ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সরকারি খরচে দেশে ফিরছে প্রবাসী শেখ ফরিদের মরদেহ


সরকারি খরচে দেশে ফিরছে প্রবাসী শেখ ফরিদের মরদেহ

মালদ্বীপে স্থানীয় হাসপাতাল ও মর্গের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে দেশে ফিরেছে ৪৫ বছর বয়সী প্রবাসী বাংলাদেশি মো. শেখ ফরিদের মরদেহ।

শেখ ফরিদের বাড়ি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামে। তার বাবা নসা মিয়া। শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১টার সময় বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। বিষয়টি সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেছে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন।

হাইকমিশন জানায়, শেখ ফরিদের মরদেহ মৃত্যুর পর সাত দিন ধরে স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা ছিল। মালদ্বীপের আইন অনুযায়ী, কোনো বৈধ প্রবাসী কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে অথবা অসুস্থ ও আহত হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ইনস্যুরেন্সের আওতায় তার চিকিৎসার খরচ এবং প্রয়োজন হলে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

আরও পড়ুন: মেগানের বাবার বিরুদ্ধে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

এদিকে, মৃত্যুর সময় শেখ ফরিদ মালদ্বীপে বৈধভাবে অবস্থান করছিলেন না, এর ফলে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

পরে, মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী এবং শেখ ফরিদের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

হাইকমিশন জানায়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ নিশ্চিত করা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমাদের সবসময় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

শেখ ফরিদের নিকটাত্মীয় ও বিএনপি মালদ্বীপ শাখার সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সময় সংবাদকে জানিয়েছেন, প্রায় দুই বছর আগে নতুন কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মালদ্বীপে এসেছিলেন শেখ ফরিদ।

আরও পড়ুন: ফিনল্যান্ড চালু করছে বিশ্বের প্রথম স্থায়ী পারমাণবিক বর্জ্য অপসারণাগার

তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে স্ট্রোকের কারণে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে সহকর্মীরা দ্রুত তাকে মালদ্বীপের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

শরিফুল ইসলাম জানান, শেখ ফরিদ মালদ্বীপে যাওয়ার পর প্রথমে বিভিন্ন কোম্পানিতে বৈধভাবে কাজ করতেন। তবে ভিসা ফি পরিশোধ না হওয়ায় শেষ দিকে তিনি অবৈধভাবে সেখানে অবস্থান করছিলেন। এই কারণে তার কাছে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় কোনো কোম্পানি তার মরদেহ দেশে পাঠানোর দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়নি।

পরে, বাংলাদেশি প্রবাসী এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় শেখ ফরিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়, যার জন্য তিনি হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

শেখ ফরিদকে শেষবারের মতো বিদায় জানানোর জন্য শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে মালদ্বীপের বিমানবন্দরে তার স্বজন, সহকর্মী এবং ঘনিষ্ঠ প্রবাসীরা জড়ো হন। সেই সময় ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি কিনতে চুক্তি করেছে কাতার

মরদেহ দেশে পাঠানোর সময় বিমানবন্দরে শোকের পরিবেশ নেমে আসে। স্বজন ও সহকর্মীরা আবেগঘন পরিবেশে শেখ ফরিদকে শেষ বিদায় জানান।

বিনা খরচে শেখ ফরিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তারা বলেন, প্রবাসীদের দুঃসময়ে সরকারের সহযোগিতা প্রশংসনীয়।

এদিকে, গত এক সপ্তাহের মধ্যে মালদ্বীপে আটজন প্রবাসী বাংলাদেশের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, এসব মৃত্যুর মধ্যে আত্মহত্যা, কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, স্ট্রোক এবং হৃদরোগের ঘটনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একের পর এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু মালদ্বীপে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার রাত প্রায় ১০টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেখ ফরিদের মরদেহ গ্রহণ করেন তার নিকটাত্মীয় শিপুল ও আজিজ।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে ৫ মাসের মধ্যে অপরিশোধিত তেলের সর্বোচ্চ দাম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হবে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০৩ পি.এম


অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হবে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী
 
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে টেকনিক্যাল কমিটি কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।
 
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার নদ-নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে চিলমারী বন্দর এলাকায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
 
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তা একটি বড় প্রকল্প। একটি প্রকল্প একদিনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমাদের সরকারের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। আমাদের কিছুদিন সময় দিন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করব।
 
কুড়িগ্রামের নদীভাঙন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চিলমারী বন্দরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। কুড়িগ্রামে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ ও নদীভাঙন রোধে দুটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
 
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো মানুষের ঘরবাড়ি, হাট-বাজার, মসজিদ, মন্দির কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন নদীতে বিলীন হয়ে না যায়, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে আমরা মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করছি।
 
নদীভাঙন রোধে কোনো ধরনের দলীয় বিবেচনা করা হবে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভাঙনকবলিত মানুষের পাশে সরকার রয়েছে। ইতোমধ্যে কুড়িগ্রামের প্রায় ১০০টি ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। যেখানে আরও কাজের প্রয়োজন রয়েছে, সেখানেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে।
 
পরে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী গাইবান্ধায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান দুটি প্রকল্প পরিদর্শন করবেন বলে জানান।
 
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজার রহমান, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ হোসেন লিপি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান, সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব ও শফিকুল ইসলাম বেবু এবং জেলা বিএনপির সদস্য সাইয়েদ আহমেদ বাবুসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিরাইয়ে জা-রি হয়েছে ১৪৪ ধারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০৪ পি.এম


দিরাইয়ে জা-রি হয়েছে ১৪৪ ধারা

সুনামগঞ্জ জেলার দিরাইয়ে বিএনপির দুটি গ্রুপের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে পৌর এলাকায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

 

গত বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, উপজেলা বিএনপির আয়োজনে থানা পয়েন্টে একটি দলীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী এবং তার কর্মী-সমর্থকরা। প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বক্তব্য দেন।

এরপর শনিবার, পাল্টা সমাবেশের ডাক দেন দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঈনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক এবং দিরাই পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। শনিবার সকালে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি মিছিল শুরু হলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

জনসাধারণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে এবং শান্তিশৃঙ্খলা স্থায়ী রাখতে শনিবার, ৮ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সনজীব সরকারের সই করা আদেশ অনুযায়ী, দিরাই পৌর এলাকার বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টার, থানা পয়েন্ট, দিরাই বাজার, দিরাই কলেজ রোড এবং দিরাইয়ের অন্যান্য এলাকায় ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে।

আদেশে আরও বলা হয় যে, উল্লিখিত সময়ে এই স্থানগুলোতে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, গণজমায়েত, বিস্ফোরক দ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এইসাথে ৫ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে অবস্থান কিংবা চলাফেরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এক পক্ষ সমাবেশ শুরু করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫ মাসে কোনো সরকার ব্যর্থ হয় না, ব্যর্থতার জন্যও সময় লাগে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০৫ পি.এম


৫ মাসে কোনো সরকার ব্যর্থ হয় না, ব্যর্থতার জন্যও সময় লাগে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মাত্র পাঁচ মাসে একটি সরকার ব্যর্থ হতে পারে না। ব্যর্থ হওয়ার জন্যও সময় লাগে, এই মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইনগত ও রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে দেশের মানুষের অর্জন ভুলে গিয়েছিল এবং মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে নিজেদের মনে করে চলেছিল।

এছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকারের ওই সময়কালকে রাজনৈতিকভাবে ‘ক্রান্তিকাল’ বলা যাবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন হলো দীর্ঘ ১৭ বছরের টানা আন্দোলনের ফসল। কেউ যদি মনে করে যে শুধুমাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের ফলেই এই পরিবর্তন এসেছে, তবে তা তাদের রাজনৈতিক অপরিপক্বতা ছাড়া আর কিছুই নয়।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশে আর চেতনা বিক্রির রাজনীতি চলবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দলটির ভাগ্য আদালতে নির্ধারিত হবে। এটি নিষিদ্ধ হবে কি না, তা-ও আদালতই ঠিক করবেন। বর্তমানে এ সংক্রান্ত নানা আইনগত বিচার-বিশ্লেষণ চলছে এবং খুব শিগগিরই এর সমাধান আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ভবিষ্যতে যাতে আর ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন বা পুনর্বাসন না ঘটে, সে ধরনের চর্চা থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রেকর্ড দামে চা বিক্রি, উৎপাদন ও আয়ে এনটিসির নতুন মাইলফলক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


রেকর্ড দামে চা বিক্রি, উৎপাদন ও আয়ে এনটিসির নতুন মাইলফলক

 

দেশের চা-শিল্পে নতুন একটি মাইলফলক স্থাপন করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল টি কম্পানি লিমিটেড (এনটিসি)। সম্প্রতি চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চা-নিলামে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত চা ইতিহাসের সর্বোচ্চ গড় দামে বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া চলতি মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় আয় ও উৎপাদন—দুটি ক্ষেত্রেই নতুন সাফল্যের মুখ দেখছে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক চা-নিলামে এনটিসির অধীনস্থ ১২টি চা-বাগানের মোট ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৬০ কেজি চা বিক্রি হয়। নিলামে প্রতি কেজি চায়ের গড় বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ২৮০ টাকা ৫৯ পয়সা, যা এনটিসির ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড। সরকার নির্ধারিত ২৪৫ টাকার ভিত্তিমূল্যের চেয়ে উল্লেখযোগ্য বেশি দামে চা বিক্রি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় হয়েছে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৭২২ টাকা।

নিলামে অংশ নেওয়া বাগানগুলোর মধ্যে রয়েছে—হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর, তেলিয়াপাড়া, চুনারুঘাটের চণ্ডীছড়া, পারকুল এবং মৌলভীবাজারের ও সিলেট জেলার পাত্রখোলা, কুর্মা, চম্পারাই, মদনমোহনপুর, লাক্কাতুরা, মাধবপুর প্রেমনগর ও বিজয়া চা-বাগান। এসব বাগানে উৎপাদিত উন্নতমানের অর্থোডক্স ও সিটিসি চায়ের বেশ কয়েকটি লট নিলামে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।

তাছাড়া, হালুয়াঘাটে সড়কের নিচের অংশ ভেঙে ২ উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহাউদ্দিন লিটন জানিয়েছেন, চায়ের গুণগত মান বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, বাগান পর্যায়ে নিবিড় তদারকি ও ‘দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি’ চয়ন নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করায় কাঁচা পাতার গুণগত মান বহুগুণ বেড়েছে।

ফলে উৎপাদিত চায়ের রং, ঘ্রাণ ও স্বাদে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যা নিলামের বাজারে প্রতি কেজির দর বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা রেখেছে।

এনটিসির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের চা-উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও আমরা সার্বিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। একই সাথে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কারখানায় মানসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলেই উৎপাদন ও বিক্রয়—উভয় ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ইতিবাচক সাফল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিকূল আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, শ্রম ব্যয় বৃদ্ধি ও সার্বিক উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশের চা শিল্প এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। এমন অবস্থায় রাষ্ট্রায়ত্ত এনটিসির এই ঘুরে দাঁড়ানোর খবর পুরো চা খাতের জন্যই আশাব্যাঞ্জক বার্তা বহন করছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে এনটিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হাসান বলেছেন, ‘প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বাগান শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজ আমাদের বাগানগুলো ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও মান উন্নয়নের যে বিশেষ কর্মসূচি আমরা হাতে নিয়েছি, তার সুফল এখন দৃশ্যমান। চলতি আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মৌসুমের বাকি সময়গুলোতে আরো ভালো উৎপাদন ও ভালো বিক্রয়ের প্রত্যাশা করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক চা শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য এনটিসি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাতের চারা রোপণ, কারখানার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এনটিসিকে আন্তর্জাতিকভাবে আরো লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%