০৬:৫০ পি.এম
ফুটবল ম্যাচ চলাকালে বিরতির সময় অনেক তারকা ফুটবলারকে দেখা যায়, যারা মুখে পানি নিয়ে কুলি করেন এবং তা পরে ফেলে দেন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপেরসহ প্রায় সবাইকে কোনো না কোনো সময় এমনটি করতে দেখা গেছে।
অনেকের বিশ্বাস, এটা হয়তো শুধুমাত্র একটি অভ্যাস। কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে আছে বৈজ্ঞানিক কারণ।
আরও পড়ুন: বার্সেলোনা টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬-এ বাংলাদেশের বস্ত্র ও পোশাক প্রদর্শনী
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুটবলারদের এই অভ্যাসের পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করে।
প্রথমত, ঘন লালা দূর করতে কুলি। ম্যাচের সময় টানা দৌড়ঝাঁপ ও কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের কারণে শরীরে ‘এমইউসি৫বি’ নামে এক ধরনের মিউকাস বা শ্লেষ্মার পরিমাণ বেড়ে যায়।
এতে মুখের লালা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ঘন ও আঠালো হয়ে যায়। এই কারণে ফুটবলাররা মুখে পানি নিয়ে কুলি করে তা পরে ফেলে দেন, কারণ গিলে ফেলতে অস্বস্থি লাগে।
দ্বিতীয়ত, মুখের শুষ্কতা কমাতে। খেলার সময় দীর্ঘ সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া এবং অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়।
আরও পড়ুন: মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির নিচে, সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতি ৮.৩৪%
এতে করে মুখ শুকিয়ে যায় এবং ঢোক গিলতে কষ্ট হয়। কুলি করার মাধ্যমে মুখ আর্দ্র হয়ে ওঠে এবং অস্বস্তিও কমে যায়।
তৃতীয়ত, ‘কার্ব রিনসিং’ কৌশল। সবসময় মুখে থাকা তরল সাধারণ পানি নয়, বরং অনেক সময় ফুটবলারেরা কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ বিশেষ স্পোর্টস ড্রিংক মুখে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড ধরে কুলি করেন। একে বলা হয় ‘কার্ব রিনসিং’।
গবেষণায় দেখা গেছে, কার্বোহাইড্রেটযুক্ত তরল মুখের ভেতরের বিশেষ রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে, যা মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। এটি মস্তিষ্ককে নির্দেশ দেয় শরীরকে আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য।
ফলে ক্লান্তি কিছুটা কম অনুভূত হয়, মনোযোগ বাড়ে এবং পারফরম্যান্সের মান ধরে রাখতে সহায়তা করে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে ফাইনালে যেতে আফগানিস্তানকে ১১৯ রানে আটকে রাখতে হবে
অবশ্য, কেন পানীয়টি গিলে ফেলছেন না ফুটবলাররা? বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ম্যাচ চলাকালে অতিরিক্ত স্পোর্টস ড্রিংক বা পানি পান করার ফলে অনেক সময় পেট ভারী লাগার, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এতে খেলায় প্রভাব পড়তে পারে, তাই অনেক ফুটবলার পানীয়টি গিলে না ফেলে কয়েক সেকেন্ড মুখে রেখে কুলি করে বাইরে ফেলে দেন।
গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, এই কার্ব রিনসিং পদ্ধতি খেলোয়াড়দের দৌড়ানোর সক্ষমতা, মনোযোগ এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্স উন্নত করতে সাহায্য করে। তাই মাঠে ফুটবলারদের মুখে পানি অথবা বিশেষ স্পোর্টস ড্রিংক নিয়ে কুলি করে ফেলে দেওয়া কোনো অদ্ভুত অভ্যাস নয়, বরং এটি বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত একটি কার্যকর কৌশল।
আরও পড়ুন: রশিদ খানের ঘূর্ণিতে বাংলাদেশ ১৬০ রানে অলআউট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন