১২:১৬ এম
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী থেকে সদ্য পদত্যাগ করা দীপেন দেওয়ান পাহাড়ের মানুষকে শান্ত, ধৈর্য ধারণ, আইনশৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, কোনো ধরনের উসকানি, বিভ্রান্তি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও পাহাড়ের মধ্যে সম্প্রীতি সৌহার্দ্যের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা উচিত।
পদত্যাগের তৃতীয় দিন বুধবার (৩ জুন) রাত ৯টায় দীপেন দেওয়ান তার ব্যবহৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই বার্তা প্রদান করেন। বার্তাটি পৌঁছে দেন তার ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) আল-আমিন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছেও।
বার্তায় তিনি লেখেন, 'সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে আমার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে যে আবেগ, উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে আমি গভীরভাবে অবগত রয়েছি।'
আরও পড়ুন: ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দের প্রতিবাদ: প্রেসিডেন্টসহ সর্বোচ্চ ব্যক্তিদের শিরকি বক্তব্যের নিন্দা
তিনি তার বার্তায় আরও উল্লেখ করেন, 'আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল পাহাড়ি, বাঙালি এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি যে, আপনারা শান্ত থাকুন, ধৈর্য ধারণ করুন এবং আইনশৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন।'
কোনো ধরনের উসকানি, বিভ্রান্তি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে তিনি আবারও আহ্বান জানান।
তিনি আরও লেখেন, 'আমি বিশ্বাস করি, পার্বত্য চট্টগ্রাম আমাদের সবার। এই অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্বও আমাদের সবার। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সকল জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় হোক- এটাই আমার প্রত্যাশা।'
মন্ত্রিত্ব ত্যাগের পরে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দীপেন দেওয়ান একটি বার্তায় লেখেন, 'আমি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করছি যে, আমার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার আদর্শ, দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা আমার রাজনৈতিক জীবনের প্রেরণা। আমি দেশনেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্নেহ, দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছি।'
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি: ট্রাম্পের বিপরীত অবস্থানে জেডি ভ্যান্স
তিনি আরো বলেন, 'সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপিতে যোগদান করে আমি রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছি।'
'আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আমার রাজনৈতিক আদর্শের ঠিকানা। আমি জীবনের অবশিষ্ট সময়ও এই প্রিয় দল, এর আদর্শ এবং দেশের জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে যেতে চাই। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যে কোনো পরিস্থিতিতেই আমি দলের প্রতি আমার আনুগত্য ও অঙ্গীকার অটুট রাখবো। এই দল আমি কখনো ত্যাগ করবো না।'
তিনি তার বার্তায় যোগ করেন, 'আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি; ব্যক্তি নয়, জনগণের কল্যাণই সবচেয়ে বড় বিষয়। তাই আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জনগণের কাছে আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বিভেদ নয়, প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু সংঘাত নয়।'
'পরিশেষে বলতে চাই—মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আমি পূর্ণ আস্থাশীল, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে চাই। আমি আবারও দীপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করছি—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আমার শেষ ঠিকানা।'
আরও পড়ুন: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন