শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৪৬ এম
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমান বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২২ লাখ ১০ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন। গত ৯ সেপ্টেম্বর মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টনে। এই সময়ের মধ্যে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত বেড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন।
মজুতের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি, দেশে খাদ্য মজুতের ধারণ ক্ষমতা (ক্যাপাসিটি) ছিল প্রায় ২৪ লাখ মেট্রিক টন। তবে বিএনপির বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তা ৩৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ধারণ ক্ষমতা ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।
বিএনপি সরকার গঠনের পর নিরাপদ খাদ্য মজুতের সীমা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। আগে ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য মজুত থাকলেই তা নিরাপদ সীমা বলে গণ্য করা হত। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার তা বাড়িয়ে ১৬ লাখ মেট্রিক টনকে নিরাপদ সীমা হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের খাদ্যবান্ধব নীতির কারণে বর্তমানে দেশে খাদ্য নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই। খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। মোট মজুতের মধ্যে চাল ২০ লাখ ৩৬ হাজার ১০২ মেট্রিক টন, গম ২ লাখ ৩২ হাজার ১৮৩ মেট্রিক টন এবং ধান ৩৪ হাজার ৭০ মেট্রিক টন।
ফ্লোটিং মজুতসহ সরকারি খাদ্যশস্যের মজুতের পরিমাণ ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ফ্লোটিং মজুত হিসেবে গম রয়েছে ৬৮ হাজার ৭২৩ মেট্রিক টন।
এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পূর্তির সময়, ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট দেশে চাল ও গম মিলিয়ে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২১ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক টন। সে সময় সরকারি মজুতের মধ্যে চাল ছিল ১৯ লাখ ৫৪ হাজার টন এবং গম ছিল ১ লাখ ৭৭ হাজার টন। সেই তুলনায় বর্তমানে সরকারি খাদ্যশস্যের মোট মজুদ বেড়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টন।
খাদ্যশস্যের মজুতের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একই সময়ের তুলনামূলক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন। অর্থাৎ ২০২৪ সালের তুলনায় বর্তমান সরকারি মজুত বেড়েছে প্রায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার টন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে চলতি বোরো সংগ্রহ কার্যক্রমেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বোরো সংগ্রহে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ধান ও চাল মিলিয়ে মোট ১৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ধান সংগ্রহ হয়েছে ৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৪০ মেট্রিক টন, সিদ্ধ চাল ১২ লাখ ১ হাজার ৫৬৮ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল ১ লাখ ৫ হাজার ৩১৩ মেট্রিক টন। এছাড়া গম সংগ্রহ করা হয়েছে ৫২৩ মেট্রিক টন।
খাদ্যশস্যের ঘাটতি মোকাবিলা এবং মজুত পরিস্থিতি শক্তিশালী রাখতে আমদানি কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মোট ৮ লাখ ২৭ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে ৬৫ হাজার ৮৬০ মেট্রিক টন এবং বেসরকারি পর্যায়ে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার উৎপাদন, সংগ্রহ, আমদানি ও মজুত— সব ক্ষেত্রে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। দেশের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে নিয়মিতভাবে মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বর্তমান মজুতের পরিমাণ দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত নিরাপদ খাদ্য মজুতের মানদণ্ড ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনের চেয়ে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি। ফলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বর্তমানে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও খাদ্য গ্রহণের পরিমাণকে বিবেচনায় নিয়ে নিরাপদ খাদ্য মজুত ১৬ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে সরকারি গুদামগুলোর সামগ্রিক খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা ৩৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। খাদ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যক্রম শুরু করেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জানিয়েছে, দেশের বাজারে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত, মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংগ্রহ শাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, চলতি মৌসুমে দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযান সফল ও সন্তোষজনকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে তিনি ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও বলেন, সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে বর্তমানে চাল ও গমের পর্যাপ্ত ও নিরাপদ মজুত রয়েছে। এ মজুত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, জাতীয় চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্যশস্যের মজুত ও সংরক্ষণ সক্ষমতা সমন্বয়ের লক্ষ্যে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। ফলে আমন চাষে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে সরকার আশাবাদী। ফলে, বোরো মৌসুমের মত আমন সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার চাইতে বেশি অর্জিত হবে বলে সরকার আশা করছে।
মাহবুবুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গমের মূল্য পর্যায়ক্রমিকভাবে বাড়ছে, ফলে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। তবে গমের বিপরীতে বিকল্প হিসেবে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সরকার চাল দেওয়ার মত বিকল্প পরিকল্পনা ভেবে রেখেছে। ফলে সরকারের এখন যে অবস্থা, তাতে কোনোভাবেই সংকট বা সমস্যার সম্ভাবনা নেই।
খাদ্য নিয়ে সরকারের কোনও দুশ্চিন্তা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
খাদ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন বলেন, দেশের বর্তমান খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক।
তিনি বলেন, সরকারি খাদ্যগুদামে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্যের মজুত নিশ্চিত করার পাশাপাশি সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ সারা দেশে স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান ও চালের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন।
জামাল হোসেন বলেন, ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মতো সরকারি খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম সচল রাখতে খাদ্যগুদাম থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।
তিনি বলেন, আগে আমাদের খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় ২৪ লাখ মেট্রিক টন ছিল। বর্তমানে তা বেড়ে ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে সরকারি খাদ্যশস্যের সংরক্ষণ সক্ষমতা ৩৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর অন্যতম।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে দেশে নিরাপদ খাদ্য মজুতের মানদণ্ড ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন হিসেবে বিবেচিত হলেও জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকার নিরাপদ খাদ্য মজুতের লক্ষ্যমাত্রা ১৬ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে গিয়ে ব্যবহারকারীরা মুহূর্তের মধ্যে বিপদে পড়তে পারেন। অচেনা ওয়েবসাইট থেকে আসল অ্যাপের মতো দেখতে ভুয়া টিকটক বা গুগল ক্রোম ইনস্টল করার ফলে ফোনে প্রবেশ করতে পারে ‘রকারোলা’ নামক ম্যালওয়্যার। এর ফলে নকল ব্যাংক লগইন পেজের মাধ্যমে তথ্য চুরি, ফোনের গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া এবং এমনকি ব্যাংক হিসাব ফাঁকা করে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে সাইবার অপরাধীদের জন্য।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ব্লিপিং কম্পিউটারের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফোনে ইনস্টল হওয়ার পর ‘রকারোলা’ ম্যালওয়্যার ২০০টিরও বেশি ব্যাংকিং ও আর্থিক অ্যাপকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে। এটি শুধু ব্যাংক হিসাবের তথ্যই নয়, বরং ব্যবহারকারীদের ক্রিপ্টোকারেন্সিও চুরি করতে সক্ষম।
যেভাবে ফোনে ঢোকে
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জিম্পেরিয়ামের তথ্যমতে, হ্যাকাররা ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের গুগল ক্রোম বা টিকটক ডাউনলোডের জন্য প্রলুব্ধ করে। এসব ভুয়া অ্যাপ ডাউনলোড করতে গেলে ব্যবহারকারীদের সামনে গুগল প্লে প্রোটেক্টের মতো দেখতে একটি সতর্কবার্তা প্রদর্শিত হয়।
অনেক ব্যবহারকারী এটিকে গুগলের আসল নিরাপত্তা সতর্কবার্তা মনে করেন। ফলে তারা কোনো সন্দেহ ছাড়াই পরবর্তী ডাউনলোডের অনুমতি দেন। এর ফলে ফোনে প্রবেশ করে ‘রকারোলা’ ম্যালওয়্যার।
যেভাবে তথ্য চুরি করে
ফোনে প্রবেশ করার পর, ম্যালওয়্যারটি ২১৭টি ব্যাংকিং ও আর্থিক অ্যাপের নকল লগইন পেজ তৈরি করতে পারে। ব্যবহারকারী মনে করেন, তিনি নিজের ব্যাংক অ্যাপেই প্রবেশ করছেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি নিজের ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড হ্যাকারদের হাতে তুলে দেন।
এছাড়া, ফোনের লকস্ক্রিনের তথ্য চুরি ও কনট্যাক্ট তালিকা হাতিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে ম্যালওয়্যারটির। কী-লগারের মাধ্যমে ফোনে টাইপ করা তথ্যও রেকর্ড করতে সক্ষম এটি।
শুধু তাই নয়, ব্যাংক থেকে আসা প্রতারণাসংক্রান্ত সতর্কবার্তা আটকে দিতে পারে। সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কে সতর্ক করতে আসা ফোনকলও বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ফলে ব্যবহারকারী বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ সরিয়ে নিতে পারে সাইবার অপরাধীরা।
যেভাবে নিরাপদ থাকবেন
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অ্যান্ড্রয়েড ফোনে নতুন অ্যাপ ইনস্টলের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো অনুমোদিত অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করা। গুগল প্লে স্টোর বা স্যামসাং গ্যালাক্সি স্টোর ছাড়া অন্য কোনো ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড না করাই নিরাপদ।
সাইবার অপরাধীরা প্রতিনিয়ত নতুন কৌশলে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে। তাই অ্যাপ ডাউনলোডের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক হিসাব ও ডিজিটাল সম্পদকে বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
সূত্র: এমএসএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আসনটি ঘিরে ভোটের হাওয়া বইছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এই আসনে আগামী ২৯ অক্টোবর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
মির্জা ফখরুলের অনুপস্থিতিতে জামায়াতের নির্বাচনি রাজনীতি চাঙা হয়ে উঠেছে। বিএনপির প্রার্থিতা এখনও চূড়ান্ত না হলেও আসনটি ধরে রাখতে দলের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাই ও মেয়েকে কেন্দ্র করে বিএনপির মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীকেন্দ্রিক হিসাবনিকাশ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. দেলাওয়ার হোসেন কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। তিনি দলীয় সমর্থন জোরালো করার পাশাপাশি তৃণমূলের গণসংযোগ ও ভোটব্যাংক পোক্ত করতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন।
অন্যদিকে, ধানের শীষের শক্ত প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সভাপতি এবং রাষ্ট্রপতির ছোটভাই মির্জা ফয়সাল আমিনের নাম রাজপথে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। রাজনৈতিক ঐতিহ্য, পারিবারিক অবস্থান এবং তৃণমূলের বড় অংশের সমর্থনের কারণে তাকেই বিএনপির সম্ভাব্য সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জামায়াত প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের সাথে নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্যাপকসংখ্যক ভোট পেয়ে নজর কেড়েছিলেন। মির্জা ফখরুল ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর দেলাওয়ার হোসেন পান ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট। ৬ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনায় মির্জা পরিবারের রাজনীতির নতুন ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রকাশ্যে আশা প্রকাশ করেন যে, এখন থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতির হাল ধরবেন মির্জা ফয়সাল আমিন। তবে রাষ্ট্রপতির জ্যেষ্ঠ কন্যা ড. শামারুহ মির্জাকে ঘিরে গুঞ্জন রয়েছে। রাজনীতিতে আসা কিংবা পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে প্রার্থী হওয়ার প্রসঙ্গে ড. শামারুহ মির্জা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয় নাগরিকদের মতে, ঠাকুরগাঁওয়ের মেগা উন্নয়নগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে, সেই অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মির্জা ফয়সাল আমিনের বিকল্প নেই।
ঠাকুরগাঁও লাউ থুতি উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রশিদ মন্তব্য করেন যে, উপনির্বাচনে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ দিতে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরসহ কয়েকটি শক্তি ঐক্যবদ্ধ প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ভোটারদের বড় অংশের দাবি, ঐক্যবদ্ধ এই প্রচেষ্টা ভোটে বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ভোট রয়েছে, যা নির্বাচনি ফলাফলে বড় ধরনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। সচেতন মহলের মতে, চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এসব সম্প্রদায়ের ভোটাররা অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রার্থীর দিকে ঝুঁকবেন।
উত্তর হরিহরপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রসুল মনে করেন যে, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে উগ্রবাদের কোনো স্থান নেই। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘এলাকার চলমান উন্নয়ন ত্বরান্বিত রাখতে সাধারণ মানুষ সঠিক সিদ্ধান্তই বেছে নেবেন। কেন্দ্র থেকে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে শিগগিরই।’
সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন বলেন, ‘অঘোষিতভাবে আমি এই নির্বাচনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী। তবে অফিসিয়াল প্রসেস এখনো শুরু হয়নি। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’
অন্যদিকে, নানা মন্তব্য ও সমীকরণকে উপেক্ষা করে জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘জনগণ আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিলে এলাকায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে আমি আপসহীন থাকব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের কিছু এলাকায় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে, যা জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও বিদ্যুৎ লাইন উন্নয়নকাজের কারণে ঘটছে।
এই তথ্যটি গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর কাশিমপুর জোনাল অফিস শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্রাহকদের উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ১১ কেভি ফিডারের আকার ছোট করার পাশাপাশি অতিরিক্ত লোড কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ১০ ঘণ্টা জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও লাইন উন্নয়নকাজ চলবে, যার ফলে নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার এলাকাগুলোর মধ্যে কাশিমপুরের আংশিক অংশ, বিএডিসি গেটসংলগ্ন এলাকা, রফিকুল স্কুলের আশপাশ, কাশিমপুর স্ট্যান্ডের পশ্চিমাংশ, রিফুজি পাড়া, হাজিপাড়া, জিতার মোড়সংলগ্ন এলাকা, আলিমের আশপাশ, কবরস্থানসংলগ্ন এলাকা, জামাল টাওয়ারের আশপাশ, মল্লিকা বাজার এলাকা, নয়াপাড়া, হাকের নল, লালদিঘি, খানকা শরিফসংলগ্ন এলাকা এবং রওশন মার্কেট এলাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, যদি নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ হয়, তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করা হবে। কাশিমপুর জোনাল অফিস সাময়িক এই অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ নদীভাঙনে টগরবন্দ ইউনিয়নের চাপুলিয়া গ্রামের আশ্রয় প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামের অধিকাংশ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একসময় এসব আশ্রয় প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামে প্রায় ৪৩০টি পরিবার বসবাস করলেও বর্তমানে গুচ্ছগ্রামে মাত্র ১০টি এবং আশ্রয় প্রকল্পে একটি ঘর টিকে আছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
নদীভাঙন রোধ, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবিতে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে চাপুলিয়া গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয় প্রকল্পসংলগ্ন নদীর পাড়ে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। চাপুলিয়া ও শিকিপাড়া গ্রামের তরুণদের উদ্যোগে এলাকাবাসী এ কর্মসূচির আয়োজন করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লোকজন বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে নদীভাঙন ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। এ সময় তারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত আশ্রয় প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৪৩০টি পরিবার বসবাস করত। কিন্তু মধুমতি নদীর ভাঙনে একে একে ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে অবশিষ্ট ১১টি ঘরও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
শিকিপাড়া ও চাপুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, আলফাডাঙ্গা থানা শাখার সভাপতি মাওলানা শরীফুল ইসলাম, আকিব আহমেদ, মাহমুদ হোসেন, নিয়ামুল মোল্যা ও তাইফুর রহমানসহ একাধিক যুবক বলেন, ৪৩০টি পরিবার যেখানে দীর্ঘদিন বসবাস করেছে, সেখানে এখন হাতে গোনা কয়েকটি ঘর অবশিষ্ট রয়েছে। নদীভাঙনে মানুষ ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগী আরিফুল মোল্লা (৪৫), বিলু মোল্যা (৩৮), আজগার হোসেন (৪৫) ও লিয়াকত আলী (৭০) সহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, ২৫-৩০ বছর ধরে তারা এই এলাকায় বসবাস করছেন। এখানেই তাদের জীবন কেটেছে, সন্তানদের বড় করেছেন। কিন্তু নদীভাঙনে একে একে ঘরবাড়ি, বসতভিটা, জমিজমা ও শেষ সম্বলটুকুও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন তাদের মাথা গোঁজার মতো কোনো জায়গা নেই। খোলা আকাশের নিচে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। জীবিত মানুষ হয়েও এখন কবরস্থানের পাশে আশ্রয় নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কতিপয় অসাধু বালু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। তাদের দাবি, বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে ভাঙন বাড়ছে।
টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান বলেন, নদীভাঙনে চাপুলিয়ার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। আশ্রয় প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামের অধিকাংশ ঘর বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন প্রয়োজন। অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফরিদপুরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মজিবর রহমান বলেন, চাপুলিয়া এলাকায় নদীভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদীতীর রক্ষায় সম্ভাব্য কারিগরি ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ