ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খুলনায় অভিযানে জব্দ করা হলো ৮টি মোটরসাইকেল


খুলনায় অভিযানে জব্দ করা হলো ৮টি মোটরসাইকেল

খুলনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে নগরীর লবণচরা থানার সাচিবুনিয়া বাজারের বন্ধু চার্জিং পয়েন্ট থেকে ৭টি এবং যমুনা চার্জিং পয়েন্ট থেকে ১টি মোট ৮টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে নিশ্চিত করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার নেতৃত্বে লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেনের সহযোগিতায় পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় লবণচরা থানার সাচিবুনিয়া বাজারের বন্ধু চার্জিং পয়েন্ট থেকে ৭টি এবং যমুনা চার্জিং পয়েন্ট থেকে ১টি মোট ৮টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: মাদক মামলার আসামিকে ধরতে গিয়ে বিপাকে পুলিশ, হামলায় আহত দুই সদস্য

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চার্জিং পয়েন্ট বা গ্যারেজের মালিক উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলগুলোর মালিকানা সম্পর্কে সন্তোষজনক কোনো তথ্য বা বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি।

সহকারী এই পুলিশ কমিশনার আরও জানান, মোটরসাইকেলগুলো বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে অথবা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলগুলো বর্তমানে লবণচরা থানা হেফাজতে রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজাপুরে বিকাশ ব্যবসায়ীর ৭ লাখ টাকা ডাকাতি, এসআরবি-৮-এর অভিযানে আফজাল-লিটনসহ গ্রেপ্তার ৫

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৪ পি.এম


ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির রিপোর্টে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।

তেলাপোকা জনতা পার্টি এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা আলোচনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি তার এক্স হ্যান্ডেলে এই পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দিল্লির জন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি ও কেন্দ্রের মধ্যে আলোচনা অচলাবস্থায় ছিল। আজ সকালে ভারতের প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, সরকার ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে অস্বীকার করলে কোনো আলোচনা হতে পারে না।

প্রধানের পদত্যাগের ফলে সরকার বিক্ষোভকারীদের সব দাবি পূরণ করেছে। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবিগুলো ছিল- শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

এর আগে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) কেন্দ্র প্রধান বিচারপতিকে শেষের দুটি দাবির বিষয়ে আশ্বাস দিলেও পদত্যাগের দাবির বিষয়ে নীরব ছিল।

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে দেওয়া তার পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী বলেন: ‘আমি এই দেশের যুবকদের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি এবং ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করি। ভারতের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণ করাই আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নৈতিক সংকল্প। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে জাতির সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

এদিকে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে যন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থলে উল্লাস ফেটে পড়ে।

পদত্যাগের খবরের প্রতিক্রিয়ায় সিজেপি পোস্ট করেছে: ‘ছাত্রশক্তির জয় হোক।’

যন্তর মন্তরের মঞ্চ থেকে প্রধানের পদত্যাগের খবর ঘোষণা করে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘আমরা এটা করে দেখিয়েছি।’

তারা বলত এই সরকারে কেউ পদত্যাগ করে না। কিন্তু আমরা তা করে দেখিয়েছি।

গত কয়েকদিনে দেশজুড়ে কয়েক ডজন শহরে ছড়িয়ে পড়া ছাত্র বিক্ষোভ একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে বিরোধী দলগুলো এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরকারকে কোণঠাসা করে ফেলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধামরাইয়ের আলোচিত তিন খুনের ঘটনায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৫ পি.এম


ধামরাইয়ের আলোচিত তিন খুনের ঘটনায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

এক বছর আগে ঢাকার ধামরাইয়ে নারগিস বেগম ও তার দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর খাবারে বিষক্রিয়ার ধারণা উঠে এসেছিল। সেই কারণে মামলাটি অপমৃত্যুর দায়ে রুজু করা হয়েছিল। তবে একটি তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তার মনে খটকা লাগে। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে হত্যা রহস্য উন্মোচিত হয়। বর্তমানে নারগিসের মেয়ের স্বামী মো. রবিন আসামি হয়ে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন।

মো. রবিন (২২) বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তিনি বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১৪ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনজুর রহমান অভিযোগপত্র ঢাকার আদালতে দাখিল করেছেন। মামলাটি বর্তমানে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, রবিন ঘরজামাই হিসেবে শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটরের ব্যবসা দেখভাল করতেন। শাশুড়ির সেই ব্যবসাটি বিক্রি করে দেয়ার কারণে রবিনের মধ্যে ক্ষোভ জন্মায় এবং এটি হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, শুরুতেই এই মামলার কোনো ক্লু ছিল না। রবিন খুবই সুকৌশলে পরিস্থিতি পরিচালনা করছিলেন। মূলত একটি জিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজতে গিয়ে পুরো ব্যাপারটি উন্মোচিত হয়।

২০২৫ সালের ২ জুন দিবাগত রাতে ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে নারগিস (৪২) এবং তার দুই সন্তান মো. শামীম (১৭) ও সোলাইমানের (৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয় তাদের ঘর থেকে।

নারগিসের মেয়ে নাসরিন আক্তার সেসময় জানিয়েছিলেন যে, তার মা ও ভাইদের মরদেহ ঘরের ভেতরে বিছানার ওপর কাঁথা দিয়ে ঢাকা ছিল। তখন পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল খাবারে বিষক্রিয়া মৃত্যু ঘটিয়েছে। আবার অভিযোগ করা হয়েছিল যে, সম্পত্তির বিরোধের কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকজন খাবারে বিষ মিশিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নাসরিনের স্বামী রবিনও তখন এই দাবি করেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, রাতে ডিম-ভাত কিংবা জুসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

পুলিশ প্রথমে খাবারে বিষক্রিয়ার সন্দেহে অপমৃত্যুর মামলা নেয়। পরবর্তীতে দুই দিন পর ৪ জুন মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন ঢাকা জেলার পিবিআই কর্মকর্তা মনজুর রহমান।

তদন্ত শুরু করে বিভিন্ন জনপ্রশাসকের সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে মনজুর রহমান জানতে পারেন যে, সেদিন রবিন তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানসহ নারগিসের বাড়িতে রাতের খাবার খেয়েছিলেন। তখন প্রশ্ন ওঠে যে, একটি খাবার খেয়ে কেউ মারা গেল, আর কেউ কেন বেঁচে রইল?

মনজুর রহমান বলেন, শুরু থেকে বিষক্রিয়ার বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। দেওয়া মোবাইল ফোনের অবস্থান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত আলামত, জব্দ করা মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর রবিনকে সন্দেহের তালিকায় জমা করেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা রাতে খাওয়ার পর রবিন স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে যান। তবে রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে তিনি ফের শ্বশুরবাড়িতে চলে আসেন, যার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গভীর রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিতি প্রমাণ হতে যাচ্ছে।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, রবিন কখনোই শাশুড়িকে হিসাব দিতেন না। তাই শাশুড়ি তাকে না জানিয়ে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ব্যবসা বিক্রি করে দেন। এই কারণে রবিন ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়ি চলে যান এবং দীর্ঘদিন যোগাযোগ রাখেননি। আরো কিছুদিন পর তিনি শাশুড়ির দাওয়াতে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, একদিন ব্যবসা বিক্রির টাকা নিয়ে রবিনের স্ত্রী নাসরিনের সঙ্গে তার মায়ের কথা কাটাকাটি হয়। এরপর রবিনের শাশুড়ির প্রতি ক্ষোভের মাত্রা আরও বাড়ে। তিনি রাতের খাবারের পর স্ত্রীর সঙ্গে বাড়িতে ফিরে গেলেও মধ্যরাতে আবার শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান।

পুলিশ জানিয়েছে, রবিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, তখনই তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মাঝে মাঝে ব্যবসার বিষয়ে তার বড় শ্যালক শামীমের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ঘটতো। তাই শ্বশুরবাড়ির সবাই তার গায়ে ক্ষোভ প্রবাহিত হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, রবিন শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটর ব্যবসা দেখাশোনা করে আসছিলেন। এই বিরোধ থেকে শাশুড়ি ব্যবসা বিক্রি করে দেয়ার পর তাকে হত্যা করেন শাশুড়ির প্রতি প্রতিশোধ নেয়ার লক্ষ্যে।

রবিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, গভীর রাতে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে প্রথমে বড় শ্যালক শামীমের মুখে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করেন। তারপর একইভাবে নারগিস ও সোলাইমানকেও হত্যা করেন। তিনজনের মরদেহ একই খাটে কাঁথা দিয়ে ঢেকে দেন, যাতে মনে হয় তারা ঘুমিয়ে আছেন। তিনজনকে হত্যার পর ভোরের চারটার দিকে নিজের বাড়িতে চলে যান।

রবিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত কর্মকর্তাগণ দুটি বালিশ ও তার মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছেন।

শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব রবিনের গ্রাম থেকে খুব বেশি নয়; মাঝে আছে দুটি গ্রাম। তার জন্য সহজেই যেতে পারার সুযোগ ছিল।

মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর রবিন শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিষক্রিয়ার গল্পগুলো বলাতে থাকেন। তিনি শ্বশুরের সৎভাইকেও দোষারোপ করে।

নাসরিন আক্তার এখনও সন্দিহান যে, স্বামী রবিনই কি তার মা ও ভাইদের হত্যা করেছে। নাসরিন গণমাধ্যমকে বলেন, রবিন মেরেছে কি না, আমি জানি না। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছি। সে আমাকে বলেছে যে সে আমার মা ও ভাইকে মারেনি। রবিন মেরেছে, আমি এ ব্যাপারে বিশ্বাস করি না। সে পুলিশ ভয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ব্যবসা নিয়ে তাঁর মা ও ভাইয়ের সঙ্গে স্বামীর দ্বন্দ্ব ছিল। নাসরিন বলেন, এ কারণেই তার মা ডেকোরেটরের ব্যবসা বন্ধ করে বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

নাসরিনের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান জানিয়েছেন, প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে করেছেন নাসরিন ও রবিন। নাসরিন রবিনকে শুরু থেকেই নির্দোষ দাবি করে আসছেন। কিন্তু তদন্ত ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে।

মামলাটি নিহত নারগিসের ভাই আবদুর রশীদ দায়ের করেছিলেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমি খুনির ফাঁসি চাই। আমার বোন ওই খুনির কাছে খুব ভালোবাসতেন। কিন্তু সে (রবিন) আমার বোন এবং ভাগ্নেকে খুন করে ফেলেছে।

এই মামলার একজন সাক্ষী শাহিনুর রহমান দোষীদের শাস্তির দাবি নিয়ে বলেন, একসঙ্গে একই পরিবারের তিনজন খুন হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে পড়ে সেই সময়। দোষীর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান জানান, ১৪ জনের সাক্ষ্য এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গত ১৪ জানুয়ারি তিনি আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে রবিনকে একমাত্র আসামি করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে বিএনপির ১২ নেতার শ্রদ্ধা নিবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৭ পি.এম


জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে বিএনপির ১২ নেতার শ্রদ্ধা নিবেদন

বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের ১২ নেতা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পাওয়ার পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

শ্রদ্ধা নিবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলম, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক, দলের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

আরও যারা শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন তাদের মধ্যে বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু), দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ টিটো, দলের ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউজিটি) চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী।

যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান মো. মামুন হাসান, সংগঠনের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন সিদ্দিকী, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন সরকার।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামসুজ্জামান সুরুজ, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) এবং বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক, আর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান দুলালও এতে অংশগ্রহণ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামের প্রাদুর্ভাবে কাঁপছে যুক্তরাষ্ট্র, ভাঙল ৩৫ বছরের রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৭ পি.এম


হামের প্রাদুর্ভাবে কাঁপছে যুক্তরাষ্ট্র, ভাঙল ৩৫ বছরের রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরে হাম (মিজলস) সংক্রমণের হার ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২ হাজার ৩১৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। জুলাইয়ের শেষ হওয়ার আগেই এই সংখ্যা ২০২৫ সালের পুরো বছরের সংক্রমণকেও ছাড়িয়ে গেছে।

সিডিসির প্রকাশিত সর্বশেষ (শুক্রবার) তথ্যানুসারে, ২০২৬ সালের সংক্রমণের এই সংখ্যা ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সালের বড় প্রাদুর্ভাবের পর এক বছরে সর্বোচ্চ। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ হামে আক্রান্ত হয় এবং ১২৩ জনের মৃত্যু ঘটে।

জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের মহামারিবিদ্যার অধ্যাপক উইলিয়াম মস বলেন, “এই রেকর্ডটি আরও উদ্বেগজনক, কারণ এখনও মাত্র জুলাই মাস চলছে এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে।”

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণের বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ শিশুদের টিকাদানের হার ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়া।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকেই এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকা গ্রহণের হার কমতে শুরু করে। এদিকে টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ও সন্দেহও পরিস্থিতিকে আরও জটিল বলে মনে হচ্ছে।

অনেক বিশেষজ্ঞ অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের টিকাবিরোধী অবস্থান এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয় এমন দাবি প্রচারের ফলে জনগণের মধ্যে টিকা সম্পর্কে আস্থার সংকট আরও বেড়েছে।

সিডিসির জানিয়েছে, ২৩ জুলাই পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া আক্রান্তদের ৬৯ শতাংশই নবজাতক থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশু ও কিশোর। এর মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের অংশ প্রায় ২০ শতাংশ।

সংক্রমিত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। অন্যদিকে, ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার ৩ শতাংশ।

চলতি বছরে হাম রোগের কারণে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৫১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যদিও গুরুতর ক্ষেত্রে হাম প্রাণঘাতী হতে পারে, তথাপি ২০২৬ সালের জানুয়ারির পর এ রোগে নতুন কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

গত বছরের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সালের পুরো বছরজুড়েযুক্তরাষ্ট্রে হামে আক্রান্ত হয়েছিল ২ হাজার ২৮৯ জন। অর্থাৎ, চলতি বছরের মাত্র সাত মাসেই সেই সংখ্যাকে ২৯ জন ছাড়িয়ে গেছে।

গত বছর হামে আক্রান্তদের মধ্যে ২৪৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, যার মধ্যে মৃত্যু হয় তিনজনের।

হাম অত্যন্ত সংক্রামক হলেও চিকিৎসকদের মতে, এটি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এমএমআর টিকা।

সিডিসি জানিয়েছে, দুটি ডোজ এমএমআর টিকা গ্রহণ করলে হাম প্রতিরোধে কার্যকারিতা প্রায় ৯৭ শতাংশ।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে কিন্ডারগার্টেন পর্যায়ের শিশুদের মধ্যে টিকাদানের গড় হার নেমে এসেছে ৯২ দশমিক ৫ শতাংশে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষের টিকা গ্রহণ করা আবশ্যক, যাতে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা সামষ্টিক রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

বর্তমানে অন্তত ১৬টি অঙ্গরাজ্যে টিকাদানের হার ৯০ শতাংশেরও নিচে নেমে গেছে। এসব অঙ্গরাজ্যের অনেকগুলোতেই চলতি বছরে হামের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।

জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অনেকে মনে করেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে জনঅসন্তোষ এবং টিকাবিরোধী প্রচারণা টিকাদানের হার কমিয়ে দিয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র বহুবার দাবি করেছেন, হামের টিকার সঙ্গে অটিজমের সম্পর্ক রয়েছে। তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এমন দাবির কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গত জুনে তিনি সিডিসির টিকাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির সব সদস্যকে বরখাস্ত করেন। এই কমিটি যুক্তরাষ্ট্রে কোন টিকা কীভাবে এবং কাদের দেওয়া হবে, সে সম্পর্কে সরকারকে সুপারিশ করে।

আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের সভাপতি অ্যান্ড্রু রেসিন বলেন, “গত বছরের শুরু থেকেই ফেডারেল নেতৃত্ব হামকে তেমন গুরুতর নয় বলে উপস্থাপন করছে এবং এমএমআর টিকা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে।”

তিনি বলেন, “২০২৬ সালের অর্ধেক সময় পার হতে না হতেই যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ এড়ানো সম্ভব ছিল এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন শিশুরা।”

সিডিসির তথ্যমতে, চলতি বছরের আক্রান্তদের ৯৩ শতাংশই আগে কোনও এমএমআর টিকা নেয়নি। বাকিদের মধ্যে অল্পসংখ্যক ব্যক্তি সংক্রমণের আগে এক বা দুই ডোজ টিকা নিয়েছিল।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫টি অঙ্গরাজ্য ও রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। মোট সংক্রমণের ৯৩ শতাংশই ৩৫টি পৃথক প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত।

সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনা, উটাহ, অ্যারিজোনা, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া ও পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে।

এর মধ্যে মাত্র ১৬টি সংক্রমণ বিদেশ থেকে আসা ভ্রমণকারীদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে।

২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সাউথ ক্যারোলাইনার প্রাদুর্ভাবে প্রায় এক হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে হামমুক্ত ঘোষণা করার পর এটিই সবচেয়ে বড় একক প্রাদুর্ভাব।

এই পরিস্থিতিতে দেশটির ‘হামমুক্ত’ মর্যাদা বহাল থাকবে কি না, তা এখন পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। প্যান আমেরিকান হেলথ অরগানাইজেশন (পাহো) জানিয়েছে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%