০৯:৪২ এম
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মানুষ ও গবাদিপশুর আশ্রয়ের জন্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি মুজিব কিল্লা নির্মাণ করা হয়েছে। তবে উদ্বোধনের পর থেকে কিল্লা দুটি কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়নি। অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় এই স্থাপনাগুলো এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কক্ষগুলোতে ধুলোবালি জমে গেছে, সোলার প্যানেল নষ্ট হয়েছে, এবং সিলিং ফ্যানও নেই। জানালার গ্রিলে মরিচা ধরে গেছে, দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। চারপাশের মাটি রক্ষার জন্য বসানো কংক্রিটের ব্লকও ধসে পড়েছে।
গুনারীতলা ইউনিয়নের গোপালপুর এলাকায় খাজা শাহ সুফি ইউনুস আলী ডিগ্রি কলেজ মাঠে এবং জোড়খালী ইউনিয়নের কলাদহ মির্জা মোস্তফা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কিল্লা দুটি নির্মিত হয়। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে কিল্লা দুটির এমন অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্যোগের সময় আশ্রয়ের জন্য নির্মাণ করা হলেও কিল্লা দুটি একবারও ব্যবহৃত হয়নি। ফলে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হতে শুরু করেছে। সন্ধ্যার পর কিল্লা দুটি মাদকসেবীদের দখলে চলে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে পরিচ্ছন্নতায় সেরা ১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পেল ডিসির পুরস্কার
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খাজা শাহ সুফি ইউনুস আলী ডিগ্রি কলেজ মাঠের কিল্লাটি ‘মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয়। এতে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিল্লাটির উদ্বোধন করেন।
অন্যদিকে, কলাদহ মির্জা মোস্তফা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্মিত কিল্লাটি ২০২০-২১ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সালের ১৩ অক্টোবর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এটিও উদ্বোধন করা হয়। কিল্লাটি নির্মাণে সরকার ১ কোটি ৮০ লাখ ৩৭ হাজার ৬০২ টাকা বরাদ্দ দিয়ে দরপত্র আহ্বান করে। পরে মেসার্স স্বপ্না কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ৬০ লাখ ৩৭ হাজার ৬৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে।
গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান, মমিনুর রহমান ও হৃদয় হাসান জানান, কিল্লাটি নির্মাণের পর থেকে তারা কোনো কাজে ব্যবহার হতে দেখেননি। নির্মাণের পর থেকেই এটি ফাঁকা পড়ে আছে। তাদের অভিযোগ, নির্মাণের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেছে এবং স্থাপনাটি ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে। উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মোখলেস বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ব্যবহার করে এসব কিল্লা নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়নি। বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে হরিলুট করা হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এসব মুজিব কিল্লা তার উদাহরণ। কয়েক বছর আগে নির্মিত কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের স্থাপনা এভাবে পড়ে থাকা দুঃখজনক। দ্রুত সংস্কার করে এগুলো ব্যবহার উপযোগী করার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাজ উদ্দিন জানান, দুর্যোগকবলিত এলাকার মানুষের নিরাপদ আশ্রয়, মূল্যবান সামগ্রী ও গৃহপালিত প্রাণী সংরক্ষণের পাশাপাশি স্বাভাবিক সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম, কমিউনিটি সভা, প্রশিক্ষণ ও অস্থায়ী সেবাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আশ্রয়কেন্দ্র দুটি নির্মাণ করা হয়েছে। দুর্যোগের সময় কিল্লা দুটি যাতে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন