০২:২৩ এম
গ্রীষ্মকাল অপেক্ষা করছে, এবং চারদিকে পাকা আমের মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে পড়েছে। এই সুস্বাদু ফলটি শুধু রসনাতৃপ্তি ছাড়াই শরীরের জন্য নানা রকম পুষ্টিগুণ নিয়ে আসে। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে আম খেলে শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং কার্যক্রম উপকৃত হতে পারে।
আমে উপস্থিত ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, পটাশিয়াম, ফাইবার এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, চোখের সুস্থতা বজায় রাখা, হৃদযন্ত্রের যত্ন নেওয়া এবং হজমশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে।
আরও পড়ুন: ফিলাডেলফিয়ায় কবুতর দেখতে পর্যটকদের ৯০ মিনিটের ব্যতিক্রমী ভ্রমণে ভিড়
আমের ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে। এতে থাকা পেকটিন নামক দ্রবণীয় ফাইবার অন্ত্রের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পুষ্টির উৎস হিসেবে কাজ করে। এর ফলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো হয়ে যায় এবং হজম প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয়।
চোখ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য আমে থাকা বিটা-ক্যারোটিন, লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়, যা চোখের দৃষ্টিশক্তি, ত্বক এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সমর্থন করে।
ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা হাড়, ত্বক, লিগামেন্ট এবং কার্টিলেজের গঠন বজায় রাখতে অপরিহার্য। তাই আম শরীরের গঠনগত স্বাস্থ্য রক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।
আমে থাকা পটাশিয়াম শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
আরও পড়ুন: সর্দি-কাশি ও গাঁটে ব্যথা কমাতে পানপাতার উপকারিতা
আমের ভিটামিন সি উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে আয়রন শরীরে শোষণে সহায়তা করে বলে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি উপকারী খাদ্য তালিকার একটি অংশ হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আম খাওয়া ব্যক্তিরা সাধারণত বেশি ফাইবার, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং পটাশিয়াম গ্রহণ করেন। এছাড়া, আম প্রাকৃতিক মিষ্টির একটি ভালো উৎস হওয়ায় এটি অনেক সময় স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।
এক কাপ কাটা আমে যা থাকে:
ক্যালরি: প্রায় ৯৯
আরও পড়ুন: পর্নোগ্রাফির আসক্তির ক্ষতি ও মুক্তির উপায় নিয়ে আলোচনা
কার্বোহাইড্রেট: ২৫ গ্রাম
ফাইবার: ৩ গ্রাম
প্রাকৃতিক চিনি: ২২.৫ গ্রাম
প্রোটিন: ১ গ্রাম
আরও পড়ুন: আবহাওয়া বদলালেই মাথাব্যথা? জেনে নিন কারণ ও করণীয়
ভিটামিন সি: ৬০ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম: ২৭৭ মিলিগ্রাম
এছাড়া ভিটামিন এ, ভিটামিন বি৬ সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানও রয়েছে।
বেশিরভাগ মানুষের জন্য আম নিরাপদ এবং উপকারী ফল। তবে কিছু মানুষের আমের খোসায় অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যাদের কাশু বাদাম বা অনুরূপ উদ্ভিদে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া ভালো এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: মুখ খোলা রেখে ঘুমালে শরীরে হতে পারে নানা সমস্যা
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও পরিমিত পরিমাণে আম খেতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিমাণ বজায় রেখে এবং প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর চর্বির খাবারের সঙ্গে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
সার্বিকভাবে, আম শুধু একটি সুস্বাদু মৌসুমি ফল নয়, এটি একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য যা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। তবে যেকোনো খাবারের মতো এটি গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: ইটিং ওয়েল
আরও পড়ুন: বিচ্ছেদের পর বাড়ে মদ্যপানে আসক্তি, রিহ্যাবের অভিজ্ঞতা জানালেন চাহাল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন