ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এনবিআরকে ভয় নয়, আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী


এনবিআরকে ভয় নয়, আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) জনগণের কাছে আরো নির্ভরযোগ্য এবং আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা জনবান্ধব হওয়া প্রয়োজন, যা দুর্নীতি এবং হয়রানিমুক্ত হবে।

করদাতারা যেন এনবিআরকে ভয় না করেন, বরং তাদের বিশ্বাস করতে পারেন, এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথাগুলো বলেন।

আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, পৃষ্ঠপোষকতা, কারো প্রতি বিরূপ মনোভাব অথবা রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতা কারণে অতীতে এনবিআর প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এখন ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এনবিআরের পুনরুজ্জীবনের সময় এসেছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের জনগণ বর্তমানে এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়। বিশেষ করে করদাতারা চাচ্ছেন যে, এনবিআর তাদের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক। দক্ষ এবং টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এর মাধ্যমে এই জনআস্থা অর্জন করা সম্ভব।

করদাতাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব এনবিআরের কর্মকর্তাদের নিতে হবে।

আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি

বর্তমান সরকার এনবিআর তথা রাজস্ব ব্যবস্থাকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চায় বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তন, নতুন ব্যবসায়িক মডেল এবং পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক করব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল ইকোনমি, ই-কমার্স, ট্রান্সফার প্রাইসিং, আন্তর্জাতিক করব্যবস্থা, ট্রেড ফাইন্যান্স, আর্থিক অপরাধ, মানি লন্ডারিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজস্ব কর্মকর্তাদের সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা এখন অত্যন্ত প্রয়োজন।

দেশের কর-জিডিপি অনুপাত এবং করভিত্তির সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সক্ষমতার তুলনায় ট্যাক্স-জিডিপির হার এখনো অনেক কম।

করভিত্তিও তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ। অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক। সীমিতসংখ্যক নিয়মিত করদাতার ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। একই সঙ্গে করদাতা এবং রাজস্ব প্রশাসনের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক যেমন তারা আরো শক্তিশালী করতে হবে।

আরও পড়ুন: ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন করে ভারত তাদের বন্ধুত্ব প্রমাণ করবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

তিনি বলেন, আধুনিক কর প্রশাসনের লক্ষ্য হলো শুধু বেশি কর আদায় করা নয়, বরং বেশি সংখ্যক মানুষকে স্বেচ্ছায় কর প্রদানে উৎসাহিত করা। যারা নিয়মিত কর দেন, রাষ্ট্রকে তাদের সম্মান করতে হবে। তেমনি যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কর পরিহার করছেন, তাদেরও যথাযথভাবে কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

কর ব্যবস্থাপনা সহজ এবং হয়রানিমুক্ত করার উপর গুরুত্ব রেখে তিনি বলেন, কর আদায়ের পদ্ধতি এভাবে তৈরি করতে হবে যেন মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। একই করদাতার ওপর বারবার করের বোঝা বাড়ানো রাজস্ব বৃদ্ধি করার একটি টেকসই পদ্ধতি নয়। বরং কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের যথাযথ নিয়মে করের আওতায় আনতে হবে।

এ জন্য তিনি ডিজিটাল এবং ডাটাভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে ডাটাভিত্তিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার কোনও বিকল্প নেই।

ভ্যাট ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আধুনিক অর্থনীতিতে ভ্যাট একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস হিসেবে আছে। কিন্তু এর সফলতা কার্যকর বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করে। ভ্যাট প্রশাসনের জটিলতার কারণে যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন: সংবাদপত্রের মালিক পেয়ার মিয়াঁকে ১০ দফা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

তিনি বলেন, কাস্টমস, ভ্যাট অথবা আয়কর আদায় শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ বা এনফোর্সমেন্টের বিষয়ের না। রাজস্ব ব্যবস্থাপনার প্রতি করদাতাদের আস্থা এবং বিশ্বাস তৈরি করা গেলে রাজস্ব আহরণ অনেক সহজ হবে। তাই দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এনবিআরকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে, যেটিকে মানুষ ভয় করবে না, বরং বিশ্বাস করবে।

প্রধানমন্ত্রী এনবিআরের কর্মকর্তাদের বলেন, ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিষ্ঠান এবং দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলা। প্রত্যেক মানুষের অবদানকে সম্মানসহ দেখতে চায় সরকার।

এনবিআরের অভ্যন্তরে অতীতে ঘটে যাওয়া একটি ‘দুঃখজনক ঘটনা’ এর প্রসঙ্গ তুলে উল্লেখ করেন, সমস্যা আছে এবং সমস্যা থাকবেই। আলোচনা করে ধীরেধীরে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। সরকারের দায়িত্বে থাকা সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে নিরাপদ এবং স্বস্তির পরিবেশে দেশ গঠনে কাজ করতে পারেন, সরকার সে বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে।

তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরকার অগ্রাধিকার দেবে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা পরিহারের চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে এবং যাতে সকলেই স্বস্তিতে কাজ করতে পারেন সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

আরও পড়ুন: আড়াইহাজারে পরিবেশদূষণের দায়ে প্রবাসী হাসপাতালকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

রাজস্ব আহরণে সাম্প্রতিক ইতিবাচক প্রবণতার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ইতিবাচক ছিল। এটি প্রমাণ করে, এনবিআরের কর্মকর্তারা পারেন এবং তারা এমন আরো ভালো করতে পারবেন।

তিনি বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সবার দেশপ্রেম এবং আন্তরিকতা প্রয়োজন। সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে একটি শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

আরো সমৃদ্ধ, বিনিয়োগবান্ধব এবং ব্যবসাবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এর সফলতা কামনা করেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪টি সহযোগিতা স্মারক সই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢামেকে সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দির মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৫৬ পি.এম


ঢামেকে সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দির মৃত্যু

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি কবির সর্দার (৬০) মারা গেছেন। তিনি গোপালগঞ্জের মোকসেদপুর উপজেলার মোজাফফর সর্দারের ছেলে।

সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত ১২ আগস্ট তিনি অসুস্থ অবস্থায় কারারক্ষীদের মাধ্যমে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হাসপাতালে ভর্তি হন।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কবির সর্দার হৃদরোগ ও টিবি রোগে ভুগছিলেন। প্রথমে হৃদরোগের চিকিৎসার পর তাকে টিবি রোগের চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মোকসেদপুর থানার একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি ছিলেন কবির সর্দার। ইতোমধ্যেই তিনি ২২ বছর বন্দি অবস্থায় কাটিয়েছেন।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক। তিনি জানিয়েছেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে নিজস্ব অর্থায়নে যেতে হবে : অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৫৮ পি.এম


ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে নিজস্ব অর্থায়নে যেতে হবে : অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিব্যক্তি জানিয়েছেন, রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে নিজস্ব অর্থায়ননির্ভর অর্থনীতিতে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়। তিনি উল্লেখ করেন, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করতে হলে করের আওতা সম্প্রসারণ, কর অব্যাহতির যৌক্তিকীকরণ, কর ফাঁকি ও পরিহার রোধ এবং পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন নিশ্চিত করা হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ দেওয়া বক্তব্যের অংশ হিসেবে তিনি এসব বলেছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব সম্মেলন কেবল রাজস্ব আদায়ের হিসাব-নিকাশের সম্মেলন নয়, বরং এটি জাতীয় ঐকমত্য গঠনের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে। কীভাবে নিজস্ব অর্থায়নে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়, সেই পথ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

তিনি চিন্তাভাবনা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার অন্যতম বড় কাঠামোগত দুর্বলতা হলো অত্যন্ত কম কর-জিডিপি অনুপাত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে। এই হার বিশ্বের অন্যতম নিম্ন। ২০২৩ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে গড় কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ, যেখানে বাংলাদেশের মাত্র ৭ দশমিক ২ শতাংশ ছিল।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বিষয়ে আরো বলেন, অর্থনীতির আকার বেড়ে গেলেও রাষ্ট্রের রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা সে অনুযায়ী বেড়ে উঠেনি। এই ব্যবধান দূর করার জন্য শুধুমাত্র বিদ্যমান করদাতাদের ওপর করের বোঝা বাড়ানো হবে না, বরং করের আওতা বাড়াতে হবে, কর অব্যাহতি যৌক্তিকীকরণ হবে, কর ফাঁকি ও পরিহার বন্ধ হতে হবে এবং অটোমেশনের মাধ্যমে করদাতাদের কমপ্লায়েন্স বাড়াতে মনোযোগ দিতে হবে।

রাজস্ব প্রশাসনে সরকারের নেওয়া সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরোনো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অর্থাৎ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ভেঙে দুইটি স্বতন্ত্র এবং স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম প্রতিষ্ঠান হবে রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং দ্বিতীয়টি হবে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব নীতি বিভাগটি সরকারের একটি ‘থিংক ট্যাংক’ হিসেবে কাজ করবে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের দ্বারা একটি ভারসাম্যপূর্ণ, প্রতিযোগিতামূলক ও উন্নয়নবান্ধব কর কাঠামো তৈরি হবে। এরপর রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ একটি ‘অ্যাকশন টিম’ হিসেবে রাজস্ব আদায় করবে এবং দেশপ্রেমিক নাগরিকদের দায়িত্ব পালন করবে।

তিনি আরো জানালেন, কর প্রদান প্রক্রিয়াকে সহজ করা এবং আইন প্রয়োগের যথাযথ দায়িত্ব পালনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। নীতি প্রণয়নে অর্থনীতিবিদ, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, গবেষক এবং শিল্প-বাণিজ্য সংগঠনের বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্বের সাথে নেওয়া হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, এ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেশি। এই লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী হলেও তা ইচ্ছাকৃতভাবে ধার্য করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে এগোতে চাচ্ছে। উন্নয়নের অর্থায়ন নিজেদের সম্পদ দিয়েই করতে হবে।

রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কারে তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানিয়ে তিনি বলেন, এগুলো হলো আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ ও অংশীদারিত্ব। এন্ড-টু-এন্ড অটোমেশনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া করদাতাদের কর্মকর্তাদের কাছে যাওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করা হবে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো একটি সম্পূর্ণ ‘কন্টাক্ট-ফ্রি’ এবং ‘ফেসলেস’ রাজস্ব প্রশাসন গড়ে তোলা। ইতোমধ্যে ই-ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট, আসিকুডা ওয়ার্ল্ড, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো এবং আধুনিক স্ক্যানিং পদ্ধতির মতো বিভিন্ন ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ব্যবসায়ীরা দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন ও কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ রসায়নের অংশ। সরকার ব্যবসায়ীদের জন্য রাস্তা নয়, বরং প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে চায়। তবে ব্যবসায়ীদের সময়মতো কর ও ভ্যাট পরিশোধ করে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহযোগিতা করতে হবে।

তিনি সতর্ক করেন যে, যারা রাজস্ব পরিহারের সংস্কৃতিতে থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হবে। এর ফলস্বরূপ সৎ করদাতারা যাতে নিরুৎসাহিত না হন, সেটাও নিশ্চিত করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাহসী নেতৃত্বের মাধ্যমে রাজস্ব খাতের এই সংস্কার সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ আর ঋণের ওপর নির্ভরশীল দেশ থাকবে না, বরং নিজস্ব অর্থায়নে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ২০২৯ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশের চ্যালেঞ্জ অতিক্রম ও ২০৩৪ সালে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ সফল হবে, ইনশাআল্লাহ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাউন্ডারি বাঁচাতে গিয়ে হাসপাতালে চান্ডিমাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০০ পি.এম


বাউন্ডারি বাঁচাতে গিয়ে হাসপাতালে চান্ডিমাল

ভারতের বিপক্ষে গল টেস্টে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার দিনেশ চান্ডিমাল গুরুতর চোটের শিকার হয়ে সরাসরি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হলেন। চোটটি ঘটে ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসের চতুর্থ ওভারে। লোকেশ রাহুলের একটি বাউন্ডারিমুখী শট ঠেকাতে গিয়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনাটি ঘটে ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসের চতুর্থ ওভারে, যখন রাহুলের হাঁকানো বল থামাতে চান্ডিমাল ডিপ মিডউইকেট থেকে সীমানার দিকে দৌড়ান। স্লাইড করে বল সামলে নিলেও, ল্যান্ডিংটা যথেষ্ট ভালো হয়নি। বাউন্ডারি লাইনের বাইরে গিয়ে, তার ঘাড় ও কাঁধ বেঁকে যাওয়ার কারণে শরীরের নিচে পড়ে গিয়ে তিনি চরম বেকায়দায় আঘাত পান।

গুরুতর এই ইনজুরির পর, চান্ডিমাল সহকর্মীদের সহায়তায় কোনোরকমে ড্রেসিংরুমে ফিরলেও, ব্যথা সহ্য করতে না পারায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

পূর্বসতর্কতা এবং আঘাতের মাত্রা পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে চিকিৎসকরা দ্রুত তার স্ক্যান করানোর সিদ্ধান্ত নেন। যদি স্ক্যান রিপোর্টে ঘাড়ের চোট গুরুতর প্রমাণিত হয়, তাহলে গলে চলমান এই টেস্টের বাকি অংশে তাকে আর দেখা যাবে না। সেই ক্ষেত্রে ‘কনকাশন সাব’ হিসেবে স্কোয়াডে থাকা টপ অর্ডার ব্যাটার পাসিন্দু সুরিয়াবান্দারা তার জায়গায় খেলতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারীদের নিরাপদ যাতায়াতে তিন শহরে ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ চালু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০২ পি.এম


নারীদের নিরাপদ যাতায়াতে তিন শহরে ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ চালু

নগরীর কর্মজীবী নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) পৃথক পিংক কালারের ‘মহিলা বাস’ সার্ভিস চালু করেছে। গোলাপি রঙের বাসগুলোতে নারীরা চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে মহিলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মহিলা চালক ও মহিলা কন্ডাক্টর দ্বারা পরিচালিত এই পিংক বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগ নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণপরিবহনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুল লতিফ মোল্লা।

বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, কর্মজীবী নারী ও নারী যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়টি মাথায় রেখে পিংক বাস সার্ভিস পরিচালনা করা হবে। বাসগুলোর চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, রাজধানীতে নারীদের জন্য পৃথক বাস সার্ভিস চালু হলেও বিভিন্ন কারণে তা নিয়মিতভাবে পরিচালিত হয়নি।

নতুন করে পিংক বাস চালুর মধ্য দিয়ে নগরীর নারী যাত্রীদের জন্য নিরাপদ গণপরিবহন সুবিধা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%