১২:৫৯ পি.এম
মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শেষ ১৬-এর ম্যাচের পর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও অনুযায়ী, মিশরকে ৩-২ গোলে নাটকীয়ভাবে হারানোর পর বেশ কিছু আর্জেন্টিনা সমর্থক মিশরীয় সমর্থকদের উদ্দেশে অ্যালকোহল ছিটিয়ে বিদ্রূপাত্মক আচরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
একজন সমর্থক সামাজিক মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন, 'জীবনে দেখা সবচেয়ে নোংরা সমর্থক হলো আর্জেন্টিনার সমর্থকরা… তারা মিশরীয় সমর্থকদের গায়ে অ্যালকোহল ছিটিয়েছে।'
আর্জেন্টিনার ৩-২ জয়ের পর এই ঘটনার কারণে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোর মধ্যে দেখা যায়, কিছু আর্জেন্টাইন সমর্থক ম্যাচ শেষে মিশরীয় সমর্থকদের দিকে অ্যালকোহল ছিটিয়ে তাদের পরাজয় নিয়ে কটাক্ষ করছেন।
আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের
তবে এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
অনেক মিশরীয় সমর্থকের কাছে বিষয়টি বিশেষভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, কারণ ইসলাম ধর্মে অ্যালকোহল নিষিদ্ধ এবং এটিকে অত্যন্ত অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে দেখা হয়।
এর আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের সময় আলজেরিয়ান সমর্থকদের পক্ষ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ উঠে ছিল, ফলে বিতর্কের মাত্রা আরও তীব্র হয়েছে।
আরও পড়ুন: এস এম জিলানী: গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টরা নতুন চক্রান্ত শুরু করেছে
তবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করার প্রয়োজন।
মাঠের বিতর্কও উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
ম্যাচ চলাকালীন মিশরের কোচ হোসাম হাসানকে 'এক্স' চিহ্ন ইঙ্গিত করতে দেখা গেছে। ঘটনাটি ঘটে যখন মোস্তফা জিকো দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন, কিন্তু তার একটি গোল বাতিল করা হয়। কারণ খেলার মিনিটখানেক আগে মাঠের অন্য প্রান্তে সংঘটিত একটি ফাউল ভিডিও রিভিউয়ে ধরা পড়ে।
রেফারিরা মাঠেই হোসাম হাসানের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন, তবে খেলা বন্ধ করা হয়নি। ম্যাচের পরও ওই ঘটনার বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: গোলাম মোস্তফা: ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের সূচনা
পরে অবশ্য জিকো আবার গোল করে মিশরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এই বিতর্ক ম্যাচ-পরবর্তী উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
আইশোস্পিডের অভিযোগ ঘিরেও তদন্ত চলছে।
পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশোস্পিডকে ঘিরে। আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্ডে ম্যাচে তাকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ ওঠার পর ফিফা তদন্ত শুরু করেছে।
আইশোস্পিডের আসল নাম ড্যারেন ওয়াটকিনস জুনিয়র। তার ইউটিউবে ৫ কোটিরও বেশি সাবস্ক্রাইবার এবং বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে কোটি কোটি অনুসারী রয়েছে। এই তদন্ত আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলোকে ঘিরে সমর্থকদের আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
আরও পড়ুন: দেশি মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বাড়াতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: মৎস্যমন্ত্রী
এই অভিযোগগুলো আর্জেন্টিনার জন্য সুখকর নয়, কারণ দলের খেলোয়াড়রা বরাবরই বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছেন। লিওনেল মেসি বর্ণবাদবিরোধী বিভিন্ন প্রচারণায় সমর্থন জানান। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাও বারবার পারস্পরিক সম্মান ও ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাই সমর্থকদের কাছ থেকেও সেই মূল্যবোধের প্রতিফলন প্রত্যাশা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন