০২:৫৫ পি.এম
ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
নিজেদের মাঠে বিশ্বসেরা দলের এমন ভরাডুবির পর প্যাট কামিন্সদের ব্যাটিং ব্যর্থতা, একাদশ নির্বাচন ও পুরো ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ডট কম ডট এইউ কড়া শিরোনামে লিখেছে, ‘Aussies humiliated as Bangladesh clinch nine-wicket victory’, অর্থাৎ বাংলাদেশের ৯ উইকেটের জয়ে অপদস্থ অস্ট্রেলিয়া।
আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে
অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনও তাদের পর্যালোচনায় বলেছে, প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে হয়তো অবমূল্যায়ন করেছিল অস্ট্রেলিয়া। মাঠে তার পুরোপুরি সুযোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।
ডারউইন টেস্টে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে হাসান মাহমুদ ও তার ৬ উইকেটের তোপে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১৯৮ রানেই অলআউট হয়।
জবাবে ব্যাট হাতে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক ও মেহেদী হাসান মিরাজের কার্যকর ব্যাটিংয়ে সফরকারীরা ৪২৬ রান করে। এতে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের বড় লিড পেয়ে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকলেও সেই কাজটি করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরির পরও ২৮৪ রানের বেশি করতে পারেনি স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।
আরও পড়ুন: ঘিওরের ধলেশ্বরী নদীতে দুই দিন নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার
সেই লক্ষ্য ১ উইকেট হারিয়েই পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলামের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে সফরকারীরা ৯ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে।
ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক অ্যাডাম গিলক্রিস্ট সতর্ক করে বলেছিলেন, বাংলাদেশের এই জয় ক্রিকেট বিশ্বে বড় ঘটনা হয়ে উঠবে। শেষ পর্যন্ত ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ই এখন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
এই পরাজয়ে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারের দুর্বলতাও নতুন করে সামনে এসেছে। দুই ইনিংসেই ব্যাটাররা বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে নিয়মিত চাপে ছিলেন। বিপরীতে বাংলাদেশের পেসার ও স্পিনাররা পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে দুই ইনিংসেই আটকে রাখেন।
ম্যাচ শেষে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও হারের জন্য কোনো অজুহাত দাঁড় করাননি। তার মতে, ম্যাচের প্রথম দিনেই অস্ট্রেলিয়ার হাত থেকে নিয়ন্ত্রণ বেরিয়ে যায়। বাংলাদেশের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কথাও স্বীকার করেন তিনি।
আরও পড়ুন: রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ সেন্ট হতে পারে
এই হারের পর দ্বিতীয় টেস্টের আগে অস্ট্রেলিয়ার দল নির্বাচন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। নিজেদের মাঠে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে আসা বাংলাদেশ যে এভাবে চার দিনের মধ্যে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দেবে, তা স্বাগতিকদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকেতে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। ডারউইনের হার ভুলে সিরিজ সমতায় ফেরাই এখন কামিন্সদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে ঐতিহাসিক জয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের সামনে রয়েছে সিরিজ জয়ের সুযোগ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন