মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
১০:২৭ এম
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং এলাকায় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন যুব সমাজ এই মামলা প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানাচ্ছেন, সম্প্রতি এক কিশোরকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে এলাকার কয়েকজন যুবক সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু পরে ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি উল্টো তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। বক্তারা আশঙ্কা করছেন, এতে অপরাধ প্রতিরোধে এগিয়ে আসা সাধারণ মানুষ নিরুৎসাহিত হবে।
তাদের বক্তব্য, যদি মামলা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয়, তবে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যাবে না। তাই, সুষ্ঠু তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বক্তারা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, মেরুং এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক, যৌন অপরাধ ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ এবং এক কিশোরকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় এলাকাবাসীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেছেন, মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনাটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করাটা অত্যাবশ্যক। তাঁরা আরও দাবি করেছেন, মাদক ও অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে সচেতন যুব সমাজের পক্ষ থেকে কিছু দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—কিশোর নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা প্রদান, যুবকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রত্যাহার, মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ পুনঃতদন্ত এবং মেরুং এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করা।
সংবাদ সম্মেলনে মেরুং এলাকার সচেতন যুব সমাজ জানাচ্ছে, তারা আইনের শাসনে বিশ্বাসী এবং কোনো অপরাধীকে রক্ষা করার পক্ষে নন। তবে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্টদের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ট্রেন্ট ব্রিজে ভারতীয় টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সবচেয়ে হতাশার একটি রাতের সাক্ষী হলো। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে সফরকারীরা গত ৭৬ রানে অলআউট হয়ে ১২৫ রানের বিশাল ব্যবধানে ইংল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয়েছে। এই ৭৬ রানই ভারতের টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। টানা এই জয় দিয়ে স্বাগতিক ইংল্যান্ড সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড ৭ উইকেটে ২০১ রান তোলে। উদ্বোধনী জুটি ফিল সল্ট ও জস বাটলার দারুণ সূচনা নিয়ে আসে। যদিও বাটলার ২১ বল খেলে ৩৬ রান করে ফিরে যান, কিন্তু সল্ট আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে ৪৪ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেলেন। শেষ লগ্নে স্যাম কারান ২৪ বলের মোকাবেলায় ৪১ রান করে অপরাজিত থাকেন এবং উইল জ্যাকস ৭ বলে ১৪ রান করায় ইংলিশরা দুইশর বেশি রান তোলে। ভারতের হয়ে হার্শিত রানা ও প্রিন্স যাদব দুটি করে উইকেট সংগ্রহ করেন।
২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটে। পাওয়ারপ্লে'র মধ্যেই ফিরে যান অভিষেক শর্মা, বৈভব সূর্যবংশী, ঈশান কিষাণ, শ্রেয়াস আইয়ার ও অক্ষর প্যাটেল—এদের পাঁচজনই। এরপর ভারতের আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকেনি। তিলক বর্মা, শিবম দুবে ও লেজের বাকি ব্যাটাররাও ব্যর্থ হয়েছেন। সর্বোচ্চ ১৩ রান করেন ঈশান কিষাণ ও বৈভব সূর্যবংশী।
ইংল্যান্ডের জশ টাং অসামান্য বোলিং করে ৪ উইকেট নেন। জফরা আর্চার ৩টি উইকেট এবং আদিল রশিদ ২টি উইকেট দখল করেন। মাত্র ১১.৪ ওভারেই ভারতীয় ইনিংস শেষ করে ইংল্যান্ড নিশ্চিত করে দাপুটে জয়। সিরিজের পরবর্তী টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে ৯ জুলাই, ব্রিস্টলে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানুষের জীবনের শেষ সত্য—মৃত্যু। এই মৃত্যুকে ঘিরে যদি কোন প্রশ্ন উঠে তাহলেই তার কারণ জানার জন্য প্রয়োজন হয় ময়নাতদন্তের। কিন্তু অভিযোগ উঠে এসেছে রাজধানীর সবচেয়ে বড় সরকারি মর্গ ঢাকা মেডিকেল কলেজকে ঘিরে। সেখানে ময়নাতদন্ত যেন হয়ে গেছে ‘প্যাকেজ সিস্টেম’ হিসেবে।
প্রতিদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর মরদেহ আসে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে। আইন অনুযায়ী, ময়নাতদন্ত একটি সরকারি প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো প্রকার অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত পরিচালিত হচ্ছে ‘প্যাকেজ সিস্টেমে’। এই সিস্টেমের আওতায় রয়েছে মরদেহে গোসল করানো, কাফন, কফিন এবং পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। আর এই সার্ভিসের শুরুর মূল্য হলো ২০ হাজার টাকা। দরকষাকষির মাধ্যমে এই প্যাকেজের মূল্য ১৫-১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত কমে আসতে পারে।
অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি তিন সদস্যের সিন্ডিকেট। যার নেপথ্যে রয়েছে সেকান্দার নামে একজন ব্যক্তি, যিনি একসময় মর্গের ইনচার্জ ছিলেন। সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী, ৩২ বছর চাকরি শেষ করার পরও তিনি নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে মর্গের রাজত্ব ছাড়েননি।
বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে সরকারি নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে কাজ করছেন সেকান্দরের আপন ভাই বাবুল এবং রামু। বাবুল হাসপাতালের অফিস সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তবে বেশিরভাগ সময় তিনি মেডিকেলের মর্গে বসে থাকেন। এই সিন্ডিকেটে নারী-পুরুষসহ আরও অন্তত ৭-৮ জন বহিরাগত সদস্য রয়েছে, যারা সহযোগিতার নামে ভুক্তভোগী স্বজনদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেন।
একদিকে আপনজনের মৃত্যু শোকে ভুগছেন স্বজনরা, অন্যদিকে মর্গে এসে আর্থিক চাপ সহ্য করতে হয়। এ যেন দিশেহারা অবস্থায় রয়েছে পরিবারের সদস্যরা।
তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মমতাজ আরা বলেছেন, ময়নাতদন্তের জন্য কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি মর্গকে ঘিরে এই অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতেন না।
রাজধানীর সলিমুল্লাহ মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গেরও একই দশা। এখানে শ্যামল নামে এক ব্যক্তি আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত। মর্গে অরাজকতার বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং ফরেনসিক বিভাগের প্রধানের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
ময়নাতদন্ত একটি স্পর্শকাতর বিষয়, কিন্তু এই বিভাগের তদারকি নেই। ফলে ময়নাতদন্তের জন্য আসলে স্বজনরা হয়রানির শিকার হন। অন্যদিকে, ময়নাতদন্ত রিপোর্টে গড়মিল হলে তা ন্যায়বিচারে বাঁধা তৈরি করতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় টানা ভারী বৃষ্টির ফলে পাহাড় ধসে রেনু আক্তার (৫৬) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল বেলা উপজেলার ইছাখালী গুচ্ছগ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়েছে একটি বসতঘরের ওপরে। এর ফলে ঘরের ভিতরে অবস্থানরত রেনু আক্তার ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় আরও দুজন আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
এদিকে, টানা বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে। মাইকিংয়ের মাধ্যমে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে যেতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। এই কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান মন্তব্য করেছেন, "এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। পাহাড় ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানে একটি কার্গো প্লেন নিখোঁজ হয়ে গেছে, যার সাথে রয়েছেন পাঁচজন ক্রু। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে পাকিস্তানের করাচিতে আসছিল এবং এটি ছিল একটি বোয়িং ৭৩৭ প্লেন।
মঙ্গলবার রাত ৯টা ২১ মিনিটের সময়, দক্ষিণ প্রান্তের শহর করাচির উপকূলের কাছে এই প্লেনটির নেভিগেশন সিস্টেমে ত্রুটি সৃষ্টি হয়। এরপর প্লেনটির সাথে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বিবিসি তাদের একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, করাচি ভিত্তিক বেসরকারি কার্গো এয়ারলাইন কোম্পানি কে২ এয়ারওয়েজ এই প্লেনটি পরিচালনা করছিল।
বুধবার কে২ এয়ারওয়েজ একটি বিবৃতিতে জানায় যে, প্লেনে থাকা পাঁচজন ক্রুর পরিচয় তারা নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি, তারা পাকিস্তান সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষসহ অন্যান্য সরকারি সংস্থাগুলোকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করছে।
এছাড়া, ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪ এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার আগে প্লেনটির উচ্চতায় আকস্মিকভাবে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়। এরপর সেটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।
পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, নিখোঁজ বিমানটির সন্ধানে নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চালাচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ