ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রেকর্ড দামে চা বিক্রি, উৎপাদন ও আয়ে এনটিসির নতুন মাইলফলক


রেকর্ড দামে চা বিক্রি, উৎপাদন ও আয়ে এনটিসির নতুন মাইলফলক

 

দেশের চা-শিল্পে নতুন একটি মাইলফলক স্থাপন করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল টি কম্পানি লিমিটেড (এনটিসি)। সম্প্রতি চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চা-নিলামে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত চা ইতিহাসের সর্বোচ্চ গড় দামে বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া চলতি মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় আয় ও উৎপাদন—দুটি ক্ষেত্রেই নতুন সাফল্যের মুখ দেখছে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।

আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক চা-নিলামে এনটিসির অধীনস্থ ১২টি চা-বাগানের মোট ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৬০ কেজি চা বিক্রি হয়। নিলামে প্রতি কেজি চায়ের গড় বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ২৮০ টাকা ৫৯ পয়সা, যা এনটিসির ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড। সরকার নির্ধারিত ২৪৫ টাকার ভিত্তিমূল্যের চেয়ে উল্লেখযোগ্য বেশি দামে চা বিক্রি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় হয়েছে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৭২২ টাকা।

নিলামে অংশ নেওয়া বাগানগুলোর মধ্যে রয়েছে—হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর, তেলিয়াপাড়া, চুনারুঘাটের চণ্ডীছড়া, পারকুল এবং মৌলভীবাজারের ও সিলেট জেলার পাত্রখোলা, কুর্মা, চম্পারাই, মদনমোহনপুর, লাক্কাতুরা, মাধবপুর প্রেমনগর ও বিজয়া চা-বাগান। এসব বাগানে উৎপাদিত উন্নতমানের অর্থোডক্স ও সিটিসি চায়ের বেশ কয়েকটি লট নিলামে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।

তাছাড়া, হালুয়াঘাটে সড়কের নিচের অংশ ভেঙে ২ উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহাউদ্দিন লিটন জানিয়েছেন, চায়ের গুণগত মান বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, বাগান পর্যায়ে নিবিড় তদারকি ও ‘দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি’ চয়ন নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করায় কাঁচা পাতার গুণগত মান বহুগুণ বেড়েছে।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

ফলে উৎপাদিত চায়ের রং, ঘ্রাণ ও স্বাদে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যা নিলামের বাজারে প্রতি কেজির দর বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা রেখেছে।

এনটিসির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের চা-উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও আমরা সার্বিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। একই সাথে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কারখানায় মানসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলেই উৎপাদন ও বিক্রয়—উভয় ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ইতিবাচক সাফল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিকূল আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, শ্রম ব্যয় বৃদ্ধি ও সার্বিক উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশের চা শিল্প এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। এমন অবস্থায় রাষ্ট্রায়ত্ত এনটিসির এই ঘুরে দাঁড়ানোর খবর পুরো চা খাতের জন্যই আশাব্যাঞ্জক বার্তা বহন করছে।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার

প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে এনটিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হাসান বলেছেন, ‘প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বাগান শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজ আমাদের বাগানগুলো ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও মান উন্নয়নের যে বিশেষ কর্মসূচি আমরা হাতে নিয়েছি, তার সুফল এখন দৃশ্যমান। চলতি আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মৌসুমের বাকি সময়গুলোতে আরো ভালো উৎপাদন ও ভালো বিক্রয়ের প্রত্যাশা করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক চা শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য এনটিসি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাতের চারা রোপণ, কারখানার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এনটিসিকে আন্তর্জাতিকভাবে আরো লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাহাড়ি ঢল ঠেকাতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: ত্রাণমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১১ পি.এম


পাহাড়ি ঢল ঠেকাতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: ত্রাণমন্ত্রী

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলের পানিতে যাতে মানুষের বসতবাড়ি ডুবে না যায়, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর বাঁশখালীবাসীদের বন্যা মোকাবিলা করতে না হয়, সেজন্য বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তিনি ঢাকার বলেন, এ অঞ্চলের খালগুলো দীর্ঘদিন ধরে দখল ও দূষণের কারণে অস্তিত্ব বিলোপের পথে রয়েছে। ফলে, স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হলেই খালের দুই কূল ছাপিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়।

এ জন্য খালগুলো খনন ও পুনঃখনন করে পানিপ্রবাহের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে দ্রুত পানি নেমে যেতে পারে।

মন্ত্রী আরও বলেন, মানুষের বসতবাড়ি পাহাড়ি ঢলের পানিতে যাতে ডুবে না যায়, সেজন্য টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীর আগামী রবিবার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম আসছেন। তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর নির্মাণ, ত্রাণ বিতরণসহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পরে মন্ত্রী উপজেলার বাহারছড়ায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিঠুনকে দেখতে হাসপাতলে গেলেন দেব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৪ পি.এম


মিঠুনকে দেখতে হাসপাতলে গেলেন দেব

লাদাখে শুটিং শেষ করে দিল্লিতে ফিরে আসতেই হাসপাতালে ছুটলেন টালিউড অভিনেতা দেব। বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর শোনার পর শুক্রবার রাতে তৎক্ষণাৎ দেব সেখানে উপস্থিত হন।

এর আগে বৃহস্পতিবার, ‘ফাটাকেষ্ট’ নামে পরিচিত মিঠুনের ডান হাতে একটি ছোট অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল।

‘দেশু সাত’ সিনেমার একটি গানের শুটিংয়ের জন্য দেব সম্প্রতি লাদাখে ছিলেন। সাল্ফে ভুক্ত সিনেমাটির নায়িকা শুভশ্রী গাঙ্গুলি ছিলেন তাঁর সঙ্গে। শুক্রবার দুপুরে দিল্লিতে ফেরার পর রাতেই মিঠুনের শারীরিক অবস্থার খবর জানার জন্য তিনি হাসপাতালে গিয়ে যান।

মিঠুন চক্রবর্তী এবং দেবের মধ্যে সম্পর্কের উষ্ণতা পুরনো। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা বিভিন্ন বিতর্ক তাদের সম্পর্কের তত্ত্বকে প্রভাবিত করতে পারেনি।

এদিন হাসপাতালে থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দেব বলেন, ‘মিঠুনদা যেই দলে থাকুন না কেন, মিঠুনদা আমার বাবার মতো— ছিল, আছে আর থাকবে। এবং আমি তার ছেলের মতো।’

মিঠুনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেব আরও বলেন, ‘আমি কামনা করি উনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন। আর যেন উনাকে হাসপাতালে থাকতে না হয়। সুস্থভাবে কাজ করুক। আগামী দিনেও আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। সেটা যেন আমরা সুস্থভাবে করতে পারি।’

পরে দেব মিঠুনের সঙ্গে হাসপাতালে সাক্ষাতের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আপনি সবসময়ই আমার কাছে একজন বাবার মতো। আপনার সুস্বাস্থ্য, সুখ এবং আপনার প্রাপ্য সবকিছুই যেন আপনি পান—এ কামনাই করি।’

এদিকে দেবের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সম্প্রতি নানা আলোচনা চলছে। গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেব তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। যদিও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি দেব।

এমনকি সাবেক তৃণমূল সংসদ সদস্যদের একটি অংশ, যারা বর্তমানে এনসিপিতে রয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বৈঠকে অংশ নিলেও সেখানে ছিলেন না দেব। তৃণমূলের সাবেক নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, সে সময় লাদাখে থাকার জন্য বৈঠকে উপস্থিত হতে পারেননি দেব। তবে রাজনৈতিক সমীকরণের বাইরে সবসময়ই মিঠুন এবং দেবের সম্পর্ক অটুট ছিল।

দেব ও মিঠুনের জুটিতে ‘প্রজাপতি’ ও ‘প্রজাপতি ২’ বক্স অফিসে সাড়া ফেলে দিয়েছিল এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছিল। মিঠুন বিজেপির সঙ্গে যুক্ত থাকায় দেবের বিরুদ্ধে তৃণমূলের একটি অংশ সক্রিয়ভাবে ঘোষণাও করেছিল। এমনকি ‘প্রজাপতি’ সিনেমাটিকে নন্দনে স্থান না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল। এই নিয়ে তৎকালীন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের সঙ্গে দেবের মতানৈক্য প্রকাশ পেয়েছিল।

তবে এ সমস্ত বিতর্কের কিছুই দেব ও মিঠুনের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রভাবিত করেনি। বরং অসুস্থ মিঠুনকে দেখতে লাদাখ থেকে চলে আসা দেবের এই কাজ তাদের সম্পর্কের গভীরতা আরও প্রকাশ করে।

প্রসঙ্গত, প্রায় দুই বছর আগে মিঠুন চক্রবর্তী ডান হাতে চোট পান। তখন তাঁর হাতে একটি প্লেট বসানো হয়েছিল। পুরোনো সেই প্লেটটি বের করার জন্য বৃহস্পতিবার রাতে ডান হাতে অস্ত্রোপচার করা হয় কিংবদন্তি অভিনেতার। বর্তমানে তিনি কলকাতার বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার সকালে মিঠুনকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন মিঠুন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং আশঙ্কামুক্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বার্মা নিউজের প্রতিবেদন

আরাকান আর্মির সম্মতির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ-মিয়ানমার গ্যাস পাইপলাইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৫ পি.এম


আরাকান আর্মির সম্মতির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ-মিয়ানমার গ্যাস পাইপলাইন

মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের মধ্যে প্রস্তাবিত আন্তঃসীমান্ত গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পের বাস্তবায়নে আরাকান আর্মির (এএ) স্পষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাখাইন (আরাকান) রাজ্যের বিশাল অংশ এবং দুই দেশের পুরো সীমান্ত এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের সম্মতি ছাড়া এ প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

গত ২ আগস্ট ঢাকায় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সোয়ে মোয়ের মধ্যে বৈঠকের পর এই প্রস্তাবটি নতুন করে গতি পায়। বৈঠকে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে মিয়ানমারের অফশোর শ্বে গ্যাস প্রকল্প থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রামে আনার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এই গ্যাস ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের।

তবে আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ মিয়ানমারের জান্তা সরকারের হাতে নেই।

আরাকানবিষয়ক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইউ মিয়ো কিয়াও বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত এলাকাসহ আরাকান রাজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে আরকান আর্মি। আরাকান ভূখণ্ড দিয়ে গ্যাস পরিবহনের জন্য তাদের সম্মতি প্রয়োজন। তাদের অনুমোদন ছাড়া এই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার কোনো পথ নেই।’

২০২৪ সালের শুরু থেকে, বুথিডং এবং মংডোসহ গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত শহরগুলোর পাশাপাশি প্রতিবেশী চিন রাজ্যের পালেটওয়া টাউনশিপের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে আরাকান আর্মি। এর ফলে আন্তঃসীমান্ত ট্রানজিট করিডোরগুলো কার্যকরভাবে তাদের প্রশাসনের অধীনে চলে এসেছে।

এদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিত্তে ও কিয়াউকফিউয়ের আশপাশে এখনো তীব্র লড়াই চলছে।

চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, যদি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা হয়, তবে এই প্রকল্পটি জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনটির জন্য কৌশলগত সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ডেভেলপমেন্ট মিডিয়া গ্রুপের (ডিএমজি) প্রধান সম্পাদক ইউ অং মিন উ বলেন, স্থানীয় জনগণের জন্য সরাসরি অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এবং এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছুটা স্বীকৃতি অর্জনের সুযোগ তৈরি হলে আরাকান আর্মি প্রকল্পটিতে সমর্থন দিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘গ্যাস হোক কিংবা তেল—আরাকান ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে কোনো কিছু পরিবহন করতে হলে আরাকান আর্মির কোনো না কোনো মাত্রায় স্বীকৃতি প্রয়োজন। রাজনৈতিকভাবে এই প্রকল্প আরাকানআর্মিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি অবস্থান তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে। পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করে এমন বিদেশি বিনিয়োগকে তারা স্বাগত জানায়।’

আরাকান আর্মির প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল তুয়ান ম্রাত নাইং এর আগে ঢাকার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেছেন। তবে বাংলাদেশ সরকার এবং আরাকান আর্মির মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের সুযোগ এখনো সীমিত।

সূত্র: বার্মা নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াত-এনসিপি নন-ইস্যুকে ইস্যু করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় : খায়রুল কবির খোকন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২০ পি.এম


জামায়াত-এনসিপি নন-ইস্যুকে ইস্যু করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় : খায়রুল কবির খোকন

বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব এবং নরসিংদী-১ সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেছেন, জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী, বা দলের নয়, এটি এ দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আন্দোলনের ফলশ্রুতি। কিন্তু জামায়াত ও এনসিপি জুলাই সনদের কথা উল্লেখ করে নন-ইস্যুকে ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, নরসিংদী জেলা বিএনপি’র আয়োজিত শিশু অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের মাঝে অনুদান প্রদান এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এসব কথা তুলে ধরেন।

এসময় তিনি আওয়ামী লীগের উদাহরণ দিয়ে বলেন, এক সময় আওয়ামী লীগ নানা ইস্যুতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করত, কিন্তু আজকে তারা শুধু বাংলাদেশে পতন ঘটিয়েছে তা নয়, বরং তাদের দিল্লি পর্যন্ত কবর হয়ে গেছে। এই দলটি পরবর্তী ১০০ বছরেও বাংলাদেশে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই।

আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, নরসিংদী জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এবং নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৫ রায়পুরা আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দীন বকুল, জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন মাষ্টার, ভিপি জলিল, এ কে এম গোলাম কবির কামাল, হারুন অর রশিদ, খবিরুল ইসলাম বাবু, দ্বীন মোহাম্মদ দিপু, মহসিন হোসাইন বিদ্যুৎ, সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা।

আলোচনা সভা শেষে, জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় এবং শহীদদের পরিবারের সদস্য ও আহতদের হাতে নগদ আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%