ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির


জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের আত্মত্যাগ এবং প্রত্যাশার ভিত্তিতে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, আসুন, মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি। একই সঙ্গে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্বপ্ন, আদর্শ এবং আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান।

বাণীতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে এবং প্রবল গণরোষের কারণে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বীর জুলাই যোদ্ধাসহ দেশপ্রেমিক সব নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আন্দোলনের শহীদদের মধ্যে আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, ফারহান, নাফিজ, তাইম, নাঈমা, শিশু রিয়া গোপ ও আহাদসহ আত্মোৎসর্গকারী হাজারো বীর শহিদকে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনে পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিও গভীর সম্মান ও আন্তরিক সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন, তাঁদের বিরল আত্মত্যাগ, অসীম সাহস এবং অসামান্য অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে এবং তা অনন্তকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে গত দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন, বৈষম্য, সীমাহীন দুর্নীতি, শোষণ, গুম-খুন, দলীয়করণ, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং বাকস্বাধীনতার হরণ এবং জেল-জুলুমের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অপ্রতিরোধ্য বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন।

বাণীতে উল্লেখ করা হয় যে, দীর্ঘ সময়ের রাষ্ট্রীয় অনিয়ম, নিপীড়ন এবং দুর্নীতির ফলে জনমনে সঞ্চিত ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নিরস্ত্র শিক্ষার্থী-জনতার ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর সর্বব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

আরও পড়ুন: ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত রাবি শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা আইসিইউতে

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকলকে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এই গণ-অভ্যুত্থানে সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী-শিক্ষক, তরুণ-যুবসমাজ, রাজনৈতিক কর্মী, শ্রমজীবী, কর্মজীবী, ভ্রাতা-ভগ্নি, কন্যা-জায়া, জননীসহ সর্বস্তরের মানুষ অসীম সাহস এবং ত্যাগের প্রতিজ্ঞা নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসেন এবং তাঁরা সবাই জুলাই যোদ্ধা।

তিনি বলেন, জনগণই সকল রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই চিরন্তন সত্য আবারও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় এমন একটি মানবিক ও গণমানুষের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে আর কখনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার এবং উগ্রপন্থার ঠাঁই হবে না। একই সঙ্গে বৈষম্য, দুর্নীতি, দুঃশাসন এবং অন্যায়ের অবসান, ভোটাধিকার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশাসন, জনস্বার্থ, জবাবদিহি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

আন্দোলনে শহীদ এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদানের বিষয়ে, তাঁদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ড এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।

বাণীর শেষে তিনি বাংলাদেশকে শান্তি, সাম্য, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির পথে আরও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহিদের রুহের মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করেন।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা কক্সবাজারে পৌঁছে দিলেন পার্বত্য মন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে থমথমে বেরোবি, নিরাপত্তা জোরদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বেরোবি প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৪ পি.এম


ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে থমথমে বেরোবি, নিরাপত্তা জোরদার

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অংশ নেন রংপুর মহানগর ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন, সদস্য সচিব নূর হাসান সুমন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরীফ নেওয়াজ জোহা, সদস্য সচিব আফতাবুজ্জামান সুজন, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল ইমরান সুজন এবং সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করেন। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়। সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অতিথি, দর্শনার্থীসহ সব ধরনের বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহলও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এদিকে চলমান পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজন ছাড়া ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইয়ামিন বলেন, "যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে কটাক্ষ করবে এবং জুলাইয়ের চেতনাকে খাটো করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সর্বাত্মক প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।"

তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, "পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, "সোমবারের ঘটনার পর আমরা দুই ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আজকের কর্মসূচিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নয়; এটি রংপুর মহানগর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কর্মসূচি। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।"

অন্যদিকে, সোমবার রাতের ঘটনার প্রতিবাদ এবং গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ইসলামী ছাত্রশিবির 'অদম্য জুলাই' শিরোনামে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় কারমাইকেল কলেজ থেকে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে। এ কর্মসূচিকে ঘিরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৭ পি.এম


সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলা

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশের একটি বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে এই হামলা চালানোর কথা জানায় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, লোহিত সাগরে সৌদি আরবের মালিকানাধীন একটি জাহাজে হুথিরা হামলা চালানোর পর এবং রিয়াদের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করার পর দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এই উত্তেজনার মধ্যেই নাজরান বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে বলেন, ‘একটি ড্রোনের মাধ্যমে নাজরান বিমানবন্দরে সৌদি আরবের একটি সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, সৌদি আরব ড্রোন ব্যবহার করে ইয়েমেনের সায়াদা ও হাজ্জাহ প্রদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

ইয়েমেনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, নাজরান বিমানবন্দরে নিখুঁতভাবে ড্রোনটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। তবে হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় হুদাইদাহ প্রদেশে এক প্রাণঘাতী ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের জন্য হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করছে।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সোমবারের ওই ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজন নিহত ও অন্তত ছয়জন আহত হন। হুদাইদাহ ভিত্তিক সরকারি প্রশাসন এক বিবৃতিতে জানায়, এলাকাটিতে হুথিদের নির্বিচার ও ব্যাপক মাইন স্থাপনের কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে এবং পুরো এলাকা সাধারণ মানুষের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পৌনে ৭ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৮ পি.এম


পৌনে ৭ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

সিরাজগঞ্জ, ৪ আগস্ট: প্রায় পৌনে ৭ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে দিনাজপুর থেকে ঢাকাগামী চিলাহাটি এক্সপ্রেস সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন অতিক্রম করে, এই রুটে প্রথম ট্রেন হিসেবে চলাচল করে।

এর আগে আজ বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনের পশ্চিম পাশে লাইনচ্যুত হয়।

এ কারণে যমুনা রেলসেতু হয়ে চলাচলকারী উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ১৮টি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে।

খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে, উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকেল ৪টার দিকে লাইচ্যুত বগিটি সরিয়ে ফেলার পর উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করে উদ্ধারকারী দল। পরে রেললাইন সচল হলে পর্যায়ক্রমে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে সিআইআরএস ও এনআরএসের উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৯ পি.এম


দেশের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে সিআইআরএস ও এনআরএসের উদ্বোধন

ঢাকা, ৪ আগস্ট, ২০২৬ : দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও আধুনিক করতে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (এনসিএসএ) উদ্ভাবিত সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেম (সিআইআরএস) এবং ন্যাশনাল আইসিটি অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি রেটিং সিস্টেম (এনআরএস)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

এমনকি পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সাইবার নিরাপত্তা কার্যক্রমের রূপরেখা নির্ধারণে জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি ২০২৬-২০৩০-এর প্রাথমিক খসড়া উপস্থাপন করা হয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) মিলনায়তনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম প্ল্যাটফর্ম দু’টির উদ্বোধন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেম (সিআইআরএস) এবং ন্যাশনাল আইসিটি অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি রেটিং সিস্টেম (এনআরএস) চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা হলো। একই সঙ্গে জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি ২০২৬-২০৩০-এর প্রাথমিক খসড়া উপস্থাপন করা হয়েছে, যা আগামী দিনের সাইবার নিরাপত্তা কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা দেবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার হামলা, তথ্য চুরি, অনলাইন প্রতারণা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ঝুঁকিও বাড়ছে। সিআইআরএস-এর মাধ্যমে নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান সহজেই সাইবার-সংক্রান্ত ঘটনার প্রতিবেদন দিতে পারবে এবং দ্রুত প্রতিকার পাবে। অন্যদিকে এনআরএস সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা মূল্যায়ন ও উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রী যোগ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, অপপ্রচার ও অনলাইন হয়রানি রোধে সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ, স্থিতিশীল ও আস্থাশীল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার, প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এসব উদ্যোগ দেশের সাইবার নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন পাসের পর বাংলাদেশ সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের নতুন যাত্রা শুরু করেছে। তবে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। ডিজিটাল অর্থনীতি ও ক্যাশলেস সমাজের দিকে এগিয়ে যেতে হলে সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা শুধু সরকারের নয়; নাগরিক, বেসরকারি খাত এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত দায়িত্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচার রোধে সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং, আর্থিক খাত এবং সরকারি তথ্যভাণ্ডারের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে। ভবিষ্যতে সাইবার ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই হবে বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ সুরক্ষার অন্যতম ভিত্তি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সিআইআরএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিক, প্রতিষ্ঠান ও অনুমোদিত ব্যবহারকারীরা সাইবার-সংক্রান্ত ঘটনা দ্রুত ও কাঠামোবদ্ধভাবে রিপোর্ট করতে পারবেন। প্রতিটি প্রতিবেদন যাচাই, বিশ্লেষণ, এসকেলেশন, প্রতিক্রিয়া, পর্যবেক্ষণ ও নিষ্পত্তির সমন্বিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হবে।

অন্যদিকে এনআরএস দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্য নিরাপত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য একটি জাতীয় রেটিং ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। ন্যাশনাল আইসিটি অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি ম্যাচিউরিটি রেটিং ফ্রেমওয়ার্ক-এর ভিত্তিতে চারটি মূল স্তম্ভ ও ১৩১টি নির্ণায়কের আলোকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ থেকে ই গ্রেডে মূল্যায়ন করা হবে।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সিআইআরএস ও এনআরএস বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সাইবার স্থিতিস্থাপকতা, আন্তঃসংস্থা সমন্বয় এবং প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ, আস্থাশীল ও সহনশীল ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে এ উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.), বিভিন্ন অংশীজন এবং আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%