মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:২০ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একটি উল্লেখযোগ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) চীনের বিতর্কিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান ডিপসিকের (DeepSeek) তৈরি প্রযুক্তি এবং পণ্যগুলোকে দেশটির সব বেসামরিক সরকারি সংস্থার আইটি সিস্টেমে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন শেয়ার বাজারে এই চীনা এআই স্টার্টআপটি বড় ধরনের কম্পন সৃষ্টি করেছিল। অত্যন্ত কম খরচে এবং কম ডেটা ব্যবহার করে উন্নত এআই মডেল বাজারে আনার পর, মাত্র দুই ঘণ্টারও কম সময়ে ওয়াল স্ট্রিটের বাজারমূল্য থেকে এক ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারেরও বেশি উধাও হয়ে গিয়েছিল। তখন এনভিডিয়ার মতো প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো নজিরবিহীন দরপতনের মুখে পড়েছিল।
মার্কিন প্রশাসনের নতুন এই আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডিপসিকের প্রযুক্তি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি। এতে ব্যবহারকারীদের সংবেদনশীল ডেটা চীন সরকারের হাতে চলে যাওয়ার এবং সরকারি কার্যক্রমে সাইবার ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে নিউইয়র্ক, টেনেসি সহ একাধিক অঙ্গরাজ্য এবং বাণিজ্য বিভাগ ও নৌবাহিনীসহ বেশ কিছু কেন্দ্রীয় সংস্থা সরকারি ডিভাইসে ডিপসিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলার পলল ভূমির বুক চিরে বয়ে চলা প্রমত্তা যমুনার রূপালী জলধারা যেমন জীবন দেয়, তেমনি ক্ষ্যাপাটে বর্ষায় তার করাল গ্রাস কেড়ে নেয় জনপদ, স্বপ্ন আর শত বছরের ইতিহাস।
ভাঙা-গড়ার এই চিরন্তন খেলায় যমুনা কখনো রুদ্রাণী, কখনো বা শান্ত-স্নিগ্ধ এক অনন্ত ক্যানভাস। প্রমত্তা যমুনা যখন তার রূপালী ঢেউয়ে আদিম উল্লাসে মেতে ওঠে, তখন তার গর্জনে যেমন থাকে ধ্বংসের সুর, তেমনি তার শান্ত রূপের মাঝে লুকিয়ে থাকে এক অনন্ত কাব্য।
এই যমুনার বুকেই মানুষের তৈরি এক অনন্য মহাকাব্য হলো সিরাজগঞ্জের চায়না বাঁধ (ক্রসবার-৩)। যেখানে একদা ছিল ভাঙনের নীল বেদনা, আজ সেখানে জল ও স্থলের এক অপূর্ব মিতালি। এটি কেবল একটি পাথুরে বাঁধ নয়, বরং যমুনার বিশালতার বুকে মানুষের এঁকে দেওয়া এক স্বপ্নডানা।
রুদ্ররূপের অবসান: ভাঙনের কান্না মুছে সৃষ্টির জয়গান
ইতিহাসের পাতা ওল্টালে শোনা যায় যমুনার রুদ্ররূপের গল্প। নব্বইয়ের দশকে যমুনার গ্রাসে সিরাজগঞ্জ শহর যখন অস্তিত্ব সংকটে, তখন শুরু হয় এক অসম লড়াই। নদীকে বেঁধে ফেলার, শহরকে বাঁচানোর লড়াই।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে প্রথম দফায় ব্রিটিশ কারিগরি সহায়তায় এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই কোম্পানির মাধ্যমে মূল শহর রক্ষা বাঁধটি তৈরি করা হলেও যমুনার করাল গ্রাস সম্পূর্ণ থামানো যায়নি।
সেই লড়াইয়ের এক চূড়ান্ত ও আধুনিক অধ্যায় রচিত হয় ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে। প্রায় ৮০ থেকে ৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি’ যখন যমুনার বুক চিরে ১৭৮২ মিটার বা প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ক্রসবার-৩ বাঁধটি নির্মাণ সম্পন্ন করে, তখন কেবল শহরই রক্ষা পায়নি, জন্ম নেয় এক নতুন ইতিহাস। শুরুতে যা ছিল কেবলই নদী শাসনের এক কঠোর প্রযুক্তিগত প্রয়াস, কালের বিবর্তনে তা রূপ নেয় এক পরম সৌন্দর্যের ক্যানভাসে। চীনা প্রকৌশলীদের হাত ধরে যমুনার যৌবনকে ভালোবেসে বেঁধে ফেলার এই কীর্তিই আজ সাধারণ মানুষের মুখে মুখে “চায়না বাঁধ”।
জল-আকাশের জলসাঘর: যেখানে যমুনা সেজেছে ‘মিনি কক্সবাজার’ রূপে
বিকেলের সোনাঝরা আলোয় এই বাঁধের পিচঢালা পথে পা রাখলে মনে হবে যেন আপনি নদীর ওপর দিয়ে হেঁটে চলেছেন কোনো এক দূর দিগন্তে। দুই পাশে থৈ থৈ জলরাশি, আর মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া সোজা পথটি যেন এক মায়াবী সুড়ঙ্গ। দূর থেকে দৃশ্যমান যমুনা সেতুর অবয়ব যেন আকাশের গায়ে এক অলৌকিক আলপনা এঁকে দেয়।
এখানে বাতাস ফিসফিস করে কথা বলে। গোধূলির আলো যখন যমুনার জলে এসে পড়ে, তখন নদীটি আর নদী থাকে না; হয়ে ওঠে গলানো সোনার এক বিশাল সমুদ্র। ঢেউগুলো যখন বাঁধের পাথুরে গায়ে এসে আছড়ে পড়ে, তখন তৈরি হয় এক চিরন্তন জলতরঙ্গ। স্থানীয়রা একে ভালোবেসে ডাকেন ‘মিনি কক্সবাজার’। নদী আর আকাশের এমন নিবিড় আলিঙ্গন বাংলাদেশের খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়।
বাতাসের ডানায় প্রযুক্তির ছন্দ: ডানা মেলা উইন্ডমিল
চায়না বাঁধের বুকে প্রকৃতির সাথে প্রযুক্তির মেলবন্ধন কেবল পাথুরে বাঁধেই শেষ হয়নি। যমুনার সাঁ সাঁ হাওয়াকে কাজে লাগিয়ে বাঁধের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল আকৃতির উইন্ডমিল বা বায়ুকলগুলো।
বাতাসের তালে তালে যখন এই বিশালাকার পাখাগুলো ঘুরতে থাকে, তখন এক অদ্ভুত যান্ত্রিক ছন্দ তৈরি হয়।
এটি দেশের অন্যতম সবুজ বিদ্যুৎ শক্তির চাক্ষুষ উদাহরণ। বিকেলের আলোয় ঘূর্ণায়মান এই পাখাগুলোর নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা বা যমুনার বুকে সবুজ শক্তির এই রূপ দেখা পর্যটকদের জন্য এক অনন্য বাড়তি পাওনা।
ঋতুর ক্যানভাসে যমুনা: কখনো শুভ্র কাশবনের মেলা, কখনো অথৈ জলরাশি
চায়না বাঁধের রূপ একেক ঋতুতে একেক রকম মোহময়ী রূপ ধারণ করে। বর্ষা শেষ হতেই যমুনার বুকে যখন জেগে ওঠে মাইলের পর মাইল বালুচর, তখন চরের বুক জুড়ে ডানা মেলে শুভ্র সাদা কাশফুল। নীল আকাশে সাদা মেঘ আর নিচে যমুনার পাড়ে সাদা কাশবনের এই রাজ্য পুরো এলাকাকে এক রূপকথার দেশে পরিণত করে। আবার বর্ষাকালে যখন যমুনা তার পূর্ণ যৌবন ফিরে পায়, তখন চরের বালি ঢাকা পড়ে যায় অথৈ নীল জলরাশিতে। বাঁধের ওপর দাঁড়ালে তখন মনে হবে আপনি কোনো সাগরের বুকে ভাসছেন, যেখানে চারদিকে শুধু পানি আর পানি!
মাঝির তরী ও জলের নূপুর: যমুনার বুকে নাওভাসা সুখ
বাঁধের শেষ প্রান্তে গেলেই কানে আসবে যমুনার জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর মাঝিদের হাঁকডাক। সারি সারি বাঁধা থাকে ছোট-বড় কাঠের নৌকা আর স্পিডবোট। মন চাইলে খুব অল্প খরচে যমুনার বুকে নৌভ্রমণে ভেসে যাওয়া যায়। মাঝনদীতে যখন নৌকা হেলেদুলে চলে, তখন শহরের সব ক্লান্তি নিমেষেই উবে যায়। জল ছুঁয়ে যাওয়া সেই হাওয়া যেন ছুঁয়ে যায় মানুষের আত্মাকে।
হার্ট ভিউ পয়েন্ট ও যমুনার সেতু দর্শন
চায়না বাঁধে আসা পর্যটকদের জন্য আরেকটি বড় আকর্ষণ হলো এর খুব কাছেই অবস্থিত ‘হার্ট ভিউ পয়েন্ট’।
এই পয়েন্টে দাঁড়িয়ে শান্ত মনে তাকালে দূর দিগন্তে দৃশ্যমান বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন বা গাড়ি চলাচলের দৃশ্য মন কেড়ে নেয়। বিশেষ করে রাতের আঁধারে যখন যমুনা সেতুর ল্যাম্পপোস্টের আলোগুলো জ্বলে ওঠে, তখন তার প্রতিফলন যমুনার বুকে এক মায়াবী আলো-ছায়ার খেলা তৈরি করে, যা কোনো চিত্রশিল্পীর আঁকা ক্যানভাসের চেয়ে কম নয়।
গোধূলি বেলার উৎসব: জল-হাওয়ার সাথে রসনা মিতালি
বিকেল গড়াতেই চায়না বাঁধের শান্ত রূপ রূপ নেয় এক উৎসবমুখর মেলায়। বাঁধের দুপাশে ফুটপাত জুড়ে বসে হরেক রকমের মুখরোচক খাবারের পসরা। ভাপওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে যমুনার হাওয়া খাওয়া, কিংবা ঝালমুড়ি, ফুচকা, চটপটি, ভেলপুরি আর ক্রিসপি ফিশ ফ্রাই-এর স্বাদ নেওয়া এখানকার সান্ধ্যকালীন আড্ডার প্রধান অনুষঙ্গ। একদিকে নদীর কলতান, অন্যদিকে মানুষের গুঞ্জন আর খাবারের সুবাস, সব মিলিয়ে এক প্রাণবন্ত আবহ তৈরি হয়।
শেষ বিকেলের ডাক
চায়না বাঁধ আজ শুধু সিরাজগঞ্জের নয়, পুরো উত্তরবঙ্গের এক টুকরো অহংকার। যমুনার এই শান্ত স্নিগ্ধ রূপ আর মানুষের তৈরি এই স্থাপত্যের মেলবন্ধন দেখতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ছুটে আসেন ক্লান্তি ভুলতে। এটি যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতিকে ভালোবেসে যদি সাজানো যায়, তবে ধ্বংসের বুক থেকেও এমন স্বর্গীয় সুন্দর সৃষ্টি করা সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্য আমেরিকার রাষ্ট্র হন্ডুরাসে চীনা মালিকানাধীন দোকান এবং বেইজিংয়ের অর্থায়নে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ওপর কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপটি দেশটির নতুন প্রেসিডেন্টের তাইওয়ানপন্থী অবস্থান এবং পূর্বের কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি পুনর্বিবেচনার গুঞ্জনের প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হন্ডুরাসের বর্তমান প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির বরফ গলতে শুরু করার ফলে মধ্য আমেরিকার ভূরাজনীতিতে বেইজিং ও তাইপে-র মধ্যে প্রভাব বিস্তারের লড়াই নতুন মোড় নিয়েছে।
২০২৩ সালে, হন্ডুরাস তাইওয়ানের সঙ্গে দশকের পর দশক ধরে চলতে থাকা ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনের কারণে দেশটিতে নতুন করে কূটনৈতিক মেরুকরণের গুঞ্জন দেখা দিয়েছে।
হন্ডুরাসের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারসাম্য আনা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থেই বর্তমান পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা বিশ্বমঞ্চে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে দেশটিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা আশা করছে, এই সফরের মাধ্যমে দুদেশের বাণিজ্য, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং কৌশলগত সম্পর্কের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
পররাষ্ট্রসচিব জানালেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা জাপানের উদ্দেশে রওনা হবেন। সফরের সময় তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও সঙ্গে থাকবেন। আগামী ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে আয়োজিত বিশেষ নৈশভোজে অংশগ্রহণ করবেন তিনি।
আসাদ আলম সিয়াম বলেন, “বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের পর দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পরিধি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং বাংলাদেশে জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাচির শীর্ষ আলোচনায় ঋণের সুদের হার কমানোসহ পারস্পরিক যৌথ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ব্যয় কমানোর বিষয়ে জাপানের কাছে নীতিগত আহ্বান জানাবে ঢাকা। এছাড়া মেগা প্রকল্প, বিশেষ করে মেট্রোরেলের সম্প্রসারণ ও পরিচালনা এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের বড় ধরনের সহযোগিতা চাওয়া হবে।
সফরকালে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, “বর্তমানে প্রায় ৮টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সফরকালে এর মধ্যে অন্তত ৩ থেকে ৪টি স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে। এ ছাড়া বৈঠক শেষে একটি যৌথ ঘোষণাপত্র (জয়েন্ট স্টেটমেন্ট) প্রকাশের বিষয় নিয়েও দুই দেশের প্রতিনিধিরা কাজ করছেন।”
সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবেন কি না–এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রসচিব জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত সূচির সঙ্গে সময়সূচি মিললে তিনি অবশ্যই জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) পর্যালোচনার জন্য জাপানের সংসদে ওঠার কথা রয়েছে। উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই চুক্তিটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও জাপান ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি টোকিওতে ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করে। এটি মূলত একটি ব্যাপকভিত্তিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), যা কোনো উন্নত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সই করা প্রথম দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক চুক্তি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ভয়াবহ হামলার পর এটি ইসরাইলের প্রথম নির্বাচন। ওই হামলার পর ইসরাইলের নিরাপত্তাব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। এর ফলে গাজা, লেবানন ও ইরানে যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে এক অস্থির পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
জনমত জরিপগুলোতে যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরাজয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে ইসরাইলের রাজনৈতিক ব্যবস্থা অত্যন্ত খণ্ডিত হওয়ায় সরকার গঠনের প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় যেকোনো রাজনৈতিক দল ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
ধারাবাহিক জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। ৭ অক্টোবরের হামলা ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়ে নেতানিয়াহুকে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে। হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জনসমর্থন থাকলেও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রতি ইসরাইলিদের আস্থা কমে গেছে।
এছাড়া ধর্ম ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে নেতানিয়াহু সরকারের নীতি অনেক ইসরাইলির কাছে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা এই নেতা রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে টিকে থাকার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে দক্ষ। তার বিরোধীপক্ষ ক্ষমতায় ফেরার জন্য স্পষ্ট পথ এখনও দেখা যাচ্ছে না।
যেভাবে গঠিত হয় ইসরাইলের সরকার
ইসরাইলের নির্বাচন ব্যবস্থা সংসদীয়। ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটের সদস্যদের নির্বাচন সাধারণত প্রতি চার বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। যদিও ইসরাইলের ইতিহাসে বেশিরভাগ পার্লামেন্টই পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি।
২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইসরাইল স্বল্পস্থায়ী সরকার এবং ঘন ঘন নির্বাচনের চক্রে আটকা পড়ে। একই বছর নেতানিয়াহু সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদীয় আসন নিয়ে আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসেন। তার নেতৃত্বে গঠিত হয় ইসরাইলের ইতিহাসে অন্যতম কট্টর ডানপন্থি সরকার।
ইসরাইলে জাতীয় ভোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির মাধ্যমে পার্লামেন্টের আসন বণ্টন করা হয়। কোনো দলকে নেসেটে আসন পেতে জাতীয় ভোটের অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ (অন্তত চারটি আসনের সমান) পেতে হয়।
দেশটির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। একাধিক দলের জোট গঠন করে সরকার পরিচালনার ফলে জোটের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে সরকারের পতন ঘটে।
এ কারণে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন এবং সরকার কতদিন টিকবে, তা নির্ধারণে ছোট ছোট দলগুলো বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। সরকার টিকিয়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রীকে প্রায়ই বিভিন্ন ছোট দলের দাবির সঙ্গে একমত হতে হয়।
নেতানিয়াহুর জোটে ধর্মীয় দলগুলোর প্রভাব
রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থি ইহুদি দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল। এসব দলের অন্যতম দাবি ছিল, তাদের সম্প্রদায়ের সদস্যদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অব্যাহতি দেয়া। বিশেষ করে যুদ্ধের সময় এ বিষয়টি ইসরাইলে আরও আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
নেতানিয়াহুর জোটে রয়েছে তার নিজস্ব ডানপন্থি লিকুদ পার্টি, অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের রিলিজিয়াস জায়নিজম পার্টি এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের কট্টর ডানপন্থি জিউইশ পাওয়ার পার্টি।
এছাড়া চরমপন্থি ইহুদিদের দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও শাস ২০২৪ সালে সরকার থেকে বেরিয়ে গেলেও পরোক্ষভাবে সরকারকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করেছে।
নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী কারা?
বর্তমান যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তাদের মধ্যে সাবেক সেনা কর্মকর্তা গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়াইর লাপিদের জোট ‘টুগেদার’ এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল আওয়ার হোম উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া দেশটির প্রায় ২০ শতাংশ আরব সংখ্যালঘুর প্রতিনিধিত্বকারী চারটি দল—হাদাশ, তাল, রাম ও বালাদ এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা ইয়াইর গোলানের নেতৃত্বাধীন বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস পার্টি নেতানিয়াহুর বিরোধী শিবিরে রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ