ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৬ শব্দের পোস্ট থেকে ভারতের জনপ্রিয় মুখ, কে এই অভিজিৎ দীপকে


৬ শব্দের পোস্ট থেকে ভারতের জনপ্রিয় মুখ, কে এই অভিজিৎ দীপকে

সমাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছয় শব্দের একটি পোস্টের মাধ্যমে অভিজিৎ দীপকের জীবন পরিবর্তিত হয়। মে মাসে হতাশা থেকে তৈরি করা ওই ব্যঙ্গাত্মক পোস্টটি দ্রুত একটি বৃহৎ রাজনৈতিক-সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়। এই আন্দোলনটির নাম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি।

২০২৬ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের অন্যতম বৃহৎ রাজপথের আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছেন ৩০ বছর বয়সী দীপ। বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম এবং সরকারের জবাবদিহির দাবিতে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন ইতোমধ্যে দিল্লির রাজপথ ছাড়িয়ে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

একটি মন্তব্য, একটি পোস্ট

আরও পড়ুন: আর্কটিকে উপস্থিতি বাড়াতে নতুন কৌশল ঘোষণা করছে ইইউ

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে মে মাসে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক বক্তব্যে বেকার তরুণদের এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় কিছু মানুষকে ‘তেলাপোকা’ হিসেবে তুলনা করেন। পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই ১৬ মে দীপ এক্সে লেখেন- ‘সব তেলাপোকা যদি একসঙ্গে হয়?’

এই ব্যঙ্গাত্মক পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। দিল্লির ইউটিউবার মেঘনাদসহ কয়েকজন সেটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইট। অনলাইনে সদস্য সংগ্রহ শুরু হয়।

কয়েক দিনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি হয়। আন্দোলনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও গণমাধ্যমের মালিকানার মতো বিষয়গুলো সামনে আসে।

দীপকের ভাষায়, এটি কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক দল নয়; বরং মূলধারার রাজনীতিতে জায়গা না পাওয়া তরুণদের জন্য একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম।

আরও পড়ুন: বেইজিংয়ে ‘বাংলাদেশ ডে’: চীনা ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর আহ্বান

কে এই অভিজিৎ দীপকে?

অভিজিৎ দীপকের জন্ম ১৯৯৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদে। তিনি দলিত সম্প্রদায়ের একটি নিও-বৌদ্ধ পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তার বাবা ভগবানরাও দীপকে মহারাষ্ট্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী। মা অনিতা দীপকে গৃহিণী।

ছাত্রজীবনের শুরুতে প্রকৌশল পড়লেও দীপ সে পথে বেশিদিন চলেননি। পরে তিনি সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ নিয়ে পড়াশোনা করেন পুনেতে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বোস্টন ইউনিভার্সিটির কলেজ অব কমিউনিকেশন থেকে জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

তার রাজনৈতিক যোগাযোগের ভাষা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়। বিশেষ করে মিম, ব্যঙ্গ, রসিকতা ও সহজ ভাষায় রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কৌশল তাকে তরুণদের কাছে পরিচিত করে তোলে।

আরও পড়ুন: ভারত-চীন সম্পর্কের মোড় ঘোরেনি মোদি-শি বৈঠকেও

আম আদমি পার্টির সঙ্গে পথচলা

২০২০ সালে দীপ আম আদমি পার্টির (এএপি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দলের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে তিনি মিমনির্ভর ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

পরে তিনি দিল্লি সরকারের শিক্ষা বিভাগের যোগাযোগ উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেন। ২০২৩ সালে এএপির মিডিয়া টিম থেকে সরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য চলে যান। যদিও বর্তমানে তিনি কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তার নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টিও নিজেদের স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরে।

বোস্টন থেকে দিল্লির রাজপথে

আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৩১ শতাংশে নেমেছে

অনলাইনে আন্দোলনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। হুমকির কথা জানালেও দীপ যুক্তরাষ্ট্রে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি। জুনে বোস্টন থেকে ভারতে ফিরে আসেন।

গত ৬ জুন দিল্লিতে পৌঁছে তিনি বি আর আম্বেদকরের আত্মজীবনী গ্রহণ করেন। দলিত অধিকার ও সামাজিক সমতার প্রবক্তা আম্বেদকর তার রাজনৈতিক চিন্তার অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।

এরপর দিল্লির জন্তর মন্তরে শুরু হয় ককরোচ জনতা পার্টির রাজপথের কর্মসূচি। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নির্ধারণ এবং সরকারের জবাবদিহির দাবি সামনে আসে।

আন্দোলন বড় হতে থাকলে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে প্রতিবাদ শিবির গড়ে ওঠে। দীপ কখনো মঞ্চে বক্তৃতা দিয়েছেন, কখনো গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন, আবার কখনো আন্দোলনকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: বলপ্রয়োগের মাধ্যমে অন্য দেশের দাবি মেনে নেবে না ইরান: মাসুদ পেজেশকিয়ান

রাজপথে সংঘাত

গত ২০ জুলাই হাজারো আন্দোলনকারী সংসদের দিকে মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। বিভিন্ন স্থানে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য উভয় পক্ষেই আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

এরপর দীপ ঘোষণা করেন, আন্দোলনের অবস্থান কর্মসূচি চলবে, তবে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নতুন করে রাজপথের মিছিল স্থগিত রাখা হবে।

এর কয়েক দিনের মধ্যেই আসে বড় রাজনৈতিক সাফল্য। ২৫ জুলাই ধর্মেন্দ্র প্রধান শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। আন্দোলনকারীরা এটিকে নিজেদের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখেন।

আরও পড়ুন: ইরান-রাশিয়া সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে: আব্বাস আরাগচি

শুধু প্রশ্নপত্র ফাঁস নয়

ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন শুরু হয়েছিল শিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে। পরে এর পরিধি বৃদ্ধি পায়। তরুণদের কর্মসংস্থান, রাজনীতিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব, বিচারপতিদের অবসর-পরবর্তী রাজনৈতিক নিয়োগ, গণমাধ্যমের মালিকানা ও সরকারের জবাবদিহির মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় আসে।

দীপ বারবার বলেছেন, তাদের লক্ষ্য কোনো সরকার পরিবর্তন নয়; বরং ভারতের রাজনৈতিক আলোচনায় তরুণদের জন্য জায়গা তৈরি করা। তিনি আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।

হুমকি, সমালোচনা ও বিতর্ক

আন্দোলন জনপ্রিয় হওয়ার পর দীপ ও তার পরিবারের কাছে হুমকির বার্তা আসার অভিযোগ উঠেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব বার্তার স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জুলাইয়ে এক নারী প্রতিবাদ কর্মসূচির মঞ্চে দীপকের দিকে নীল কালি ছুড়ে দেন। ওই নারী অভিযোগ করেন, ককরোচ জনতা পার্টির কর্মকাণ্ডে হিন্দু দেবতা রামের প্রতি অসম্মান করা হয়েছে। দীপকের পক্ষ থেকে আন্দোলনের রাজনৈতিক ও ব্যঙ্গাত্মক চরিত্র তুলে ধরা হয়।

এদিকে আন্দোলনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে হস্তক্ষেপের চেষ্টা এবং ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন দীপ। এসব দাবিরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী বিভাগে স্বাস্থ্য কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৪ পি.এম


রাজশাহী বিভাগে স্বাস্থ্য কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা

রাজশাহী, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজশাহী বিভাগে স্বাস্থ্য কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত একটি কর্মশালা আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মশালায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান, এবং ই-ট্র্যাকার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আলোচনা করা হয়।

শনিবার বেলা ১১টায় নগরীর হোটেল এক্সের কনভেনশন রুমে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, এমপি।

কর্মশালায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসও সেখানে ছিলেন।

রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. হাবিবুর রহমান কর্মশালাটির সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের উপ পরিচালক ডা. মো. রফিকুল হাসান, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) সৈয়দ মোস্তাক হাসান, জেলা তথ্য অফিস, রাজশাহীর পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) রাফেয়ালা নাসরিন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডা. শাহিদা ইয়াসমিন, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. রওশন আখতার এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের কান্ট্রি অফিসের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক ও টিকাদান কার্যক্রমের প্রধান ডা. রিয়াদ মাহমুদও উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ, গাভি এবং বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সহায়তায় আয়োজিত এই কর্মশালায় রাজশাহী বিভাগের টিকাদান ও স্বাস্থ্য কর্মসূচির সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। কর্মশালায় ই-ট্র্যাকার ব্যবস্থাপনা, টিকাদান কার্যক্রমের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানে নিজ বাড়ি থেকে প্রাদেশিক মন্ত্রী আমজাদ আলীকে অপহরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৫ পি.এম


পাকিস্তানে নিজ বাড়ি থেকে প্রাদেশিক মন্ত্রী আমজাদ আলীকে অপহরণ

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় প্রাদেশিক আবাসন মন্ত্রী আমজাদ আলীকে তার নিজ বাড়ি থেকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমপিএ) ফজল হাকিম খান ইউসুফজাইয়ের ম্যানেজারকেও অপহরণ করা হয়েছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) খাইবার পাখতুনখাওয়ার সোয়াত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, মুখোশধারী অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা শামোজাইতে মন্ত্রীর নিজ বাড়ি থেকে তাকে অপহরণ করে। অপহরণের সময় এই পিটিআই নেতার বৈঠকখানা ভাঙচুর করা হয়। তারা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অন্যদিকে, মিনগোরা এলাকায় পিটিআই নেতা ফজল হাকিমের ম্যানেজার ইহসান আলম সানিকে অপহরণ করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন এবং অপহৃতদের দ্রুত উদ্ধারে পুলিশের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছেন।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই ঘটনার বিষয়ে অবগত নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়, ‘তেলাপোকা’ ঠেকাতে মরিয়া বিজেপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৬ পি.এম


দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়, ‘তেলাপোকা’ ঠেকাতে মরিয়া বিজেপি

ভারতের নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ, নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করেছে পুলিশ।

বিমান থেকে নামার আগেই তাদের আটক করার ঘটনায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্দোলনকে প্রতিহত করতে রাজধানীতে হাজার হাজার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত, মেট্রো চলাচল এবং ইন্টারনেট পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর আগে শত শত বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।

ককরোচ জনতা পার্টি শনিবার নয়াদিল্লিতে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া প্রত্যাহার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগসংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের দাবিতে এই আন্দোলনের আয়োজন করা হয়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণদের এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর অভিজিৎ, সৌরভ ও আশুতোষকে বিমানের ভেতর থেকেই আটক করা হয়। অভিজিৎকে বলতে শোনা যায়, "তারা গ্রেপ্তার হওয়ার ভয় পান না।"

আন্দোলনের নেতাদের আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে নেতৃত্বের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের অনুমান, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বড় জমায়েত হতে পারে। সেই আশঙ্কায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মিলিয়ে ৩৫ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের খবর পাওয়া গেছে। কিছু প্রতিবেদনে এই সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা যেসব পথ দিয়ে যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে পারেন, সেগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন পরীক্ষা এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ বিভিন্ন হোটেল, অতিথিশালা, ছাত্রাবাস ও অন্য আবাসনে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে অন্য রাজ্য থেকে আসা তরুণ-তরুণীদের দলবদ্ধ উপস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে।

শুক্রবার রাত থেকেই যন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকায় মাইকিং করে জমায়েতের ওপর বিধিনিষেধের কথা জানানো হয়। বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। জনপথ ও কর্তব্যপথের সংযোগস্থলকে কেন্দ্র করে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকার কথা।

অন্যদিকে, দিল্লি মেট্রোর একাধিক স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সব পথ বন্ধ করে দেওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান জানানোর পর মেট্রো কর্তৃপক্ষ তাদের আগের নির্দেশে পরিবর্তন আনে। পাশাপাশি নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছানোর কথা থাকা একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এদিকে, আন্দোলনের নেতাদের আটকের পাশাপাশি অন্য কয়েকজন কর্মী ও আন্দোলন-সমর্থককেও আটক করার খবর পাওয়া গেছে।

তবে নেতাদের আটকের পরও কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে কি না, কিংবা শেষ পর্যন্ত কতজন যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে পেরেছেন, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা আগেই জানিয়েছিলেন, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হবে এবং গ্রেপ্তার হলেও আন্দোলন বন্ধ করা উচিত নয়। ফলে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও একের পর এক আটকের মধ্যেও শনিবারের আন্দোলন কতটা বিস্তার লাভ করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা, সিএনজিচালক সুমনের স্বীকারোক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৮ পি.এম


কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা, সিএনজিচালক সুমনের স্বীকারোক্তি

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের হত্যার রহস্য উদঘাটনের কাজ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়ার (৩৫) বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, ধর্ষণে বাধা দেওয়ার কারণে তাজমিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া এসব তথ্য তুলে ধরেন। পুলিশ জানায়, গত বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় যাওয়ার জন্য সুমনের অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। কিন্তু পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে শহরের দিকে না গিয়ে চালক অন্য পথে রওনা হন। পরে বিভিন্ন সড়ক ঘুরিয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে সে বাধা দেয়। এ সময় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি সড়কের পাশে ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। নিজেকে রক্ষার জন্য দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সুমনের কবলে পড়ে তাজমিন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন স্বীকার করেছেন যে, তাজমিনকে ধর্ষণের পর নিজের গামছা গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি। এরপর পাশের একটি পুকুরে গোসল করে তাজমিনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে যান। পরে মুঠোফোনটি স্থানীয় একটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে অটোরিকশাটি ফেলে চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যান তিনি।

ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি ও লালমাই থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাগমারা এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে আইফোনটি এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন পুরো ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন কি না, তা আদালতে উপস্থাপনের পর জানা যাবে। সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার, উপপরিদর্শক অর্ণবসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেতের আইলের পাশ থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ নেয়। পরে স্বজনরা মরদেহটি তাজমিনের বলে শনাক্ত করেন।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের আব্দুল আলিম ও কেয়া আক্তার দম্পতির মেয়ে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত তাজমিন। সে নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ ছিল তাজমিনের। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। বুধবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে তাকে শেষবারের মতো দেখা যায়।

পরে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে একটি বার্তা পাঠায় তাজমিন। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় বাবা সময়মতো বার্তাটি দেখতে পাননি। পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্তে নেমে ডিবি ও থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে সুমনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%