০২:৩৩ এম
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় এক তুচ্ছ ঘটনার কারণে কুমার নদীর দুই পাড়ের ছয় গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে। এই সংঘর্ষের সময় উভয়পক্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি, গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন যুবকের মৃত্যু ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উপর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত যুবকের নাম সুমন (২২), তিনি কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন বাবুর্চির ছেলে। হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় দুই মাস আগে হাসামদিয়া গ্রামের দুই কিশোরের সঙ্গে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের এক সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর মধ্যে হাতাহাতি হয়। ঘটনাটির পর স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়। কিন্তু গতকাল বিকেলে পৌরসভা এলাকায় সেই ঘটনার জেরে পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের দুই কিশোরের সঙ্গে নতুন বিরোধ সৃষ্টি হয়। আজ সন্ধ্যায় পূর্ব হাসামদিয়া এবং কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামবাসীর মধ্যে শুরু হয় তুমুল সংঘর্ষ।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
এই সংঘর্ষের ফলে দুই গ্রামের লোকজনের সঙ্গে যুক্ত হয় প্রতিবেশী আরও চার গ্রাম। উভয় পাড়ের লোকজন একত্রিত হয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, ঢাল, সরকি, টেটা ও ইট পাটকেল নিয়ে পাল্টা ধাওয়া চালাতে শুরু করে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে অন্ধকার ও বৃষ্টির মধ্যে এই সংঘর্ষ চলতে থাকে। এ সময় একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরো পাঁচজন।
ফরিদপুর বরিশাল মহাসড়কের উপর সংঘর্ষ চলাকালে দুই দল অবস্থান গ্রহণ করে। সংঘর্ষের কারণে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত দুই দিকের শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যায়, ফলে দুর্ভোগে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীরা।
সন্ধ্যা থেকেই ভাঙ্গা থানার পুলিশ দুই গ্রুপকে ভাঙ্গার চেষ্টা করে। গুলিবিদ্ধ যুবকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মিজানুর রহমান জানান, যুবকের ঢাকায় মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি কিন্তু এখনো কোনো কাগজপত্র পাইনি।
সংঘর্ষের পর সড়কে পুলিশের মোতায়েন রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন