রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১৮ পি.এম
ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানিয়েছেন, রাজধানীর যানজট সমস্যা সমাধানের জন্য গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান—এই চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া এবং বিদ্যমান ডিপো ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এর পাশাপাশি গাবতলী টার্মিনালের বিকল্প টার্মিনাল সম্প্রসারণ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সিটি কর্পোরেশনের টার্মিনাল উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বৃহত্তর ঢাকার যানজট নিরসনের জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির সভা শেষে তিনি বাসসকে এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনের জন্য যে নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন কতদূর অগ্রসর হয়েছে এবং কোন কোন কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন, সভায় মূলত এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যানজট নিরসনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সড়ক প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে শহরের ভেতরে বাস ও গণপরিবহনের অতিরিক্ত চাপ। এই চাপ কমাতে বিদ্যমান টার্মিনালগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প স্থানে টার্মিনাল ও ডিপো ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘যানজট নিরসনের জন্য আমাদের যে টার্মিনালগুলো রয়েছে, সেগুলোর কিছু অংশ আপাতত আমাদের যে ডিপোগুলো রয়েছে, সেগুলোতে ব্যবহার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা কাচপুর, এরপর পূর্বাচল—এসব জায়গা ব্যবহার করার বিষয়টি দেখছি।’
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, গাবতলী বাস টার্মিনালকে আরো সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। গাবতলীর পাশের নতুন জায়গাগুলো কীভাবে দ্রুত কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশপথে গণপরিবহনের চাপ কমাতে এসব বিকল্প অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ঢাকার আশপাশের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ওপর থাকা অবৈধ স্থাপনাগুলোও যানজটের অন্যতম কারণ। এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে সড়কগুলো যান চলাচলের উপযোগী করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু রাজধানীর ভেতরে যানজট নিরসনের উদ্যোগ নিলে হবে না। বৃহত্তর ঢাকার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য ঢাকার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং গণপরিবহনের সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় মূলত চারটি বাস টার্মিনালকে কেন্দ্র করে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এসব টার্মিনালের বর্তমান ব্যবস্থাপনা, বিকল্প জায়গায় স্থানান্তরের সম্ভাবনা, ডিপো ব্যবহারের সুযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় থাকা টার্মিনালগুলোও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব টার্মিনালে বাস পরিচালনার জন্য কাউন্টার স্থাপন, যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বিশেষ করে এসি বাসগুলোকে নির্দিষ্ট টার্মিনাল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। বাস কাউন্টার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা কোথায় এবং কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে শুধু সড়ক প্রশস্ত করা বা নতুন সড়ক নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। গণপরিবহনের টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, বাসের চলাচল, পার্কিং, কাউন্টার ব্যবস্থাপনা এবং রাজধানীর প্রবেশ ও বহির্গমনপথে যানবাহনের চাপ, সবগুলো বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।
সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে কাজ ধীরগতিতে চলছে, সেগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, যানজট নিরসন নীতির মধ্যে যে ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলোর অগ্রগতি কতটুকু এবং বাস্তবায়নের দিকে কতটা অগ্রসর হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এগুলো যাতে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে এবং উপযুক্ত সময়ের মধ্যে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, যানজট নিরসনে সরকার যে উদ্যোগগুলো নিয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়নে এখন আরো গতি আনা প্রয়োজন। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, পরিবহন সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সড়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, যানজট নিরসনের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা না করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য। টার্মিনাল স্থানান্তর, বিকল্প ডিপো ব্যবহার, গাবতলী সম্প্রসারণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সিটি কর্পোরেশনের টার্মিনাল উন্নয়নের কাজগুলো সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।
এর মাধ্যমে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সড়কে যানবাহনের চাপ কমানোর পাশাপাশি বৃহত্তর ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা ধীরে ধীরে নিরসন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকবৃন্দ এবং সড়ক মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুর কারণে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫৫৮ জন। চলতি বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গুর কারণে মোট ১১৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৫৯০ জনে।
রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু সংক্রান্ত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৯৩ জন এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪৮ জন ভর্তি হয়েছেন। ঢাকা বিভাগের বাইরে ৩১৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে ১৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৯ জন, খুলনায় ৩৩৪ জন, ময়মনসিংহে ৮৪ জন, রাজশাহীতে ১১২ জন, রংপুরে ৫৯ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করে আসছে। ২০২৩ সালে ডেঙ্গুর কারণে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা সর্বাধিক ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ছিল। একই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭০৫।
গত বছর ডেঙ্গুর কারণে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটে এবং সে বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের কাছাকাছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জার্মান বুন্ডেসলিগায় বায়ার্ন মিউনিখের দীর্ঘদিনের আধিপত্যে এক ম্যাচে দুটি বড় ধাক্কা এসেছে। শনিবার রাতে, সদ্য প্রমোশন পাওয়া শালকের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করেছে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। এই ড্রয়ের মাধ্যমে ৫৯টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ পর প্রথমবার গোলহীন অবস্থায় রইল বায়ার্ন। একই সঙ্গে, ৬৭ ম্যাচডে পর বুন্ডেসলিগার শীর্ষস্থানও হারিয়েছে তারা।
শালকের মাঠে পুরো ম্যাচজুড়ে একাধিক গোলের সুযোগ পেয়েও জালের দেখা পায়নি বায়ার্ন। স্বাগতিকদের গোলরক্ষক লোরিস কারিয়ুস ছিলেন দুর্দান্ত। তাঁর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ বায়ার্নের আক্রমণকে আটকে দেয়।
বায়ার্নের হয়ে সবচেয়ে বড় দুটি সুযোগ পেয়েছিলেন লুইস দিয়াজ। প্রথমার্ধে গোলরক্ষককে একা পেয়েও তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দ্বিতীয়ার্ধে কারিয়ুসকে টপকে চিপ করে বল জালে পাঠানোর চেষ্টা করেন দিয়াজ। তবে গোললাইন অতিক্রমের আগেই শালকের এক ডিফেন্ডার বল ক্লিয়ার করে দেন।
শালকের বিপক্ষে একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ কোম্পানি। শুরুতে বেঞ্চে ছিলেন দলের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন ও মাইকেল অলিসে। দ্বিতীয়ার্ধে দুজনের সঙ্গে মাঠে নামেন জামাল মুসিয়ালাও।
চলতি মৌসুমে এটিই মুসিয়ালার প্রথম বুন্ডেসলিগা ম্যাচ। প্রাক-মৌসুমের দুটি ম্যাচে খেলার সময় খিঁচুনির সমস্যায় পড়ার পর এবারই প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে দলে ছিলেন তিনি। তবে তাঁর উপস্থিতিও বায়ার্নকে শালকের জমাট রক্ষণ ভাঙতে সাহায্য করতে পারেনি।
এই ড্রয়ের ফলে বুন্ডেসলিগায় বায়ার্নের টানা ৪৭ ম্যাচে গোল করার ধারাও শেষ হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি লিগে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিল দলটি। সেদিন বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বায়ার্নের গোল করার ধারাটি ছিল আরও দীর্ঘ—টানা ৫৯ ম্যাচ। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ক্লাব বিশ্বকাপে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের কাছে ২-০ গোলে হারের পর থেকে প্রতিটি ম্যাচেই গোল পেয়েছিল জার্মান জায়ান্টরা। শালকের বিপক্ষে এসে সেই ধারারও ইতি হলো।
ম্যাচ শেষে বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি নিজেদের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, জয় পাওয়ার মতো যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করেছিল দল। তবে শালকের গোলরক্ষকের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে কাঙ্ক্ষিত গোলটি পাওয়া যায়নি।
বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারও কারিয়ুসের প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, ম্যাচসেরার পুরস্কারের জন্য শালকের গোলরক্ষকই সবচেয়ে যোগ্য ছিলেন। বড় তিনটি সুযোগ আটকে দিয়ে কারিয়ুসই বায়ার্নকে জয় থেকে বঞ্চিত করেছেন বলে মনে করেন নয়্যার।
তবে বায়ার্নের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পয়েন্ট তালিকায়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর এই প্রথম বুন্ডেসলিগার শীর্ষস্থান থেকে ছিটকে গেল দলটি। টানা ৬৭ ম্যাচডে শীর্ষে থাকার পর এবার সেই ধারারও অবসান হলো।
এই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে ফ্রাইবুর্গ। সমান ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে বায়ার্নের অবস্থান চতুর্থ।
সামনে অবশ্য দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে বায়ার্ন। বৃহস্পতিবার চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচে বডো/গ্লিম্টের মুখোমুখি হবে তারা। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর বুন্ডেসলিগায় নতুন উঠে আসা এলভার্সবার্গের মাঠে খেলবে কোম্পানির দল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি মন্তব্য করেছেন, দেশের বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে পারলে অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
তিনি রবিবার জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘পার্লামেন্টস রোল ইন রিয়্যালাইজিং পপুলেশন ডিভিডেন্টস, এসডিজিস অ্যান্ড আইসিপিডিস কমিটমেন্টস’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন। এ কর্মশালার আয়োজন স্ট্রেংদেনিং পার্লামেন্টস ক্যাপাসিটি ইন ইন্টিগ্রেশন অব পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইস্যুস (এসপিসিপিডি) প্রকল্পের আওতায় করা হয়।
চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশের সামনে থাকা জনমিতিক লভ্যাংশ (পপুলেশন ডিভিডেন্ট) কাজে লাগাতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ ও শিক্ষিত মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। দেশের বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে যথাযথ শিক্ষা, কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশিয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে সম্পৃক্ত করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘একটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ থাকলেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত হয় না; দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো দক্ষ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশকে তার বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। দক্ষ, শিক্ষিত ও উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠীই দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান শক্তি।’
চিফ হুইপ উল্লেখ করেন, আগামী প্রায় এক দশক বাংলাদেশের জন্য জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ও সক্ষমতাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। দক্ষতা, শিক্ষা ও উৎপাদনশীলতাই দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি।
তিনি বলেন, জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধি হওয়ায় জনসংখ্যা ও উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে তাদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে শুধু মানুষ পাঠানোই যথেষ্ট নয়, দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করে তাদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে পাঠাতে হবে। দক্ষ কর্মীরা বিদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাবেন, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
তিনি উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে আরও কার্যকর সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। চিফ হুইপ বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা গেলে একদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে দেশের উৎপাদনশীলতা ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম নারীর ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায়। তিনি উল্লেখ করেন, "জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করা আমাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।" স্পিকার আরও বলেন, "জনমিতিক লভ্যাংশের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারি।" এ ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রবিবার জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে অনুষ্ঠিত এসপিসিপিডি প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘জনসংখ্যা বোনাস, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং আইসিপিডি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সংসদের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে স্পিকার এসব মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং ইউএনএফপিএ-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্যাথেরিন ব্রিন ক্যামকং।
স্পিকার বলেন, "দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।" প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যা তিনি অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, "জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে জাতীয় সংসদ কাজ করে যাচ্ছে।" স্পিকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা নিরসন, কিশোরী শিক্ষা ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করেন। একইসাথে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধির বিষয়েও তিনি সতর্ক করেন।
স্পিকার বলেন, "এসব সমস্যা নিরসনে সংসদ সদস্যদের নিজ এলাকার জনগণের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ কাজে লাগাতে হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ