০১:১০ পি.এম
রাষ্ট্রের সব যন্ত্র সক্রিয়ভাবে কাজ করার ফলে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্ভব হয়েছে, এ কথা জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রোববার (৭ জুন) শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টে তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন।
অ্যাসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ডের রায়কে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, "এত কম সময়ে শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার বিচার সম্পন্ন করে রাষ্ট্র তার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছে।"৷ তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের সব যন্ত্র সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে বলেই এত দ্রুত বিচার করা সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুন: খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানমের মানিকগঞ্জে ১২ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন
অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, রামিসা হত্যা মামলার রায়ের রেকর্ড পাওয়ার পর হাইকোর্টে দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার শুনানি ও আপিল নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সেইসঙ্গে প্রধান বিচারপতি এই মামলার বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজল।
এর আগে আলোচিত এই মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেন। রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এই অর্থদণ্ডের পুরো টাকা ভুক্তভোগী শিশু রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারী (মা-বাবা) পাবেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, আসামিরা যদি এই ক্ষতিপূরণ না দেয়, তবে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে রামিসার পরিবারকে দিতে হবে।
আরও পড়ুন: ‘সংখ্যালঘু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি’: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
মামলার বিবরণ অনুসারে, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে, আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। এরপর সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর পৈশাচিক উপায়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খুঁজতে গিয়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে বিরোধীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে রেকর্ড গড়ে মাত্র ৫ দিনের মধ্যে (২৪ মে) আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছিল পুলিশ। এরপর ১ জুন এসে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে আজ এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হলো।
আরও পড়ুন: সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড দুঃখজনক, পর্যালোচনা চলবে : আইনমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন