১২:১৩ পি.এম
তুরস্ক ও সোমালিয়ার যৌথ বাহিনী সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুদের কবল থেকে একটি কার্গো জাহাজ উদ্ধার করেছে। সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১০ দিন ধরে চলা অভিযানে ১৪ জলদস্যু নিহত হয়েছে।
শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ক্যামেরুনের পতাকাবাহী এমভি লাতুফ জাহাজটি মুক্ত করার জন্য পরিচালিত অভিযানে জলদস্যুদের চারটি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে।
জাহাজটি সোমালিয়ার আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পুন্টল্যান্ডের উপকূলে জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাহিনীর টানা চাপের কারণে জলদস্যুরা জাহাজটি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এবং পরে বাহিনী জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে।
আরও পড়ুন: ইরান পরমাণু চুক্তি বজায় রেখেছে: উপপ্রতিনিধি গোলামহোসেইন দারজি
এই অভিযানটি সোমালিয়া ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় পরিচালিত হয়। দুই দেশের মধ্যে এই সহযোগিতার লক্ষ্য হল সোমালিয়ার উপকূলের নিরাপত্তা জোরদার করা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলদস্যুতা দমন করা।
তবে অভিযানে জাহাজটির কতজন ক্রু ছিলেন, তারা সবাই নিরাপদ আছেন কি না এবং অভিযানে বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
পুন্টল্যান্ডের নুগাল অঞ্চলের গোদব জিরান জেলার জিফলে সম্প্রদায়ের স্থানীয় প্রবীণ আবদুল্লাহি ওয়ারসামে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, জাহাজটি এবং এর ক্রুদের মুক্ত করা হয়েছে।
এমভি লাতুফ জুলাইয়ের শেষ দিকে তুরস্কের তেকিরদাগ বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। পরে ১৭ আগস্ট পুন্টল্যান্ডের নুগাল অঞ্চলের উপকূলীয় জলসীমায় এটি ছিনতাই হয়। মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি বর্তমানে তানজানিয়ার দার এস সালামের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।
আরও পড়ুন: ইরানের পরমাণু কর্মসূচি যাচাইয়ের জন্য প্রস্তুত আইএইএ, দাবি গ্রোসি
২০০০ এর দশকে সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল এবং ২০১১ সালে এর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর মোতায়েন এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুদের হামলা আবার বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত সোমালিয়ার উপকূলে অন্তত ১৫টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ। এর মধ্যে অন্তত পাঁচটি কার্গো জাহাজকে জিম্মি করা হয়েছে।
সূত্র:
আরও পড়ুন: পশ্চিম তীরে ইসরাইলের অবরোধ, ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সমষ্টিগত শাস্তির আতঙ্ক
, এএফপি ও এপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন