ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ না পরমাণু যুদ্ধ? কি করবেন ট্রাম্প আর বিকল্প নেই!


ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ না পরমাণু যুদ্ধ? কি করবেন ট্রাম্প আর বিকল্প নেই!

২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অবৈধ সামরিক আগ্রাসনের জবাবে শুরু হওয়া ৪০ দিনের অসম যুদ্ধে বিশ্ব এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, যা বহু বছরের মার্কিন সামরিক আধিপত্যের ধারণাকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন আর একক বিশ্ব সুপার পাওয়ার নয় এমনটা বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র ধারণা করতে শুরু করেছে। এই যুদ্ধের শুরুতে যাদের ধারণা ছিল কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানকে সামরিকভাবে নতজানু করা যাবে, যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে তারাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হতে বাধ্য হয়।

এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই ইরান তার অবস্থান আরও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়—হরমুজ প্রণালী তাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজস্ব জলসীমার অংশ এবং এর নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে তারা কোনো আপস করবে না। ইরানের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে এই বাস্তবতা উল্লেখ থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিকল্প পথে ওমান উপসাগর ব্যবহার করে সামরিক ও বাণিজ্যিক চলাচলের চেষ্টা চালায়। ইরান তা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে প্রতিরোধ করলে পুনরায় সংঘাত শুরু হয় এবং যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা কার্যত ভেঙে পড়ে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের ন্যাটো সম্মেলনে প্রকাশ্য ঘোষণা দেন যুদ্ধবিরতি চুক্তি আর নেই।

ইরানের আরো অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র শুধু যুদ্ধবিরতি চুক্তিই ভঙ্গ করেনি, এমনকি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সমাহিতকরণের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি লঙ্ঘন করে ব্যাপক হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাবে ইরানও হাত গুটিয়ে নতজানু হয়ে বসে থাকেনি বরং পাল্টা বিধ্বংসী ও ব্যাপক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, অস্ত্রাগার, রাডার ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও ড্রোন হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে ধারাবাহিক আঘাত হানে এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এত বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয় যে অনেক বিশ্লেষক ধারণা করছেন যে, মধ্যেপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্রের শক্তি প্রায় ধ্বংসের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এমনকি ইরানের এসব নিখুঁত পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর বড় অংশ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক অজেয়তার ভাবমূর্তি গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে বাস্তবে কী কী বিকল্প রয়েছে?
===============================
ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে যুদ্ধ শুরুর পূর্ব থেকে শুরু করে সব শেষ বক্তব্য পর্যন্ত বড় বড় হুমকি কিংবা রাজনৈতিক ভাষণ দিয়ে বর্তমান সংকট আর সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ইরান যে ধরনের কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো যেভাবে ধারাবাহিক হামলায় ধ্বংসের মুখে পড়ছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক প্রচলিত সামরিক চাপ কার্যকর হচ্ছে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও নিজেদের বিশ্ব পরাশক্তির অবস্থান প্রদর্শনের চেষ্টা করে, তবে তাদের সামনে "হয় ইরানের সঙ্গে বাধ্য হয়ে একপ্রকার আত্মসমর্পণ বা সমঝোতার পথ বেছে নেওয়া", নয়তো "এমন এক সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়া, যার শেষ সীমায় পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে"। এই দুইয়ের বাইরে কার্যকর কোনো তৃতীয় পথ এখন দৃশ্যমান নয়। তবে এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন কি করবেন?

পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা কি আদৌ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহজ কোনো সিদ্ধান্ত?
=================================
ইতিহাস বলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের সময় বিশ্বের কৌশলগত বাস্তবতা আজকের মতো ছিল না। তখন যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সমমানের কোনো পারমাণবিক প্রতিপক্ষ ছিল না। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি পরমাণু বোমার ট্রিগার চাপলে হয়তো বা উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাক করা পরমাণু বোমার ওয়ারহেডগুলো ইন্টার কন্টিনেন্টাল ব্যালাস্টিক মিসাইল বা আইসিবিএম ক্ষেপণাস্ত্রসহ উড়ে যেতে পারে-এমন আশঙ্কা করা অমূলক নয়।

আজ বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পদক্ষেপ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কারণ সেখানে রাশিয়াকে বিপর্যস্ত করতে অশ্চিমা শক্তি তথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সর্বাধুনিক প্রযুক্তির অস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনকে সহায়তা করছে। অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত শক্তিতে পরবর্তী সম্ভাব্য পরাশক্তি হিসেবে দ্রুত উত্থান ঘটানো চীনও আন্তর্জাতিক ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠনের কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রও পারমাণবিক সক্ষমতার প্রশ্নে বারবার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ইরানের সঙ্গে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক বিবেচনায় নিলে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চরম পদক্ষেপ একক সংঘাতের মধ্যে আর সীমাবদ্ধ থাকবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ নেই।


বরং একটি ভুল সিদ্ধান্ত পুরো বিশ্বকে এমন এক সর্বাত্মক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যার পরিণতি মানবসভ্যতার জন্য অকল্পনীয় বিপর্যয় ডেকে আনবে। এ কারণে যে, বর্তমান সংকট কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিশ্ব শক্তির ভারসাম্য, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক রাজনৈতিক কাঠামোরও একটি কঠিন পরীক্ষা, যাতে যুক্তরাষ্ট্র মনে রাখা উচিত, একক পরাশক্তি হিসেবে আর যুক্তরাষ্ট্র নেই বরং বিশ্বের অপর দুই পরাশক্তির স্নায়ু যুদ্ধ-ই চলছে ইউক্রেন ও ইরানে।

আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়

এখন প্রশ্ন একটাই—ডোনাল্ড ট্রাম্প কি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ইহুদীবাদী ইজরাইলি লবির চাপে নিজের বিশ্ব পরাশক্তিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিবেন নাকি ইসরাইলকেন্দ্রিক সামরিক কৌশল থেকে সরে এসে ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পথে হাঁটবেন কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি পুনর্বিবেচনা করবেন এবং সমঝোতার নতুন অধ্যায় খুলবেন? নাকি শক্তি প্রদর্শনের নামে এমন এক বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত নেবেন, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই অভূতপূর্ব সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো সময়ই দেবে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—আজকের বিশ্ব আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী একমেরু ভিত্তিক বিশ্ব নয় বরং ইতিমধ্যেই বহু মেরু ভিত্তিক বিশ্ব ব্যবস্থা তৈরি হয়ে গেছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় প্রতিটি সামরিক সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া বহুগুণ বেশি জটিল, বহুমাত্রিক এবং সুদূরপ্রসারী। তাই শক্তির প্রদর্শন কিংবা কোন ভুল সিদ্ধান্তই হয়তো আগামী দিনের ইতিহাস নির্ধারণ করবে, বিশ্ব কি নতুন করে আলোর মুখ দেখবে নাকি মহাপ্রলয়ের ধ্বংসলীলা দেখবে এখনকার সিদ্ধান্তই তা নির্ধারণ করবে এমন কথা বলা মনে হয় আজকের দিনে অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

 

আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফেরি প্রত্যাহার, অচলাবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১১ পি.এম


চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফেরি প্রত্যাহার, অচলাবস্থা

কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী নৌপথে, দুই পাড়ে মালবাহী যানবাহনের দীর্ঘ সারি সত্ত্বেও, চলাচলরত দুটি ফেরির মধ্যে একটি ফেরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৮ টার দিকে, চিলমারী ঘাট থেকে ফেরি কুঞ্জলতাকে সার্ভে সনদ নবায়ন ও ডকিং সংস্কারের জন্য নারায়ণগঞ্জে পাঠানো হয়েছে।

নাব্যতা সংকটের অজুহাত দেখিয়ে টানা পাঁচ দিন ফেরি বন্ধ থাকার পর, সদ্য চালু হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ থেকে একটি ফেরি সরিয়ে নেওয়ার কারণে, আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এই নৌপথ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে ফেরিটি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বর্তমানে এই নৌপথে 'কদম' নামে একটি ফেরি থাকলেও, সেটি দিয়ে পুরো রুটে যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন চালক ও সহকারীরা। ইতিমধ্যে চিলমারী ও রৌমারী ঘাটের দুই পাড়ে অন্তত ৪৯টি পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।

জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র নদে পর্যাপ্ত পানি থাকার পরও 'নাব্যতা সংকট' এর কারণ দেখিয়ে গত ৭ জুলাই থেকে টানা পাঁচ দিন চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরে ১২ জুলাই সীমিত পরিসরে ফেরি চলাচল শুরু হলেও, দুই দিনের মাথায় চলাচলরত ফেরি কুঞ্জলতাকে ডকিংয়ের জন্য সরিয়ে নেওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে।

চিলমারী-রৌমারী নৌপথ উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ নৌপথ। এই পথ ব্যবহার করে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যানবাহন জামালপুর-ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বল্প দূরত্বে যাতায়াত করে। এ নৌপথ ব্যবহার করলে প্রায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার সড়কপথ কমে যায়, ফলে জ্বালানি, সময় ও পরিবহন ব্যয় সাশ্রয় হয়।

বুড়িমারী থেকে পাথর নিয়ে আসা ট্রাকচালক দুলাল মিয়া জানালেন, আগে দুটি ফেরি চলত। একটি যেত, আরেকটি আসত। এখন শোনা যাচ্ছে একটি ফেরি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। একটি ফেরি দিয়ে এত গাড়ি পারাপার সম্ভব নয়। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। এভাবে চললে এই রুট ব্যবহার করাই কঠিন হয়ে যাবে।

বগুড়া থেকে আসা ট্রাকচালক জাহাঙ্গীর হোসেন জানালেন, এই রুটে ফেরি কখন চলে, আর কখন বন্ধ থাকে তা বোঝা যায় না। প্রায়ই নাব্যতার অজুহাতে ফেরি বন্ধ থাকে। এখন আবার একটি ফেরি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একটি ফেরি দিয়ে এত গাড়ি পারাপার করলে সময় ও খরচ দুটোই বাড়বে, অথচ এই রুট ব্যবহার করি সময় ও জ্বালানি বাঁচানোর কারণে।

আরেক ট্রাকচালক নয়ন মিয়া জানালেন, প্রতিদিন শত শত যানবাহন এই ঘাট ব্যবহার করে। এখানে অন্তত চারটি ফেরি প্রয়োজন। নিয়মিত দুটি ফেরিই চাপ সামলাতে হিমশিম খায়। সেখানে একটি সরিয়ে নেওয়া হলে পুরো নৌপথই মুখ থুবড়ে পড়বে। একটি ফেরি এনে এটি সরিয়ে নেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করছেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা জানালেন, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর এ নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হলেও ঈদুল আজহার সময় আবার সাত দিন বন্ধ থাকে। পরে ২ জুন ফেরি চলাচল চালু হলেও ৭ জুলাই থেকে আবারও বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ কুঞ্জলতা ফেরিটিও ডকিংয়ের জন্য প্রত্যাহার করায় এ নৌপথের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চিলমারী ফেরি সার্ভিসের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আকিব সোহেল আকাশ জানান, প্রধান কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফেরি ‘কুঞ্জলতা’ সার্ভে সনদ নবায়ন ও ডকিংয়ের জন্য নারায়ণগঞ্জে পাঠানো হয়েছে। ডকিং শেষে ফেরিটি ফিরতে অন্তত তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে। তবে বর্তমানে চিলমারী-রৌমারী নৌপথে যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় অতিরিক্ত একটি ফেরির চাহিদা প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-চীন সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের প্রধান ড. খন্দকার মোশাররফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১২ পি.এম


বাংলাদেশ-চীন সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের প্রধান ড. খন্দকার মোশাররফ

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সংসদীয় সম্পৃক্ততাকে আরও সুদৃঢ় এবং সম্প্রসারিত করার লক্ষ্য নিয়ে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপিকে চেয়ারপার্সন করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ-চীন সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন করা হয়েছে।

নবগঠিত বাংলাদেশ-চীন সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের সদস্যরা হলেন- বিএনপির শহিদুল ইসলাম এমপি (ফরিদপুর-৪), হাসান রাজিব প্রধান এমপি (লালমনিরহাট-১), খালেদ হোসেন মাহবুব এমপি (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-৩), শাকিলা ফারজানা এমপি (সংরক্ষিত মহিলা আসন-৮), জাহরাত আদিব চৌধুরী এমপি (সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৭), মাহমুদা হাবিবা এমপি (সংরক্ষিত মহিলা আসন-১৩), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান এমপি (পাবনা-১) এবং মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এমপি (যশোর-২) ও এনসিপির আবুল হাসানাত এমপি (কুমিল্লা-৪)।

বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ের সহকারী সচিব ইকবাল বাশার (১৩ জুলাই) স্বাক্ষরিত এক নোটিশের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।

নবগঠিত বাংলাদেশ-চীন সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের চেয়ারপার্সন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন একাধিক মেয়াদে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন। ড. খন্দকার মোশাররফ কুমিল্লা-১ এবং ২ আসন থেকে ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং ৩ মেয়াদে বিএনপি সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে অভিযান, তিন লাখ টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৪ পি.এম


চট্টগ্রামে রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে অভিযান, তিন লাখ টাকা জরিমানা

চট্টগ্রাম নগরের পূর্ব নাসিরাবাদে অবস্থিত রেস্তোরাঁ ও ফাস্ট ফুড চেইন ‘সাদিয়াস কিচেন’র প্রধান রান্নাঘরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যার ফলে মালিকপক্ষকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এ অভিযান মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিফাত বিনতে আরা কর্তৃক পরিচালিত হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের অফিসার ফরহানুল ইসলামসহ মেট্রোপলিটন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সিএমপির একটি টিম।

অভিযানের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত ‘সাদিয়াস কিচেন’-এ মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পরিবেশ দেখতে পায়। সেখানে পচা ডিম ও ব্রেডক্রাম্প ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং ফ্রিজে উচ্ছিষ্টের সঙ্গে মুরগির মাংস ও খোলা অবস্থায় দই সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। এছাড়া, প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের মধ্যে ইঁদুর, তেলাপোকা ও মশা-মাছির উপদ্রবের পাশাপাশি খোলা ড্রেনেজসহ নানা অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অনিবন্ধিত (মেয়াদোত্তীর্ণ নিবন্ধন) উপায়ে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের মতো নানা অনিয়ম ধরা পড়ে। এসব কারণে সাদিয়াস কিচেনের মালিকপক্ষকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিফাত বিনতে আরা বলেন, ‘অভিযানের সময় নানা অনিয়ম পাওয়ার কারণে তিন লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে এবং তা আদায় করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্রোয়েশিয়ার নতুন কোচ স্লাভেন বিলিচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৫ পি.এম


ক্রোয়েশিয়ার নতুন কোচ স্লাভেন বিলিচ

ক্রোয়েশিয়ার জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে স্লাভেন বিলিচকে নিয়োগ দিয়েছে ক্রোয়েশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন।

ফিফা বিশ্বকাপে পর্তুগালের কাছে লজ্জাজনক পরাজয়ের পর জ্লাতকো দালিচ কোচের পদ ছেড়েছেন। দালিচের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই ক্রোয়েশিয়ার কোচ হিসেবে পুরানো মুখ স্লাভেন বিলিচকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

স্লাভেন বিলিচ আগে ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময়ে তিনি ৬৫ ম্যাচে ৪২ জয়, ১৫ ড্র এবং ৮টি হার নিয়েছিলেন। সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দালিচের তুলনায় বিলিচের জয়ের হার ছিল বেশি।

বিলিচের আগের মেয়াদে ২০০৮ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে ক্রোয়েশিয়া বড় সাফল্য পেয়েছিল। সে সময় দলটি কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল, কিন্তু শেষ আটের লড়াইয়ে তুরস্কের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল ক্রোয়েশিয়াকে।

কোচিং করানোর বিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে বিলিচের, ইংলিশ ক্লাব ওয়েস্ট হ্যাম, ওয়েস্ট ব্রোমউইচ অ্যালবিয়ান এবং ওয়াটফোর্ডের মতো ক্লাবেও তিনি কোচ হিসেবে কাজ করেছেন।

জাতীয় দলের দায়িত্ব ফিরে পেয়ে আত্মবিশ্বাসী বিলিচ। তিনি বলেছেন, "২০০৬ সালের তুলনায় এবার আরও পরিপক্ব ও অভিজ্ঞ কোচ হিসেবে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছি। ক্রোয়েশিয়াকে আবারও শক্তিশালী, সাহসী ও সফল দল হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছা আমার আগের মতোই আছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য ২০২৮ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো ফল করা।"

তবে বিলিচের সামনে চ্যালেঞ্জ কম নয়। কারণ জ্লাতকো দালিচের অধীনে ক্রোয়েশিয়া নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সময় কাটিয়েছে। দালিচের নেতৃত্বে ২০১৮ বিশ্বকাপে রানার্সআপ এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল ক্রোয়েশিয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%