ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কি সত্যিই আর ১৪ দিন চলার মতো তেল আছে ?


যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কি সত্যিই আর ১৪ দিন চলার মতো তেল আছে ?

 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আর মাত্র ১৪ দিনের তেল গচ্ছিত রয়েছে। এই দাবির ফলে বিশ্বজুড়ে একটি বিতর্ক শুরু হয়েছে।

দাবির সমর্থনে একটি সরল গাণিতিক হিসাব উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, দেশটির স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভে (এসপিআর) ২৮৬.৬ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে এবং তারা দৈনিক প্রায় ২০.৭ মিলিয়ন ব্যারেল ব্যবহার করে। এই দুই সংখ্যাকে ভাগ করলে ফলাফল আসে ‘১৪ দিন’!

আরও পড়ুন: গুলশান-বনানীতে উওরা ডিএনসির অভিযান: নেপথ্যে মাসোহারা আদায় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

যদিও এই দাবিটি সোজাসাপ্টা মনে হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে এই গাণিতিক হিসাব মারাত্মক ভুল এবং বিভ্রান্তিকর। তবে এই ভাইরাল দাবির আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের একটি সত্যিকার উদ্বেগের চিত্র চাপা পড়ে গেছে।

এই ভুল হিসাবটি মূলত দুটি ভিন্ন বিষয়কে গুলিয়ে ফেলেছে।

প্রথমত, এসপিআর কেবল সরকারের আপৎকালীন জরুরি মজুদ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন যে ২০.৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ব্যবহার করে, তা পরিশোধিত জ্বালানি, যার মধ্যে পেট্রল, ডিজেল এবং জেট ফুয়েল অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয়ত, এই দাবির বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত উৎপাদনকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করা হয়েছে। বিষয়টি এমনভাবে দাঁড়ায়, যেন একটি পরিবার প্রতিদিন বাজারে কতটুকু কেনাকাটা করছে বা রান্না করছে তা না গুনে, কেবল ঘরে মজুদ থাকা খাবার দেখে বলে দেওয়া হলো—‘তাদের খাবার শেষ হতে আর ১৪ দিন বাকি!’

আরও পড়ুন: ডার্ক ওয়েবে ১৮ লাখ বাংলাদেশির ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস

বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্র কেবল জরুরি মজুদের ওপর নির্ভর করে চলে না।

মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশটি দৈনিক গড়ে ১৩.৯ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিজেই উৎপাদন করে। এছাড়া বাণিজ্যিক মজুদে প্রায় ৪২৪.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল গচ্ছিত রয়েছে। প্রতিদিন তাদের রিফাইনারিগুলোতে প্রায় ১৭.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল শোধন করা হয় এবং এর বাইরে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি ও রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে। অর্থাৎ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই তেলশূন্য হয়ে পড়ছে না।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের তেল হঠাৎ ফুরিয়ে না গেলেও আসল উদ্বেগ হলো, মার্কিন আপৎকালীন জ্বালানি সুরক্ষার ‘বীমা’ এখন স্মরণকালের সবচেয়ে কম।

১৯৭৩-৭৪ সালের আরব তেল অবরোধের ধাক্কা পর ১৯৭৫ সালে মার্কিন কংগ্রেস এসপিআর গঠন করে। মেক্সিকো উপসাগরের বিশাল ভূগর্ভস্থ টানেলে রাখা এই রিজার্ভের ধারণক্ষমতা প্রায় ৭১৪ মিলিয়ন ব্যারেল। ২০২০ সালে যেখানে দেশটির জরুরি মজুদ ছিল ৬৩৮ মিলিয়ন ব্যারেল, ২০২৬ সালের আগস্ট শেষে তা ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসে মাত্র ২৮৬.৬ মিলিয়ন ব্যারেলে ঠেকেছে।

আরও পড়ুন: ডেপুটি স্পিকার তরুণদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে মূলত এই জরুরি তহবিল খালি হয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে বাইডেন প্রশাসন এসপিআর থেকে রেকর্ড ১৮০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ে। এতে জ্বালানির দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও জরুরি মজুদ বড় ধাক্কা খায়।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংকট এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরুদ্ধ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ট্রাম্প প্রশাসন এসপিআর থেকে আরও ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দেয়। ফলে গত এপ্রিলে ৪১৩.৩ মিলিয়ন ব্যারেলে থাকা মজুদ মাত্র চার মাসের ব্যবধানে ১২৭ মিলিয়ন ব্যারেল কমে ২৮৬.৬ মিলিয়নে নেমে আসে।

আজ যদি নতুন কোনো আন্তর্জাতিক যুদ্ধ, সমুদ্র অবরোধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তবে ওয়াশিংটনের হাতে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার মতো পর্যাপ্ত ‘রসদ’ বা ‘অস্ত্র’ অবশিষ্ট নেই।

জরুরি রিজার্ভ থেকে প্রতিদিন এভাবে তেল ছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে সম্ভব নয়। আবার সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু-হু করে লাফিয়ে বাড়তে পারে। এ ছাড়া বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী গৃহীত এই তেল ভবিষ্যতে চড়া দামে কিনে আবার সরকারি গুদামে ভরতে হবে, যা মার্কিন অর্থনীতির জন্য নতুন চাপ তৈরি করবে।

আরও পড়ুন: অর্থমন্ত্রী: চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেরানীগঞ্জে নাগরিকদের গোপন তথ্য ক্রয়-বিক্রয় চক্রের সদস্য গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ সাকিব আহমেদ, ঢাকা প্রতিনিধি

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১১ পি.এম


কেরানীগঞ্জে নাগরিকদের গোপন তথ্য ক্রয়-বিক্রয় চক্রের সদস্য গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০

ঢাকার কেরানীগঞ্জে র‌্যাব-১০ এর অভিযানে নাগরিকদের গোপনীয় ও রাষ্ট্রীয় সংবেদনশীল তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ, ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহের অভিযোগে মোঃ মেহেদী হাসান (২১) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

র‌্যাব-১০ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত মেহেদী হাসান অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহায়তায় বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে মোবাইল সিমের মালিকানা তথ্য, কল লিস্ট, লাস্ট কল লোকেশন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন, টিআইএন, বিকাশ ও নগদসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল।

র‌্যাব আরও জানায়, মেহেদী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অধিক মূল্যে সরবরাহ করত।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে র‌্যাব-১০, সিপিসি-১, যাত্রাবাড়ী ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন পূর্ব চড়াইল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করে। তিনি পটুয়াখালীর কমলাপুর ইউনিয়নের ধরান্দী এলাকার মোঃ সোহরাব হোসেনের ছেলে।

এ সময় তার হেফাজত থেকে অপরাধে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে মোবাইল ফোনটি যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডি, হোয়াটসঅ্যাপ ও নগদ অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে।

র‌্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামি ও তার সহযোগীরা পরস্পর যোগসাজশে ডিজিটাল ডিভাইস ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বেআইনিভাবে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, স্থানান্তর ও সরবরাহের মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।

গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে উদ্ধারকৃত আলামতসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব-১০ জানিয়েছে, নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে৷

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লোহিত সাগরে উত্তেজনা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও জ্বালানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১৪ পি.এম


লোহিত সাগরে উত্তেজনা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও জ্বালানি

 

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে সংঘাতের কারণে বিকল্প হিসেবে এই নৌপথের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেলেও, বাব আল-মান্দেবও যদি ঝুঁকিতে পড়ে, তাহলে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

টিবিএস-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লোহিত সাগরে সংঘাত বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপগামী জাহাজগুলোকে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যেতে হবে। এতে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হবে। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, এতে পণ্য পৌঁছাতে সময় ১৫ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে, বীমা এবং জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির কারণে জাহাজ ভাড়া ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে হামলা চালায় হুতিরা। সেই সময় থেকে অনেক আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি লোহিত সাগর এড়িয়ে কেপ অব গুড হোপ ঘুরে চলাচল করছে। চলতি বছরে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে সৌদি স্বার্থকে লক্ষ্য করে হুতিরা আবারও হামলা শুরু করেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে অগ্রসর হয়ে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ আরো বৃদ্ধি করেছে।

এদিকে, ইরাক থেকে চালানো ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরব ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।

লোহিত সাগর এবং সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের একটি বড় অংশ পরিচালিত হয়। ফলে, এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানিতে সরাসরি প্রভাব পড়বে।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে দক্ষিণ কোরিয়াগামী জাহাজ যদি বিকল্প পথে চলে, তাহলে যাত্রার সময় ২৪ দিন থেকে বেড়ে প্রায় ৫৪ দিন হতে পারে।

এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক এবং তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক ফজলুল হক বলেন, "লোহিত সাগর বাংলাদেশের ইউরোপমুখী বাণিজ্যের প্রধান সমুদ্রপথ।"

তিনি আরও বলেন, "এ পথে সমস্যা হলে জাহাজকে কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যেতে হবে। এতে সময় এবং ফ্রেইট খরচ দুটোই বাড়বে।" মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের ৮০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) সাবেক সভাপতি কবির আহমেদ খান বলেন, "লোহিত সাগর বন্ধ হলে ইউরোপে বাংলাদেশের পণ্য পৌঁছাতে বাড়তি প্রায় ১৫ দিন লাগতে পারে।" তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, জ্বালানি এবং বীমা খরচ বৃদ্ধি পেলে জাহাজ ভাড়া ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

বাফার সাবেক সহসভাপতি খায়রুল আলম সুজন বলেন, "এখন পর্যন্ত মেইনলাইন অপারেটরদের কাছ থেকে ভাড়া বৃদ্ধি বা শিডিউল পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।"

ফ্রেইট খরচ বৃদ্ধি পেলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়তে পারে ছোট ও মাঝারি পোশাক রপ্তানিকারকদের ওপর। এফওবি পদ্ধতিতে মূল ফ্রেইট খরচ বিদেশি ক্রেতারা বহন করলেও, ব্যয় বেড়ে গেলে তার একটি অংশ সরবরাহকারীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করতে পারেন তারা।

বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান বাবলু বলেন, "ছোট ও মাঝারি রপ্তানিকারকরা অর্ডার হারানোর আশঙ্কায় বাড়তি লজিস্টিকস খরচের অংশ নিজেরা বহন করতে বাধ্য হতে পারেন।" এলডিপি পদ্ধতিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরো বেশি। বাংলাদেশের ৫ থেকে ১০ শতাংশ চালান এ পদ্ধতিতে যায়।

হরমুজ এবং বাব আল-মান্দেব নৌপথে সংকট তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ আরো সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৪.৬১ ডলারে উঠে গেছে। এক মাস আগে এর দাম ছিল ৮৭.০৭ ডলার। বাংলাদেশের আমদানি করা মুরবান ক্রুডের দামও একই সময়ে ৮২.২৫ ডলার থেকে বেড়ে ১১৯.৪৬ ডলারে পৌঁছেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিম বলেন, "পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি দ্রুত জ্বালানি তেল, বিশেষ করে ডিজেলের মজুদ বাড়াতে হবে।" তিনি সতর্ক করেন যে, "বিশ্বের প্রধান তেল পরিবহনপথগুলো একসঙ্গে বাধাগ্রস্ত হলে জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট তৈরি হতে পারে।"

এদিকে, ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক তেল পরিবহন ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ২ কোটি ১৬ লাখ ব্যারেল থেকে কমে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৪৯ লাখ ব্যারেলে নেমে আসবে। ফলে, হরমুজের পর বাব আল-মান্দেবেও সংকট তৈরি হলে বাংলাদেশের বাণিজ্য এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদকমুক্ত হাসানগঞ্জের দাবিতে সুন্দরগঞ্জে লাঠি মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ পি.এম


মাদকমুক্ত হাসানগঞ্জের দাবিতে সুন্দরগঞ্জে লাঠি মিছিল

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হাসানগঞ্জ এলাকার ছাত্র-জনতা লাঠি হাতে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সড়কে নেমে এসেছে। তারা মাদকমুক্ত হাসানগঞ্জ চাই’ এই দাবিতে একটি মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসানগঞ্জ বাজারে ‘হাসানগঞ্জ মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় ছাত্র-জনতা এবং মাদকবিরোধী আন্দোলনের কর্মী-সমর্থকেরা হাতে লাঠি নিয়ে হাসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি হাসানগঞ্জ বাজার, খুজিয়ারমোড়সহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় তারা ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘মাদক ব্যবসা বন্ধ করো, নয়তো হাসানগঞ্জ ছাড়ো’, ‘ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ করো, নয়তো হাসানগঞ্জ ছাড়ো’, ‘মাদক ব্যবসা চলবে না’ এবং ‘ইয়াবার আস্তানা বন্ধ করো’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ‘হাসানগঞ্জ মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন’-এর সভাপতি আ. রহমান শিপন, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফসহ অন্যান্যরা।

সমাবেশে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও জোরদার করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি শহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ মন্তব্য করেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং এলাকাটিতে নজর রাখা হচ্ছে। যেখানে মাদকের সন্ধান পাওয়া যাবে, সেখানে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিচার বিভাগের জটিলতা নিরসনে সাতক্ষীরায় গতি ফেরানোর আশ্বাস আইনমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২০ পি.এম


বিচার বিভাগের জটিলতা নিরসনে সাতক্ষীরায় গতি ফেরানোর আশ্বাস আইনমন্ত্রীর

সাতক্ষীরায় বিচার বিভাগের জটিলতা কাটিয়ে কার্যক্রমে গতি ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

 

আজ রবিবার সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতে বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় আদালত কেন্দ্রিক যে সংকটগুলো তিনি শুনেছেন, সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করেই সরকার অগ্রসর হবে।

এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণ নিয়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন আইনমন্ত্রী।

সভাটি জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ পর্বে বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে আইনমন্ত্রীর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%