০৩:১১ পি.এম
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনাকে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে অনলাইন পিটিশন শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১-০ গোলের ব্যবধানে স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নত্ব অর্জন করে। ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনা কিছু শৃঙ্খলাজনিত সমস্যার সম্মুখীন হয় এবং নির্ধারিত সময়ে প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে একটিও শট নিতে ব্যর্থ হয়।
ম্যাচের পর, 'আর্জেন্টিনা আউট' প্রচারণায় প্রায় ১৭০টি দেশের সমর্থকদের কাছ থেকে ২ কোটি ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ১০৮টি যাচাইকৃত স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। এই প্রচারণায় দাবি করা হয়েছে আর্জেন্টিনাকে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হোক। এতে যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, তাদের আচরণ 'সুন্দর খেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।'
আরও পড়ুন: নীলফামারীতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বস্ত্র বিতরণ
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ইনস্টাগ্রামে একাধিক পোস্টের মাধ্যমে এর জবাব দেন। তিনি জাতীয় দলের পক্ষে দাঁড়িয়ে চলমান সমালোচনার তীব্র নিন্দা জানান এবং লিখেন, "আপনার কি শত্রু আছে? তার মানে আপনি একসময় কোনো কিছুর পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। আমরা আর্জেন্টিনার পক্ষে দাঁড়াই।"
আরেকটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, "আর্জেন্টিনার সমস্যা হলো আমরা সবার চেয়ে আলাদা। আমাদের উপেক্ষা করা যায় না, মানুষ আমাদের দেখে ঈর্ষা করে এবং আমরা প্রায় সব কিছুতেই দক্ষ।"
এর আগে আর্জেন্টিনার ফুটবলার লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্বীকার করেন, শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া স্পেনই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের যোগ্য ছিল। তিনি বলেন, ফাইনাল হারের বেদনা তাদের মনে দীর্ঘকাল থাকবে। গোল ডট কম-এর তথ্য অনুযায়ী, পারেদেস বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতেও ছিলেন। ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর তিনি স্পেনের তারকা খেলোয়াড় এরিক গার্সিয়া ও গাভির সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
গোল ডট কম-এর বরাতে ইএসপিএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পারেদেস বলেন, স্পেন তাদের দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের যোগ্য ছিল এবং পরাজয় নিয়ে প্রচলিত কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্বের দিকে আর্জেন্টিনা দল কান দেয় না। ইন্টারনেটে প্রচলিত সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি তত্ত্বের একটি হলো, ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালটি স্পেনের অনুকূলে সাজানো হয়েছিল যাতে উয়েফার সমর্থনে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো পুনরায় নির্বাচিত হতে পারেন।
আরও পড়ুন: বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার আপিল শুনানি ৮ ডিসেম্বর
অন্য তত্ত্বটি হলো, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জয়ের পর "লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস" (ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার) লেখা ব্যানার তুলে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কারণে আর্জেন্টিনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে হারতে বাধ্য করা হয়েছিল। অন্যথায় তাদের পরবর্তী দুটি ফিফা বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি ছিল। তিনি আরও যোগ করেন, ফাইনালে স্পেন ভালো খেলেছিল এবং বিশ্বকাপ জয়ের যোগ্য তারাই ছিল। এসব তত্ত্বের দিকে আর্জেন্টিনা কোনো মনোযোগ দিচ্ছে না। তিনি বলেন, "যা কিছু শুনি তার সব যদি বিশ্বাস করতে যাই, তবে আমার মাথা ঠিক থাকবে না। বিশ্বকাপ শুরুর আগে, চলাকালীন এবং পরে অনেক কথাই বলা হয়েছে।"
ফাইনালে ওঠার প্রসঙ্গ টেনে পারেদেস বলেন, দলটি দুর্দান্ত একটি টুর্নামেন্ট উপহার দিয়েছে। গত আট বছরে দুটি কোপা আমেরিকা শিরোপা ও ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিসহ দল যা কিছু অর্জন করেছে, তা এই যাত্রাকে অসাধারণ করে তুলেছে। তিনি বলেন, "সময়র সাথে সাথে হয়তো আমরা আমাদের অর্জনের বিশালতা উপলব্ধি করতে পারব, কারণ এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন