ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে টানা ৩ দিন ধরে গ্যাস নেই


হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে টানা ৩ দিন ধরে গ্যাস নেই

হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে টানা ৩ দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে জেলার ছোট-বড় দেড় শতাধিক শিল্পকারখানায় উৎপাদন একেবারে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। অনেক কারখানায় শুধু উৎপাদনই বন্ধ নয়, বিদুৎ সংকটে পুরো কারখানা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেছে।

এদিকে গ্যাস না থাকায় প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। পাশাপাশি তারা অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

অন্যদিকে কাজ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক। অনেক কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বড় ধরনের ছাঁটাইয়ের মুখে পড়ার আতঙ্কে দিন কাটছে এসব শ্রমিক-কর্মচারীদের।

আরও পড়ুন: দিরাই থানা রোডের বর্তমান অবস্থা বেশ ভালো, সামান্য যানজটেই মানুষের ভিড়

বন্ধ দেড় শতাধিক কারখানা। অর্ডার বাতিল, প্রতিদিন কোটি টাকা লোকসানে শিল্পোদ্যোক্তারা। চাকরি হারানোর আতঙ্কে দেড় লাখ শ্রমিক।

স্কয়ার ডেনিম লি.র মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাজেদ হোসেন শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, "গ্যাস-বিদুৎ নেই। মেশিন বন্ধ। বেশি সময় বন্ধ থাকলে মেশিনগুলোও নষ্ট হতে পারে।"

তিনি জানান, দৈনিক তাদের গ্যাসের চাহিদা একটি লাইনে ১০২৫৯৭ কিউবিক মিটার এবং অপর লাইনে ৮৬০২৮ কিউবিক মিটার। ৩ দিন ধরে কোনো লাইনেই গ্যাস নেই।

এসএম স্পিনিংয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল বাশার বলেন, "প্রতি মাসে আমাদের ১০ লাখ ৩৫ হাজার ঘনমিটার গ্যাস প্রয়োজন। সে হিসাবে দৈনিক প্রয়োজন ৩৪ হাজার ৫শ ঘনমিটার। আজ (শুক্রবার) সকালে ৬০ শতাংশ গ্যাস দিয়েছে। কিন্তু দুপুর ১২টায় হঠাৎই সরবরাহ ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। এ অবস্থায় মেশিন চালানো অত্যন্ত কঠিন। বারবার বিদুৎ যাওয়া-আসা করলে মেশিনও বিকল হয়ে যেতে পারে। এসব মেশিন অত্যাধুনিক। এগুলো নষ্ট হলে মেরামত করাও একটা চ্যালেঞ্জ।"

আরও পড়ুন: দুমকিতে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তা চান বিএনপি নেতা

তিনি বলেন, "প্রতিনিয়তই ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। আমরা যারা শিল্পে কাজ করি তারাও উদ্বিগ্ন। মালিকপক্ষ কতদিন লোকসান গুনবে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় মানুষ চাকরি হারাবে।"

মো. আবুল বাশার বলেন, "ইতোমধ্যে ১৩ শতাংশ রপ্তানি কমে গেছে। বিভিন্ন কোম্পানির অর্ডার বাতিল হচ্ছে। আসলে দেড় লাখ শ্রমিক তো শুধু দেড় লাখ নয়। এর সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত। যদি প্রত্যেকের সঙ্গে ৫ জন করে ধরি তবে সাড়ে ৭ লাখ মানুষের ভাগ্য শিল্পের সঙ্গে জড়িত। যেমন—সুতার সঙ্গে কাপড়ের সম্পর্ক। কাপড় যারা তৈরি করেন তারা রপ্তানি না করতে পারলে সুতা নেবেন না।"

সায়হাম গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. রেজাউল হক জানান, "শুক্রবার তারা একেবারেই গ্যাস পাননি। তবে শ্রমিকদের ছুটি দেননি। আশায় আছেন কখন গ্যাস আসে। সরবরাহ শুরু হলেই যেন মেশিন চালু করতে পারেন।"

তিনি বলেন, "গ্যাস না থাকা বা বারবার আসা-যাওয়ার কারণে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিছু যন্ত্র আছে যেগুলো আসলে মেরামতযোগ্য নয়।"

আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় কচাঁ নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ, প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার

জানা গেছে, জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭১টি শিল্পকারখানা রয়েছে। ২০ দিন ধরে চলছে গ্যাস সংকট। বুধবার থেকে সরবরাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। এতে অন্তত দেড় শতাধিক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কোনো কোনো কারখানায় কর্মচারীদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। কারখানায় সুনসান নীরবতা। কোনো কোনোটিতে আবার শ্রমিকদের হাজিরা ঠিক রাখা হয়েছে।

একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ফরাস দেবনাথ বলেন, "কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকায় ঠিকমতো উত্পাদন যাচ্ছিল না। এখন গ্যাস একেবারেই নেই। তাই কারখানায় কাজও বন্ধ রয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীরা অলস সময় পার করছেন। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাবে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।"

নারী কর্মচারী শেফালী বেগম বলেন, "আমরা প্রতিদিন কাজ করেই সংসার চালাই। কারখানা না চললে আমাদের কাজও বন্ধ, আয়ও বন্ধ। কতদিন এভাবে চলবে, সেটিও জানি না।"

আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে মহাসড়ক জুড়ে অবৈধ দোকান ও অটো স্ট্যান্ড, শিক্ষার্থী ও গার্মেন্টস শ্রমিকরা জিম্মি

এ বিষয়ে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. রুহুল করিম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, "সারা দেশের যা অবস্থা আমাদেরও একই অবস্থা। কোনো উন্নতি নেই। আগের মতোই আছে। গত রাতে (বৃহস্পতিবার) কিছুটা পেয়েছিলাম। কিন্তু কিছু সময় পরই আবার আগের মতো বন্ধ হয়ে গেছে।"

তিনি বলেন, "আমরা শুনেছিলাম ১৫ আগস্ট (আজ) থেকে ঠিক হবে। কিন্তু অফিশিয়ালি আমাদের কিছু জানানো হয়নি। আমরা শুধু বিতরণ করি। গ্যাস নিয়ন্ত্রণ করে পেট্রোবাংলা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃতু্যবার্ষিকী ১৫ আগস্টের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১২ এম


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃতু্যবার্ষিকী ১৫ আগস্টের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায়

রাজধানীতে ডিএমপির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, মাঠে থাকছে সোয়াত-বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃতু্যবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জননিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেই লক্ষ্যে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ১৫ আগস্ট ঘিরে বড় মাত্রার কোনো নাশকতার তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নেই।

এছাড়া যে কোনো ধরনের নাশকতা ও অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, "এটা (১৫ আগস্ট) একটা সেনসেটিভ ডে। আমাদের সব ইউনিটেরই আলাদা প্রস্তুতি আছে। আমরা এলার্ট থাকব। বড় ধরনের কোনো আতঙ্কের বিষয় নেই" উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এরকম একটার পর একটা ইভেন্ট আসতেই থাকে, আমরা ফেস করছি।"

রাজধানীতে ডিএমপির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, মাঠে থাকা সওয়াত-বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবারে। কোনো ধরনের নাশকতা যেন কেউ করতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে—অতিরিক্ত আইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম।

রাজধানীতে ডিএমপির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: এরই মধ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার অভিযানে পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ৫৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে।

১৫ আগস্ট শোক দিবস পালনের প্রস্তুতি সভা ও ঝটিকা মিছিল সফল করার উদ্দেশ্যে এই নেতাকর্মীরা সমবেত হয়েছিলেন। তারা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন। এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানাচ্ছে, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সওয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ও কে-নাইন ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন থাকবে। শুক্রবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা মোকাবিলায় পুরো রাজধানীকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে। মহানগরের সব প্রবেশপথে চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার থাকবে।

ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যরা অপারেশনাল কার্যক্রমে মোতায়েন থাকবেন। সওয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কে-নাইন ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও জনসমাগমস্থলে সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি যুগান্তরকে বলেন, "কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন থাকবেন। নাশকতা করতে পারে এ ধরনের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।"

ডিএমপির ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, "১৫ আগস্ট ঘিরে যে কোনো অপতৎপরতা ঠেকাতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমরা মাঠে আছি।" তিনি বলেন, "নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কোনো অপতৎপরতা আমরা চালাতে দেব না। আমরা প্রায় ৩৪ জনকে ধরেছি। তার মধ্যে মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকও আছে।"

এছাড়া সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র‌্যাব। এর অংশ হিসাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সদস্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ঘিরে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ সংগঠন বা রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কুচক্রী মহল যেন নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য দেশব্যাপী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর অপতৎপারতা ও গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সন্দেহভাজন ও নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আগাম তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করতে বিভিন্ন এলাকায় কন্টাক্ট বা ইনফরমার বা সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে যাতায়াতের রুটগুলোতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের মোতায়েন করে নজরদারি করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতেও সাইবার প্যাট্রোলিং জোরদার করেছে র‌্যাব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্যাস সংকটে রুয়েটের হলের ডাইনিং বন্ধ, কারাগারে লাকড়িতে রান্না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৬ এম


গ্যাস সংকটে রুয়েটের হলের ডাইনিং বন্ধ, কারাগারে লাকড়িতে রান্না

সারা দেশের মতো রাজশাহীতেও ভয়াবহ গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে গ্যাসের চাপ একেবারে কমে যাওয়ায় রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি আবাসিক হলের ডাইনিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

এছাড়া আরও কয়েকটি হলে এ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এতে ভয়াবহ ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থীরা। একই সংকটে পড়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। ফলে কারাগারে থাকা প্রায় তিন হাজার কয়েদির খাবার নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। পরে কারা কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে খড়ি ও লাকড়ি দিয়ে রান্নার ব্যবস্থা করে।

রুয়েট প্রশাসনের তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি হলে চার হাজার শিক্ষার্থী বসবাস করেন। রান্নার জ্বালানি হিসাবে গ্যাসের বিকল্প না থাকায় এরই মধ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের খাবার সরবরাহ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে হলটির প্রায় পাঁচ শতাধিক আবাসিক শিক্ষার্থীর খাবার ব্যবস্থাপনায় ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

সংকট দীর্ঘ হলে গ্যাসনির্ভর অন্য হলের ডাইনিং কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যেসব আবাসিক হলে বিকল্প হিসাবে খড়ি বা লাকড়ি দিয়ে রান্নার ব্যবস্থা রয়েছে, সেসব হলে আপাতত বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে ডাইনিং কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, এটি জাতীয় সমস্যা। যেসব আবাসিক হলে বিকল্প হিসাবে খড়ি বা অন্য কোনো উপায়ে রান্নার ব্যবস্থা রয়েছে, সেসব হলে ডাইনিং কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে যেসব হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেই, সেখানে অস্থায়ীভাবে বাইরে চুলা স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন বলেন, বর্তমানে কারাগারে ২ হাজার ৭০০ বন্দি রয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ করেই গ্যাস সংকট দেখা দেয়। তবে বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় কয়েদিদের খাবার ব্যবস্থা করা গেছে। খড়ি ও লাকড়ি দিয়ে আমরা রান্নার কাজ করেছি।

পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) এস.এম. তারিকুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীতে গড়ে তিন থেকে চার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। এই সরবরাহ সিলেট ও মহেশখালী ভাসমান টার্মিনাল থেকে আসে। তবে শুক্রবার দুপুরে গ্যাসের প্রেশার খুব কমে যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে আসছেন যারা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৯ এম


ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে আসছেন যারা!

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হতে পারে যেকোনো মুহূর্তে। এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতা, যা দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উৎস জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতের পর কমিটি নিয়ে একাধিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। যতদূর জানা যাচ্ছে, যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে, তবে আজ (১৪ আগস্ট) বিকালের পর যেকোনো সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত হতে পারে।

সূত্র থেকে জানা গেছে, সিনিয়র কমিটিতে সভাপতি পদে আলোচনার শক্ত অবস্থানে আছেন আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছে আমানুল্লাহ আমানের নাম। এছাড়া, জুনিয়র কমিটিতে সভাপতি হিসাবে আমানুল্লাহ আমান ও সাধারণ সম্পাদক পদে নাহিদুজ্জামান শিপনের নাম ভালো অবস্থানে রয়েছে।

এছাড়াও ইজাজুল কবির রুয়েল, ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, খোরশেদ আলম সোহেল, মমিনুল ইসলাম জিসান, কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং আবিদুল ইসলাম খানের নাম আলোচনার টেবিলে রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের একমাত্র প্রার্থী হিসেবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি আনোয়ার পারভেজের নামও আসছে।

এখন সবকিছু নির্ভর করছে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাদের হাতের ওপর ছাত্রদলের নেতৃত্বের ভার তুলে দেন। এরআগে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই বিদায়ী সাক্ষাতের পর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং নাছির উদ্দিন নাছির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট করেন। তারা জীবন থেকে ছাত্ররাজনীতির সোনালী অধ্যায় বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহযোদ্ধা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীমিত আয়ের মানুষের দুর্ভোগ, ফের বেড়েছে মাছ-মাংস-ডিমের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:২২ এম


সীমিত আয়ের মানুষের দুর্ভোগ, ফের বেড়েছে মাছ-মাংস-ডিমের দাম

বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে দিশেহারায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ। ডিম, সবজি, মাছ, মাংস কিংবা ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়তে থাকায় স্বস্তি মিলছে না। খুচরা পর্যায়ে এক ডজন ডিমের দাম গিয়ে ঠেকেছে ১৫০ টাকায়। একাধিক সবজির কেজি ১০০ টাকার ওপরে উঠেছে। কিছু সবজির কেজি ৮০ টাকার আশপাশে রয়েছে।

মাছ-মাংসের চড়া দাম এবং ব্রয়লার মুরগির বাড়তি দাম ভোক্তাদের পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। তাই সীমিত আয়ের মানুষের সংসারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার জোগাড় করাটাই বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাজারে প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কেনার ফলে ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। আয় ও ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে অনেকেরই নাভিশ্বাস উঠছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ডিমের ডজন ১৫০, ব্রয়লারের কেজি ১৯০, পাঙাশ ২৩০ ও তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ ১৪০-১৫০, বেগুন ১০০-১২০, গাজর ১২০, ঢ্যাঁড়স ৫০, করলা ৮০-১০০, কচুরমুখি ৭০, কাঁকরোল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে এই একই ডিম ১৩০-১৪০ টাকা ছিল। এক মাস আগে বিক্রি হয়েছিল ১২০-১৩০ টাকা। এ ছাড়া প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সঙ্গেসঙ্গে প্রতি কেজি সোনালি ৩২০-৩৩০, হাইব্রিড ২৯০-৩০০ এবং লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ টাকায়। গরুর মাংসের দাম হচ্ছে ৮০০-৮৫০ এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাওরান বাজারে ডিম কিনতে আসা মো. হাকিম বলেন, "মনে হচ্ছে বাজারে সকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকার বাজারের প্রতি একবারেই নজর দিচ্ছে না। বন্যা-বৃষ্টির অজুহাতে ডিমের দাম বাড়িয়ে অসহনীয় করা হয়েছে। বিক্রেতারা একজোট হয়ে প্রতিটি বাজারে একই দামে বিক্রি করছে। যৌক্তিক বা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে কিনা তারও নজরদারি নেই।"

ডিম বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম জানান, "ডিমের দাম আমরা কেন বাড়াব। বরং আড়ত থেকে আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বিক্রিও করতে হচ্ছে বাড়তি দামে। তবে আমরা প্রতি ডজন ডিম বিক্রি করে ৪ থেকে ৬ টাকা লাভ করি। কারণ খরচ তুলেই আমাদেরও বিক্রি করতে হয়।"

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, বাজারে ডিমের দাম মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক বন্যায় দেশের বিভিন্ন এলাকার খামারিরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এরপর দেশে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বিভিন্ন খামারে মুরগি মারা গেছে, যার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা চাপের মধ্যে পড়েছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারদরের ওপর।

এদিকে খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচের ঝাঁজ কিছুটা কমেছে, যা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা। পাশাপাশি প্রতিকেজি বেগুন ১০০-১২০ টাকায়, গাজর ১২০, ঢ্যাঁড়স ৫০, করলা ৮০-১০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি ঝিঙা ৮০-৮৫, পটোল ৬০, চাল কুমড়া ৫০ এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে কচুরমুখি ৭০ এবং কাঁকরোল ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পাঙাশ ২৩০ এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৮০০-৯০০, পাবদা ৩৫০-৪০০, আকারভেদে রুই মাছ ৩০০-৫০০ ও ট্যাংরা মাছ প্রতিকেজি ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সঙ্গেসাথে প্রতিকেজি ভেটকি ৪০০-৫৫০ টাকায়, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকায়, বাইন ৬০০-৮০০ টাকায়, দেশি কই ৭০০-৮০০ টাকায়, চাষের কই ৩০০ টাকায়, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নয়াবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রাকিব হাসান বলেন, "সবজির দাম শুনলেই এখন অবাক হতে হয়। একেকটা সবজির কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার ওপরে। মাছ-মাংসের দামও অনেক বেড়েছে। পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার কিনতে গিয়ে বাজেটের সঙ্গে কোনোভাবেই মিলাতে পারছি না। আগে যে টাকায় ব্যাগ ভরে বাজার করা যেত, এখন সেই টাকায় অল্প কিছু পণ্য কিনতে হচ্ছে। আয় না বাড়লেও নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%