ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে 'সম্মানজনক অভ্যর্থনা' দিতে চায় ভারত


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে

আসন্ন সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে 'সম্মানজনক অভ্যর্থনা' দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ভারত দিয়েছে। এতে বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতের অবস্থানের একটি স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যাচ্ছে।

ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুনভাবে তৈরি করতে চায়, এটি স্পষ্ট। একই সময়ে, বাংলাদেশের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার জন্য ভারত আগ্রহী। তারেক রহমানের সম্ভাব্য এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। সফরটি হলে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমানো, বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানো এবং গঙ্গার পানি বণ্টনসহ অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ভারতের পক্ষ থেকে সফরটির জন্য ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সফরের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বড় কোনো সমস্যা না হলে ভারতের ভেতরের সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগস্টের শেষ সপ্তাহে তারেক রহমানের সফর হতে পারে।

আরও পড়ুন: পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে ইনকিলাব মঞ্চের পথসভা

বাংলাদেশ ও ভারত উভয় পক্ষই তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে সরাসরি বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করছে। নয়াদিল্লি চায়, সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকের ওপর নির্ভর না করে আগস্টেই দুই নেতার একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হোক। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশে কর্মরত কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিক সফর নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানাচ্ছে, তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং তিনি দ্বিপক্ষীয় সফরকেই নিয়মিত গুরুত্ব দিতে পারেন। এবং সফরটি সেপ্টেম্বরের দিকে পিছিয়ে গেলেও তিনি ভারত সফর করতে আগ্রহী থাকতে পারেন।

দুই দেশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, দুই নেতার সরাসরি বৈঠক হলে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে, সম্পর্ককে আরো গঠনমূলক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পথও খুলবে।

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলেও আশাবাদ দেখা গেছে। সম্প্রতি ভারতের শিল্প সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে। দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতারা এই সফরটিকে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব কমানোর একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। প্রতিনিধিদলটি Bangladesh সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে। এসব বৈঠকে অর্থমন্ত্রীও অংশ নেন। সেখানে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রংপুরের নতুন বিভাগীয় কমিশনার হলেন জাহাঙ্গীর আলম

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী মহল এবং ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন প্রতিনিধিদলের সফর আয়োজন ও সমন্বয়ে ভূমিকা রাখে। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক ব্যবসায়ী নেতা সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের পর ভারত সফরের বিষয়ে আশাবাদী। ১৮ আগস্ট ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী নেতা এবং সফররত ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সম্মানে আয়োজন করা হয়। সেখানে ভারতীয় নেতা দীনেশ ত্রিবেদীও দুই নেতার বৈঠকের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, বহুপক্ষীয় বৈঠকে নেতাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা করার সুযোগ সীমিত থাকে। তবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, নৈশভোজ এবং দুই নেতার সরাসরি আলোচনার সুযোগ থাকে। এসব বৈঠকে ভবিষ্যতে কী কাজ করা হবে, তা ঠিক করা এবং যৌথ বিবৃতি দেওয়ার সুযোগও থাকে। ত্রিবেদী জানান, দুই দেশের সম্পর্ককে অতীতের বিরোধ থেকে বের করে নতুন অধ্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অতীতে আটকে না থেকে দুই দেশের উচিত একটি নতুন ও ইতিবাচক অধ্যায় শুরু করা। তারেক রহমান দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারত যাবেন কি না জানতে চাইলে ত্রিবেদী বলেন, এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। কিন্তু তিনি খুবই আশাবাদী যে সফরটি শিগগিরই হবে।

ভারতীয় এই নেতা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারত সফরের সময় তারেক রহমানকে 'সম্মানজনক অভ্যর্থনা' দেওয়া হবে। ত্রিবেদীর ভাষ্য অনুযায়ী, মোদি চান তারেক রহমানের সফরটি স্মরণীয় হোক। দুই নেতার মধ্যকার সরাসরি ও নিয়মিত যোগাযোগ বাড়লে শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। তার মতে, দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব কমাতে ব্যবসায়ীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

কিন্তু তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এখন পর্যন্ত সফরটি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেই। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সফরের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ১৪ আগস্ট ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে দলের এক সমাবেশে তিনি বলেন, ভারত শেখ হাসিনা এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলার অভিযুক্ত ওসমান হাদীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর করা উচিত নয়।

আরও পড়ুন: দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক নিহত

নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, ভারতের সাথে কোনো ধরনের সমঝোতা করে তারেক রহমান যদি দেশটি সফর করেন, তাহলে বিএনপির জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অবস্থান নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হবে। তিনি আরো অভিযোগ করেন, দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থার ওপর আঘাত করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার শুধু বিবৃতি দিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। নাহিদ বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জনগণ তারেক রহমানের ভারত সফর মেনে নেবে না।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একেএম শহীদুল করিম জানান, তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য বাংলাদেশ একটি 'অনুকূল পরিবেশ' চাচ্ছে। তিনি জানান, তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় সফরের সম্ভাবনা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। এর আগে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করার পর। এরপর থেকেই ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

তবে সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের মধ্যেও বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে আগ্রহী। বিশেষভাবে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এর মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তির আওতায় রয়েছে।

১৯৯৬ সালে দুই দেশ গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে চুক্তি করে। এখন সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে। চুক্তিটি নবায়ন বা নতুন করে আরও কার্যকর করা হলে দুই দেশই লাভবান হতে পারে। বাংলাদেশ এই ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক আস্থা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের পর তৈরি হওয়া নতুন বাস্তবতার আলোকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে দেখতে হবে। তার মতে, এই সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান, আস্থা, মর্যাদা এবং দুই দেশের সার্বভৌম সমতা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে প্রস্তুত। তবে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য নয়াদিল্লিকেও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

আরও পড়ুন: প্রশ্ন ফাঁস রোধে সচিবালয়ে রাত কাটাচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার গঠনের পর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত হওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখনো সম্পর্ক অনেকটা স্থবির। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের কথিত 'পুশ-ইন' নিয়েও বাংলাদেশে উদ্বেগ রয়েছে। এসব ঘটনা দুই দেশের মানুষের মধ্যে ভারতের প্রতি সংবেদনশীলতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য তারেক রহমানকে ভারতের আমন্ত্রণ এবং এর আগে মোদির ভারত সফরের আমন্ত্রণ - দুটিই দেখায় যে ভারত সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে আগ্রহী। সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকও দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস এবং পারস্পরিক নির্ভরতার কারণে বাংলাদেশ ও ভারত গভীরভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। তাই দুই দেশের সম্পর্কের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের সমাধান বাংলাদেশ এবং ভারতের জন্য একযোগে গুরুত্বপূর্ণ। তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক সফরই নয়, বরং এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দুই নেতার বৈঠকে পানি বণ্টন, বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত, নিরাপত্তা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।এ ছাড়া দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি যোগাযোগ বাড়লে সাম্প্রতিক উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। হুমায়ুন কবিরের মতে, বাংলাদেশকে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় দেশগুলোর সঙ্গে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে হলে দেশের ভেতরেও রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক ঐক্য প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতির অর্থ হলো দেশের রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যমকে একটি সমন্বিত জাতীয় অবস্থান থেকে কাজ করা। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কোনো পক্ষের জন্যই লাভজনক নয়। তাই পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিলিস্তিনে সহায়তা বাড়াচ্ছে ভারত, হবে ২০০ শয্যার হাসপাতাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৯ পি.এম


ফিলিস্তিনে সহায়তা বাড়াচ্ছে ভারত, হবে ২০০ শয্যার হাসপাতাল

ভারত ফিলিস্তিনে উন্নয়ন সহায়তা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর অংশ হিসেবে, বুধবার দুই পক্ষ ফিলিস্তিনে একটি ২০০ শয্যার আধুনিক সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল নির্মাণের জন্য সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ঘোষণা দিয়েছে।

হাসপাতালটির জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও একটি ট্রমা সেন্টার।

এদিকে, ২০২৮-২৯ মেয়াদে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হওয়ার জন্য ভারতের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ফিলিস্তিন। বুধবার ভারতে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আবু শাওয়েশ এ সমর্থনের কথা জানান।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনের অন্যতম প্রত্যাশা হলো, ভারত যেন ভবিষ্যতে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে একটি দেশ হয়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথনের ফিলিস্তিন সফরের সময় আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় ফিলিস্তিনের জাতীয় মুদ্রণ সংস্থার ভেতরে একটি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সেখানে মুদ্রণ খাতে দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শুটিং সেটে সালমানের মাঝে উইল স্মিথকে খুঁজে পেলেন পরিচালক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩২ পি.এম


শুটিং সেটে সালমানের মাঝে উইল স্মিথকে খুঁজে পেলেন পরিচালক

আগামী ২১ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক অ্যাকশন থ্রিলার ছবি ‘৭ ডগস’। এই আরবি ভাষার ছবিটি মুক্তির জন্য প্রস্তুত, যেখানে বলিউড তারকা সালমান খান ও সঞ্জয় দত্তের পাশাপাশি বিখ্যাত ইতালীয় অভিনেত্রী মনিকা বেলুচ্চিও অভিনয় করেছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সাক্ষাৎকারে ছবিটির মরক্কো-বেলজিয়ান পরিচালক জুটি আদিল এল আরবি ও বিলাল ফালাহ, সালমান খানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। পরিচালক আদিল এই প্রসঙ্গে জানান, শুটিং সেটে সালমানের উপস্থিতি তাকে হলিউড তারকা উইল স্মিথের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। আদিলের ধারণা, সালমানের মধ্যে একটি সহজাত তারকাসুলভ আচরণ রয়েছে এবং ক্যামেরা চালু হলেই যেন তিনি ম্যাজিক তৈরি করেন। আদিল বিশ্বাস করেন, সালমান খুব দ্রুত দৃশ্যের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে সক্ষম হন এবং নিখুঁত অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের পক্ষ থেকেও নতুন অনেক কিছু যোগ করেন, যা তাদের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণের একটি দারুণ শিক্ষা বলে মনে হয়েছে। অন্যদিকে, পরিচালক বিলাল মন্তব্য করেন, সালমানের তৈরি করা ছোট ছোট মুহূর্ত বা যোগ করা সংলাপগুলো ছবিটির সম্পাদনার টেবিলে আরো আকর্ষণীয়তা যোগ করেছে। ছবিটির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিসরের দুই অভিনেতা আহমেদ এজ এবং করিম আবদেল আজিজ। গল্পের প্রেক্ষাপটে তাদের একজন ইন্টারপোল কর্মকর্তা এবং অন্যজন অপরাধীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন, যাদের কাজ হল একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রকে দমন করতে একসঙ্গে জোট বাঁধা। প্রায় ৪ কোটি ডলার বাজেটে নির্মিত ‘৭ ডগস’ আরব অঞ্চলের অন্যতম ব্যয়বহুল চলচ্চিত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াদে এর একটি বৃহৎ অংশের শুটিং হয়েছে, যেখানে চোখ ধাঁধানো লড়াই, স্টান্ট এবং বিস্ফোরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ছবিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর একটি বিস্ফোরণের দৃশ্য, যা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অন-স্ক্রিন বিস্ফোরণ হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩৩ পি.এম


মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার মৃত্যুদণ্ড

বগুড়ায় মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে খালেক নামের এক ব্যক্তিকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই সাথে আদালত তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

জরিমানা না দিল্লে, তাকে আরো দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার আদেশ জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টায় বগুড়ার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মারুফ হোসেন এই রায়টি ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামি আ. খালেক হচ্ছেন শেরপুর উপজেলার দ্বারকীপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর রাতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে আ. খালেক তার কিশোরী মেয়েকে (১২) নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে শেরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি পুলিশ আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। তদন্ত চলাকালে আসামি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিও দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক উল্লেখ করেন, কোনো বাবার কাছে যদি তার সন্তান নিরাপদ না থাকে, তবে সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা কঠিন। সমাজে যেন এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং নাবালিকা শিশুরা নিরাপদ থাকে, তা নিশ্চিত করতেই আইনানুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।

শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিউকিটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আলী আসগার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি স্পষ্ট বার্তা যাবে, যা সামাজিক কাঠামো রক্ষা ও অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

লোকলজ্জার ভয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।

বগুড়ার শেরপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং বর্তমান কোর্ট ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালের ওই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সত্যতা পেয়ে পুলিশ দ্রুত চার্জশিট জমা দিয়েছিল। আদালত তার উপযুক্ত বিচার করেছেন। রায় ঘোষণার পর আসামিকে সাজা পরোয়ানা মূলে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফরিদপুরে সিজারিয়ান রোগীর পেটে দেড় কেজি গজ রেখে সেলাইয়ের দেড় মাস পর রোগীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩৪ পি.এম


ফরিদপুরে সিজারিয়ান রোগীর পেটে দেড় কেজি গজ রেখে সেলাইয়ের দেড় মাস পর রোগীর মৃত্যু

ফরিদপুর সমরিতা হাসপাতালের সিজারিয়ান রোগী কবিকা মন্ডল (৩৫) এর পেটে দেড় কোজি গজ রেখে সেলাইয়ের এক মাস ২০ দিন পর মৃত্যুবরণ করেছে। কবিকা মন্ডল রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী। বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ২ টার দিকে তিনি ঢাকা কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। নিহতের স্বামী অশান্ত মন্ডল অভিযোগ করেন, গত ২৯ জুন ফরিদপুর সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ানের জন্য ভর্তি হন কবিকা। ওইদিন সন্ধ্যায় ডা. লক্ষী রানী দত্তের নেতৃত্বে তিনি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। কিন্তু পরদিনই কনিকার পেট ফুলে যেতে শুরু করে। এরপর ৩ জুলাই তাকে ঢাকা ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭ জুলাই ডা. আব্দুল জলিলের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষার সময় দেখা যায়, তার পেটে প্রায় দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই করা হয়েছে। ওইদিনই অপারেশন করে গজ বের করা হয়। এরপর বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ২ টার সময় হাসপাতালে তিনি মারা যান। এখন আমি ২ মাসের সন্তান নিয়ে কিভাবে বাঁচবো। আরও ২ টি ছোট ছোট ছেলে রয়েছে, আমি বিচার দাবী করছি। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক লক্ষী রানী দত্ত আমার কাছে হোয়াইটঅ্যাপ ম্যাসেজ দিয়ে জানিয়েছেন, "দাদা নমস্কার। ভালো থাকুন ঈশ্বরের কাছে সেই প্রার্থনা করি। সব কথার শুরুতেই করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থী। ভুল মানুষেরই হয়, অনেক ঝামলার ভিতর থেকে আমি ভুল করে ফেলেছি, আমি বার বার আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থী। কিভাবে আমি অনেক কষ্টে আছি। আবারও ক্ষমা চাচ্ছি দাদা।" এ বিষয়ে ডা. লক্ষী রানী দত্তের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমার খেয়াল নেই, একটু পরে ফোন দিচ্ছি" বলে ফোন কেটে দেন। পরে আবারও যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%