ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্বকাপে নিষেধাজ্ঞা বিতর্কে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের কড়া প্রতিক্রিয়া


বিশ্বকাপে নিষেধাজ্ঞা বিতর্কে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের কড়া প্রতিক্রিয়া

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনাকে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে অনলাইন পিটিশন শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১-০ গোলের ব্যবধানে স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নত্ব অর্জন করে। ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনা কিছু শৃঙ্খলাজনিত সমস্যার সম্মুখীন হয় এবং নির্ধারিত সময়ে প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে একটিও শট নিতে ব্যর্থ হয়।

ম্যাচের পর, 'আর্জেন্টিনা আউট' প্রচারণায় প্রায় ১৭০টি দেশের সমর্থকদের কাছ থেকে ২ কোটি ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ১০৮টি যাচাইকৃত স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। এই প্রচারণায় দাবি করা হয়েছে আর্জেন্টিনাকে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হোক। এতে যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, তাদের আচরণ 'সুন্দর খেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।'

আরও পড়ুন: নীলফামারীতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বস্ত্র বিতরণ

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ইনস্টাগ্রামে একাধিক পোস্টের মাধ্যমে এর জবাব দেন। তিনি জাতীয় দলের পক্ষে দাঁড়িয়ে চলমান সমালোচনার তীব্র নিন্দা জানান এবং লিখেন, "আপনার কি শত্রু আছে? তার মানে আপনি একসময় কোনো কিছুর পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। আমরা আর্জেন্টিনার পক্ষে দাঁড়াই।"

আরেকটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, "আর্জেন্টিনার সমস্যা হলো আমরা সবার চেয়ে আলাদা। আমাদের উপেক্ষা করা যায় না, মানুষ আমাদের দেখে ঈর্ষা করে এবং আমরা প্রায় সব কিছুতেই দক্ষ।"

এর আগে আর্জেন্টিনার ফুটবলার লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্বীকার করেন, শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া স্পেনই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের যোগ্য ছিল। তিনি বলেন, ফাইনাল হারের বেদনা তাদের মনে দীর্ঘকাল থাকবে। গোল ডট কম-এর তথ্য অনুযায়ী, পারেদেস বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতেও ছিলেন। ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর তিনি স্পেনের তারকা খেলোয়াড় এরিক গার্সিয়া ও গাভির সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

গোল ডট কম-এর বরাতে ইএসপিএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পারেদেস বলেন, স্পেন তাদের দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের যোগ্য ছিল এবং পরাজয় নিয়ে প্রচলিত কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্বের দিকে আর্জেন্টিনা দল কান দেয় না। ইন্টারনেটে প্রচলিত সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি তত্ত্বের একটি হলো, ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালটি স্পেনের অনুকূলে সাজানো হয়েছিল যাতে উয়েফার সমর্থনে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো পুনরায় নির্বাচিত হতে পারেন।

আরও পড়ুন: বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার আপিল শুনানি ৮ ডিসেম্বর

অন্য তত্ত্বটি হলো, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জয়ের পর "লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস" (ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার) লেখা ব্যানার তুলে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কারণে আর্জেন্টিনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে হারতে বাধ্য করা হয়েছিল। অন্যথায় তাদের পরবর্তী দুটি ফিফা বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি ছিল। তিনি আরও যোগ করেন, ফাইনালে স্পেন ভালো খেলেছিল এবং বিশ্বকাপ জয়ের যোগ্য তারাই ছিল। এসব তত্ত্বের দিকে আর্জেন্টিনা কোনো মনোযোগ দিচ্ছে না। তিনি বলেন, "যা কিছু শুনি তার সব যদি বিশ্বাস করতে যাই, তবে আমার মাথা ঠিক থাকবে না। বিশ্বকাপ শুরুর আগে, চলাকালীন এবং পরে অনেক কথাই বলা হয়েছে।"

ফাইনালে ওঠার প্রসঙ্গ টেনে পারেদেস বলেন, দলটি দুর্দান্ত একটি টুর্নামেন্ট উপহার দিয়েছে। গত আট বছরে দুটি কোপা আমেরিকা শিরোপা ও ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিসহ দল যা কিছু অর্জন করেছে, তা এই যাত্রাকে অসাধারণ করে তুলেছে। তিনি বলেন, "সময়র সাথে সাথে হয়তো আমরা আমাদের অর্জনের বিশালতা উপলব্ধি করতে পারব, কারণ এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাইট্রোজেনবাহী ট্রাক উল্টে গ্যাস লিক, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন মহাসড়ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১২ পি.এম


নাইট্রোজেনবাহী ট্রাক উল্টে গ্যাস লিক, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন মহাসড়ক

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নাটোর-ঢাকা মহাসড়কের শ্রীরামপুর তরমুজ পেট্রোল পাম্প এলাকায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (নাইট্রোজেন) বহনকারী একটি ট্রাক উল্টে গিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর ট্রাকে থাকা নাইট্রোজেন সংরক্ষণ ট্যাংকার থেকে দ্রুত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায়, প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার এলাকা সাদা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা এবং মহাসড়কের পথচারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে ১০টার দিকে নাটোর-ঢাকা মহাসড়কের শ্রীরামপুর তরমুজ পাম্পসংলগ্ন এলাকায় নাইট্রোজেনবাহী ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। ট্রাকটি উল্টে যাওয়ার পর বিকট শব্দে এতে থাকা সিলিন্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গ্যাস লিক হতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই গ্যাস বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে, এবং সাদা ঘন কুয়াশার মতো ধোঁয়ায় প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার এলাকা ঢেকে যায়।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিউল আলম জানান, ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয়রা নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। পরে হাইওয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে, এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।

তিনি আরও জানান, ট্রাকটিতে গরু, ছাগল ও মহিষের প্রজননের বীজ নাইট্রোজেন গ্যাসের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা ছিল। তবে পুলিশ জানিয়েছে যে, তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় অভিযানে জব্দ করা হলো ৮টি মোটরসাইকেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৩ পি.এম


খুলনায় অভিযানে জব্দ করা হলো ৮টি মোটরসাইকেল

খুলনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে নগরীর লবণচরা থানার সাচিবুনিয়া বাজারের বন্ধু চার্জিং পয়েন্ট থেকে ৭টি এবং যমুনা চার্জিং পয়েন্ট থেকে ১টি মোট ৮টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে নিশ্চিত করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার নেতৃত্বে লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেনের সহযোগিতায় পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় লবণচরা থানার সাচিবুনিয়া বাজারের বন্ধু চার্জিং পয়েন্ট থেকে ৭টি এবং যমুনা চার্জিং পয়েন্ট থেকে ১টি মোট ৮টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চার্জিং পয়েন্ট বা গ্যারেজের মালিক উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলগুলোর মালিকানা সম্পর্কে সন্তোষজনক কোনো তথ্য বা বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি।

সহকারী এই পুলিশ কমিশনার আরও জানান, মোটরসাইকেলগুলো বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে অথবা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলগুলো বর্তমানে লবণচরা থানা হেফাজতে রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৪ পি.এম


ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির রিপোর্টে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।

তেলাপোকা জনতা পার্টি এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা আলোচনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি তার এক্স হ্যান্ডেলে এই পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দিল্লির জন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি ও কেন্দ্রের মধ্যে আলোচনা অচলাবস্থায় ছিল। আজ সকালে ভারতের প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, সরকার ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে অস্বীকার করলে কোনো আলোচনা হতে পারে না।

প্রধানের পদত্যাগের ফলে সরকার বিক্ষোভকারীদের সব দাবি পূরণ করেছে। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবিগুলো ছিল- শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

এর আগে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) কেন্দ্র প্রধান বিচারপতিকে শেষের দুটি দাবির বিষয়ে আশ্বাস দিলেও পদত্যাগের দাবির বিষয়ে নীরব ছিল।

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে দেওয়া তার পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী বলেন: ‘আমি এই দেশের যুবকদের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি এবং ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করি। ভারতের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণ করাই আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নৈতিক সংকল্প। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে জাতির সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

এদিকে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে যন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থলে উল্লাস ফেটে পড়ে।

পদত্যাগের খবরের প্রতিক্রিয়ায় সিজেপি পোস্ট করেছে: ‘ছাত্রশক্তির জয় হোক।’

যন্তর মন্তরের মঞ্চ থেকে প্রধানের পদত্যাগের খবর ঘোষণা করে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘আমরা এটা করে দেখিয়েছি।’

তারা বলত এই সরকারে কেউ পদত্যাগ করে না। কিন্তু আমরা তা করে দেখিয়েছি।

গত কয়েকদিনে দেশজুড়ে কয়েক ডজন শহরে ছড়িয়ে পড়া ছাত্র বিক্ষোভ একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে বিরোধী দলগুলো এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরকারকে কোণঠাসা করে ফেলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধামরাইয়ের আলোচিত তিন খুনের ঘটনায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৫ পি.এম


ধামরাইয়ের আলোচিত তিন খুনের ঘটনায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

এক বছর আগে ঢাকার ধামরাইয়ে নারগিস বেগম ও তার দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর খাবারে বিষক্রিয়ার ধারণা উঠে এসেছিল। সেই কারণে মামলাটি অপমৃত্যুর দায়ে রুজু করা হয়েছিল। তবে একটি তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তার মনে খটকা লাগে। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে হত্যা রহস্য উন্মোচিত হয়। বর্তমানে নারগিসের মেয়ের স্বামী মো. রবিন আসামি হয়ে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন।

মো. রবিন (২২) বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তিনি বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১৪ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনজুর রহমান অভিযোগপত্র ঢাকার আদালতে দাখিল করেছেন। মামলাটি বর্তমানে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, রবিন ঘরজামাই হিসেবে শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটরের ব্যবসা দেখভাল করতেন। শাশুড়ির সেই ব্যবসাটি বিক্রি করে দেয়ার কারণে রবিনের মধ্যে ক্ষোভ জন্মায় এবং এটি হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, শুরুতেই এই মামলার কোনো ক্লু ছিল না। রবিন খুবই সুকৌশলে পরিস্থিতি পরিচালনা করছিলেন। মূলত একটি জিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজতে গিয়ে পুরো ব্যাপারটি উন্মোচিত হয়।

২০২৫ সালের ২ জুন দিবাগত রাতে ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে নারগিস (৪২) এবং তার দুই সন্তান মো. শামীম (১৭) ও সোলাইমানের (৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয় তাদের ঘর থেকে।

নারগিসের মেয়ে নাসরিন আক্তার সেসময় জানিয়েছিলেন যে, তার মা ও ভাইদের মরদেহ ঘরের ভেতরে বিছানার ওপর কাঁথা দিয়ে ঢাকা ছিল। তখন পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল খাবারে বিষক্রিয়া মৃত্যু ঘটিয়েছে। আবার অভিযোগ করা হয়েছিল যে, সম্পত্তির বিরোধের কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকজন খাবারে বিষ মিশিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নাসরিনের স্বামী রবিনও তখন এই দাবি করেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, রাতে ডিম-ভাত কিংবা জুসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

পুলিশ প্রথমে খাবারে বিষক্রিয়ার সন্দেহে অপমৃত্যুর মামলা নেয়। পরবর্তীতে দুই দিন পর ৪ জুন মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন ঢাকা জেলার পিবিআই কর্মকর্তা মনজুর রহমান।

তদন্ত শুরু করে বিভিন্ন জনপ্রশাসকের সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে মনজুর রহমান জানতে পারেন যে, সেদিন রবিন তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানসহ নারগিসের বাড়িতে রাতের খাবার খেয়েছিলেন। তখন প্রশ্ন ওঠে যে, একটি খাবার খেয়ে কেউ মারা গেল, আর কেউ কেন বেঁচে রইল?

মনজুর রহমান বলেন, শুরু থেকে বিষক্রিয়ার বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। দেওয়া মোবাইল ফোনের অবস্থান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত আলামত, জব্দ করা মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর রবিনকে সন্দেহের তালিকায় জমা করেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা রাতে খাওয়ার পর রবিন স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে যান। তবে রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে তিনি ফের শ্বশুরবাড়িতে চলে আসেন, যার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গভীর রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিতি প্রমাণ হতে যাচ্ছে।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, রবিন কখনোই শাশুড়িকে হিসাব দিতেন না। তাই শাশুড়ি তাকে না জানিয়ে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ব্যবসা বিক্রি করে দেন। এই কারণে রবিন ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়ি চলে যান এবং দীর্ঘদিন যোগাযোগ রাখেননি। আরো কিছুদিন পর তিনি শাশুড়ির দাওয়াতে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, একদিন ব্যবসা বিক্রির টাকা নিয়ে রবিনের স্ত্রী নাসরিনের সঙ্গে তার মায়ের কথা কাটাকাটি হয়। এরপর রবিনের শাশুড়ির প্রতি ক্ষোভের মাত্রা আরও বাড়ে। তিনি রাতের খাবারের পর স্ত্রীর সঙ্গে বাড়িতে ফিরে গেলেও মধ্যরাতে আবার শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান।

পুলিশ জানিয়েছে, রবিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, তখনই তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মাঝে মাঝে ব্যবসার বিষয়ে তার বড় শ্যালক শামীমের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ঘটতো। তাই শ্বশুরবাড়ির সবাই তার গায়ে ক্ষোভ প্রবাহিত হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, রবিন শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটর ব্যবসা দেখাশোনা করে আসছিলেন। এই বিরোধ থেকে শাশুড়ি ব্যবসা বিক্রি করে দেয়ার পর তাকে হত্যা করেন শাশুড়ির প্রতি প্রতিশোধ নেয়ার লক্ষ্যে।

রবিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, গভীর রাতে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে প্রথমে বড় শ্যালক শামীমের মুখে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করেন। তারপর একইভাবে নারগিস ও সোলাইমানকেও হত্যা করেন। তিনজনের মরদেহ একই খাটে কাঁথা দিয়ে ঢেকে দেন, যাতে মনে হয় তারা ঘুমিয়ে আছেন। তিনজনকে হত্যার পর ভোরের চারটার দিকে নিজের বাড়িতে চলে যান।

রবিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত কর্মকর্তাগণ দুটি বালিশ ও তার মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছেন।

শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব রবিনের গ্রাম থেকে খুব বেশি নয়; মাঝে আছে দুটি গ্রাম। তার জন্য সহজেই যেতে পারার সুযোগ ছিল।

মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর রবিন শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিষক্রিয়ার গল্পগুলো বলাতে থাকেন। তিনি শ্বশুরের সৎভাইকেও দোষারোপ করে।

নাসরিন আক্তার এখনও সন্দিহান যে, স্বামী রবিনই কি তার মা ও ভাইদের হত্যা করেছে। নাসরিন গণমাধ্যমকে বলেন, রবিন মেরেছে কি না, আমি জানি না। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছি। সে আমাকে বলেছে যে সে আমার মা ও ভাইকে মারেনি। রবিন মেরেছে, আমি এ ব্যাপারে বিশ্বাস করি না। সে পুলিশ ভয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ব্যবসা নিয়ে তাঁর মা ও ভাইয়ের সঙ্গে স্বামীর দ্বন্দ্ব ছিল। নাসরিন বলেন, এ কারণেই তার মা ডেকোরেটরের ব্যবসা বন্ধ করে বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

নাসরিনের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান জানিয়েছেন, প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে করেছেন নাসরিন ও রবিন। নাসরিন রবিনকে শুরু থেকেই নির্দোষ দাবি করে আসছেন। কিন্তু তদন্ত ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে।

মামলাটি নিহত নারগিসের ভাই আবদুর রশীদ দায়ের করেছিলেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমি খুনির ফাঁসি চাই। আমার বোন ওই খুনির কাছে খুব ভালোবাসতেন। কিন্তু সে (রবিন) আমার বোন এবং ভাগ্নেকে খুন করে ফেলেছে।

এই মামলার একজন সাক্ষী শাহিনুর রহমান দোষীদের শাস্তির দাবি নিয়ে বলেন, একসঙ্গে একই পরিবারের তিনজন খুন হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে পড়ে সেই সময়। দোষীর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান জানান, ১৪ জনের সাক্ষ্য এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গত ১৪ জানুয়ারি তিনি আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে রবিনকে একমাত্র আসামি করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%