বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৩০ পি.এম
কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্র (সিআইএমএমওয়াইটি) পরিদর্শন করেছে কানাডার একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
এই প্রতিনিধিদল কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার, কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহতকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলার কৌশল পর্যবেক্ষণ করে।
কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি সরেজমিন পরিদর্শনে অংশগ্রহণ করে।
আজ বৃহস্পতিবার, ঢাকায় অবস্থিত কানাডিয়ান হাইকমিশন তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এই পরিদর্শনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে।
কানাডীয় প্রতিনিধিদল পরিদর্শনকালে আধুনিক কৃষি গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন কিভাবে বাংলাদেশি কৃষকদের ফসলের উৎপাদন বাড়াতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কানাডার কৃষি উদ্ভাবন তরান্বিতকারী সংস্থা ‘বায়োএন্টারপ্রাইজ কানাডা’ এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সিআইএমএমওয়াইটি’ বাংলাদেশের স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ও আধুনিক উদ্ভাবনসমূহের প্রসার এবং সম্প্রসারণ ঘটাতে একটি বিশেষ অংশীদারত্ব গড়ে তুলবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি গঠন কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রবিধানমালা, ২০২৬’ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের ‘গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি’ গঠন কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চিঠির অনুলিপি অবগতি ও কার্যার্থে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাউশি মহাপরিচালক, সব বোর্ডের চেয়ারম্যান, সব বিভাগীয় কমিশনার, সব জেলা প্রশাসক এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, পাশাপাশি বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক এবং সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এবং প্রধান শিক্ষকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, কারণ আর্থিক নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশটিতে আবেদন করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশ ভিসা প্রত্যাখ্যান করেছে নিউজিল্যান্ড অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার একই সময়ে ৩৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। আজ বৃহস্পতিবার রেডিও নিউজিল্যান্ডে (আরএনজেড) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থীদের পূর্ণ টিউশন ফি-ভিত্তিক ভিসার ৬ হাজার ২৭৩টি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড। গত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মোট প্রত্যাখ্যানের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৫০৩টি।
বর্তমান সময়ে পূর্ণ টিউশন ফি-ভিত্তিক শিক্ষার্থী ভিসার সামগ্রিক প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল মাত্র ১৩ শতাংশ।
ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ডের সূত্র আরএনজেড-কে জানিয়েছে, ভিসার আবেদনে জালিয়াতি বা ভুয়া নথিপত্র ব্যবহারের ঘটনা ক্রমেই জটিল ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে স্নাতকোত্তর (পোস্টগ্রাজুয়েট) পর্যায়ে আবেদনের ক্ষেত্রে ভুয়া তথ্য দেওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে, যা প্রত্যাখ্যানের মূল কারণ।
অন্যদিকে, অভিবাসন এজেন্টদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের শিক্ষা পরামর্শক (এডুকেশন কনসালটেন্সি) প্রতিষ্ঠানগুলোর উপ-এজেন্ট নির্ভরতার কারণে এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বিপুল সংখ্যক আবেদন প্রসেস করতে গিয়ে অনেক উপ-এজেন্ট ভুল কিংবা ভুয়া আর্থিক নথিপত্র জমা দিয়েছেন।
জালিয়াতির কারণে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তদন্ত ব্যবস্থা কঠোর করায় এর ক্ষতিকর প্রভাব প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীদের ওপরও পড়ছে। সম্প্রতি কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার নীতি কঠোর করার পর, অভিজ্ঞতাহীন কিছু পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করেই নিউজিল্যান্ডের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে নিউজিল্যান্ডের জটিল নিয়মকানুন না বুঝেই আবেদন জমা দেওয়ায় বাতিল হচ্ছে সিংহভাগ আবেদন।
এর আগে ২০১৬ ও ২০২৪ সালেও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার একইভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। সে সময়ও ভুয়া নথিপত্র ও অনিবন্ধিত এজেন্টদের দৌরাত্ম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাল আবেদন শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রকৃত ও যোগ্য শিক্ষার্থীরা যাতে অযথা ভোগান্তি বা ক্ষতির শিকার না হন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করা উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে দায়ের করা একটি নতুন মামলায় আদালত গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গোয়ালন্দে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিয়মিত হাজিরা দিতে আদালতে যাওয়ার পর গোয়ালন্দ আমলী আদালতের বিচারক তার শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিদর্শক হুমায়ুন রেজা তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
কাজী কেরামত আলীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম আশা এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘৩৩২/২৪ নম্বর মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কাজী কেরামত আলী। পরে তিনি উচ্চ আদালত থেকে ওই মামলায় জামিন পান। এরপর ৩৩৪/২৪ নম্বর মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। ওই মামলাতেও তিনি জামিন পান। পরবর্তী সময়ে ৩৬৫/২৪ নম্বর মামলায় তাকে আবার শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।’
তিনি আরও জানান, ৩৬৫/২৪ নম্বর মামলায় বৃহস্পতিবার নিয়মিত হাজিরার তারিখ নির্ধারিত ছিল। এর আগে বুধবার তাকে নতুন আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হলে বিচারক আবেদনটি মঞ্জুর করেন। ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল গ্রেপ্তারের পর থেকে কাজী কেরামত আলী কারাগারে আছেন বলেও জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জে শিশু ধর্ষণ মামলায় মো. ফিরোজ সিকদার নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে আদালত যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের রায় প্রদান করেছে। একই সঙ্গে, তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জরিমানা না দিলে আরো এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জের শিশু সহিংসতা-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ অনুসারে, ২০২৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পুইশুর গ্রামে ১৫ বছর বয়সী একটি কিশোরীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন আসামি ফিরোজ সিকদার। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ দীর্ঘ তদন্তের পর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামি মো. ফিরোজ সিকদারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। রায় ঘোষণার পর তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক খান মন্তব্য করেন, ‘আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব। নিশ্চয়ই সেখানে আমরা ন্যায়বিচার পাব।’
গোপালগঞ্জ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট। এ রায়ের মাধ্যমে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো অপরাধের বিচার নিশ্চিত হবে বলে আশা করছি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ