০১:১৫ এম
আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি, সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীমের ঘনিষ্ঠ অনুসারী ও চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্নকাঠি এলাকার সাবেক মেম্বার আওয়ামী লীগ নেতা কালামের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে বন্দর থানা পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতির খবর টের পেয়ে গা-ঢাকা দেওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ই আগস্ট গভীর রাতে কালার মেম্বারকে গ্রেপ্তারে কর্নকাঠি এলাকায় তার নিজ বাসভবনে এ অভিযান পরিচালনা করে বন্দর থানা পুলিশ।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে কর্নকাঠি এলাকায় ব্যাপক একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন কালাম মেম্বার। তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জমি দখল, মাছের ঘের দখল, জোরপূর্বক ঠিকাদারি হারের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে ভূমি ভরাট এবং সালিশ-বিচারের নামে অপবিচারের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। তার ভয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ থানা বা পুলিশের কাছে অভিযোগ করার সাহস পর্যন্ত পেত না।
আরও পড়ুন: রংপুরে আবাসিক হোটেল থেকে ইয়াবাসহ দুই পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার
গত ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কালাম মেম্বার কিছুদিন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে স্থানীয় বিএনপির কিছু প্রভাবশালী নেতাকে ম্যানেজ করে পুনরায় এলাকায় প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। আত্মগোপনে থাকা অবস্থাতেই তার সাথে পরিচয় হয় বরিশালের সাবেক র্যাবের ক্রসফায়ার তালিকার শীর্ষ সন্ত্রাসী 'নাক কাটা রুবেল'-এর। এর পর থেকে নাক কাটা রুবেল প্রায়শই কালাম মেম্বারের সাথে কর্নকাঠি এলাকায় যাতায়াত করত।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ১৭ই ডিসেম্বর রাতে, যখন বরিশাল নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনার এক্সক্লুসিভ ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তা সংবাদমাধ্যম 'তালাশ বিডি'-তে প্রকাশ করেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাছুদুর রহমান আসলাম। সংবাদটি প্রকাশের সাথে সাথেই দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
পরবর্তীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেলের অতীত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে তালাশ বিডিতে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ শুরু করেন সাংবাদিক আসলাম। প্রতিবেদনগুলো প্রকাশের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে নাক কাটা রুবেল ও তার গ্যাং।
এরই জেরে গত ২১শে জানুয়ারি সন্ধ্যায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের খেলার মাঠসংলগ্ন সড়কে সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের ওপর হামলার চেষ্টা চালানো হয়। তিনটি মোটরসাইকেলে করে নাক কাটা রুবেলের নেতৃত্বে কালাম মেম্বার ও গাঁজা রফিকসহ একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাকে চারপাশ থেকে ঘেরাও করে। এ সময় তারা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে সাংবাদিক আসলামকে চরম গালিগালাজ করে এবং প্রকাশিত সব সংবাদ মুছে ফেলার হুমকি দেয়। সংবাদ প্রকাশ বন্ধ না করলে তাকে সরাসরি গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসীরা স্থান ত্যাগ করে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুন, ৫ পর্যটক নিহত
উক্ত ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক আসলাম ৩য় যুগ্ম বিচারক আদালতে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার নথি পর্যালোচনা করে বিচারক কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনাটি সরাসরি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাজিব দাস সনেট দীর্ঘ তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের সময় আসামি কালাম মেম্বার অনুপস্থিত থাকায় এবং অপরাধের সাথে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করেন। সেই ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই বন্দর থানা পুলিশ তার বাড়িতে এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের বিষয়ে বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক চৌহালী জানান, "আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামি সাবেক কালাম মেম্বারকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করতে আমাদের পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।"
আরও পড়ুন: ফেনীতে ছাত্রদল কর্মী নয়নের উপর সংঘবদ্ধ হামলা, থানায় অভিযোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন