০২:১১ পি.এম
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবার সরকারি স্কুলের বেহাল দশা তুলে ধরতে এবং সংস্কারের দাবি জানাতে নতুন আন্দোলন শুরু করেছে। আন্দোলন শুরু হওয়ার পর এক কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ বেড়ে যাওয়ার কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এর প্রতিবেদন অনুসারে, ১৩ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার করিসুন্দা গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৬ বছর বয়সী আবদুল হাফিজ পরিদর্শনে যান। এটি ছিল তার পুরোনো স্কুল এবং সরকারি স্কুলের অবস্থা যাচাইয়ের আন্দোলনের অংশ হিসেবে সেখানে তিনি যান।
হাফিজের স্কুল পরিদর্শনের কয়েক ঘণ্টা পরে বিজেপির শুভেন্দু কর্মীরা তার বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান, যেখানে হাফিজ ও তার বাবা মোহাম্মদ মাফিককে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মাফিক মারা যান দুই দিন পর।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি
এদিকে, রাজ্যের শীর্ষ একটি বিজেপি নেতা হামলার সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই দাবি করেছেন এবং ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন।
হাফিজ বাবাকে হারিয়েও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াতে চান না। তিনি বলেন, 'বাবার জন্য ন্যায়বিচার চাইবেন, পাশাপাশি সরকারি স্কুলের উন্নতির দাবিও চালিয়ে যাবেন।' এর আগে, দীর্ঘ আন্দোলনের পর দেশের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে চাপ সৃষ্টি করে আলোচনায় আসে সিজেপি। সংগঠনের নেতারা সমর্থকদের সরকারি স্কুলের অবস্থা যাচাই করার আহ্বান জানান।
তাদের নতুন কর্মসূচিতে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও কার্যকর শৌচাগার, বিদ্যুৎ ও ব্যবহারযোগ্য শ্রেণিকক্ষ, বিদ্যালয়ের সীমানা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং মধ্যাহ্নভোজ ও শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি।
রাজস্থানের আলওয়ার জেলায় সংগঠনের এক নেতা শিক্ষার্থীদের নিয়ে অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ, পরিষ্কার শৌচাগার ও বিশুদ্ধ পানির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি করেন। পরে স্থানীয় কর্মকর্তারা এসব দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানান।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী চার দিনের জাপান সফর শেষে আজ দেশে ফিরছেন
রাজস্থান সরকার প্রসঙ্গে, তারা সরকারি স্কুলে বাইরের লোকজনের প্রবেশ এবং ছবি বা ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে। যদিও শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তার কথা বলা হয়েছে, সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে এটি তাদের স্কুল পরিদর্শন ঠেকানোর জন্য করা হয়েছে।
ভারতের অনেক সরকারি স্কুলে এখনও শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা, শিক্ষার মান বিচার ও মধ্যাহ্নভোজনের মান নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সমস্যা সমাধানের জন্য শুধু আন্দোলন নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি স্কুলের সমস্যা তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে হামলার ঘটনায় আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাধা ও হামলার অভিযোগের মধ্যেও সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, সরকারি স্কুলগুলোর জবাবদিহি ও উন্নতির দাবি থেকে তারা সরে আসবেন না।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সসহ ইউরোপে বিক্ষোভের জন্য মুসলিম তরুণদের দায়ী করা হচ্ছে
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন