ঘটনার ফলে সিলেট বিভাগে হাম উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ১৫৪ জনে পৌঁছেছে।
মৃত দুই শিশুর মধ্যে একজনের বয়স ৪ মাস এবং অপরজনের বয়স ১ বছর। তাদের একজন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে এবং অন্যজন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এছাড়া, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৯৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে কেউ শনাক্ত হয়নি, তবে এই সময়ে ১৫৪ জন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগে মোট ১ হাজার ৩১ জন ল্যাব-নিশ্চিত (কনফার্মড) হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ১০ জন হাম রোগী হিসেবে নিশ্চিত হয়েছে, বাকিরা সন্দেহভাজন রোগী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ